
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরা কারাগারে মারা গেলেন জেলা বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সভাপতি ও সাতক্ষীরা জজ আদালতের সাবেক পিপি, আওয়ামী লীগ নেতা এডভোকেট আব্দুল লতিফ (৫৮)। সোমবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে কারা অভ্যন্তরে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরের সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভোর ৪ টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত্যু ঘোষণা করেন। পরিবারের দাবি দীর্ঘদিন কারাগারে থাকা অবস্থায় অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ অসুস্থ ছিলেন এবং বিনা চিকিৎসায় তিনি কারা অভ্যন্তরে মারা গেছেন। ৮ টি হত্যা ও নাশকতা মামলায় তিনি পাঁচ মাসেরও অধিক সময় সাতক্ষীরা কারাগারে ছিলেন।
এডভোকেট আব্দুল লতিফ সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কামার বাইশা গ্রামের মৃত মনসুর আলী ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন যাবত শহরের রসুলপুর এলাকায় বসবাস করতেন।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মোঃ আব্দুর রহমান বলেন, আব্দুল লতিফকে রাত ৩ টার দিকে কারাগার থেকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় তার মৃত্যু ঘটে। তিনি মেডিসিন বিভাগের বেড নং ৩২ এর আর ২৩২/৩ এর বিছানায় ভর্তি ছিলেন। এ ঘটনায় হাসপাতালের পক্ষ থেকে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি জিডি করা হয়েছে।
এডভোকেট আব্দুল লতিফের মেয়ে শাম্মী আক্তার জানান, তার পিতা আব্দুল লতিফ সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও জেলা বঙ্গবন্ধু আইনজীবী পরিষদের সভাপতি দায়িত্ব পালন করেন। একই সাথে তিনি জেলা জজ আদালতের সরকারি কৌশলীর (পিপি) দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পরবর্তীতে এডভোকেট আব্দুল লতিফ এর নামে আটটি হত্যা ও নাশকতা মামলা দায়ের করা হয়। একই সাথে তার ছেলে মোঃ রাসেলের নামে চারটি হত্যা নাশকতা মামলায় পুলিশ গত ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর খুলনার বয়রা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। ১৩ই ডিসেম্বর অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ ও তার ছেলে রাসেলকে সাতক্ষীরা আমলি আদালত থেকে চারদিন ও তিনদিন করে রিমান্ড নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসা করে।
পরবর্তীতে ছেলে রাসেল জামিনে মুক্তি পেলেও অ্যাডভোকেট আব্দুল লতিফ সেই থেকে কারাগারে ছিলেন।
পরিবারের অভিযোগ তাকে কারা অভ্যন্তরে কোন চিকিৎসা দেওয়া হয়নি বিনা চিকিৎসায় তার পিতার মৃত্যু হয়েছে কারাগারে এমন অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকদের কাছে তার একমাত্র কন্যা শাম্মী আক্তার। সকাল ১১ টায় এ রিপোর্ট লেখার সময় লাশ সদর হাসপাতালে ছিল।
সাতক্ষীরা কারাগারের জেলার দেবদুলাল জানান, হাজতি আব্দুল লতিফ সোমবার ভোর রাত তিনটার অসুস্থ হয়ে পড়লে দ্রুত থেকে কারা সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদুর রহমান বলেন, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশের সুরতহাল রিপোর্ট শেষ করে ময়নাতদন্তের পর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।