
রূপসা প্রতিনিধিঃ গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং যুবসমাজকে মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রেখে সুস্থ বিনোদন ও ক্রীড়াচর্চায় উদ্বুদ্ধ করার প্রত্যয় নিয়ে প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়নের ডোমরা যুবসংঘের উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ৩১ মে (রবিবার) বিকেলে ডোমরা পুটিমারি বিলে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দূর-দূরান্ত থেকে আগত অসংখ্য দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে পুরো এলাকা প্রাণচাঞ্চল্যে ভরে ওঠে। প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত দক্ষ অশ্বারোহীরা অংশগ্রহণ করেন। ঘোড়ার দুরন্ত ছুটে চলা আর প্রতিযোগীদের নৈপুণ্যে দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ এই ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা স্থানীয় জনগণের কাছে দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে রয়েছে। উক্ত ঘোড় দৌড় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল। এসময় তিনি বলেন গ্রামবাংলার ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়াকে টিকিয়ে রাখতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বর্তমান সময়ে যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের কোনো বিকল্প নেই। ঘোড়দৌড় আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা শুধু বিনোদনই নয়, মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ গড়ে তোলে। নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের শেকড় ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন আরও বেশি করে হওয়া প্রয়োজন। সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সুন্দর, মানবিক ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে। অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসাবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা পরিষদ প্রশাসক, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পি। এসময় তিনি বলেন ঘোড়দৌড় আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে বসলেও এ ধরনের আয়োজন সেই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে তুলছে। খেলাধুলা মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে এবং সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করতে এমন আয়োজনের প্রয়োজন রয়েছে। আমি আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাই, যারা প্রতিবছর এ ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশা করি। অনুষ্ঠানে খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য মোল্লা এনামুল কবিরের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক খান জুলফিকার আলী জুলু, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, এনামুল হক সজল, জেলা বিএনপির সদস্য শেখ আব্দুর রশিদ, রূপসা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, জেলা বিএনপির সদস্য নাজমুস সাকিব পিন্টু, আরিফুর রহমান আরিফ, জেলা তাঁতিদলের সাধারন সম্পাদক শেখ মাহামুদ আলম লোটাস,শ্রীফতলা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি শরিফুল ইসলাম বকুল, সাবেক সাধারন সম্পাদক মো: শাহাবুদ্দিন ইজারাদার, শ্রীফলতলা ইউনিয়নের পালেরহাট মহাশশ্মান কমিটির সভাপতি, সমাজসেববক সমর কুমার কুন্ডু, সমাজসেবক জাকির হোসেন জমাদ্দার, ইপসন বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার মো: সাইফুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন বিএনপি নেতা শেখ আবুল কালাম এবং সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন শেখ এসকেন্দার আলী, শেখ ইউনুচ আলী, মো: সরোয়ার শেখ, গোবিন্দ লাল কুন্ডু। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা হুমায়ূন কবীর, মিকাইল বিশ্বাস, দক্ষিণ কোরিয়া বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শেখ শাহাজালাল শান্ত, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক মোল্যা আয়ূব হোসেন, সমাজসেবক মোঃ রবিউল ইসলাম, মো: আবু আসলাম শেখ, মোঃ আব্দুর সবুর শেখ, যুবদল নেতা মুন্না সরদার জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের দপ্তর সম্পাদক রেজাউল ইসলাম রেজা, সদস্য নয়ন মোড়ল, সেলিম মোল্যা, শাহাজাদা আলমগীর, ছাত্রদল নেতা ইমতিয়াজ আলী সুজন, স,ম শফিকুর রহমান, শাহরুখ হাসান প্রমূখ।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ঘোড়দৌড়ে প্রথম স্থান অর্জন করে পাইকগাছার ঘোড়া, দ্বিতীয় স্থান লাভ করে নড়াইলের ঘোড়া এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে লোহাগড়ার ঘোড়া। পরে অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।