
বিশেষ প্রতিনিধি: বরিশালের উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়নের আটক গ্রামে এক স্কুল শিক্ষিকাকে শ্লীলতাহানি, শারীরিক নির্যাতন ও পরিবারের সদস্যদের উপর হামলার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় নারীসহ একই পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে উজিরপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ মে রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার শোলক ইউনিয়নের আটক গ্রামের একটি বসতবাড়িতে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, একই এলাকার জাহিদ ডাকুয়া, তাওহীদ ডাকুয়া, ইমরান ডাকুয়া, ইমন ডাকুয়া ও ইয়াসিন ডাকুয়া দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গভীর রাতে বসতঘরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।
হামলায় গুরুতর আহত হন ঢাকায় কর্মরত স্কুল শিক্ষিকা রুকাইয়া আক্তার, তার ভাই হাফিজুর রহমান ডাকুয়া, হাবিবুর রহমান ডাকুয়া এবং তাদের মা শাহানাজ বেগম। আহতদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
নির্যাতনের শিকার শিক্ষিকা রুকাইয়া আক্তার জানান, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে তিনি ঢাকা থেকে নিজ বাড়িতে এসেছিলেন। রাতের অন্ধকারে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। একপর্যায়ে তাকে টেনে-হিঁচড়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে লোহার রড দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া তাকে কামড়ে আহত করা হয় এবং নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে দাবি তার।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে চলে আসলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা পরিবারটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বর্তমানে পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অভিযুক্তরা এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপকর্ম করে পার পেয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনায় দ্রুত জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার পরদিন ৩১ মে আহত শিক্ষিকা রুকাইয়া আক্তারের পিতা মো. শহিদুল ইসলাম ডাকুয়া বাদী হয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে উজিরপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে উজিরপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল নারী নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির মতো গুরুতর অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।
Like this:
Like Loading...
Related