1. : lf_ElQ5oe7W3mX7 :
  2. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  3. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৫ অপরাহ্ন

উপকূলে সফল চিংড়ি চাষীদের কথা

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
  • ১১২ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি। চিংড়ি চাষ করে এলাকার কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উপকূলীয় গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন খুলনার পাইকগাছার সফল চিংড়ি চাষী গোলাম কিবরিয়া রিপন। তিনি ২০০৭ সালে দেড়শ’ বিঘা জমিতে চিংড়ি চাষ শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তার ১ হাজার ৮শ’ বিঘার ৬টি চিংড়ি ঘের রয়েছে। উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ এবং পোনার ব্যবসা করে তিনি প্রতিবছর ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা আয় করে থাকেন। শ্রেষ্ঠ চিংড়ি চাষী হিসেবে ইতোমধ্যে তিনি উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেছেন।
গোলাম কিবরিয়া রিপন খুলনার বয়রা রায়ের মহল এলাকার মৃত নজির উদ্দীন আহমেদ-এর ছেলে। চিংড়ি চাষ ও পোনা ব্যবসার পাশাপাশি খুলনা বিভাগীয় পোনা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এবং পাইকগাছা উপজেলা চিংড়ি চাষী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে তিনি রয়েছেন। তার মূল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রয়্যাল ফিস ট্রেডিং ও রয়্যাল ফিস কালচার। রিপনের পিতা ছিলেন খুলনার একজন স্বনামধন্য ব্যবসায়ী। খুলনা বিএল কলেজ থেকে মাস্টার্স পাশ করে চাকুরির প্রত্যাশা না করে পিতাকে অনুসরণ করে ২০০১ সালে পাইকগাছায় চিংড়ি পোনা ব্যবসায়ের মাধ্যমে ব্যবসায়িক জীবন শুরু করেন তরুণ উদীয়মান ব্যবসায়ী গোলাম কিবরিয়া রিপন। পোনা ব্যবসায়ে সফলতা পেয়ে তিনি ২০০৭ সালে ১৫০ বিঘা জমি লীজ নিয়ে চিংড়ি চাষ শুরু করেন। চিংড়ি চাষে সাফল্যের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকায় তিনি ঘেরের সংখ্যা ও চিংড়ি চাষের পরিধি বাড়াতে শুরু করেন। বর্তমানে তার পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলায় ১ হাজার ৮শ’ বিঘার ৬টি চিংড়ি ঘের রয়েছে। সনাতনী পদ্ধতি পরিহার করে তিনি উন্নত সনাতন পদ্ধতি অনুসরণ করে মৎস্য স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক পরামর্শে চিংড়ি চাষ করছেন। এতে উৎপাদন যথেষ্ট ভাল হচ্ছে। এছাড়া তিনি চিংড়ি পোনা উৎপাদন ও সরবরাহ করে থাকেন। প্রতিবছর তিনি কমপক্ষে ৫০ কোটি চিংড়ি পোনা সরবরাহ করেন। পোনা ব্যবসা এবং চিংড়ি উৎপাদন থেকে প্রতি বছর তিনি ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা আয় করে থাকেন। তার চিংড়ি ঘের ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কাজ করে ৪ থেকে ৫শ’ লোকের জীবন-জীবিকা নির্বাহ হয়ে থাকে। তাকে অনুসরণ করে অন্যান্য ঘের মালিকরাও উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করতে আগ্রহী হচ্ছেন।
শ্রেষ্ঠ চিংড়ি চাষী হিসেবে ইতোমধ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন গোলাম কিবরিয়া রিপন। ২০১৩, ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮ ও ২০১৯ সালে উপজেলা পর্যায়ে এবং ২০২৩ সালে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে মৎস্য অধিদপ্তর থেকে পুরস্কার হিসেবে সম্মাননা ক্রেস্ট পান।
তার এ সফলতার পিছনেও রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতার গল্প।
এ প্রসঙ্গে গোলাম কিবরিয়া রিপন বলেন ব্যবসায়িক জীবনে আমাকে কখনো পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। তবে চিংড়ি চাষ খুব সহজ ছিল না। এখানে একদিকে যেমন রোগ বালাইয়ের প্রকোপ রয়েছে, তেমনি রয়েছে চিংড়ি চাষ বন্ধের নানা ষড়যন্ত্র। নদীর পানি উত্তোলন নিয়ে বিগত সরকারের এমপিসহ অনেক শক্তিশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম করতে হয়েছে। এসব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে চিংড়ি উৎপাদন করে স্থানীয় অর্থনীতি এবং বৈদেশিক রপ্তানিতে অবদান রাখতে পারছি এজন্য মহান আল­¬াহর কাছে শুকরিয়া জানাই। আগামীতে চিংড়ির উৎপাদন বাড়াতে উন্নত কর্ম-পরিকল্পনা রয়েছে বলে এ চিংড়ি চাষী জানান।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মলি¬ক জানান বর্তমানে উপজেলায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ হয়। প্রায় ৫ হাজার ছোট-বড় ঘের রয়েছে। এসব চাষীদের মধ্যে গোলাম কিবরিয়া রিপন একজন সফল চিংড়ি চাষী। রিপনকে অনুসরণ করে উন্নত সনাতন এবং উন্নত পদ্ধতির চিংড়ি চাষে এলাকার চিংড়ি চাষীরা এগিয়ে আসবেন এমনটাই প্রত্যাশা মৎস্য বিভাগসহ সংশ্লি-ষ্টদের।
খুলনার পাইকগাছায় সাদা সোনাখ্যাত বাগদা চিংড়ি চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রতিবছর বিভিন্ন ভাইরাসজনিত কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছানো না গেলেও ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন চিংড়িচাষিরা। সেই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান হচ্ছে হাজার হাজার মানুষের। পাইকগাছার জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত চিংড়িচাষি গোলাম কিবরিয়া রিপন বলেন, ৮০ দশক থেকে উপকূলীয় এ অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হয় সাদা সোনাখ্যাত বাগদা চিংড়ি চাষ। চিংড়ি চাষ ব্যবস্থা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। অন্যান্য পেশা থেকে সবাই এগিয়ে আসতে থাকে চিংড়ি চাষে। বিগত ৪ দশকের ব্যবধানে এ অঞ্চলের বেশির ভাগ মৎস্য চাষ এবং সংশ্লিষ্ট এ খাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে। যদিও শুরুটা যতটা সহজ ছিল, এখন অতটা সহজ নেই চিংড়ি চাষ। রোগবালাইসহ বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যে উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এখানকার মৎস্যচাষিরা।
মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী উপজেলা থেকে বছরে উৎপাদন হচ্ছে ২৭ হাজার টন মাছ। যার মধ্যে চিংড়ি, সাদা মাছ, কাঁকড়া ও কুচিয়া অন্যতম। চিংড়ি চাষ ব্যবস্থা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। অন্য পেশা থেকে সবাই এগিয়ে আসতে থাকে চিংড়ি চাষে। সময়ের সঙ্গে একদিকে যেমন বেড়েছে রোগবালাইসহ নানা সমস্যা। তেমনি চাষ ব্যবস্থায় এসেছে কিছুটা পরিবর্তন। আগে সনাতন পদ্ধতি, এখন উন্নত সনাতন ব্যবস্থাসহ চিংড়ি কিংবা মৎস্য চাষে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করছেন চাষিরা।
ফলে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে ও মৎস্য চাষব্যবস্থাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এখানকার চাষিরা। প্রশিক্ষণ ও পরামর্শসহ চাষিদের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করছে দপ্তর ও মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। যদিও চিংড়ি চাষের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় টেকসই কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ও সরকারের সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন এখানকার চাষিরা।
মৎস্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলায় উৎপাদন ও আহরণের যেসব উৎস আছে তার মধ্যে রয়েছে, ৮ হাজার ৫৮০টি দিঘি এবং ৪ হাজার ৩৫৩টি পুকুর, ৪টি বাণিজ্যিক মৎস্য খামার, ১টি ভেনামী চিংড়ি খামার, ১৩২টি খাল, ১০টি নদনদী, ১৭ হাজার ৭৫টি কাঁকড়া এবং ২২৫টি গলদা খামার। এসব উৎস থেকে বছরে উৎপাদন হচ্ছে ২৭ হাজার টন মাছ। যার মধ্যে চিংড়ি ৫ হাজার ৮৮৪ টন, সাদা মাছ ১৮ হাজার ২৮৩ টন, কাঁকড়া ৩ হাজার ৩৫০ টন ও কুচিয়া ২০.৭৫ টন। মৎস্য খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ এ বছর ও জাতীয় মৎস্য পুরস্কারের পেয়েছেন চিংড়ি চাষি গোলাম কিবরিয়া রিপন।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে ‌বলেন, ‘চিংড়ি সেক্টরের অগ্রগতিবিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, পুকুর জলাশয়ের পানির ভৌত রাসায়নিক গুণাগুণ পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান, মৎস্য খাতে টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আমরা সব সময় পাশে আছি।’
সাতক্ষীরায় পরীক্ষামূলকভাবে চলতি বছর আধা নিবিড় (সেমি ইনটেনসিভ) পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ি চাষ করে ব্যাপক সফলতা লাভ করেছেন চিংড়ি চাষিরা। এতে সাধারণ পদ্ধতির চেয়ে প্রায় ৫০ গুণ বেশি চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলা আশাশুনির আনুলিয়ায় সাবেক ইউপি সদস্য এনামুল হোসেনসহ শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ গ্রামের ২৫ জন মৎস্য চাষি আধা নিবিড় পদ্ধতিতে চাষ করে সফলতা পেয়েছেন। একটি প্রকল্পের মাধ্যমে উৎসাহিত হয়ে এ পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষে মনোনিবেশ করেন তারা।
মৎস্য চাষিরা জানান, এ পদ্ধতিতে একটি ৩ বিঘা মৎস্য ঘেরে প্রায় ৩২ হাজার চিংড়ি পোনা ছাড়া যায় । যা প্রায় ৪ মাসের মাথায় মাছ বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে। গত বছর থেকে এই পদ্ধতিতে উপকূলের কিছু চাষি চিংড়ি চাষ শুরু করেছেন। যা উৎপাদিত হয়েছে পূর্বের তুলনায় অনেকগুণ বেশি। সনাতন পদ্ধতিতে যেখানে হেক্টরপ্রতি ৩০০-৫০০ কেজি চিংড়ি উৎপাদন হতো, সেখানে আধা নিবিড় পদ্ধতিতে উৎপাদন পাঁচ হাজার কেজি ছাড়িয়ে যায়।
আধা নিবিড় পদ্ধতিতে মাছ চাষ দেখতে অনেকেই হাজির হয় এই প্রকল্পের ঘেরে। অনেকেই আগ্রহী হয়ে আগামী দিনে এ পদ্ধতিতে চাষ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আশাশুনির আনুলিয়ার প্রাক্তন ‌ইউপি সদস্য এনামুল হোসেন জানান, সাতক্ষীরার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খাইরুল মোজাফফার মন্টু মিয়ার বিভিন্ন প্রজেক্ট দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজের ২৩ শতক জমিতে মাছ চাষ শুরু করেন। তার পুকুরে জীবাণুমুক্ত করে ২৫ হাজার রেনুপোনা ছেড়ে দেন। মাত্র ৪ মাস ১০ দিন লালন পালন করে ২৫ মন মাছ উৎপাদন করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, আমার খরচ হয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। আর মাছ বিক্রি করে ৭ লক্ষাধিক টাকা পাওয়া যাবে বলে আমি আশা করছি।
তিনি বেকার যুবকদের উদ্দেশে আধা নিবিড় পদ্ধতিতে মাছ চাষ করার পরামর্শ দেন।
৬৭০ কেজি দরে তার ঘের থেকেই স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রয় করেন এবং সেটি সরাসরি খুলনার ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। তবে মাছের দাম কম বলে লাভের পরিমাণ একটু কম হয়েছে বলে জানান তিনি।
শ্যামনগরের আধা নিবিড় চিংড়ি চাষি মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে তিনি এ চাষ শুরু করেন। প্রথমে ভয় কাজ করলেও পরবর্তীতে তা কেটে গেছে। পূর্বের চাষ পদ্ধতির থেকে তিনি বেশি উৎপাদন পেয়েছেন। যা উৎপাদন হয়েছে রীতিমত স্থানীয়দের মাঝে সাড়া পড়েছে বলে জানান তিনি।
দেবহাটা এলাকার চিংড়ি চাষি মাহমুদুল হক লাভলু জানান, তাদের এ সাফল্য দেখে এ অঞ্চলের চিংড়ি চাষিরা অল্প জমিতে অধিক উৎপাদনের আশায় আধা নিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন।
শ্যামনগর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তুষার মজুমদার জানান, আধা নিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করলে সব খরচ বাদ দিয়ে বছরে চাষিরা বিঘাপ্রতি দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা লাভ করতে পারবেন।
সাতক্ষীরা জেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জিএম সেলিম এই প্রতিবেদককে ‌জানান, সাতক্ষীরা জেলায় ৫৯০৫৪ হেক্টর জমিতে বাগদা চিংড়ি চাষ হয়েছে। এ বছর ২৫০০২ মেট্রিক টন বাগদা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যা গত বছর ছিল ২৪৫৭১ মেট্রিক টন।
প্রাক্তন ‌‌খুলনা বিভাগীয় মৎস্য কর্মকর্তা (সহকারী পরিচালক) রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, বাগদা চাষে এখন প্রধান সমস্যা হচ্ছে বাগদার পোনা টিকিয়ে রাখা। তবে আধা নিবিড় পদ্ধতিতে সঠিক নার্সিংয়ের মাধ্যমে পোনার মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব। গতানুগতিক পদ্ধতি পরিহার করে উপকূলের চিংড়ি চাষিরা আধা নিবিড় পদ্ধতিতে অনেক বেশি লাভবান হওয়ায়ষাটের দশক থেকে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে মৎস্য চাষ হয়ে আসছে। জোয়ারের পানি বাঁধ দিয়ে আকটিয়ে রেখে পানির সাথে থাকা চিংড়ি ও মাছের পোনাকে ৩-৪ মাস লালন পালন করে তা আহরিত করা হত। পরবর্তী কালে বিশ্ববাজারে চিংড়ির চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে দেশে চিংড়ি চাষের বি¯তৃতি ঘটতে থাকে। আশির দশকের দিকে চিংড়ি চাষের পদ্ধতিগত উন্নয়ন হয়। এসময় উপকূলীয় অঞ্চলের বক্সবাজার, সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলায় ব্যাপকভাবে চিংড়ি চাষ এলাকা বৃদ্ধি পায়। কক্সবাজার ছাড়া তিনটি জেলায় মূলত ধান ক্ষেতে ধান উৎপাদনের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে চিংড়ি চাষ শুরু করা হয়।
চিংড়ি চাষের মাধ্যমে ১৯৮৩-৮৪ সালে ৪৩৮৬ মেঃ টন চিংড়ি উৎপাদিত হয়। যা ১৯৯০-১৯৯১ সালে ১৯৪৮৯ মেঃ টন, ১৯৯৬-৯৭ সালে ৫২২৭১ মেঃ টনে দাঁড়ায়। বর্তমানে তা দিন দিন বাড়ছে।  চিংড়ি চাষে এ ব্যাপক উন্নয়নের ধারা প্রকৃত পক্ষে সরকারি-বেসরকারী পর্যায়ের প্রচেষ্টার ফল। তবে এ বিষয়ে স¤প্রসারণের ফলে নানাবিধ অর্থতৈনিক ও সামাজিক সমস্যার সৃষ্টিও হয়েছে। বিষয়টির উপর গুরুত্ব দিয়ে চিংড়ি চাষীদের চিংড়ি চাষে প্রশিক্ষণ দেয়াসহ পোনার উৎপাদনের জন্য হ্যাচারী স্থাপনে সহায়তা করার লক্ষ্যে সরকার ১৯৮৫ সালে একটি চিংড়ি চাষ প্রকল্প গ্রহণ করে।  চিংড়ি চাষাধীন এলাকা: বর্তমানে বাগদা চিংড়ি চাষের জন্য উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ১.৩০ লক্ষ হেক্টর জমি ব্যবহার করা হচ্ছে। যার মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ জমি বৃহত্তর খুলনা জেলায় অবস্থিত। এছাড়াও দেশের ১৬টি জেলায় প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমি গলদা চাষের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে।
চিংড়ি চাষ পদ্ধতি-: দেশে চিংড়ি চাষের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি প্রচলিত থাকলেও সত্যিকার অর্থে কোন পদ্ধতিতেই পদ্ধতিগত দিক হতে রীতি-নীতি মেনে চলা হচ্ছে না। যে কোন পদ্ধতিতেই চাষ হোক না কেন খামারের প্রকৃত লক্ষে কি ধরনের ব্যবস্থাপনা বিদ্যমান তা খামার মালিকদেরও ধারণা কম থাকে। বিশেষ করে বৃহৎ আকারের খামারগুলোতে খামার মালিকগণ নিজেরাই চাষ করে থাকেন বলে এ ক্ষেত্রে খামার পরিচালনায় জটিলতার উদ্ভব কম হবার সম্ভবনা থাকে। দেশে বর্তমানে যে পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ হচ্ছে তা প্রধানত প্রচলিত ও আধা-নিবিড় পদ্ধতি। শতকরা ৭৫ শতাংশ জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে। যার উৎপাদন হার হেক্টর প্রতি ২০০-২০৫ কেজি।  প্রকৃত চিংড়ি চাষ এলকা চিহ্নিতকরণ-: বর্তমানে যে সব এলাকায় চিংড়ি চাষ হচ্ছে সেগুলো প্রকৃতপক্ষে কতখানি চিংড়িচাষের জন্য উপযোগী তা যাচাই বা পরীক্ষা করে দেখা হয়নি বা দেখার সুযোগও হয়নি। শুধুমাত্র জমি প্রাপ্তির সুবিধার উপর নির্ভর করেই খামার স্থাপিত হয়েছে। বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলের অধিকাংশ চিংড়ি খামার ধান ক্ষেতগুলোতে স্থাপিত। এগুলো সাধারণত কয়েক মাসের জন্য জমির মালিক থেকে  ইজারা নিয়ে চিংড়ি চাষ করা হয়। ফলে একটি আদর্শ চিংড়ি খামারের জন্য যে সকল অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা থাকার কথা তা এতে থাকে না। পানির গভীরতা কোন কোন স্থানে মাত্র ১২ ইঞ্চি বা তারও নীচে থাকে। এ সকল কারণে প্রয়োজনের তুলনায় অযথা বিস্তীর্ণ এলাকায় লবন পানি প্রবেশ করিয়ে চাষ করা হচ্ছে। অর্থাৎ অবকাঠামোগত দিক বিবেচনা করে খামার স্থাপনা করা হলে এক দিকে চিংড়ি চাষের ক্ষেত্রে সুবিধা হত আবার অন্য দিকে আরও অনেক কম আয়তনের জমি ব্যবহার করে খামার স্থাপনা করা যেত। আর সে সঙ্গে খামারের অবকাঠামোগত প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও বৃদ্ধি করা যেত। বর্তমানে তা করা সম্ভব হচ্ছে না।
অবকাঠামোগত ও ব্যবস্থাপনা সমস্যা-: খামার মালিক অথবা খামার পরিচালনার জন্য নিয়োজিত লোকের চিংড়ি চাষের উপর ব্যাপক কারিগরি জ্ঞান কম।  আবার অনেকের সামান্য জ্ঞান থাকলেও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে উন্নত কারিগরি ব্যবস্থায় পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। তা ছাড়া খামার মালিক খামার পরিচালনার ক্ষেত্রে তার নিয়োজিত খামার ব্যবস্থাপকের দেয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করেই খামার পরিচালনার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেনও অর্থ বিনিয়োগ করে। খামার ব্যবস্থাপনায় যে সকল তথ্য পরিবেশিত হয়ে থাকে তা কতটুকু নির্ভরযোগ্য তা যাচাই করে দেখা হয় না। ফলে যে কোন কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলে সাধারণ চিংড়ি রোগ হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। যা সর্বক্ষেত্রে সত্য নয়।  উপকরণ সমস্যা-:চিংড়ি চাষের জন্য চিংড়ি পোনা ও চিংড়ির খাদ্যই হচ্ছে মুল উপকরণ। দেশের বাগদা চিংড়ি বিভিন্ন পদ্ধতিতে চাষের জন্য প্রতি বছর প্রায় ৪৬০ কোটি পোনার প্রয়োজন হয়। এর থেকে বর্তমানে হ্যাচারী থেকে প্রায় ১’শ কোটি এবং প্রাকৃতিক উৎস থেকে প্রায় ২’শ কোটি পেনা সরবরাহ হয়। আহরিত পোনার মৃত্যুহার ধরা হলে এ হিসেবে প্রতি বছর প্রায় ২’শ কোটিরও অধিক সংখ্যক পোনার ঘাটতি থেকে যায়। দেশের বাদগা চিংড়ি পোনার মোট চাহিদার প্রায়  ৭০ শতাংশ প্রয়োজন হয় খুলনা অঞ্চলে যার সংখ্যা প্রায় ৩২২ কোটি। এ অঞ্চলে প্রাকৃতিক উৎস্য ও হ্যাচারী থেকে মাত্র ৫৭ কোটি পোনা পাওয়া। ফলে এ অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পোনার ঘাটতি থেকে যায়। এ জন্য কক্সবাজার অঞ্চল হতে সড়ক ও আকাশ পথে খুলনা অঞ্চলে পোনা পরিবহন করা হয়ে থাকে। সড়ক পথে পরিবহনের সময় পোনার মৃত্যুর হার ৩০ শতাংশেরও অধিক। তাছাড়া খুলনা অঞ্চলের চাহিদার তুলনায় পরিবহনকৃত পোনা সংখ্যার তুলনায় অপ্রতুল। যার ফলে প্রায় ক্ষেত্রেই খামারগুলোতে পোনা মজুদ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম হয় ও উৎপাদন ব্যাহত হয়। কক্সবাজার অঞ্চলেই মুলত বাগদা চিংড়ি হ্যাচারীগুলো অবস্থিত। বর্তমানে হ্যাচারীগুলো অতি সন্তোষজনক ও লাভ জনক উপায়ে  পোনা উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। এ পরিবর্তন সাধিত হয়েছে আকাশ পথে চিংড়ি পোনা পরিবহনের সৃষ্টি হবার কারণে। খুলনা অঞ্চলে চিংড়ি উৎপাদনের স্বার্থে গত কয়েক বছর থরে আকাশ পথে চিংড়ির পোনা পরিবহনের জন্য সরকার উদ্যোগ নেয়। ফলে বর্তমানে নিয়মিতভাবে দুটি ভাড়া করা বিমানে কক্সবাজার থেকে যশোর বিমান বন্দর পর্যন্ত আকাশ পথে পোনা পরিবহন করা হচ্ছে। যশোর বিমান বন্দর হতে তা ট্রাকযোগে সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন খামারে পরিবহন করে নেয়া হচ্ছে। কক্সবাজার থেকে যাশোর হয়ে খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন চিংড়ি খামার পর্যন্ত পেনা পরিবহনে মোট সময় লাগে ৪-৪.৩০ ঘন্টা। এ প্রক্রিয়ায় পোনা পরিবহনের সময় মৃত্যুহার ২-৩ শতাংশ হয়ে থাকে। ফলে আকাশ পথে পোনা পরিবহন কার্যক্রম লাভজনকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বিগত ফেব্র“য়ারী ৯৯ হতে ১৫ই জুন পর্যন্ত আকাশ পথে এ যাবৎ প্রায় ৫০-৫৫ কোটি পোনা পরিবহনের জন্য প্রতিটির জন্য ব্যয় হত ০.০৭ টাকা। কিন্তু পোনার মৃত্যুর হার বিচেনা করলে তুলনামুলকভাবে আকাশ পথে এ ব্যয় হচ্ছে ০.০৪ -০.০৫ টাকা। এ বছর খুলনা অঞ্চলের খামারগুলোতে পূর্বের তুলনায় পোনা মজুদের হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এ অঞ্চলে চিংড়ি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়। উন্নত পদ্ধিতিতে বাগদা চাষের জন্য যে খাদ্যের প্রয়োজন হয় তা সাধারণঃ পিলেটেড ফুড, যার প্রতি কেজির মূল্যের প্রায় ৪০ টাকা। দেশে বর্তমানে উন্নত প্রচলিত ও আধানিবিড় চাষের জন্য এ সকল খাদ্য ব্যবহার হচ্ছে।  তবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্থায়ীভাবে তৈরী চিংড়ি খাদ্য ব্যবহার করা হয়। পোনা বাজারজাত করার সমস্যা-: খুলনা অঞ্চলে এ বছর প্রায় ৫ কোটি পোনা উৎপাদিত হয়েছে বলে জানা যায়। কক্সবাজার অঞ্চলে বর্তমানে যে ১৯টি হ্যাচারী রয়েছে। তাদের উৎপাদন ক্ষমতা যথেষ্ট না হলে ও অতি অল্প অবকাঠামোগত পরিবর্তন করে এর উৎপাদন করা সম্ভব। কিন্তু কক্্রবাজার অঞ্চলে পোনার চাহিদার তুলনায় হ্যাচারী ও প্রাকৃতিক উৎস থেকে  যে পরিমাণ পোনা উৎপাদিত হয় তাতে এ অঞ্চলে বাড়তি থেকে যায়। কক্্রবাজার অঞ্চলের হ্যাচারীগুলোতে বিগত বছরের তুলনায় দ্বিগুণের চেয়েও বেশি পোনা উৎপাদিত হবে বলে হ্যাচারীগুলোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এ বছর পোনার সংকট না থাকায় খামার মালিকেরা অল্প টাকায় পোনা পেয়েছে। একারণে এ বছর প্রকৃতি বৈরী না হলে তাদের উৎপাদন ও লাভ বেশি হবে বলে খামার মালিকদের আশাবাদ।
মোট রপ্তানিজাত বাগদা চিংড়ির সিংহভাগ উৎপাদন হয় উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায়। তবে বার বার প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তাপদাহ, ভাইরাস ও নদীর পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধিসহ নানা কারণে সংকটের মধ্যে রয়েছে চিংড়ি শিল্প। তার ওপর করোনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে চিংড়ির দাম কমে যাওয়ায় সাতক্ষীরার অনেকেই চিংড়ি চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিলেন।
তবে চলতি বছর বেড়েছে চিংড়ির উৎপাদন। একই সঙ্গে চাষিদের হতাশা দূর করতে জেলা মৎস্য বিভাগ বেশ কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে। তারই একটি ‘সাসটেইনেবল কোস্টাল অ্যান্ড মেরিন ফিশারিজ প্রজেক্ট’। এ প্রকল্পের আওতায় কালীগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামে উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করে আশানুরূপ সফলতা মিলেছে। চাষিরা বলছেন, মাত্র ৯৩ দিনে বিঘাপ্রতি ১০০ কেজির বেশি বাগদা চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে। যার গ্রেড হয়েছে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২২টি।
স্থানীয় মাছ চাষি মো. মোক্তাদির হোসেন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এই প্রথম ১৩০৫ শতক জমিতে মোট ২৩টি ঘেরে উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে বাগদা চিংড়ি চাষ করা হয়েছে। আমিও ৪ বিঘার ঘেরে এ পদ্ধতিতে চাষ করে লাভবান হয়েছি। এ চাষে প্রতি বিঘা জমিতে খরচ হয়েছে ৩০-৩৫ হাজার টাকা। ৯৩ দিন পর ঘের থেকে প্রায় ৩০০ কেজির মতো মাছ ধরে বিক্রি করেছি। ঘেরে এখনও প্রচুর মাছ আছে। প্রতি বিঘা থেকে ৭০-৯০ হাজার টাকার মাছ বিক্রি করেছি।’
মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তীব্র তাপদাহ, নানা ধরনের ভাইরাস ও পানিতে মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে আগের মতো মাছ উৎপাদন হয় না। ২০২০ সালে করোনার পর আন্তর্জাতিক বাজারে চিংড়ির চাহিদা কমায় দামও কমে যায়। তবে নতুন করে চিংড়ির চাহিদা বেড়েছে। মৎস্য বিভাগ থেকে নতুন প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। কম জমিতে উৎপাদন বাড়লে আগামীতে চিংড়ি চাষির সংখ্যাও বাড়বে।’
শিবপুর বাগদা চাষি ক্লাস্টারের সাধারণ সম্পাদক মধু সূদন মন্ডল বলেন, ‘পারিবারিকভাবে ২০০৪ সাল থেকে আমি বাগদা চাষের সঙ্গে আছি। এতদিন সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করতাম। গত আগস্ট মাসে কালীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ নিয়ে উন্নত সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করেছিলাম। এ মাসের ২০ তারিখে ঘেরে জাল দিয়ে মাছ ধরেছি। প্রতি বিঘায় আগে যেখানে ৩ মাসে ৪০-৪৫ কেজি পেতাম। এবার সেখানে মাত্র ৯৩ দিনে ১০০ কেজির বেশি উৎপাদন হয়েছে।’
কালীগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, ‘জেলার ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ৫৮ হাজার লবণ পানির ঘেরে বাগদা চিংড়ি চাষ হয়। এর মধ্যে অধিকাংশ ঘেরেই সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করা হয়। এবারই প্রথম উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সনাতন পদ্ধতিতে চাষে সফলতা এসেছে। এ প্রযুক্তির চাষে কম জমিতে উৎপাদন বেড়েছে দ্বিগুণ। পরীক্ষামূলক এ প্রকল্পের কাজ সফল হয়েছে। আগামীতে এ পদ্ধতিতে বাগদা চাষ আরও বাড়বে। মৎস্য বিভাগ থেকে আগ্রহীদের উন্নত এ প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।