সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নে লবণাক্ত জমিতে বাড়ছে তরমুজ চাষ। অল্প সময়ে বেশি লাভ হওয়ায় পতিত জমিতেও প্রথমবারের মতো তরমুজ চাষ করেছেন অনেকে। এ বছর ৪৬৭ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৩৪০ হেক্টর বেশি। সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপরিচালক সাইফুল ইসলাম এই প্রতিপাদকে জানিয়েছেন ২০২৬ সালে সাতক্ষীরায় ১৯ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হচ্ছে এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ জমি লবণাক্ততা এলাকায়। তিনি আরো জানা ইতিমধ্য তরমুজ চাষিরা রমজান মাসকে সামনে রেখে চড়া ধরে আসায় আগাম তরমুজ চাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। কোন কোন চাষীদের গাছে ফল গুটি বেধেছে আবার কোন কোন চাষিরা বীজ রোপন করছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে জানা যায় সাতক্ষীরা জেলার সাত উপজেলার মধ্য সবচেয়ে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে তরমুজ চাষ হচ্ছে শ্যামনগর উপজেলায়। শুধু এ বছরেই দু হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষের মেতেছে চাষিরা,। সাতক্ষীরা জেলা সাত উপজেলার মধ্য কলারোয়া উপজেলায় ১৫০০ হেক্টর সাতক্ষীরা সদরে ১৫০০ হেক্টর আশাশুনিয়া উপজেলায় ১১০০ হেক্টর তালা উপজেলায় ১৭০০ হেক্টর দেবহাটা উপজেলায়১৪৭০ হেক্টর কালীগঞ্জ উপজেলায় ১৬০০ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলা ২০৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হচ্ছে। সাতক্ষীরা জেলা ও প্রতিটি উপজেলা কৃষি অফিস থেকে এই সমস্ত তরমুজ চাষী কৃষকদের চাষাবাদ করা তরমুজ খেতে নেক নজর রেখেছেন এবার সারা ও ক্ষেত পরিচর্যার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ইউনিয়নের ফকরাবাদ, বুড়িয়া, নড়েরাবাদ, গোয়ালডাঙ্গা ও বামনডাঙ্গা বিল এখন সবুজ লতায় সমারোহ। অধিকাংশ গাছে ফুল ফোটার পাশাপাশি ফলন আসতে শুরু করেছে। নারী শ্রমিকরা কেউ তরমুজ গাছের পরিচর্যা করছেন, কেউবা দূরের খালে কিংবা পুকুরে জমা পানি সেচযন্ত্রের সাহায্যে পাইপ দিয়ে আনা হচ্ছে খেতে, সেই পাইপ উঁচু করে ধরে রাখছেন, আবার কেউ গাছের চারপাশে পানি দিচ্ছেন।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ৪ বছর আগেও বড়দল ইউনিয়নের বিলগুলোতে আমন ধান চাষের পর জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। বিলগুলো গোচারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহার হতো। এ ছাড়া শুষ্ক মৌসুমে মাটিতে লবণাক্ততার পরিমাণ বেড়ে যেত, তাই বৃথা পরিশ্রম হবে ভেবে কেউ চাষাবাদের চেষ্টাও করতেন না। এখন সেই জমিগুলোই তরমুজ চাষে স্বপ্ন দেখাচ্ছে কৃষকদের।
অল্প সময়ে বিনিয়োগের দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ লাভ হওয়ায় দিন দিন তাদের ভরসা হয়ে উঠছে লবণসহিষ্ণু তরমুজ চাষ। তরমুজের বীজ রোপণ থেকে ফল উত্তোলন পর্যন্ত সময় লাগে সর্বোচ্চ আড়াই থেকে তিন মাস। প্রতি বিঘায় খরচ হয় ২০-২৫ হাজার টাকা। আর ভাগ্য ভালো হলে তরমুজ বিক্রি হয় ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায়।
বড়দলের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সত্যরঞ্জন বৈরাগী বলেন, গত বছর তরমুজে ব্যাপক লাভ হয়েছিল। কিছু কিছু কৃষক বিঘাপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার বেশি লাভ করেছিলেন। এ কারণে এবার অনেক বেশি কৃষক তরমুজের চাষে ঝুঁকছেন। তিনি নিজেও এ বছর ১০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। তবে এ বছর মজুরি, সার ও বীজের দাম বেশি।
তরমুজচাষি মাছুম সরদার বলেন, গত বছর ৬৫ বিঘা জমিতে তরমুজ করেছিলাম, বিঘাপ্রতি ৪৫ হাজার টাকার মতো লাভ হয়। এ বছর ৭০ বিঘা চাষ করেছি। বিঘাপ্রতি ২১ হাজার টাকা খরচ হয়েছে এ পর্যন্ত। চারা ভালো হয়েছে। এ বছরও ভালো ফলন পাবো বলে আশা রাখি। কিন্তু তিতুখালী খালে লবণ পানি উঠায় পানি ও মাটির লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় ভয়ে থাকতে হয়।
চারায় পানি দিতে দিতে ঝর্ণা রানী নামের এক নারী বলেন, সারাদিন ৪০০ টাকা মজুরিতে কাজ করি। প্রতিবছর তরমুজ চাষ শুরু হলে এই এলাকার ৩ থেকে ৪ শত নারীরা প্রায় ২ মাস কাজের সুযোগ পেয়ে থাকে।
বড়দল ইউনিয়নের দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিব বলেন, ক্লাইমেট স্মার্ট প্রকল্পের মাধ্যমে তরমুজ চাষের জন্য ৪০টি মিনি পুকুর খনন করা হয়েছে, যেখানে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে সেচ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। একই প্রকল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় তরমুজ চাষের প্রযুক্তির ওপর ৪ ব্যাচ প্রশিক্ষণ, সোলার পাম্প, ডিজেল চালিত সেচ মেশিন ও প্রদর্শনী প্রদান করেছি এবং উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদেরকে তরমুজ চাষাবাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান সম্পর্কে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।
এখনো পর্যন্ত মাঠের অবস্থা সন্তোষজনক এবং আবহাওয়া ভালো থাকলে আশা করছি এ বছর প্রচুর লাভ হবে এবং পরবর্তী বছরে আরো নতুন করে ৩ থেকে ৪শ হেক্টর এক ফসলি জমি তরমুজ চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উপজেলার কিছু অঞ্চলে চিংড়ি চাষ বর্জন করে তরমুজ চাষে ঝুঁকছেন চাষিরা। সে অনুযায়ী মৌসুমকে সামনে রেখে কৈখালী, রমজাননগ, ঈশ্বরীপুর ও ধুমঘাট গ্রামের তরমুজ চাষিরা এখন ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। বর্তমান সময়ে চাষকৃত তরমুজ ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, রোপণকৃত তরমুজের চারা পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করে যাচ্ছেন চাষিরা। প্রতিটি চারাগাছে কেউ পানি দেওয়া, কেউ বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ছিটানো আবার কেউ কেউ চারা গাছের নিচে শুকনো ঘাস বা খড় বিছানো কাজে নিয়োজিত আছেন। এ বিষয়ে বৈশখালী গ্রামের তরমুজ চাষি তাজুল মল্লিক বলেন, বিগত বছরের তুলনায় এ বছর তরমুজ চাষে আমাদের খরচের হারটা একটু বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারণ, গত বছরের তুলনায় এ বছর তরমুজের বীজ ও সার, কীটনাশক, চাষের সরঞ্জামের দাম অনেক অনেক বেশি। গত বছর প্রতি ৩৩ শতক (১ বিঘা) জমিতে তরবুজ চাষ করতে আমাদের ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরে বিঘা প্রতি ৩৫ থেকে ৪০ হাজারের মতো খরচ হতে পারে। এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হুদা বলেন, ধান চাষের পাশাপাশি গত বছরের তুলনায় এ বছর উপজেলায় বিভিন্ন ধরনের সবজি ও তরমুজের চাষ অনেক বেশি। উপজেলায় গত বছর আনুমানিক ১২০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করা হলেও চলতি বছরে তার দিগুণ অর্থাৎ প্রায় ৯০০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে। খরচ বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি বলেন বীজ, সার ও শ্রমমিকের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় চাষিদের জন্য এবার খরচের হার একটু বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সামনের রমজানের ভেতরে যদি তরমুজ বিক্রির উপযুক্ত সময় হয় তাহলে কৃষকরা লাভবান হবে বলে আমি আশাবাদী। এদিকে বর্তমান সময়ে তরমুজ চাষিদের মধ্যে এখন সব চেয়ে বড় ভয়ের হয়ে দাঁড়িয়েছে রোপণকৃত চারাগাছে সংক্রমণ রোগে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার।তরমুজ পুষ্টি গুণের পাওয়ার হাউজ নামে খ্যাত। তরমুজে প্রচুর পরিমাণ পানি থাকে যার পরিমান ৯২ শতাংশের ও উপর। গরমের সময় যখন ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বের হয়ে যায়, তখন তরমুজ খেলে শরীরের পানিশূন্যতা দূর হয়। ফলে শরীর সুস্থ, সতেজ ও সবল থাকে। পুষ্টি গুনে ভরপুর এ তরমুজে ভিটামিন এ, সি, বি ও বি-২, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম সহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান।
বিভিন্ন গুণে গুণান্বিত সুস্বাদু এ ফল উৎপাদন, প্রচার প্রসার ও পরিচিতি দেশজুড়ে বিস্তৃত। কিন্তু প্রত্যন্ত শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত কৃষকরা এ ফল উৎপাদনের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক চাকা গতিশীলতার মধ্য দিয়ে ভাগ্য বদলের চেষ্টা করছে। গ্রীষ্ম মৌসুমী এ ফসল কিন্তু এখন বারোমাস চাষ হয়। মৌসুম শুরু হতে না হতে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে তাদের ক্ষেত প্রস্তুত বীজ বপন ও বীজ থেকে গজানো গাছের পরিচর্যায় একসময় ফুলে ফলে ভরপুর হয়ে ওঠে ফসলীমাঠ। পাকা ফসলের দিকে তাকিয়ে কৃষকের চোখে মুখে ভেসে ওঠে আনন্দে, তৃপ্তির হাসি। গতানুগতিক এ বছরও উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষকরা তাদের ক্ষেত প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে বপন করা বীজের অঙ্কুরিত চারা পরিচর্যা শুরু করেছে। কিন্তু দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকারে কৃষকদের চোখে মুখে ফুটে ওঠে স্পষ্ট দুশ্চিন্তার ছাপ। আলাপচারীতাই তাদের কাছ থেকে জানা গেল যাতায়াত ব্যবস্থা অনুন্নত থাকার কারণে তারা মৌসুমী এ ফল ভালো দামে বিক্রি করতে পারেনা। তার উপরে অতিরিক্ত তীব্র তাপ দহের কারণে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা না থাকায় পানির সংকট পড়ে।
ক্ষেতে ঠিকঠাক পানি না দিতে পারার কারণে অনেক সময় ফসল ভালো হয় না। এছাড়া হঠাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষয়ক্ষতির শিকারহন এ অঞ্চলের কৃষকরা। কৃষকদের দাবি পানি নিষ্কাশনের জন্য এক সময় পর্যাপ্ত খাল ছিল। বর্ষা মৌসুম এসব খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হত। গ্রীষ্ম মৌসুমে এসব খাল ভর্তি পানি কৃষি কাজে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এসব খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। এই খালগুলো যদি সরকারি ভাবে খননের উদ্যোগ নেওয়া হয় তবে উপকৃত হবে কৃষি পরিবার।
তরমুজ পুষ্টি গুনের পাওয়ার হাউজ নামে খ্যাত। তরমুজে প্রচুর পরিমাণ পানি থাকে যার পরিমান ৯২ শতাংশের ও উপর। গরমের সময় যখন ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি বের হয়ে যায়, তখন তরমুজ খেলে শরীরের পানিশূন্যতা দূর হয়। ফলে শরীর সুস্থ, সতেজ ও সবল থাকে। পুষ্টি গুনে ভরপুর এ তরমুজে ভিটামিন এ, সি, বি ও বি—২, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম সহ অন্যান্য পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান। বিভিন্ন গুনে গুনানিত সুস্বাদু এ ফল উৎপাদন, প্রচার প্রসার ও পরিচিতি দেশজুড়ে বিস্তৃত। কিন্তু প্রত্যন্ত শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলের নিম্ন ও মধ্যবিত্ত কৃষকরা এ ফল উৎপাদনের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক চাকা গতিশীলতার মধ্য দিয়ে ভাগ্য বদলের চেষ্টা করছে। গ্রীষ্ম মৌসুমী এ ফসল কিন্তু এখন বারোমাস চাষ হয়। মৌসুম শুরু হতে না হতে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকরা ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে তাদের ক্ষেত প্রস্তুত বীজ বপন ও বীজ থেকে গজানো গাছের পরিচর্যায় একসময় ফুলে ফলে ভরপুর হয়ে ওঠে ফসলীমাঠ। পাকা ফসলের দিকে তাকিয়ে কৃষকের চোখে মুখে ভেসে ওঠে আনন্দে, তৃপ্তির হাসি। গতানুগতিক এ বছরও উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষকরা তাদের ক্ষেত প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে বপন করা বীজের অঙ্কুরিত চারা পরিচর্যা শুরু করেছে। কিন্তু দীর্ঘ এক সাক্ষাৎকারে কৃষকদের চোখে মুখে ফুটে ওঠে স্পষ্ট দুশ্চিন্তার ছাপ। আলাপচারীতাই তাদের কাছ থেকে জানা গেল যাতায়াত ব্যবস্থা অনুন্নত থাকার কারণে তারা মৌসুমী এ ফল ভালো দামে বিক্রি করতে পারেনা। তার উপরে অতিরিক্ত তীব্র তাপ দহের কারণে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা না থাকায় পানির সংকট পড়ে। ক্ষেতে ঠিকঠাক পানি না দিতে পারার কারণে অনেক সময় ফসল ভালো হয় না। এছাড়া হঠাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ক্ষয়ক্ষতির শিকারহন এ অঞ্চলের কৃষকরা। কৃষকদের দাবি পানি নিষ্কাশনের জন্য এক সময় পর্যাপ্ত খাল ছিল। বর্ষা মৌসুম এসব খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হত। গ্রীষ্ম মৌসুমে এসব খাল ভর্তি পানি কৃষি কাজে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এসব খালগুলো ভরাট হয়ে গেছে। এই খালগুলো যদি সরকারি ভাবে খননের উদ্যোগ নেওয়া হয় তবে উপকৃত হবে কৃষি পরিবার। শুধু তরমুজ নয় পাশাপাশি অন্যান্য ফসল ও ফলানো সম্ভব। এ বিষয়ে কৈখালী ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি অফিসার অনুপম রায় এর সাথে ০১৭৮৫০৭৯০৯৪ নম্বর মুঠো ফোনে কথা হলে তিনি বলেন কৈখালী ইউনিয়নে ৬৬৪ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হচ্ছে। প্রান্তিক কৃষকদের সুযোগ—সুবিধার বিষয়ে জানতে চাইলে— তিনি বলেন সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয় না শুধুমাত্র পরামর্শ ব্যতীত। তবে পানি স্বল্পতার জন্য পাঁচ শতক আয়তনের প্রায় ৫০ (পঞ্চাশ)টি পুকুর সরকারিভাবে খনন করে দেওয়া হয়েছে। নিচের ভূগর্ভস্থ পানি লবণাক্ত হওয়ায় কৃষিকাজের অনুপযোগী এজন্য এ পুকুর থেকে ধান চাষ ব্যতীত অন্যান্য ফসলে কৃষকরা পানি ব্যবহার করে থাকেন। উপকূলীয় উপজেলায় প্রায় ১৫০ (একশত পঞ্চাশ) হেক্টর জমিতে কৃষকরা তরমুজ চাষ করছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন দৃষ্টিপাত এ প্রতিনিধিকে। উপজেলার কৈখালী, রমজান নগর, বুড়ি গোয়ালিনী ইউনিয়ন সহ অন্যান্য ইউনিয়নে দিন বদলের প্রচেষ্টায় কৃষকরা ঝুকছে তরমুজ চাষে। পর্যাপ্ত সরকারি সুযোগ—সুবিধা, প্রশিক্ষণ ও পানির অভাব পূরণ হলে তরমুজ চাষে অভাবনীয় সাফল্য পেতে পারে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা। উৎপাদনে বিপুল সম্ভাবনার দার হতে পারে উপকূলীয় উপজেলা। আন্তঃদেশীয় চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করাও সম্ভব এমনটা মনে করছেন শুধী মহল।উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর থানার কৈখালী একটি ইউনিয়ন। বিগত দিনে এলাকায় বেশিরভাগ মানুষ চিংড়ি চাষে ব্যস্ত থাকলেও বর্তমানে তারা যতটকু আবাদী জমি আছে তাতেই ধান ও বিভিন্ন সবজি করার পাশাপাশি কয়েকবছর ধরে তরমুজ চাষ করতে শুরু করেছেন। আইলার পরে প্রায় তিনবছর তরমুজ চাষ তেমন লাভের মুখ না দেখলেও বর্তমানে তারা এ ফসল চাষে লাভবান হচ্ছেন। এলাকার স্থানীয় কৃষকদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, তরমুজ চাষে খুব পরিশ্রম করতে হয়, পরিশ্রমের মাধ্যমে অনেক লাভ পাওয়া সম্ভব। চলতি মৌসুমে প্রায় এ ইউনিয়নে প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ হচ্ছে বলে তারা জানান।
তরমুজ গাছে একাধিক ফল ধরে। তার মধ্যে ভালো স্বাস্থ্যবান ফলটি রেখে তুলনামুলক দুর্বল ফলটি ডাল থেকে ফেঙে ফেলা হয়। কেননা একটি করে ফল রাখলে সেটা আকারে বড় হতে পারে। কৃষক মো. আব্দুল কাদের এবার এক বিঘা জমিতে বীজ, সার, পানি, ও অন্যান্য খরচ বাবদ প্রায় মোট ১৫ হাজার টাকা খরচ করেছেন তরমুজ চাষে। এবছর তিনি একবিঘা জমিতে প্রায় ১০০ মণ তরমুজ পেয়েছেন। মণ প্রতি ৪০০ টাকা দরে বিক্রি করে খরচ বাদ দিয়ে একবিঘা জমিতে তিনি প্রায় ২৫ হাজার টাকা লাভ করেছেন বলে জানান। তিনি জানান, তরমুজ বিক্রয়ের জন্য তাদের হাটে বাজারে যেতে হয় না। নিজেদের ক্ষেতে বসেই তরমুজ বিক্রয় করে পারেন। শ্যামনগরের বিভিন্ন এলাকার খুচরা ও পাইকারি ক্রেতারা এসব তরমুজ কিনে নিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করেন। তরমুজ চাষে প্রথম পর্যায়ে চাষিরা লাভবান হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে কয়েকধাপ বিক্রয়কারীরা লাভবান হয়। মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়া গেলেও শেষ পর্যায়ে অনেক কম দামে তরমুজ বিক্রয় করতে হয় তাদের। মানুষের পাশাপাশি পশুর খাদ্য হিসেবেও তরমুজ ব্যবহার হয়। ক্ষেতে অনেক তরমুজ ফেটে যায় এবং লাল অংশ খাওয়ার পর সাদা অংশ তারা গরু-ছাগলের খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে। তরমুজ ক্ষেত থেকে উঠে যাওয়ার দুই তিন মাস পর তারা এ জমিতে আমন ধান রোপণ করেন। বর্তমানে এলাকার অনেক কৃষক তরমুজ চাষে এগিয়ে আসছেন। তবে এলাকায় যাদের মিষ্টি পানির পুকুর আছে কেবল তারাই তরমুজ চাষ করতে পারছেন। তরমুজ একটি লাভজনক ফসল। এলাকার অনেক কৃষকের দাবি, যদি মিষ্টি পানির একাধিক পুকুর বা খাল কাটা হত তাহলে এলাকার অনেক কৃষক তরমুজ চাষ করতে পারত।
তরমুজ চাষের প্রথম শর্ত হল কৃষি উপযোগি পানি। মিষ্টি পানির পুকুর বা খাল নিকটবর্তী নির্বাচিত জমিতে ছোট ছোট মাদা তৈরি করা হয়। প্রতি দুই থেকে আড়াই হাত পর পর এবং প্রতি সারির দূরত্ব একই এবং প্রতিটা গর্তে ৩/৪টি বীজ রোপণ করতে হয়, যাতে করে প্রতিটা গর্তে যেন অন্তত একটি চারা গজায়। অনেকে বীজ বপনের পূর্বে মাটির পাত্রে ওম দিয়ে বীজ অঙ্কুরোদগম (কোলা) করে। বীজ বপন পরবর্তী প্রথম দু’তিন দিন পরপর চারায় পানি দিয়ে ভিজিয়ে দিতে হয়। এরপর চারা যখন ২/৩ ফুট হয় তখন সমস্ত ক্ষেতে খড়/নাড়া বিছিয়ে দিতে হয়, যাতে করে ফলটি নাড়ার ওপর থাকতে পারে এবং ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। স্থানীয় কৈখালী গ্রামের তরমুজ চাষী কৃষক মো. আব্দুল কাদের ও হাবিবুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, “সাধারণত জানুয়ারি (পৌষ-মাঘ) মাসে তরমুজের বীজ বপন করতে হয়। শীত থাকার কারণে বীজ ভালো কোলা (অঙ্কুরোদগম) হয় না। তাই আমরা মাজায় করে বীজ বেঁধে রাখি, শরীরের তাপের সাথে বীজ রেখে বীজের কোলা (অঙ্কুরোদগম) করি।
তরমুজ একটি বিষ্ময়কর স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পন্ন শক্তিশালী ফল যা শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি, ভিটামিন এবং খনিজ। তরমুজের শতকরা ৯২ ভাগই পানি এবং প্রাকৃতিকভাবেই এতে কোনো চর্বি থাকে না।
শ্যামনগরে আগামী রমজান কে সামনে রেখে বেশি লাভের আশায় বেশি দামে তরমুজ বিক্রি করার জন্য এবার আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে তরমুজ চাষিরা। আমন ধান কাটতে না কাটতেই শুরু করেছে তরমুজ চাষের প্রস্তুতি বিশেষ করে শ্যামনগরে কৈ খালি, ইশ্বরীপুর, মুন্সীগঞ্জ,ভুরুলিয়া, কাশিমাড়ি, শ্যামনগর সদর সহ অনেক এলাকায় গ্রামে তরমুজ চাষ হয়ে থাকে শ্যামনগরে মত্স্য চাষে বিখ্যাত হলেও এখন তরমুজ চাষে বিখ্যাত। শ্যামনগরে তরমুজ এতো মিষ্টি সাদে ও মানে ভালো তাই ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় শ্যামনগরে তরমুজের সুনাম ও চাহিদা অনেক বেশি। তাই এখনও চাষের সময় না হলেও তরমুজ চাষিরা রমজানে ঢাকা সহ বাইরে জেলার বাজার ধরার জন্য আগে ভাগে মাঠে নেমে পড়েছে। মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের মথুরাপুর গ্রামের তরমুজ চাষি হারান মন্ডল জানান তিনি প্রতি বছর ১০ কাঁটা জমিতে তরমুজ চাষ করছেন গতো মৌসুমে তাকে খরজ বাদ দিয়ে ৬২ হাজার টাকা লাভ হয়েছে তাই এবার দেড় বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করবে বলে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি আরো জানান আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার একটা বড়ো ধরনের লাভ করবে। তিনি বলেন তরমুজের দানা মাটিতে পুঁতে ৭৫/৮০ দিনের মধ্যে মিষ্টি তরমুজ উত্তোলন করা যায়।
“ইশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ্যাড শোকর আলি এই প্রতিবেদককে বলেন তরমুজ চাষিদের সবধরনের কৃষি সহযোগীতা করার জন্য আমরা শ্যামনগর কৃষি অফিসে আগাম চাহিদা দিয়েছে। তিনি নিজেও কিছু জমিতে তরমুজ চাষ করবেন বলে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ভুরুলিয়া ইউনিয়নের সিরাজপুর গ্রামের আনছার মাঝি এই প্রতিবেদককে জানান গত মৌসুমে তিনি ৩ বিঘা জমিতে ২ পদের তরমুজ চাষ করেছিল প্রথম বছর বুঝে উঠতে না পারায় একটু নাবিতে চাষ পড়ে যায়। তবুও খরচ বাদ দিয়ে ৬০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। এবার তিনি ৪ বিঘা জমিতে ২ পদের তরমুজ চাষ করবেন বলে আগে ভাগে প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছে। আনছার মাঝি আরও জানান তার এলাকায় এবার নতুন করে অনেক চাষি প্রস্তুতি নিচ্ছে তরমুজ চাষের জন্য।
উপজেলা কৈ খালি ইউনিয়নের আনিছুর গাজী জানান গতো বছর সে এক একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছে সব তরমুজ পাইকারি পাটিরা কিনে ঢাকার বাজারে নিয়ে গেছে।এবার তিনি সবে মাত্র আমন ধান কেটে বাড়ি তুলে তরমুজ চাষের জন্য খেত একটু সুখিয়ে নিচ্ছে তাড়াতাড়ি আবার নতুন করে ২ একর জমিতে তরমুজ চাষ করবেন। তিনি আরও বলেন ইতোমধ্যে উন্নত মানের তরমুজের বিচ সংগ্রহ করেছেন। গত বছর তিনি খরচ বাদে ১ লাখ টাকা লাভ করেছেন।
ইশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুম ঘাট গ্রামের মাজেদ আলি জানান তিনি গতবছর ১ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করে ছিল। তার তরমুজের মান এতো ভালো হয়েছিল যে ঢাকার পাইকারি পাটিরা খেত থেকে ৩৫ টাকা কেজিতে সব মাল কিনে নিয়ে যায়। অল্প কিছু ছোট খাটো মাল ছিল সেগুলো তিনি নিজেও স্থানীয় বংশিপুর বাজারে ৩০/৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রিয় করেন। এবার তিনি দেড় বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করবে বলে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।যাতে আগামী মাহে রমজান মাসে এই তরমুজ খেত থেকে বাজারে তুলতে পারে সেভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
কাশিমাড়ি ইউনিয়নের খুঁটি কাঁটা গ্রামের শওকাত সানা জানান তিনি গতবছর ১০ কাঁটা জমিতে তরমুজ চাষ করে খরজ বাদে ২৫ হাজার টাকা লাভ করেন। তিনি প্রথম বার ভালো বুঝে উঠতে পারেনি। এবার তিনি দেড় বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করবেন এবং রমজান মাসে যাতে মাঠ থেকে তরমুজ বাজার জাত করতে পারে সেই লক্ষ্যে নিয়ে তড়িঘড়ি প্রস্তুতি নিচ্ছে।
শ্যামনগর উপজেলা কৃষি অফিসার নাজমুল হুদা জানান গত মৌসুমে শ্যামনগর উপজেলায় মোট ২০০০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছিল। এর মধ্যে কাশিমাড়ি ইউনিয়নে ৩৫০ হেক্টর কৈ খালি ইউনিয়নে ৬৫০ হেক্টর শ্যামনগর সদরে ২০০ হেক্টর ভুরুলিয়া ইউনিয়নে ৩০০ হেক্টর আটুলিয়া ইউনিয়নে ২০০ হেক্টর মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নে ১০০ হেক্টর ও ইশ্বরীপুর ইউনিয়নে ২৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছিল ২০২৫ সালে সব রেকর্ড ভেঙে শ্যামনগর উপজেলায় দেড় হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হবে এবং সব চাষিরা পাল্লা দিয়ে আগামী রমজান মাসে মানুষের মুখে তরমুজ তুলে দেবে বলে সকল প্রকার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে তার কাছে খবর রয়েছে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ীর খুটিকাটা বিলে এবারও তরমুজ চাষে সফলতার মুখ দেখছেন চাষিরা। চলতি মৌসুমে ধান ও তরমুজ চাষ করে তাতে আশার আলো জ্বেলেছেন এলাকার কৃষকরা। তবে কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তর শ্যামনগরের তথ্যমতে, এ বছর কাশিমাড়ী ইউনিয়নে তরমুজ চাষ হয়েছে ১৫ হেক্টরের মতো জমিতে। যেখানে গত বছর ছিল প্রায় এর দ্বিগুণেরও বেশি। লবণাক্ত এলাকা হওয়ায় শুধু সেচ পানির অভাবে এ এলাকায় চলতি মৌসুমে কয়েকশ হেক্টর চাষযোগ্য জমি অপতিত রয়েছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, তরমুজে ভরে রয়েছে এ এলাকার চাষিদের ক্ষেত। একটু দেরিতে তরমুজ চাষ করায় দেরিতে বাজারজাতকরন শুরু করেছে চাষিরা। বিগটপ, জাম্বু, গেন্ডারি ও ড্রাগন জাতের তরমুজ চাষ করেছে কৃষকরা।
তরমুজ চাষি নীলকণ্ঠ মণ্ডল, কামাল হোসেন, পলাশ মণ্ডল ও মুজিবর রহমান জানান, গতবারের তুলনায় এবার তরমুজের ফলন অনেক বেশি। বৃষ্টির কারণে একটু দেরিতে জমি প্রস্তুত করায় তরমুজ চাষ দেরিতে করা হয়েছে। এজন্য প্রথমদিকে আমরা ক্ষেত থেকে তরমুজ উঠাতে পারেনি। বর্তমানে তারা তরমুজ উঠাতে শুরু করেছেন। বাজারে এখন তরমুজের দাম বেশ ভালো। তবে আরও আগে উঠাতে পারলে দাম আরও বেশি পেতেন এবং লাভ আরো বেশি হতো। তরমুজ চাষাবাদের কাজে শ্যামনগর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর তাদের সার্বক্ষণিক তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে আসছে। বিঘাপ্রতি আমাদের খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার মতো। আর মৌসুমের শেষ পর্যন্ত বিক্রি করে লাভ দাঁড়াবে বিঘাপ্রতি ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মতো। তারা আরও জানান, তবে তাদের এখানে কৃষিকাজে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সেচ দেওয়ার জন্য মিষ্টি পানির ব্যবস্থা করা। যদি মিষ্টি পানির ব্যবস্থা করা যায় তবে আগামীতে এ এলাকায় অপতিত শতশত বিঘা জমিতে নানামুখী কৃষিকাজ করা সম্ভব হবে। তাই আমরা সরকারসহ বিভিন্ন এনজিও সংস্থার কাছে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ব্যবস্থা করা কিংবা এ এলাকায় খাল ও পুকুর খননের মাধ্যমে মিষ্টি পানির ব্যবস্থা করার জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা (গোবিন্দপুর) শামসুর রহমান বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর শ্যামনগর সর্বদা তরমুজ চাষিদের সঙ্গে আছে। এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো মিষ্টি পানির সমস্যা। যদি মিষ্টি পানির সরবরাহ করা যায় তবে তরমুজের আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে।
এ ব্যাপারে সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম এই প্রতিবেদককে জানান সাতক্ষীরা জেলা তথা শ্যামনগর উপজেলায় জলবায়ুর প্রভাবে লবণাক্ততা মাটিতে এত পরিমাণ তরমুজের ফলন হয় এবং তরমুজ মিষ্টি হয় এটা আমি আবার চাকরি জীবনে এই সাতক্ষীরায় এসে দেখছি। যাইহোক এটা সাতক্ষীরা তরমুজ চাষীদের জন্য একটি আনন্দর বিষয় এবং অর্থনৈতিক সংকট নিরেশনের বিষয়। তিনি আরো বলেন আমি জেনে অবাক হয়ে গেলাম সাতক্ষীরা জেলা শ্যামনগর উপজেলা কৈখালী ইউনিয়ন এবং ঈশ্বরীপুর ইউনিয়নের তরমুজ এত সুস্বাদু যাহা বাংলাদেশে রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়ে থাকে এবং এর চাহিদা ও তরমুজ পিপাসুদের কাছে অনেক গুরুত্ব।