সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : বাংলাদেশে ২০২৩ সালে চিংড়ির হেক্টরপ্রতি উৎপাদন ছিল দশমিক ৫ টন। একই সময়ে প্রতিবেশী ভারতে এর পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক শূন্য ৫ টন। সে অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ভারতে চিংড়ির হেক্টরপ্রতি উৎপাদন ছিল বাংলাদেশের চেয়ে ১৪ গুণেরও বেশি।
বাংলাদেশে ২০২৩ সালে চিংড়ির হেক্টরপ্রতি উৎপাদন ছিল দশমিক ৫ টন। একই সময়ে প্রতিবেশী ভারতে এর পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক শূন্য ৫ টন। সে অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ভারতে চিংড়ির হেক্টরপ্রতি উৎপাদন ছিল বাংলাদেশের চেয়ে ১৪ গুণেরও বেশি।
একই বছরে ইন্দোনেশিয়ায় চিংড়ির হেক্টরপ্রতি উৎপাদন হয়েছে ৩ দশমিক ৬ টন, যা বাংলাদেশের তুলনায় সাত গুণেরও বেশি। রফতানি খাতে বাংলাদেশের আরেক প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম এ সময় প্রতি হেক্টরে চিংড়ি উৎপাদন করেছে ১ দশমিক ৪৭ টন বা বাংলাদেশের তুলনায় প্রায় তিন গুণ।
বাংলাদেশের মৎস্য অধিদপ্তর, ভারতের সামুদ্রিক পণ্য রফতানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এমপিইডিএ) এবং ভিয়েতনামের জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারি পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে। এসব পরিসংখ্যান বিবেচনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূল হলেও চিংড়ির উৎপাদনশীলতায় প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে বাংলাদেশ। এ উৎপাদনশীলতা স্থবির অবস্থায় রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) এক প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে বাগদা চিংড়ির হেক্টরপ্রতি গড় উৎপাদন মাত্র দশমিক ৩৩ টন। আর গলদা চিংড়ির ক্ষেত্রে তা দশমিক ৫২ টন।
বিষয়টিকে দেশের চিংড়ি খাতে কৃষকদের জ্ঞান ও বাস্তব চর্চার সীমাবদ্ধতা হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে চিংড়ির উৎপাদন এখনো বাগদা ও গলদার সনাতনী চাষ পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল। এ নির্ভরশীলতায় সীমিত হয়ে পড়েছে খাতটির উদ্ভাবন ও প্রতিযোগী সক্ষমতা। যদিও পাশের দেশ ভারত এরই মধ্যে ভেনামি জাতের চিংড়ি চাষে সফল রূপান্তরের উদাহরণ তৈরি করেছে।
দেশটিতে এ রূপান্তরের সূচনা হয়েছিল অন্ধ্র প্রদেশে। আগে ভারতেরও চিংড়ি খাত ছিল পুরোপুরি গলদা ও বাগদানির্ভর। ২০০৯-১০ সালের দিকে অন্ধ্র প্রদেশে ভেনামির চাষ শুরু হয়। বর্তমানে দেশটির চিংড়ি রফতানি বাবদ পাওয়া আয়ের ৯৫ শতাংশই আসে ভেনামি থেকে। আর এ জাতের চিংড়ি উৎপাদনের মাধ্যমে অন্ধ্র প্রদেশ হয়ে উঠেছে দেশটির প্রধান চিংড়ি রফতানি কেন্দ্র।
তবে বাংলাদেশে বাগদা চাষে সেমি-ইনটেনসিভ পদ্ধতির প্রয়োগ এরই মধ্যে সাফল্যের সম্ভাবনা দেখিয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় চিংড়ির উৎপাদনশীলতা পৌঁছেছে হেক্টরপ্রতি ৪ দশমিক ৫১ টনে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশে বৈজ্ঞানিক কৃষি ব্যবস্থাপনা গ্রহণ ও সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাটা এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ হিমায়িত খাদ্য রফতানি অ্যাসোসিয়েশন এবং আর্ক সি ফুডস লিমিটেডের পরিচালক আরমান হাসান বলেন, ‘বাংলাদেশে চিংড়ি চাষ হয় সনাতন পদ্ধতিতে। খুলনা-বাগেরহাট অঞ্চলে যেসব ঘের আছে, সেগুলোয় এক ফুট গভীরতা পানিতেও চাষ হচ্ছে। সেখানে কোনো ধরনের খাদ্য দেয়া হয় না। পানির গভীরতা কম হওয়ায় অনেক সময় সূর্যের তাপে পোনা মারা যায়। ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ঘেরের সব চিংড়ি মারা যায়। বায়োসিকিউরিটি বা জৈব নিরাপত্তার বিষয়গুলো মানা হয় না। ফলে অনেক সময় পোনা মারা যায়। সব মিলিয়ে কৃষক বা চাষীদের জ্ঞানগত ঘাটতির জায়গাটুকুও রয়ে গেছে। আবার দেশে চিংড়ির উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে কার্যকর গবেষণা তেমন একটা নেই। বিনিয়োগেরও ঘাটতি রয়েছে। এগুলোসহ নানা কারণে দেশে উৎপাদন কম হচ্ছে।’
বাগদা থেকে ভেনামি চাষ বেশি সুবিধাজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাগদার চেয়ে ভেনামির উৎপাদন ঘনত্ব অনেক বেশি। একই পরিমাণ পানিতে যতটুকু বাগদা চাষ করা হয়, ভেনামি তার চেয়ে বেশি করা যায়। এছাড়া উৎপাদন বাড়াতে পুকুরকে অন্তত চার-পাঁচ ফুট গভীর করা প্রয়োজন। তবে এটিও কৃষকের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এক্ষেত্রে কৃষকের জন্য খননযন্ত্র সংগ্রহ ও ব্যয় নির্বাহের বিষয়টিও জড়িত। আর চিংড়ির জন্য ভালো ফিড প্রয়োজন। ভালো প্রজাতির পোনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য পোনাকে পুকুরে ছাড়ার আগে সেগুলো রোগ প্রতিরোধী কিনা, তা যাচাই করে নিতে হবে। পাশাপাশি কৃষকদের প্রশিক্ষিত করতে হবে। ভেনামি চাষ এবং বায়োসিকিউরিটির বিষয়টি নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশেও অন্যান্য দেশের মতো উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে।’
ওয়ার্ল্ড ইন্টিগ্রেটেড ট্রেড সলিউশনের (ডব্লিউআইটিএস) তথ্যমতে, চিংড়ি খাতে বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের রফতানি আয় প্রায় ১৩ গুণ বেশি। ইন্দোনেশিয়ায় তিন গুণ এবং ভিয়েতনামের রফতানি আয় বাংলাদেশের ৩ দশমিক ৩৯ গুণ বেশি। অথচ ২০১০ সালে চিংড়ি রফতানিতে বাংলাদেশের আয় ছিল ৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার। আর ভারতের রফতানি আয় ছিল ৮৮ কোটি ৩০ লাখ। অর্থাৎ বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবধান ছিল ২২ কোটি ২০ লাখ ডলারের। ওই সময় বাংলাদেশের চেয়ে ইন্দোনেশিয়ার রফতানি মাত্র ১ কোটি ২০ লাখ ডলার বেশি ছিল। তবে ভিয়েতনামের সঙ্গে রফতানির পার্থক্যটা ছিল অনেক বেশি, ৭৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
ডব্লিউআইটিএসের হিসাবে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের চিংড়ির রফতানি আয় মাত্র ৩৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার। বিপরীতে ভারতের রফতানি আয় ছিল ৪২৯ কোটি ৩০ লাখ ডলার। ইন্দোনেশিয়া ওই সময় চিংড়ি রফতানিতে ১০৬ কোটি ২০ লাখ ডলার আয় করে। আর ভিয়েতনাম ১৮০ কোটি ২০ লাখ ডলারের চিংড়ি রফতানি করেছে গত বছর।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভারত ও ভিয়েতনামে কাঁচামালের মূল্য খুবই কম। ভেনামি চিংড়ি প্রকল্পে তাদের খরচ কম, উৎপাদন বেশি। বিপরীতে বাংলাদেশে উৎপাদন কম। কাঁচামালের দামও বেশি। বেশি জনসংখ্যার এ দেশে স্থানীয় বাজারেও চিংড়ির ব্যাপক চাহিদা। ফলে রফতানিতে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদদেশ।
বাংলাদেশে চিংড়ি চাষের ঘেরগুলো এখনো অধিকাংশ ক্ষেত্রে সনাতনী পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। এখানে পানির লবণমাত্রা, অক্সিজেনের মাত্রা এবং রোগ ঝুঁকি পর্যবেক্ষণের মতো মৌলিক কাজও হাতেকলমে করা হয়। ফলে অধিকাংশ সময় চাষীরা নিশ্চিত ফল পেতে পারেন না। অন্যদিকে বৈশ্বিক চিংড়ি বাজারে যারা এগিয়ে আছে, তারা প্রযুক্তিভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থায় যোগ দিয়েছে। বাংলাদেশকেও বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তিকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় দ্রুত রূপান্তর করা জরুরি। সেন্সরভিত্তিক জলমান পর্যবেক্ষণ, অটোমেটেড এয়ারেশন, ঘের পর্যায়ের বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থা এবং বৈজ্ঞানিক খাদ্য ব্যবস্থাপনার মতো প্রযুক্তি প্রয়োগ করলে দেশের চিংড়ি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে উৎপাদন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবস্থায় রূপান্তরের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ, প্রশিক্ষণ এবং মাঠ পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ নিয়োগের ব্যবস্থা অপরিহার্য। এর মাধ্যমে চাষীরা আধুনিক পদ্ধতিতে উৎপাদন বাড়াতে পারবেন এবং আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী রফতানিযোগ্য চিংড়ি উৎপাদনে সক্ষম হবেন।
এসিআই এগ্রোলিংকের বিজনেস ডিরেক্টর সৈয়দ মো. ইশতিয়াক বলেন, ‘বিশ্ববাজারে বাংলাদেশী চিংড়ির যে পরিমাণ চাহিদা আছে, আমরা তার ৩০ শতাংশও সরবরাহ করতে পারছি না। ভারতসহ প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশে চিংড়ির উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি। এ ব্যয়ের ৮০ শতাংশই যাচ্ছে ফিড কেনার পেছনে। উৎপাদন ব্যয় কমাতে হলে সবার আগে ফিডের দাম কমাতে হবে। একই সঙ্গে চাষীদের জন্য স্বল্প সুদের ঋণ নিশ্চিত করতে হবে। চিংড়ি চাষে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি চাষীদের দক্ষ ও সচেতন করে গড়ে তুলতে হবে।’
দেশে চিংড়ির উৎপাদন বাড়লে দাম কমে আসবে জানিয়ে সৈয়দ মো. ইশতিয়াক বলেন, ‘চিংড়ির উৎপাদন কমে যাওয়ায় আমাদের প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাগুলো বসে আছে। কারখানাগুলো সচল রাখার পাশাপাশি বেকারত্ব রোধে আমরা ‘রফতানির জন্য আমদানি’ এমন একটি নীতি চাচ্ছি। এ নীতির আওতায় বিদেশ থেকে কম দামে কাঁচামাল আমদানি করে, সেটিতে ভ্যালু অ্যাড করে রফতানি করা যাবে। মূল্য সংযোজনের লক্ষ্যে সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চিংড়ি আমদানির অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের অভাবে কাজটি শুরু করা যাচ্ছে না।’
দেশে চিংড়ির অধিকাংশ পোনা অঙ্কুরেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। হ্যাচারিগুলোতে মান যাচাইয়ের কার্যকর কোনো পদ্ধতি না থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে রোগজীবাণুমুক্ত চিংড়ি নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার চিংড়িচাষী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, অনেক সময় প্রায় ৯০ শতাংশ পোনা খামারে ছাড়ার পর মারা যায়। এর মূল কারণ হলো এসপিএফ (স্পেসিফিক প্যাথোজিন ফ্রি) সনদ না থাকা। এ সনদ না থাকায় রোগবাহী পোনাকে আলাদা করা যায় না। এসপিএফ পরীক্ষা নির্দিষ্ট পরিবেশে পোনা নির্বাচন করে সম্পন্ন করা হয়। এ সনদের মাধ্যমে চাষীরা সুস্থ, দ্রুতবর্ধনশীল এবং উচ্চ হারে বেঁচে থাকা পোনা নিশ্চিত করতে পারেন।
খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করেন, চাষাবাদে রোগজীবাণু বা সংক্রমণ সৃষ্টিকারী চিংড়িকে পরিহার করে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এসপিএফ সনদ বাধ্যতামূলক করা দরকার। এটি দেশীয় চিংড়ি খাতকে প্রযুক্তিনির্ভর, রোগমুক্ত এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখব
বৈশ্বিকভাবে চিংড়ি নানা ধরনের খাবার ও প্রক্রিয়াজাত পণ্যের উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। চিংড়ি থেকে তৈরি হয় বিস্কুট, স্ন্যাকস, প্রোটিন পাউডার, নুডলস, স্যান্ডউইচ, সমুচা, টেম্পুরা, স্প্রিং রোল, চিপসসহ নানা পণ্য। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো মূলত হিমায়িত চিংড়ি রফতানি করে আসছে। দেশীয় চিংড়ি কোনো ব্র্যান্ড আকারে তৈরি না হওয়ায় এর ব্যবহার সীমিত রয়েছে—প্রধানত বাঙালি রেস্তোরা ও হেঁশেলে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও আছিয়া সী ফুডস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তারিকুল ইসলাম জহীর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিশ্ববাজারে “ভ্যালু অ্যাডেড” চিংড়ি পণ্যের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। “রেডি টু কুক” বা “রেডি টু ইট” এবং পিল্ড অ্যান্ড ডেভেইন (প্রক্রিয়াজাত ও প্রস্তুত) পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক বেশি মূল্য পায়। চিংড়িকে প্রক্রিয়াজাত ও প্রস্তুত পণ্যে রূপান্তর করলে রফতানি আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সক্ষমতাও বাড়বে। এজন্য প্রয়োজন উপযুক্ত নীতি, উদ্যোগ ও সহায়তা। এর মাধ্যমে চাষী ও উদ্যোক্তারা প্রযুক্তিনির্ভর ও মানসম্পন্ন ভ্যালু অ্যাডেড পণ্য উৎপাদনে এগিয়ে যেতে পারবেন।’
দেশের হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি অনেকটাই খাদের কিনার থেকে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে। টানা দুই বছর হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি কমে যাওয়ার পর বিদায়ী অর্থবছর ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হয় প্রায় ২২ শতাংশ। যদিও চার মাস অর্থাৎ অক্টোবর শেষে প্রবৃদ্ধি ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
একাধিক রপ্তানিকারক বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বিশ্ববাজারে বাগদা চিংড়ির চাহিদা হ্রাস পায়। তখন বিশ্ববাজারে কম দামের ভেনামি চিংড়ির চাহিদা বেশি ছিল। বাংলাদেশে তখনো বাণিজ্যিকভাবে উচ্চফলনশীল জাতের চাষ শুরু হয়নি। ফলে হিমায়িত চিংড়ির রপ্তানি কমে যায়। তবে গত বছর আবার বাগদার চাহিদা ও রপ্তানি বাড়তে শুরু করেছে।
রপ্তানিকারকেরা আরও বলছেন, ক্রয়াদেশ ভালো থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী কাঁচামাল বা চিংড়ি মিলছে না। দেশে অল্প পরিমাণে ভেনামি চিংড়ির চাষ শুরু হলেও তা রপ্তানি হচ্ছে না। ফলে রপ্তানি ভবিষ্যতে কতটা টেকসই হবে, সেটি বলা যাচ্ছে না।
বিজ্ঞাপন
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যানুযায়ী, করোনার পর ২০২১-২২ অর্থবছরে হিমায়িত চিংড়ির রপ্তানি আয় প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়ে ৪১ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। তবে পরের বছরই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পণ্যটির রপ্তানিতে ধস নামে। রপ্তানি দাঁড়ায় ৩০ কোটি ডলারে। তার পরের ২০২৩-২৪ অর্থবছরেও রপ্তানি কমে হয় প্রায় ২৫ কোটি ডলার। তবে বাড়তি ক্রয়াদেশের কারণে বিদায়ী অর্থবছরে রপ্তানি ১৯ শতাংশ বেড়ে হয় ২৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার।
চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) ১২ কোটি ডলারের হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম চার মাসে রপ্তানি হয়েছিল ১১ কোটি ডলারের হিমায়িত চিংড়ি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশের হিমায়িত চিংড়ি, কাঁকড়া ও কুঁচিয়া রপ্তানির শীর্ষ পাঁচ গন্তব্য ছিল নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে বিদায়ী অর্থবছরে শীর্ষ গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে চীন। দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ৫ কোটি ৬৬ লাখ ডলারের পণ্য। এ ছাড়া নেদারল্যান্ডসে পৌনে ৫ কোটি ডলার, যুক্তরাজ্যে সাড়ে ৪ কোটি ডলার, বেলজিয়ামে ৪ কোটি ডলার, জার্মানিতে ২ কোটি ৯৬ লাখ ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্রে ২ কোটি ডলারের হিমায়িত চিংড়ি, কাঁকড়া ও কুঁচিয়া রপ্তানি হয়েছে।
দেশে ভেনামি চিংড়ি চাষের অনুমতি চেয়ে সরকারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দেনদরবার করেন রপ্তানিকারকেরা। তবে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে—এ যুক্তিতে শুরুতে ভেনামি চাষে উৎসাহ বা অনুমতি কোনোটাই দেয়নি মৎস্য অধিদপ্তর। অবশেষে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে সরকার পরীক্ষামূলকভাবে এই চিংড়ি চাষের অনুমতি দেয়। করোনার কারণে তা-ও পিছিয়ে যায়।
২০২১ সালে খুলনার পাইকগাছা উপজেলায় অবস্থিত লোনাপানি গবেষণাকেন্দ্রে পরীক্ষামূলক ভেনামি চিংড়ির চাষ শুরু হয়। পরের বছর প্রথম ধাপে আটটি প্রতিষ্ঠান পরীক্ষামূলকভাবে ভেনামি চাষের অনুমতি পায়। পরে আরও চারটি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়। গত বছর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
দেশে অতি নিবিড় পদ্ধতিতে উচ্চফলনশীল প্রজাতির ভেনামি চিংড়ি চাষ হচ্ছে কক্সবাজারের একটি খামারে। সীমার্ক (বিডি) নামের এই প্রতিষ্ঠানের মান নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, চলতি বছর তিন দফায় তাঁদের ৭৫ টন ভেনামি চিংড়ি যুক্তরাজ্যে রপ্তানি হয়েছে।
বাংলাদেশ হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক সমিতির (বিএফএফইএ) নেতারা জানান, বর্তমানে ছোট-মাঝারি মিলে ৫০-৬০টি প্রতিষ্ঠান ভেনামি চিংড়ির চাষ করছে। উৎপাদনও সন্তোষজনক পর্যায়ে রয়েছে।
এমইউ সি ফুডসের এমডি শ্যামল দাস বলেন, ‘বাগদার ক্রয়াদেশ ভালো মিলছে। যদিও আমরা চাহিদা অনুযায়ী কাঁচামাল পাচ্ছি না। ফলে রপ্তানি বৃদ্ধি টেকসই হবে কি না, বুঝতে পারছি না।’ তিনি আরও বলেন, হিমায়িত চিংড়ির রপ্তানি টেকসই করতে হলে ভেনামি চিংড়ির উৎপাদন বাড়াতে হবে।
প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সাতক্ষীরায় রপ্তানি আয় বেড়েছে দেশের সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি থেকে। চলতি অর্থবছরে এ খাত থেকে ২ হাজার ২৫ কোটি টাকা আয় হয়েছে, যা গেল অর্থবছরের তুলনায় অন্তত ১৫০ কোটি টাকা বেশি।
দেশে মোট রপ্তানিজাত চিংড়ির একটি বড় অংশ উৎপাদন হয় উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায়। প্রতি বছর আড়াই থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার চিংড়ি রপ্তানি হয়। চলতি মৌসুমের মাঝামাঝি সময় এসে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকা দিয়ে প্রবাহিত প্রচন্ড তাপদাহে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার অনেক চিংড়ি ঘরের মাছ মারা গেলেও গত বছরের তুলনায় চলতি অর্থবছর রপ্তানি আয় বেড়েছে।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, সত্তর-আশির দশকের দিকে শুরু হয় সাতক্ষীরায় লবণ পানির চিংড়ি চাষ। বাগদা, গলদা, হরিণা, চাকা ও চেম্বিসহ বিভিন্ন প্রজাতির চিংড়ি চাষ হয় এখানে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২৩-২৪ মৌসুমে সাতক্ষীরার ছয়টি উপজেলায় ৫৯ হাজার লবণ পানির ঘেরে বাগদা চিংড়ি চাষ হয়, যা থেকে ২৭ হাজার টন চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে। উৎপাদিত এসব বাগদা চিংড়ি থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ২ হাজার ২৫ কোটি টাকা। মোট উৎপাদিত চিংড়ির ৯০ শতাংশ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয় এবং বাকি ১০ শতাংশ দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ হয়েছে। এর আগে ২০২২-২৩ মৌসুমে জেলায় ২৫ হাজার টন বাগদা চিংড়ি উৎপাদন হয়েছিল, যা থেকে রপ্তানি আয় হয় ১ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। এ হিসাব অনুযায়ী চলতি মৌসুমে ১৫০ কোটি টাকা রপ্তানি আয় বেড়েছে।
করোনা পরবর্তী এ জেলায় বাগদা উৎপাদন যেমন বেড়েছে, তেমন রপ্তানি আয়ও বাড়ছে। এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে জেলার চিংড়িচাষীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণসহ সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তারা।
আশাশুনি উপজেলার সরাপপুরের চিংড়িচাষী রাজ্যেশ্বর দাশ জানান, প্রায় চার দশক ধরে চিংড়ি চাষ করেন তিনি। ২০২৩-২৪ মৌসুমে ২ হাজার বিঘা ঘেরে বাগদা চিংড়ি চাষ করেছেন। উৎপাদন খরচ উঠিয়ে প্রায় দেড় থেকে ২ কোটি টাকা লাভ হয়েছে। তবে প্রথম পর্যায়ে কিছু মাছ মারা যায়। তা না হলে লাভের পরিমাণটা আরো বাড়ত। চিংড়ি উৎপাদনে সম্ভাবনাময় জেলা সাতক্ষীরা কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে সুনাম হারাচ্ছে বাংলাদেশী চিংড়ি। অতিমুনাফা করতে চক্রটি চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করে আন্তর্জাতিক বাজার নষ্ট করছে।
সাতক্ষীরা জেলা চিংড়ি পোনা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল কালাম বাবলা জানান, জেলার উৎপাদিত বাগদা চিংড়ির চাহিদা রয়েছে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে। তবে কোভিড এর সময় রপ্তানি বন্ধ থাকায় দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারেও চাহিদা বেড়েছে। এখন দেশের বাজারে বাগদা চিংড়ি ৮০০-৮৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আনিছুর রহমান বলেন, ২০২৩-২৪ মৌসুমে সাতক্ষীরায় রপ্তানিজাত বাগদা চিংড়ি উৎপাদন হয়েছে ২৭ হাজার টন যা গত বছরের তুলনায় অন্তত ২ হাজার টন বেশি। উৎপাদিত এসব বাগদা চিংড়ি প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা হারে গড় রপ্তানি মূল্য ২ হাজার ২৫ কোটি টাকা। গেল মৌসুমে জেলায় ২৫ হাজার টন বাগদা চিংড়ি উৎপাদন হয়, যা থেকে রপ্তানি আয় ছিল ১ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা। এ হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাগদা চিংড়িতে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৫০ কোটি টাকা। উৎপাদন এবং রপ্তানি ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চিংড়িচাষীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণসহ সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে।
চলতি মৌসুমে কক্সবাজার জেলার ৮ উপজেলার ৬৫ হাজার একর জমিতে হচ্ছে বাগদা চিংড়ি চাষ। পরিবেশ অনুকূলে থাকলে কক্সবাজার জেলা থেকে উৎপাদিত চিংড়ি রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে। যা জাতীয় অর্থনীতিতে রাখতে পারবে বড় অবদান। ইতোমধ্যে জেলার ৫ শতাধিক প্রজেক্টে চিংড়ি চাষ ও আহরণ শুরু হয়েছে। তবে বর্তমান বিশ্ববাজারে চিংড়ির চাহিদা ক্রমেই বাড়লেও চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণেও চিংড়ি রপ্তানি কমেছে। ২০২২–২৩ অর্থবছরে চিংড়ি খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ২৬ শতাংশ কম। রপ্তানি বাড়াতে চিংড়ি উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষি খাতের মতো চিংড়ি খাতেও ভর্তুকির দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
কক্সবাজার জেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় অন্তত ৬৫ হাজার একর জমিতে বাগদা চিংড়ি চাষ হচ্ছে চলতি মৌসুমে। ইতোমধ্যে চিংড়ি চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
মহেশখালীর চিংড়ি পোনা সরবরাহকারী হোয়ানক ইউনিয়নের হরিয়ার ছড়া গ্রামের সফিউল আলম বলেন, চলতি মৌসুমে স্থানীয় পোনার চাইতে হ্যাচারিতে উৎপাদিত পোনার চাহিদা বেশি। ইতোমধ্যে ৪/৫টি প্রজেক্টে প্রায় ৭০ লাখ চিংড়ি পোনা সরবরাহ করা হয়েছে। গত মৌসুমে চিংড়ি চাষিরা লাভবান হওয়া চাষিদের মাঝে আগ্রহ বেড়েছে। মহেশখালীর চিংড়ি চাষি হোয়ানক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এনামুল করিম জানিয়েছেন, বর্তমানে বাগদা চিংড়ির মূল্য বেশি থাকায় সবাই প্রজেক্টের দিকে নজর দিয়েছে। আমি চলতি মৌসুমে তিনটি চিংড়ি প্রজেক্টে প্রায় ২০ লাখ টাকার পোনা দিয়েছি। চিংড়ি চাষের অনুকূল পরিবেশ থাকলে আশা করছি মৌসুম শেষে অন্তত ১ কোটি টাকার চিংড়ি উৎপাদন হবে। তবে মহেশখালীর ধলঘাটা, মাতারবাড়ি ও হোয়ানকের হেতালিয়া মৌজা এলাকায় বেশ কিছু জমি কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণে চলে যাওয়ায় আগের চেয়ে মহেশখালীতে চিংড়ি চাষ অনেকটা কমে গেছে।
গত বর্ষা মৌসুমে চিংড়ির আশানুরূপ উৎপাদনের ফলে লাভের মুখ দেখায় চলতি মৌসুমে দ্বিগুণ উৎসাহে কাজে নেমেছেন চিংড়ি চাষিরা। কক্সবাজার জেলার দ্বীপ উপজেলা মহেশখালী ও কুতুবদিয়া, পেকুয়া, চকরিয়া, উখিয়া, টেকনাফ ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ উপকূলীয় এলাকায় শুরু হয়েছে চাষ।
এদিকে চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেই চিংড়ি রপ্তানি কমেছে। ২০২২–২৩ অর্থবছরে চিংড়ি খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩০০ মিলিয়ন ডলার। যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ২৬ শতাংশ কম। এমন তথ্য জানিয়েছে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট। রপ্তানি বাড়াতে চিংড়ি উৎপাদনে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া কৃষির মতো এই খাতেও ভর্তুকি দেয়ার দাবি জানাচ্ছে তারা। রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট বলছে, বিশ্ববাজারে ক্রমেই চিংড়ির চাহিদা বাড়ছে। বর্তমানে চিংড়ির বৈশ্বিক বাজার ৩২ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় অর্ধেক চিংড়ির বাজার ইকুয়েডর ও ভারতের দখলে। দেশ দুটি যথাক্রমে বৈশ্বিক চাহিদার ২৩ দশমিক ৯ শতাংশ ও ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাজার দখল করে আছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের দখল কমে ১ দশমিক ৪৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া উল্লেখযোগ্য চিংড়ি রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, আর্জেন্টিনা, থাইল্যান্ড ও চীন।
ফ্রোজেন ফিস ট্রেডার্স এন্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ও মহেশখালী উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বলেন, চিংড়ি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী বাংলাদেশের একটি প্রধান অর্থকরী ফসল। মহেশখালীসহ কক্সবাজার জেলার আটটি উপজেলা চিংড়ি চাষের একটি উল্লেখযোগ্য জোন। মহেশখালীতে উৎপাদিত চিংড়ি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাই চিংড়ি চাষে আধুনিকায়ন ও যুগ উপযোগী প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান–পূর্বক উৎপাদন বাড়াতে হবে।