
পাইকগাছা প্রতিনিধি : খুলনার পাইকগাছা উপজেলার রাড়ুলীর বাঁকা এলাকায় কোরবানির মাংস বিতরণ ও মসজিদের কমিটি গঠন নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের পর এক পক্ষের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ঈদের দিন বাঁকা ঈদগাহ ময়দানে কোরবানির মাংস বিতরণের তালিকা দেখাকে কেন্দ্র করে মোড়ল পাড়ার মিজানুর রহমান খাঁর সাথে জোয়ার্দার পাড়ার কবির ও নুরুল গংদের বাকবিতণ্ডা হয়। এর জের ধরে পরের দিন শুক্রবার জুম্মার নামাজের ঠিক পূর্বে বাকপাড়া বায়তুন নূর মসজিদের বর্তমান কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠন করা নিয়ে দুপক্ষ আবারও মুখোমুখি হয়। একপর্যায়ে মসজিদের ভেতরেই মারপিট শুরু হলে তা পরে বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে মোড়ল পাড়ার মিজানুর রহমান খাঁ, শহিদুল মোড়ল এবং জোয়ার্দার পাড়ার আলীম জোয়ার্দার, হান্নান ও মনোয়ারা বেগমসহ ৬ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে কয়েকজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। মোড়ল পাড়ার ভুক্তভোগীদের দাবি, এই ঘটনার জেরে শনিবার গভীর রাতে প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের বসতবাড়িতে হামলা-ভাঙচুর করে এবং একটি কাঠের ঘরে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা চালায়। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় থানায় পাল্টাপাল্টি এজাহার দেওয়া হলে পুলিশ জোয়ার্দার পাড়ার মামলাটি রেকর্ড করে। তবে মোড়ল পাড়ার অভিযোগ, তাদের লিখিত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করা হয়নি। এরই প্রতিবাদে এবং হামলাকারীদের আইনি ব্যবস্থার আওতায় আনার দাবিতে গত রবিবার এলাকায় এক বিশাল মানববন্ধন করেন মোড়ল পাড়ার বাসিন্দা ও এলাকাবাসী। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের এসআই সোহেল জানান, “পূর্বশত্রুতার জেরে মাংস বিতরণ ও মসজিদ কমিটিকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন আছে।”