
মোংলা প্রতিনিধি : সুন্দরবনে জলদস্যু ও ডাকাত দমনের ধারাবাহিক অভিযানে করিম-শরীফ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য আল-আমিন বাচ্চু হাওলাদারকে (৪৫) আটক করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও বন্যপ্রাণী শিকারের বিভিন্ন মালামাল উদ্ধার করা হয়। বুধবার (৩ জুন) রাতে বনের শরণখোলা রেঞ্জের আমুরবুনিয়া ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন ড্রেনের খাল এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আজ (৪ জুন) বৃহস্পতিবার দুপুরে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কোস্ট গার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার বিকেল ৩টার দিকে কোস্ট গার্ড মোংলা জোনের একটি চৌকস দল ড্রেনের খাল এলাকায় বিশেষ অভিযান শুরু করে। ডাকাত দল কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা বনের গহিনে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে ডাকাত আল-আমিনকে আটক করে। এসময় আল আমিন আটক হলেও তার সহযোগীরা গভীর জঙ্গলে পালিয়ে গেলে অন্য কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ৪টি একনলা বন্দুক, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৭৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, ১টি টেলিস্কোপ, ১টি সোলার প্যানেল, ১টি ব্যাটারি, ১টি ওয়াকিটকি চার্জার, ১টি শিংসহ হরিণের মাথা, ৩ কার্টন সিগারেট, ২ বস্তা চাল এবং ১টি কাঠের বোট উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আটক ডাকাতের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বুধবার রাত ১০টার দিকে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে তার নিজ বাড়িতে আরেকটি অভিযান চালায় কোস্ট গার্ড। সেখান থেকে বন্যপ্রাণী শিকারের নিষিদ্ধ ফাঁদ ও মালামাল জব্দ করা হয়।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা জানান, আটক আল-আমিন দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে সাধারণ জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় এবং বন্যপ্রাণী শিকারের সাথে জড়িত ছিল। উদ্ধারকৃত অস্ত্র, গুলি ও বন্যপ্রাণী শিকারের সরঞ্জামসহ আটককৃত ডাকাতের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
কোস্ট গার্ডের জাহাজ বিসিজিএস তৌহিদর নির্বাহী কর্মকর্তা লেঃ ইকরা মোহাম্মাদ নাসিফ জানান, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যু বাহিনী নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের ধারাবাহিকতায় “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর আওতায় অভিযান পরিচালনা করে সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর এক সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র, গোলাবারুদ, ডাকাতি ও বন্যপ্রাণী শিকারের কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত থাকবে বলে জানায় কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা।