1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ০৭:১০ অপরাহ্ন

সাতক্ষীরায় ‌মানসম্মত রেণুর অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত চিংড়ি ঘের মালিকরা

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬
  • ৫১ বার পড়া হয়েছে

সিরাজুল ইসলাম, সাতক্ষীরা : মৌসুমের শুরুতেই বাগদা চিংড়ি উৎপাদন নিয়ে উৎকণ্ঠায় সাতক্ষীরার ঘের মালিকরা। কক্সবাজার থেকে নিয়ে আসা রেণু কোনো প্রকার ল্যাব টেস্ট ছাড়াই ঘেরে ছাড়তে হচ্ছে তাদের। এতে বেশিরভাগ মাছ মারা যাওয়ায় বিপাকে চাষিরা।
বাগদা চিংড়ির রেনু। ছবি: সময় সংবাদ
‘হোয়াইট গোল্ড’ নামে খ্যাত বাগদা চিংড়ির অন্যতম উৎপাদনকারী জেলা সাতক্ষীরা। জেলার ৭টি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ এই চিংড়ি চাষের সাথে জড়িত। আর কক্সবাজার থেকে আসা বিভিন্ন হ্যাচারির রেণুর উপর অনেকটাই নির্ভর চিংড়ি চাষিরা।

তবে কয়েক বছর ধরে বাগদা রেণুর গুণগত মানের অভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ঘের মালিকরা। চলতি বছরেও কোন প্রকার ল্যাব টেষ্টে মান নিয়ন্ত্রণ না করেই রেণু ছেড়ে উৎপাদন ব্যহত হওয়ার দুশ্চিন্তায় তারা। বারবার অবগত করা হলেও মৎস্য বিভাগের পরামর্শ ও সহায়তা না পাওয়ার দাবি চাষিদের।

চাষিরা জানান, সময়মতো মৎস্য বিভাগের সহযোগিতা মিলছে না। এদিকে বেড়েছে রেণুর দাম। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কথা জানান তারা।

এ অবস্থায় চাহিদার তুলনায় সামনের পিক আওয়ারে সরবরাহ কমে গেলে রেণুর দাম বৃদ্ধি পাবে। সেইসঙ্গে চিংড়ির উৎপাদন ব্যাহত হবে বলে জানান চিংড়ি চাষি সমিতির নেতারা।

সাতক্ষীরা চিংড়ি চাষি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. আবুল কালাম বাবলা বলেন, সামনের পিক টাইমে সরবরাহ ঠিক না থাকলে সংকট দেখা দিতে পারে। এতে চিংড়ির দাম বাড়বে বলে জানান তিনি।আর মৎস্য কর্মকর্তা ঘেরে চিংড়ি রেণু মারা যাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, চাষিরা রেণু ছাড়ার নিয়ম মানছেন না।

সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জিএম সেলিম এই প্রতিবেদককে বলেন, অপরিকল্পিত ঘের ব্যবস্থাপণা ও রেণু ছাড়ার বিষয়ে চাষিদের পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকায় রেণু মারা যাচ্ছে।

এছাড়া জেলায় ৭৪টি ক্লাস্টার ফার্ম প্রস্তুত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। প্রতিটি ক্লাস্টার ফার্মের আওতায় থাকবে ২৫টি চিংড়ি ঘের।চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ কম থাকায় সাতক্ষীরায় চিংড়ি রেণুর ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। মৌসুমের শুরুতে চাহিদা মত রেণু না পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে চাষিরা। ফলে চিংড়িতে উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা অর্জনে সংশয় দেখা দিয়েছে। প্রতি দিন জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে চাষিরা চিংড়ি রেণু কিনতে ভীড় করছে সাতক্ষীরা শহরের রেণু সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান গুলোতে। ফলে জমজমাট হয়ে উঠেছে জেলার চিংড়ি রেণুর কেনা বেচা।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে জেলাতে ৩৪৪ কোটি ৫৫ লক্ষ চিংড়ি রেণুর চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে বাগদা ৩৩৪ কোটি এবং গলদা ১০ কোটি ৫৫ লক্ষ। এসব চাহিদার বিপরীতে সাতক্ষীরায় ১০টি হ্যাচারিতে ৮০ কোটি ৬ লক্ষ চিংড়ির রেণু উৎপাদানের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে। ফলে ২৬৪ কোটি ৪৯ লক্ষ রেণুর ঘাটতি মেটাতে হিমশীম খেতে হয় চিংড়ি চাষিদের।
চিংড়ি চাষি ও পোণা সরবরাহকারীরা জানান,এবর জেলাতে ৩ লক্ষ ৪৪ হাজার ৫৫০টি চিংড়ি রেণুর বক্স দরকার। চাষিদের মতে একটি বক্সে ২টি পলিতে ১০ থেকে ১২ হাজার চিংড়ি রেণু থাকে। বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা শহরের চিংড়ি রেণু বক্সপ্রতি বিক্রি হয়েছে ৪ হাজার টাকা দরে। সেই হিসাবে চলতি মৌসুমে জেলাতে চিংড়ি রেণু বেচা কেনা হবে ১৩৭ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা। যার মধ্যে জেলা থেকে সরবরাহ করা হবে ৮০ হাজার ৬০টি বক্স। যার বাজার মূল্য দাড়ায় ৩২ কোটি ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। অর্থাৎ ১০৫ কোটি ৭৯ লক্ষ ২০ হাজার টাকা মূল্যে চিংড়ি রণেু জেলার বাইরে থেকে সরবরাহ করতে হবে।
জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলাতে ৬৬ হাজার ৭৬০টি চিংড়ি ঘের রয়েছে । এর মধ্যে বাগদা চিংড়ি ঘেরের সংখ্যা ৫৫ হাজার ১২২টি ও গলদা চিংড়ি ঘের রয়েছে ১১ হাজার ৬৩৮টি।
চলতি মৌসুমে জেলাতে ৭৬ হাজার ৩০৮ হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষের লক্ষ মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাগদা ৬৬ হাজার ৯১০ হেক্টর এবং গলদা ৯ হাজার ৩৯৮ হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধরণ করা হয়েছে।
জেলাতে বাগদা চিংড়ি পোনার চাহিদা রয়েছে ৫০০ কোটি । যার হেক্টর প্রতি ৫০ হাজার পিএল মজুদের কথা বলা হয়েছে। যে খানে ৯টি হ্যাচারিতে উৎপাদিত নপ্লি নার্সিং করে ৮০ কোটি পিএল উৎপাদেেনর লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে। অন্যদিকে সরকারি ভাবে জেলাতে মাত্র একটি গলদা চিংড়ির হ্যাচারি গড়ে উঠেছে। সেখান থেকে মাত্র ৬ লক্ষ ৭ হাজার পিএল উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে।
ফলে মানসম্মত রেণু পোনার অভাবে সাতক্ষীরা অঞ্চলের মৎস্য চাষিরা কাক্সিক্ষত চিংড়ি উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রাকৃতিক উৎস থেকে রেণু পোনা আহরণ সরকারিভাবে নিষিদ্ধ থাকার কারণে দূর থেকে আনা হ্যাচারির অপুষ্ট রেণু পোনা চাষ করে আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন চাষিরা।
মৎস্য বিভাগ বলছে, সরকারিভাবে স্বাদু পানির রেণু উৎপাদনে জেলায় প্রকল্প রয়েছে। ওই প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদিত মানসম্মত পোনা সরবরাহ করতে পারলে চিংড়ি চাষিদের সমস্যা সমাধান হবে।
মানা হচ্ছে না হোয়াইট গোল্ড হিসেবে পরিচিত চিংড়ি মাছের রেনু সরবরাহে নীতিমালা। বেশীর ভাগ রেনু ঘেরে ছাড়ার আগেই মারা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে অনেকের। হ্যাচারি গুলোর প্রতারণার শিকার চিংড়ি চাষিদের বিঘা প্রতি চাহিদার কয়েকগুণ বেশী চিংড়ি রেনু ছাড়তে হচ্ছে ঘেরে। এরফলে যেমন উৎপাদন খরচ বাড়ছে, তেমনি উৎপাদনও কম হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ঘের মালিকরা।
জেলায় আধা নিবিড়, নিবিড় সহ বিভিন্ন ধরনের চিংড়ি ঘের রয়েছে। এসব ঘেরে চিংড়ির রেণু আসে মুলত কক্সবাজারের বিভিন্ন হ্যাচারি থেকে।
এসব রেণু পরিবহনে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে পোনার গুণগত মান কমে যায়। তাছাড়াও ঘেরে ছাড়ার আগেই বেশীর ভাগ রেণু অক্সিজেন ফেল করায় ও গরমে মারা যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন খরচ বেড়ে যায়।
কক্সবাজারের রেণু মারা যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে কক্সবাজারের হ্যাচারি প্রতিনিধিরা বলছেন, ভারতীয় রেণু ফেলায় ঘেরে মাছ টিকছে না। তবে কক্সবাজার থেকে নোফলি এনে সাতক্ষীরার হ্যাচারিতে যদি প্রডাকশান দেয়া যায়, তাহলে চিংড়ির উৎপাদন বেড়ে যাবে।
চাষিদের দাবী তারা স্থানয়ি চিংড়ি পোনা হ্যাচারি গুলোর পোনা ছেড়ে অনেক লাভবান হচ্ছে । তাই এ অঞ্চলে হ্যাচারি শিল্প ধরে রাখতে ও একই সাথে বৈদেশিক মৃদ্রা অর্জনে সহায়তার লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগে মা মাছ সংরক্ষণের দাবী সাতক্ষীরার হ্যাচারি মালিকদের।
ঘের মালিক আব্দুল মাজিদ বলেন সাতক্ষীরা হ্যাচারিতে উৎপাদিত রেনু মাটি ও পানির সঙ্গে সহনশীল বলেই ভাল ফল পাওয়া যাচ্ছে ।
সাতক্ষীরা নিউমার্কেট সংলগ্ন হ্যাচারি প্রতিনিধি আখি ফিসের মালিক বিশ্বজিত জানান,বর্তমানে জেলাতে চিংড়ির রেণুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। সরবরাহ কম থাকা এবছর দাম একটু বেশি।
চিংড়ি রেণু কিনতে আসা আশাশুনির পূর্ব কাঁদাকাটি এলাকার দিপঙ্কার জানান, রেণু সংকটের কারণে সে যথা সময়ে ঘেরে পোনা ছাড়তে পারছে না। ৫ বিঘা জমিতে সে ঘের করে। তার চহিদা স্থানীয় হ্যাচারিতে উৎপাদিত রেণু সংগ্রহ করতে । কিন্তু সরবরাহ কম থাকায় স্থানীয় পোনা না পেয়ে বাইরে থেকে আসা রেণু কিনতে বাধ্য হচ্ছে। এমন অবস্থা প্রায় সব চাষিদের।
সাতক্ষীরা চিংড়ি পোনা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা বলছেন, রেণুর গুণগত মান ভালো, তবে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে কিছুটা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কক্সবাজার থেকে নিয়ে আসা রেণু তাপমাত্রার ব্যবধানের কারণে চাষিরা চরম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর পরামর্শ স্থানীয় হ্যাচারি থেকে উৎপাদিত রেণুর গুণগত মান অনেক ভাল। সরকারি ভাবে জেলাতে আরো বেশি হ্যাচারি গড়ে তুলতে পারলে চিংড়ি খাত ব্যাপক সফালতার মুখ দেখবে। সরকার এ খাত থেকে কয়েক গুণ বেশি রাজস্ব আদায় করতে পারবে।
সরকারি নীতিমালা মেনে রেণু পোনা সরবরাহ ও বিপণনের কথা জানালেন সাতক্ষীরা জেলা জি এম সেলিম এই প্রতিবেদককে বলেন। তিনি সময়ের কারণে কক্সবাজার থেকে আনা রেনুর গুণগত মান নষ্ট হওয়ার সত্যতা স্বীকার করে জানান, সাতক্ষীরায় মা মাছ সংরক্ষণে সরকারি ভাবে উদ্যোগ নিলে চাষিরা ভাল মানের রেনু পাবে। আর ২/৩ বার রেনু ঘেরে ছাড়ার প্রয়োজন হবে না। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলাতে নতুন নতুন হ্যাচারি গড়ে তোলা হবে।
ঘড়ির কাঁটায় সকাল সাতটা। পুব আকাশে উঁকি দিচ্ছে সূর্য। তখনো শহরের চিরচেনা কোলাহল শুরু হয়নি। তবে সাতক্ষীরা শহরের কামালনগর করিম সুপার মার্কেটের চিত্র ভিন্ন। মার্কেটের আশপাশে ৫০০ গজের মধ্যে সকালে ঘণ্টা দুয়েকের জন্য বসে বাগদা চিংড়ির পোনা (রেনু) বিক্রির বাজার।
সকাল থেকেই সেখানে ভিড় করেন পোনা ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা। রোদের তেজ বাড়ার আগেই বেচাবিক্রি শেষ হয়ে যায়। দুই ঘণ্টায় বাজারটিতে কোটি টাকার বেশি পোনা বিক্রি হয়। ভরা মৌসুমে বিক্রি বাড়ে আরও কয়েক গুণ।
গতকাল শুক্রবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, সোয়া সাতটার দিকে কক্সবাজার থেকে চিংড়ির পোনা নিয়ে ট্রাক এসে মার্কেটের সামনে দাঁড়ায়। মুহূর্তেই কয়েক শ মানুষ গাড়ির পাশে ভিড় করেন। ট্রাক থেকে পোনাভর্তি কর্কশিটের বাক্স নামানোর পর পিকআপ, মাহেন্দ্রা, ইজিবাইকসহ বিভিন্ন বাহনে করে সাতক্ষীরা ও খুলনার বিভিন্ন উপজেলায় নেওয়া হচ্ছে। সকাল ৭টায় শুরু হওয়া বাজার ৯টার পর একেবারেই কোলাহলশূন্য। পোনা ব্যবসায়ীদের কার্যালয় খোলা থাকলেও কোনো ভিড় নেই।
জেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরায় ৬৫ হাজার ৫৩৬ হেক্টর জমিতে বাগদা চিংড়ির ঘের আছে ৫৪ হাজার ৯৩৫টি। এসব ঘেরে বাগদা চিংড়ি চাষের জন্য ৩২০ থেকে ৫০০ কোটি পোনার প্রয়োজন হয়। অধিকাংশ পোনা কক্সবাজারের বিভিন্ন হ্যাচারি থেকে আসে। বাকিগুলো প্রাকৃতিকভাবে সুন্দরবন বা অন্য উৎস থেকে উৎপাদন করা হয়।
সাতক্ষীরা চিংড়ি পোনা ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যমতে, সমিতিতে অন্তর্ভুক্ত চিংড়ি পোনা ব্যবসায়ীর সংখ্যা ৬৪। এ ছাড়া জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে শতাধিক ব্যবসায়ী আছেন।
সকালে রোদের তাপ ছড়ানোর আগে বাগদা চিংড়ির পোনা বাজার থেকে নিয়ে গন্তব্যে ছুটছেন চিংড়িচাষিরা। শুক্রবার সকালে সাতক্ষীরা শহরের কামালনগর করিম সুপার মার্কেটের সামনে
চিংড়িচাষি মাসুদার রহমান বলেন, সাতক্ষীরার বাগদা পোনার বাজার বসে প্রতিদিন সকাল সাতটায়। চলে নয়টা পর্যন্ত। সাতক্ষীরা থেকে এসব পোনা শ্যামনগর, আশাশুনি, দেবহাটা, কালীগঞ্জ, তালা ছাড়াও খুলনার পাইকগাছা ও কয়রার বিভিন্ন ঘেরে চলে যায়। দুই ঘণ্টায় প্রতিদিন অন্তত এক কোটি টাকার ওপর পোনা বিক্রি হয়। তবে ভরা মৌসুমে পোনার চাহিদা বাড়লে বেচাবিক্রি আরও বাড়ে। কক্সবাজার থেকেই বেশি পোনা আসে।
নিজের ঘেরে চিংড়ি চাষের জন্য কালীগঞ্জ থেকে পোনা নিতে আসেন ঘের ব্যবসায়ী বাবু বিশ্বাস। জানালেন, তিনি দুই বাক্সে ১০ হাজার ৮০০টি পোনা কিনেছেন। প্রতি হাজার ৩৮৫ টাকা করে। একইভাবে আশাশুনির বালিথা থেকে আসা হারুন অর রশিদ প্রতি হাজার ৪০০ টাকা দরে ২৭ হাজার পোনা কিনেছেন।
চিংড়িচাষি কাজী আমিনুর ‌রহমান বলেন, বাগদা চিংড়ির চাষের জন্য সাধারণত নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে ডিসেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে জমি (ঘের) প্রস্তুত করতে হয়। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে ঘেরে পোনা ছাড়া শুরু হয়। শেষ হয় অক্টোবরে। এই ৯ মাস প্রতি তিন সপ্তাহ পরপর প্রতি বিঘায় এক হাজার করে চিংড়ির পোনা ছাড়তে হয়। পোনা ছাড়ার ৬০ থেকে ৭০ দিন পর ঘেরে মাছ ওঠা শুরু হয়।
সাতক্ষীরা পোনা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, শহরের কামালনগর এলাকায় ১৯৯৫-৯৬ সাল থেকে পোনা বিক্রির বাজার বসা শুরু হয়। এখনো চলছে। তবে বাজার সংকুচিত হয়েছে। কক্সবাজার থেকে প্রতিদিন ৮-১০টি হ্যাচারির ১২ থেকে ১৪টি ট্রাকে পোনা আসে। প্রতি ট্রাকে ২৫ থেকে ২৭ লাখ পোনা থাকে। গতকাল সকালে ১২টি ট্রাকে সাড়ে তিন কোটি পোনা এসেছে। গড়ে ৩৭০ টাকা দাম হিসাবে ১ কোটি ১০ লাখ থেকে ৩০ লাখ টাকা বিক্রি হয়েছে। তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারি শেষ দিকে যশোর পর্যন্ত পোনা কার্গো বিমানে আসে। তারপর সেখান থেকে ট্রাকে সাতক্ষীরায় আনা হয়। তখন দুই থেকে তিন গুণ বেশি পোনা আসে। দামও বেশি থাকে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট