1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ০৫:৩০ অপরাহ্ন

ডুমুরিয়ায় সজিনা চাষে বাম্পার উৎপাদনের সম্ভাবনা

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি : ডুমুরিয়ায় সজনে গাছের ডালগুলো সজিনায় ভরে গেছে অনাদরে-অবহেলায় রাস্তার ধারে, বসত-বাড়ির আঙ্গিনায়, মাঠে-ঘাটে বেড়ে উঠা হাজার হাজার সজনে গাছের ডালগুলো সজিনায় ভরে গেছে। এ বছর ডুমুরিয়া সুস্বাদু সবজি হিসাবে সমাদৃত আর ঔষধি গুণের কারণে ‘সুপার ফুড’ হিসাবে খ্যাত সজনের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙ্গিনায় ২-৪টি সজনে গাছ রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন সড়কের পাশে বেড়ে উঠেছে অসংখ্য সজনে গাছ। তাছাড়া ইদানীং অনেকেই বাণিজ্যিকভাবে সজনের চাষ শুরু করেছেন। কোনো প্রকার বালাইনাশক প্রয়োগ এবং পরিচর্যা ছাড়া চাষ হয় বলে সজনের কোন উৎপাদন খরচ নেই। বাড়ির পাশে বা জমিতে ডাল পুঁতে রাখলেই ধীরে ধীরে শিকড় গজিয়ে উপযুক্ত গাছে পরিণত হয় এবং পরবর্তীতে সজনে দেয়।
বাড়িতে তরকারীর চাহিদা পূরণের পাশাপাশি উৎপাদনকারীরা এসব সজনে বাজারে বিক্রি করে বাড়তি উপার্জন করে থাকেন। মৌসুমজুড়ে এসব সজনে ৫০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ সবজি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিক্রি হয়।
উপজেলার ডুমুরিয়া , খর্নিয়া,চুকনগর, আঠারো মাইল, টিপনা নতুন রাস্তাবাজার,সরাফপুর , বানিয়া খালি হাট থেকে এসব সজনে ব্যাপারীরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়ে বিক্রি করেন।

তরুণ উদ্যোক্তা গনি গাজী জানান, তিনি সজনের চাষ করেছেন। সজনে বিক্রির পাশাপাশি সজনের পাতা থেকে ভেষজ ওষুধ তৈরিই তার লক্ষ্য।
তিনি জানান, সজনে গাছের বয়স ১০-১২ মাস হলেই তাতে সজনে ধরতে শুরু করে। একটি পরিণত গাছে ৮-১০ মণ পর্যন্ত সজনে ধরে। উৎপাদন খরচ একেবারেই কম বলে এ ফসল চাষ বেশ লাভজনক বলে তিনি জানান।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইউ এস আই ডাঃ কাজল মল্লিক বলেন, সজিনা পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি সবজি। ভিটামিন এ এর অভাব দূরীকরণে সজিনা অত্যন্ত উপযোগী একটি খাবার। এটি প্যারালাইসিস রোগের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে থাকে। সজিনার মধ্যে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম, জিংক ও সি আছে। এটি মানব দেহের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। সজিনা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের অনেক উপকারী। তাছাড়া সজিনার একদিকে যেমন উপকারী, অন্যদিকে এ পাতা শাক হিসেবে খাওয়া যায়।

ডুমুরিয়া উপজেলার এস এ পিপিও আলি হাসান বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিগত কয়েক বছরের মধ্যে এ বছর সজনের সর্বোচ্চ ফলন হয়েছে। প্রতিটি বাড়িতেই প্রায় সজনে গাছ আছে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের পরিকল্পিতভাবে সজনে ক্ষেত গড়ে তোলার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা জানান, পরিবেশবান্ধব ও অর্থকরী আঁশজাতীয় সবজি সজিনাকে বলা হয় ‘মিরাকল ট্রি’। এ গাছের পাতা, ফুল, ফল সবই খাওয়া যায়। সজিনা এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। যা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি বাড়ির পাশে অনাবাদী ও পতিত জমিতে চাষ করা যায়। তাছাড়া ঠাণ্ডা-গরম, খরা সহিষ্ণু হওয়ায় এ গাছ বাংলাদেশের সর্বত্রই জন্ম নেয়। সজিনা গাছের তেমন কোন রোগবালাই নেই বললেই চলে।
তিনি জানান, আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবার উপজেলায় কমপক্ষে দুশ মেট্রিক টন সজনে উৎপাদিত হবে, বাজার দর হিসাবে যার মূল্য সর্বনিম্ন এক কোটি টাকা।

খুলনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, দেশে সজনে সচারাচর দু’ধরনের হয়ে থাকে। মৌসুমী এবং বারমাসী। খুলনায় বারমাসী জাতের সজনের আবাদ কম হলেও এখন তা বেড়েছে। সজনে গাছের জন্য কোনো চাষাবাদ কিংবা রাসায়নিক সার প্রয়োগ করতে হয় না। তাই কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের মাঝে সজনের চারা বিতরণ করে সজনে চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট