
ডেস্ক রিপোর্ট : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হজ থেকে ফেরা যাত্রীদের ১৫০টি লাগেজ কেটে মালামাল চুরির অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ অসত্য’ বলে দাবি করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেছেন, বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ, বডি ওর্ন ক্যামেরা এবং অভ্যন্তরীণ তদন্তে এমন কোনো ঘটনার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে দাবি করা হয়, হজ থেকে ফেরা যাত্রীদের প্রায় ১৫০টি লাগেজ কেটে মালামাল চুরি করা হয়েছে। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিক তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসকে দ্রুত অভ্যন্তরীণ তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তিনি জানান, তদন্তে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ও গ্রাউন্ড স্টাফদের ব্যবহৃত বডি ওর্ন ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ওই ফ্লাইটে আসা মোট ৮৩৬টি লাগেজের মধ্যে মাত্র ২১টি ব্যাগ আগে থেকেই কাটা বা ছেঁড়া অবস্থায় ছিল। তবে ঢাকা বিমানবন্দরে কোনো লাগেজ কাটা, চুরি বা মিসহ্যান্ডলিংয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘লাগেজ নামানোর মাত্র ১৩ মিনিটের মধ্যে প্রথম ব্যাগ বেল্টে পৌঁছে দেওয়া হয় এবং এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে সব লাগেজ যাত্রীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বিধিমালা অনুযায়ী চেক-ইন লাগেজে জমজমের পানি বা সঠিকভাবে সিল না করা তরল প্রসাধনী বহন নিষিদ্ধ। স্ক্যানিংয়ের সময় এসব সামগ্রী শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী লাগেজ খুলে বা কেটে তা জব্দ করতে পারে। একই সঙ্গে নগদ অর্থ বা মানিব্যাগ বুকিং লাগেজে রাখা আন্তর্জাতিক নিয়মের পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অভিযোগটি বিভ্রান্তিকর এবং বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। ‘বিমান থেকে লাগেজ নামানো থেকে শুরু করে বেল্ট পর্যন্ত পৌঁছানোর পুরো ভিডিওচিত্র আমাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। ফুটেজ দেখলেই বোঝা যাবে, চুরির কোনো ঘটনা ঘটেনি,’ বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, চলতি হজ মৌসুমে ৭৮ হাজারের বেশি হজযাত্রীকে নির্বিঘ্নে সৌদি আরবে পাঠানো হয়েছে এবং এবার হাজিরা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সন্তুষ্ট ছিলেন।