
মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি: বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যক্তির মরদেহ দাফন না দাহ করা হবে—এ নিয়ে স্ত্রী, সন্তান ও মায়ের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের অবসান হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে অবশেষে মৃত কাজী সোহাগকে দাফনের অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন।
মৃতের স্ত্রী মমতাজ মীম জানান, আজ শুক্রবার বাদ আসর গোপালগঞ্জের মেরি গোপীনাথপুর এলাকায় কাজী সোহাগের দাফন সম্পন্ন হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত ব্যক্তির নাম সুব্রত পোদ্দার ওরফে কানু (৪৩)। তিনি গোপালগঞ্জের তেঘরিয়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ২১ বছর আগে এফিডেভিটের মাধ্যমে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম পরিবর্তন করে কাজী সোহাগ রাখেন।
পরে তিনি গোপালগঞ্জের মেরি গোপীনাথপুর এলাকার মমতাজ মীমকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে আব্দুর রহমান (৯) নামে এক ছেলে রয়েছে।
গত বুধবার সন্ধ্যায় মোল্লাহাট উপজেলার দত্তডাঙ্গা রাইরসরাজ সেবাশ্রমে অবস্থানকালে কাজী সোহাগের মৃত্যু হয়। জানা গেছে, তাঁর মা ওই সেবাশ্রমে নিয়মিত যাতায়াত করতেন।
অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুর পর স্ত্রী ও সন্তানকে না জানিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে মরদেহটি মোল্লাহাটের উত্তর আমবাড়ি কালী মন্দির সংলগ্ন শ্মশানে নিয়ে হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মৃতের স্ত্রী মমতাজ মীম ও তাঁর ছেলে দাহে বাধা দেন। তাঁরা মুসলিম ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী মরদেহ দাফনের দাবি জানান। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পরে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী রমজানুল হক বলেন, মৃত্যুর কারণ নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। এ কারণে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আইরিন বলেন, ‘ধর্মীয় বিষয় নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তির সুযোগ নেই। ময়নাতদন্ত শেষে কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে আইন অনুযায়ী স্ত্রী সন্তানের কাছে মরদেহ হস্তান্তর ও দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।’
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।