
ডেস্ক রিপোর্ট : চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। রোববার দুপুরে তিনি এই পরিদর্শনে যান এবং সেখানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেন যে দেশে কোনো ধরনের সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য থাকবে না। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের চাঁদাবাজি সম্পূর্ণ নির্মূল করবে বর্তমান সরকার।
সারা দেশে মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চিরুনি অভিযান চলবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন। পরিদর্শনকালে জঙ্গল সলিমপুর এলাকার উন্নয়ন ও প্রশাসনিক পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, যে জঙ্গল সলিমপুরে সরকারের পক্ষ থেকে একটি নতুন কারাগার নির্মাণ করা হবে।
তবে এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য জঙ্গল সলিমপুর থেকে এখনই কাউকে উচ্ছেদ করা হবে না বলে তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করেন। উচ্ছেদ না করে নতুন কারাগার নির্মাণের এই পরিকল্পনা এবং দেশের ভেতর মাদক ও চাঁদাবাজি নির্মূল করার বিষয়ে রোববার দুপুরে চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শনে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।
সারাদেশের অপরাধচিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘শুধু সলিমপুর নয়, সারা দেশে চাঁদাবাজি, মাদক ও সন্ত্রাসীদের রুখে দিতে একযোগে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে। কেউ যদি জঙ্গল সলিমপুরের সাধারণ মানুষকে উচ্ছেদের ভয় দেখায় কিংবা চাঁদা দাবি করে, তবে সরাসরি নাম উল্লেখ করে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিন। অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না।’
পরিদর্শনের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন ভূমিপ্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী,পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির, র্যাব-৭ এর অধিনায়ক, চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী চট্টগ্রামের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিশেষ পর্যালোচনা সভায় অংশ নিতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
উল্লেখ্য, গত ১৯ জানুয়ারি এই এলাকায় অস্ত্র উদ্ধার অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন র্যাবের উপ-সহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। সেই ঘটনার পর গত ৯ মার্চ সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশের একটি যৌথ অভিযানে পুরো এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় প্রশাসন এবং আলীনগরে একটি অস্থায়ী যৌথ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়।
সর্বশেষ গত ২৪ মে দিবাগত গভীর রাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিনের নেতৃত্বে কয়েকশ সশস্ত্র অপরাধী ভারী বুলডোজার নিয়ে সেই যৌথ বাহিনীর ক্যাম্পে হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পের দেয়াল গুঁড়িয়ে দেয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পথ রুদ্ধ করতে ভেতরের সড়ক কেটে বড় বড় গর্ত করে রাখে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী ব্যাপক গুলিবিনিময়ের পর হামলাকারীরা পাহাড়ের গভীরে পালিয়ে যায়। এই হামলার ঘটনায় গত ২৬ মে সীতাকুণ্ড থানায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখসহ প্রায় ৩০০ অজ্ঞাতপরিচয় সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে মামলা হয়।