
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সাতক্ষীরা সংসদীয় ৪আসন শ্যামনগর ৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১ টায় দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলামের নির্বাচনী মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মহাসমাবেশে শ্যামনগর উপজেলা ১২ইউনিয়ন সহ পার্শ্ববর্তী কালিগঞ্জ দেবহাটা ও আশাশুনি উপজেলা থেকে আশা লক্ষ্য মানুষের ঢল নামে। সকাল থেকে বেলা যতো বাড়তে থাকে শ্যামনগর হরিচরণ সরকারি পাইলট হাই স্কুল ,মাঠ শ্যামনগর সরকারি মহসিন কলেজ মাঠ ,শ্যামনগর জাতীয় ঈদগা মাঠ, লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। অনেকে মাঠে জায়গা না পেয়ে সড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে মহাসমাবেশের বক্তাদের বক্তব্য শুনে। মহাসমাবেশে নারীদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। সামনে দিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা শ্যামনগরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্যামনগরের দাড়িপাল্লার মহাসমাবেশের বড় আকর্ষণ ছিল কেন্দ্রীয় জামায়াতের সহকারী জেনারেল,মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল,বাংলাদেশ ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক সিগবাতুউল্লাহ শিগবা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য নির্বাচিত ভিপি সাদেক কাইয়ুম ও বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামের একমাত্র সংখ্যালঘু মনোনীত খুলনা ১আসনের প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দর উপস্থিতি। উক্ত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শ্যামনগর উপজেলা জামাতের আমির মাওলানা আব্দুর রহমান, প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়তে ইসলামের কেন্দ্রীয় ছাত্র শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিগাবাতুল্লাহ সিগবা, বক্তব্য রাখেন বিশেষ অতিথি হিসেবে বর্তমান সময়ের আলোচিত ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্যনির্বাচিত ভিপি সাদিক কাইয়ুম , বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নেতা শ্যামনগরের কৃতি সন্তান বিশিষ্ট দানবীর খলিলুর রহমান, বক্তব্য রাখেন খুলনায় ১ আসনের জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী বাবু কৃষ্ণানন্দ, বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির শহিদুল ইসলাম, বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আজিজুর রহমান,। প্রধান অতিথি কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল তার বক্তব্যে বলেন জামায়াতে ইসলাম সরকার গঠন করলে এ দেশের সংখ্যালঘুদের ও মা-বোনদের সার্বিক নিরাপত্তা সহ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হবে। নারীরা যাতে বিভিন্ন কর্ম ক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে পারে জামায়াতে ইসলাম তার জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।, তিনি আরো বলেন বাংলাদেশ শুধু ইসলামের রাষ্ট্র নয় এ দেশে হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ খ্রিস্টান সব ধরনের মানুষ আমরা বসবাস করি ।সে কারণে সব ধরনের মানুষের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠা করা হবে, এবং কোন ধর্মের মানুষ যাতে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয় সে ব্যাপারে বাংলাদেশ জামায়তে ইসলাম সব সময় বদ্ধপরিকর। আগামীতেও এই প্রতিশ্রুতি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়ন হবে, প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল আরো বলেন গুঞ্জন উঠেছে জামাতে ইসলাম ক্ষমতায় গেলে সংখ্যালঘু ও নারীদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে কিন্তু এটা ভুল আমি এই শ্যামনগরের মাটিতে কথা দিয়ে গেলাম আগামী ১২ তারিখে ডাড়ি পাল্লায় ভোট দিয়ে আপনারা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামকে ক্ষমতায় নিয়ে আসলে মা-বোনসহ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার চাদরে ঘিরে রাখা হবে। তিনি আরো বলেন কেহ মা-বোন অথবা সংখ্যালঘুদের উপরে চোখ রাঙালে তার চোখ তুলে নেওয়া হবে। বন্ধ করা হবে চিরতরে চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের দুর্নীতি। যেকোনো উপায় মা-বোন ও সংখ্যালঘুদের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের সরকার সর্বাত্মক নিরাপত্তা দিবে এবং তাদের যাবতীয় দৈনন্দিন কাছ থেকে শুরু করে সকল ব্যবসা-বাণিজ্য চাকরি সব ক্ষেত্রে সম অধিকার বাস্তবায়ন করবে। তিনি বলেন গুঞ্জন উঠেছে মা-বোনদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জামায়াতে ইসলাম লাঞ্ছিত করবে বঞ্চিত করবে এটা ঠিক নয় মা-বোন যারা এসব কথা বলছে শুধু তাদের নয় মা-বোন জামায়াতে ইসলামের মা-বোন। তুমি আরো বলেন সংখ্যালঘুদের বিষয় কথা হচ্ছে জামায়াতে ইসলাম ইসলামী দল ক্ষমতায় গেলে সংখ্যালঘুদের ভালো নজরে দেখবে না এটা মিথ্যা কথা আমাদের প্রিয় নবী রাসুল বলে গিয়েছেন কোন ধর্মকে খাটো করে দেখা মুসলমানের কাজ নয় ,সকল ধর্ম বর্ণের মানুষকে সম অধিকার দিতে হবে । বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম সেই দল হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান সকল ধর্মের মানুষকে সম অধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর এবং ক্ষমতায় গেলে তা বাস্তবে রূপান্তরিত করবে। যারা এই সমস্ত গুঞ্জন ছড়াচ্ছেন তাদেরকে প্রমাণ করিয়ে দেবে জামায়াতে ইসলাম কোন ধরনের রাজনীতি করে। তাই তিনি আরো বলেন আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা ৪ শ্যামনগর আসনের জামাত ইসলামের মনোনীত প্রার্থী সদযোগ্য সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য কাজী নজরুল ইসলামকে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন ।তাহলে আপনাদের এলাকায় এসে বিভিন্ন সমস্যার কথা আমি শুনেছি তার প্রধান কারণ প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপকূলের মানুষ জর্জরিত হয়ে পড়েছে ।সে কারণে প্রয়োজন টেকসই মজবুত ভেরিবাধ বনজীবীদের পাঁচ মাস সুন্দরবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকে সে কারণে তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান খাবার পানি সংকট নিরসন জলবায়ুজনিত কারণে মায়েরা নানা রোগে আক্রান্ত সহ চাঁদাবাজি ধান্দাবাজি দখল ভাজি দালালি অপহরণ ধর্ষণ নির্যাতন মিথ্যা মামলা হামলা বেশি শক্তি প্রয়োগ সহ নানা সমস্যায় জর্জরিত এগুলো আমরা আমলে নিয়েছি ।আল্লাহর রহমতে নির্বাচিত হলে এই শ্যামনগরের মানুষের জন্য এই সমস্ত সমস্যার সমাধান ও বাস্তবায়নের জন্য আগে আমরা কাজ করব । তিনি মা-বোন ও সংখ্যালঘুদের উদ্দেশ্যে বলেন আপনাদের জন্য কোন প্রকার চিন্তা নেই জামায়াতে ইসলাম আপনাদের সব দায়ভার ঘাড়ে নিয়েছেন আপনারা নির্ভয় আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে গাজী নজরুল ইসলামকে নির্বাচিত করবেন এই আশা ও প্রত্যাশা আমার। বাংলাদেশ ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল শিগবাতুল্লা শিগবা তার বক্তব্যে বলেন বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের সকল প্রকার সমস্যার সমাধানের জন্য বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম সবসময়ের জন্য সর্বদায় প্রস্তুত রয়েছে। এখন নির্বাচনের এসেছে বিভিন্ন দল বিভিন্ন কথা বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন দয়া করে শ্যামনগরের মানুষ আপনারা এগুলোই মন কান না দিয়ে দল মতের উদ্দ্যে থেকে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আগামী ১২ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শ্যামনগরে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলামকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন এবং শ্যামনগর বাসির জন্য জামায়াতে ইসলাম সরকার গঠন করলে সর্বপ্রথম মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নিবে বলে আমি প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেলাম ।আপনারা কারোর প্রলোভনে কান দিবেন না আমরাও মানুষ মানুষ হয়ে মানুষের সেবা করতে চাই আমাদেরকে সেবা করার সুযোগ দিন ।আমরা অবশ্যই কোন দল মত না দেখেই মা-বোন ও সংখ্যালঘুদের সমান চোখে দেখে তাদের সব সমাধান বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়ে গেলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য নির্বাচিত ভিপি সাদেক কাইয়ুম তার মূল্যবান বক্তব্য বলেন অনেক আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে আমরা এই পর্যন্ত এসে পৌঁছেছি এখন নির্বাচনের সময় সাথে মানুষের সমালোচনার শেষ নেই ।প্রিয় শ্যামনগরবাসী আমি আপনাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই আপনারা এই সমস্ত বিভ্রান্তিকার সমালোচনায় মন দিবেন না ।বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম একটি গণতান্ত্রিক দল এটি শুধু মুসলমানদের উন্নয়ন এবং ইসলামের অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য নয় বাংলাদেশের সকল ধর্মের মানুষের জন্য সম অধিকার প্রতিষ্ঠাতা করতে সব সময় বদ্ধপরিকর । সাদেক কাইয়ুম তার বক্তব্যে আরও বলেন আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দল-মত নির্বিশেষে সকলেই আমাকে ভোট দিয়েছে তা না হলে আমি ভিপি হতে পারতাম না এবং ভিপি পরিচয় দিয়ে আপনাদের এই নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ ও পেতাম না । তিনি আরো বলেন আমি নির্বাচিত হবার পরে আপনারা কি কোন মিডিয়ার মাধ্যমে বা সরাসরি কোন অভিযোগ পেয়েছেন মা বোন ও সংখ্যালঘুদের ভিন্ন চোখে দেখা তাদেরকে দূরে ঠেলে দেওয়াসহ কোলঠাসা করেছি ।না জামায়াতে ইসলামের রাজনীতি এইটা না জামায়াতে ইসলামের রাজনীতি সকল মানুষের সম অধিকার প্রতিষ্ঠা করা। সে কারণে এই শ্যামনগর বাসীর উদ্দেশ্যে আমি বলে গেলাম আপনারা ৭১পরবর্তী বিভিন্ন সরকারকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে এই দেশ পরিচালনার সুযোগ দিয়েছেন ।দয়া করে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি এই শ্যামনগর আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আমার শ্রদ্ধেয় চাচা গাজী নজরুল ইসলাম সহ সারা দেশের দাড়িপাল্লার প্রার্থীকে ভোট দিয়ে সরকার গঠন করার সুযোগ তৈরি করে দিন তখনই আপনারা বুঝবেন ৭১ পরবর্তী যত রাজনীতির দল ক্ষমতায় এসে কি করেছে আর আমরাও বা কি করছি। সাদেক কাইয়ুম আরো বলেন গত ৫ই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর আপনারা দেখেছেন একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের কার্যক্রম চাঁদাবাজি ,ধান্দাবাজি ,দখল বাজি ,অপহরণ ,মুক্তিপণ ,মিথ্যা মামলা, হামলা, আপনাদের শ্যামনগরও আছেন আমি এসে শুনেছি একটি ব্যবসায়ীও চাঁদা না দিয়ে ব্যবসা করতে পারছে না। কিন্তু আমরা গত ৫ আগস্টের পরে কোথাও কোন চাঁদাবাজি ,ধান্দাবাজি ,অপহরণ , খুন, ঘুম, টেন্ডারবাজি ,মানুষের বসতবাড়িতে আগুন , মানুষকে ধরে পিটিয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর এই সমস্ত অভিযোগে সারা বাংলাদেশে কোন মানুষের একটা ক্ষতি করেছি এমন প্রমাণ কি আপনাদের কাছে আছে থাকলে নির্ভয়ে এখন বলতে পারেন। আমি কথা দিয়ে গেলাম আগামী ১২ ই ফেব্রুয়ারি আপনারা দাঁড়িপাল্লা পতিকে ভোট দিয়ে যদি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামকে জয়যুক্ত করে সরকার ক্ষমতায় বসান তাহলে এই সমস্ত অপকর্ম চিরতরে বন্ধ করে দিব। আমি আরো শুনেছি এই উপকূলীয় মানুষের বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিতের কথা আমরা ক্ষমতায় গেলে শ্যামনগর বাসীর সকল সমস্যা জামায়াতে ইসলাম আগামী নির্বাচনে নির্বাচিত হলে আপনাদের শ্যামনগরের সন্তান সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য আমার শ্রদ্ধেয় চাচা গাজী নজরুল ইসলামের মাধ্যমে সকল সমস্যার সমাধান করা হবে। ছাদেক কাইয়ুম আরো বলেন এই সাতক্ষীরার মাটি জামায়াতে ইসলাম তথা দাঁড়িপাল্লার ঘাটি সেটি আপনারা আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ভোট দিয়ে আবারো প্রমাণ করিয়ে দিবেন এটাই আমার প্রত্যাশা। মা বোন দের নিয়ে যে সমস্ত গুঞ্জন লাটাইয়ে ভোট বাঁকানোর চেষ্টা করছে একটি দল দয়া করে এগুলোই আপনারা কান দিবেন না মা বোন আমাদেরও আছে মা-বোনরা জামায়াতে ইসলামের কোন নেতা কর্মীর কাছ থেকে লাঞ্চিত বঞ্চিত হবেন না ,তারা বিগত সময় যেভাবে এদেশে ঘোরাফেরা করেছেন আগামীতেও তার চেয়ে সম্মানের সাথে এদেশে চলাফেরা করবেন। সাদেক কাইয়ুম সংখ্যালঘুদের উদ্দেশ্যে বলেন আজীবন আমরা এদেশের হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলে আসছি কিন্তু নির্বাচন আসলে জামায়াতে ইসলামের প্রশ্ন তুলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তিকার কথা বলেন শুনে যান সনাতন ধর্ম অবলম্বী বাবা ,দাদা ও ভাইয়েরা আপনারা যে সমস্ত সরকার চলে গেছে তাদের কাছ থেকে যে সম্মান পেয়েছেন যে সুযোগ সুবিধা পেয়েছেন তার চেয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণ সুযোগ সুবিধা সম্মান জমায়াতে ইসলামের কাছে রয়েছে একবার ভোট দিয়ে সেটি প্রমাণ করেন যদি আমার এই সমস্ত কথার ব্যতিক্রম হয় আগামীতে আর আপনারা জামায়াতে ইসলামকে ভোট দিবেন না ।সেজন্য একটি বার আমাদের সুযোগ দেওয়ার জন্য আপনাদেরকে আগামী ১২ তারিখে ভোট দেওয়ার আহবান জানাচ্ছি। উক্ত মহাসমাবেশে বিশেষ আকর্ষণ ছিল খুলনায় ১আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংখ্যালঘু প্রার্থী বাবু কৃষ্ণনন্দ। বাবু কৃষ্ণানন্দ তার বক্তব্যে বলেন প্রিয় শ্যামনগরবাসী সামনে আর চারদিন পরে নির্বাচন আমিও একজন প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী আপনারা সকলেই জানেন তারপরেও আমি ছুটে এসেছি সাতক্ষীরা ৪শ্যামনগর আসনের জামায়াতে ইসলামের তথা দারিপাল্লার মনোনীত প্রার্থী আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাই গাজী নজরুল ইসলামের জন্য। বাবু কৃষ্ণনন্দ তার বক্তব্যে বলেন আমি এতকাল জানতাম বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলাম শুধু ইসলামের কল্যাণে কাজ করে বাস্তবে দেখছি এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা ।এই মিথ্যা কথা লটায়েএক শ্রেণীর মানুষ জমায়াতে ইসলামকে ধর্মের দোহাই দিয়ে বারবার কোলঠাসা করেছে এবং এখনো করতে চাই। শ্যামনগরের ভাই ও বোনেরা শুনে রাখেন জামায়াতে ইসলাম একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল এদের ভিতরে কোন হিংসা-বিদ্বেষ মা বোন বিদ্যাশী হিংসা-বিদ্বেষ সংখ্যালঘু বিদ্বেষী এমন কোন মনোভাব নেই ।আপনারা নিঃসন্দেহে আমার কথার উপর বিশ্বাস রেখে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি এই শ্যামনগরে গাজী নজরুল ইসলাম তথা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে এ দেশের মানুষকে অত্যাচার নির্যাতন থেকে মুক্ত করার আহ্বান জানাচ্ছি। প্রিয় শ্যামনগরের ভাই ও বোনেরা আপনারা সকলেই জানেন ৭১ পরবর্তী অনেক সরকার আমরা দেখেছি এবার একটু ভিন্ন সরকার দেখতে চাই। কৃষ্ণানন্দ আরো বলেন জামায়তে ইসলামের রাজনীতির নীতি আদর্শকে আমি বিশ্বাস করে এই দল থেকে আমি মনোনয়ন প্রত্যাশা করেছিলাম এবং দল আমাকে বিশ্বাস করে মনোনয়ন দিয়েছে। কৃষ্ণানন্দ শ্যামনগরবাসীর উদ্দেশ্যে আরো বলেন শ্যামনগরের সংখ্যালঘু দাদারা আপনারা নির্ভয় আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামকে জয়যুক্ত করুন সংখ্যালঘু অথবা মা-বোনদের কোন প্রকার ক্ষতি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন না দায়ভার আমার কাঁদে। আপনারা নিঃসন্দেহে ভোট দিবেন দাড়িপাল্লায় । তিনি আরো বলেন আমাদেরকে সংখ্যালঘু বলা হয় কোন কারণে আমরাও এ দেশের নাগরিক এদেশের সরকার যারাই ক্ষমতায় থাক আমরা তাদেরকে মুসলিম ধর্মের সমপরিমাণ সরকারী ট্যাক্স সহ সকল সুবিধা দিয়ে থাকি। কৃষ্ণেন্দ আরো বলেন তাহলে কেন অবহেলিত হব আমরা কোথাও অবহেলিত নয় কথা দিয়ে গেলাম জামায়াতে ইসলাম সরকার গঠন করলে আগামীতে সংখ্যালঘুরা ও মা-বোনরা জামাই আদরে এদেশে বসবাস করবো তাই আবারও বলছি আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে শ্যামনগর বাসী গাড়িবাল্লা পতিকে ভোট দিয়ে আমার বড় ভাই গাজী নজরুল ইসলামকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়যুক্ত করবেন । কৃষ্ণেন্দ আরও বলেন আমি শুনলাম এসে সংখ্যালঘু ভোটারদের উপর একটি দল ভোট নেওয়ার জন্য চোখ রাঙানো হচ্ছে আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলছি শুনে রাখুন আমরাও মানুষ আপনাদের চেয়ে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের খুঁটির জর অনেক বেশি ধাক্কা দেবেন না পাল্টা ধাক্কা দিলে লাট খেয়ে পড়ে যাবেন ।আমাদেরকে মুখ খুলতে বাধ্য করবেন না ৫ ই আগস্ট এর পরে এই শ্যামনগরের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়েছে জমি দখল, ঘের দখল ,মিথ্যা মামলা ,হামলা, মানুষের বাড়িঘর পুড়িয়ে ডাকাতির ছিনতাই এর শিকার হতে হয়েছে আমরা ক্ষমতায় গেলে পাই পাই করে সংখ্যালঘুদের সহ ক্ষতিগ্রস্তদের প্রত্যেকটা ক্ষতির বিচার করব । তাই আমি আমার সংখ্যালঘু বাবা দাদাদের কাছে আগামী ১২ তারিখে দাঁড়িপাল্লায় ভোট প্রার্থনা করে গেলাম বাকি দায়িত্ব বড় ভাই গাজী নজরুল ইসলাম বাস্তবায়ন না করলে আমি কৃষ্ণানন্দ ঢাল হয়ে আপনাদের পাশে এসে দাঁড়াবো।শ্যামনগর বাসির জন্য বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা অঙ্গীকার নিয়ে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা ৪ আসনের জামাতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী সাবেক দুইবারের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ।নির্বাচনী মহাসমাবেশ সাতক্ষীরা ৪আসন শ্যামনগর জামায়াতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন ‘দখলবাজি ,চাঁদাবাজি ,ছিনতাই ধর্ষণ, অপহরণ ,মুক্তিপণ ,সংখ্যালঘুদের ,সম্পত্তি জবরদখল ,মানুষকে নির্যাতন , বণদশ্যূ নির্মূল, বনজীবীদের সার্বিক নিরাপত্তা, উপকূলে টেকসই মজবুত ফেরিবাধ, লাখো মানুষের খাবার পানি সংকটের স্থায়ী নিরেশন, ডাকাতি অগ্নিসংযোগ ভাঙতুর লুটপাট জ্বালিয়ে পুড়িয়ে মানুষের ঘরবাড়িতে উচ্ছেদ ,, চাঁদাবাজমুক্ত শ্যামনগর’এগুলো থেকে মানুষকে মুক্ত ও নিরাপদ শ্যামনগর গড়ার অঙ্গীকার করছেন। তিনি জনসভা ও গণসংযোগে দুর্নীতি বন্ধ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং উপকূলীয় দুর্গম জনপদ গুলোতে স্বাস্থ্যসহ সকল সেবা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি তুলে ধরছেন। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে আসছে—ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার রক্ষা এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকার স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি। এছাড়াও কাজী নজরুল আরো বলেন আমি নির্বাচিত হলে এই শ্যামনগরে মাটিতে কাউকে যব,সৃষ্টি করতে দেওয়া হবে না। তাই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দল-মত ভুলে গিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে আমাকে জয়যুক্ত করার জন্য সকলের কাছে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে অনুরোধ করছি।