
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : ধন-ধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের চিরায়ত বঙ্গভূমি। আবার সাগর পরিবেষ্টিত, নদ-নদী বিধৌত পলিমাটির এই দেশ সোনার বাংলায় নন্দিত হয়েছে। ভিন দেশি পরিব্রাজক, স্বদেশি কবি সাহিত্যিকরা বরাবরই বিমুগ্ধ চিত্তে এই দেশের প্রতি পরম, নির্মাল্য দিতে অকুষ্ঠিত ছিলেন। শ্যামল নরম মাটি আর বৃষ্টিস্নাত বাংলার শৌর্য-বীর্যের বিপরীতে কত সংহার, বিপন্নতা, ধ্বংসযজ্ঞ মাথা চাড়া দেয় তাও অঞ্চলভিত্তিক চিরায়ত হিতে-বিপরীতের দাবানল। সমাজের সমসংখ্যক নারী ও শিশুরা পড়ে সবচেয়ে বেশি অসহনীয় দুর্বিপাকে। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রভাবের ওপর সময়োপযোগী সম্মেলন ও পরিস্থিতির ন্যায্যাতা। সম্প্রতি সম্পন্ন হয়েছে জলবায়ু প্রভাব নিবোধক অবস্থা বিবেচনায় কপ-সম্মেলন ব্রাজিলে। উন্নত, উন্নয়নশীল এবং পিছিয়ে পড়া অঞ্চল নিয়ে আলাপ আলোচনায় উঠে আসে জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রভাবে উপকূলীয় নারী ও শিশুরা পড়ে সবচেয়ে বেশি বিপাকে। যে কোনো বিপরীত প্রদাহ-যন্ত্রণায় সবার আগে সমস্যা কবলিত হয়েছে নারী ও শিশু। জলবায়ুর নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ায়ও এর কোনো ব্যতিক্রমই হয়নি।
কপ-সম্মেলন ৩০-এ এনিয়ে আলাপ-আলোচনায় নারী ও শিশু স্বাস্থ্যের ওপর জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাবে উদ্বেগ উৎকণ্ঠা প্রকাশ করা হয়। বৈশ্বিক এই জলবায়ু বিপন্নতায় বলা হচ্ছে অষ্টাদশ শতাব্দীর শিল্প বিপ্লবের দীর্ঘতর এক প্রতিক্রিয়া। যা বুঝতে ও এক শতক পার হয়ে যায়। উনবিংশ শতাব্দীর ক্রান্তিলগ্নেই নৈসর্গ বিজ্ঞানীরা জোরে শোরে আওয়াজ তুললেন। প্রকৃতি তার নিজস্ব বাতাবরণে আর নেই। শিল্প প্রযুক্তি থেকে নিঃসৃত কার্বন বাতাসের স্বাভাবিক, সহজাত অক্সিজেনের ওপর ধ্বংসাত্মক প্রতিক্রিয়ায় উম্মত্ত হচ্ছে। শিল্প প্রযুক্তির বিভিন্ন উপকরণ যে, কার্বন নিঃসরণ করে সেখান থেকে যাত্রা শুরু ভিন্নমাত্রার প্রদাহে নেতিবাচক ক্রিয়া আমাদের মতো অনুন্নত, উন্নয়নশীল দেশগুলো উন্নত শিল্প প্রযুক্তি সেভাবে ব্যবহার করে না। তবে খারাপ প্রদাহে নাকি দরিদ্র, দেশগুলোই আগে বিপন্ন, বিষণ্নতার ঘেরাটোপে আটকে যাচ্ছে। সেখানে আবার কোমল মতি শিশু ও নারীরাই শারীরিক মানসিকভাবে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। পরিবেশবিদরা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ কর দেন যন্ত্র শিল্পের লাগাম টেনে ধরতে হবে। নয়তো প্রকৃতি সহায়ক উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগানো পরিস্থিতির ন্যায্যতা। জীবাশ্ম জ্বালানি মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার করছে ধনী দেশগুলো। তারও যে সমস্যায় পড়ছে না তা কিন্তু নয় তবে অবশ্যই অপেক্ষাকৃত কম।
আমাদের ক্ষুদ্র বাংলাদেশ এমনিতে ১৮ কোটি জনসংখ্যার ভাবে বিপর্যস্ত, সমস্যা কবলিত। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্ভোগ সামলিয়ে নিত্য জীবন চালিত করা অষ্ট্রিক জাতি গোষ্ঠীর এক অভাবনীয় শক্তি। ভাঙ্গা গড়ার উম্মত্ত খেলায় যাপিত জীবন-কর্ম কোনোটারই স্থিতি থাকেই না। তার ওপর উপকূলীয় অঞ্চল গোষ্ঠীরা নিয়তই নৈসগ্যের ঝড়-ঝাপটা সহ্য করে টিকে থাকার এক গৌরবের বাতাবরণ। তার পরেও শেষরক্ষা হয় না। সৃষ্টি আর ধসের টানা পোড়েন যেন নিত্য জীবনের ঘাত অভিঘাত। আক্রান্ত হচ্ছে একদা উপনিবেশের শৃঙ্খলে আটকানো তৃতীয় বিশ্বের পিছিয়ে পড়া অঞ্চল। যেখানে আমাদের ক্ষুদ্র পলিমাটির উর্বর ভূমি বাংলাদেশও আষ্টেপৃষ্ঠে জড়ানো।
বিশেষ করে সমুদ্রবেষ্টিত ও নদীস্নাত বাংলার উপকূলীয় নারীদের অবস্থা যথার্থই সঙ্গীন। প্রাকৃতিক বিপর্যয় তো আছেই তার ওপর পারিপাশ্বিক বিপরীত প্রদাহে নারীরা যখন বিপদশঙ্কুল যাত্রা অতিক্রম করে সেখানে তাদের সন্তানরাও নিরাপদ, নির্বিঘ্নে থাকে না। মা ও তার শিশু সন্তান তো এক অনবচ্ছেদ নাড়ির টানই নয় বরং নিত্যজীবন লড়াই দুর্বিপাকও এক সূতায় গাঁথা মালা। যার হিতে-বিপরীত মা ও শিশু সন্তানকে ক্রমাগত বিপন্নতার জালে আবৃত করেই যাচ্ছে। উপকূলীয় নারী শিশুরাও পড়ে দীর্ঘস্থায়ী এক নেতিবাচক পারিপাশ্বিক দুর্বিপাকে। বিশেষ করে নারীর প্রজনন স্বাস্থ্যেও আসে এক সুদূরপ্রসারী বিপন্নতা। সেখানে সেই স্পর্শকাতর প্রজনন স্বাস্থ্য যদি আবারে পরিবেশগত অসহনীয় দুরবস্থার মোকাবিলা করতে হয় সেটা আরও ভয়ঙ্করভাবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে ছড়াচ্ছে। একজন শিশুই নাকি মাতৃগর্ভেই দূষণে আক্রান্ত হচ্ছে। শুধু কি তাই? নারীর মাতৃত্বেও আসছে নেতিবাচক প্রভাব। দূষণের বিপর্যস্ত প্রজনন স্বাস্থ্যে পুনরায় যখন সন্তান সম্ভাবনা হচ্ছেন সেটা আরও সংকটজনক বলে সাবধান বাণী আসছে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক আর নৈসর্গ বিজ্ঞানীদের কাছ থেকে। যা দীর্ঘস্থায়ী ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ায় মা-শিশুকে যে মাত্রায় পারিপার্শ্বিক বিপন্ন, বিষণ্নতার শিকার করছে সেখানে মনোজগত ও সুস্থির আর নিরাপদ থাকছেই না। যেখানে মানসিক, স্বচ্ছ, স্বাভাবিক চিন্তাধারা কমতে থাকে বলে মনোবিজ্ঞানীরাও আওয়াজ তুলছেন। প্রকৃতিগত এমন সব দাবানলে নারীও শিশু স্বাস্থ্যে যে বিপরীত প্রদাহ তা আগামীর বাংলাদেশকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করাবে কল্পনার অতীত। এর থেকে প্রতিকারের কোনো সহজ উপায় কিংবা পরামর্শও জরুরি বলছেন পরিবেশবিদরা। আর উপকূলীয় নারীদের সচেতন সাবধানতায় দূষণ প্রক্রিয়া থেকে কীভাবে যথাসম্ভব দূরে রাখা যায় তাও চিন্তা-ভাবনার সময় ইতোমধ্যেই পার হয়ে যাচ্ছে। আর ক্ষতি যা হওয়ার সেটা দৃশ্যমান এক রূঢ় বাস্তবতা। উন্নত অনুন্নত বিশ্বের ফারাক শুধু অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে নয়। বরং পরিবেশ সুস্থ স্বাভাবিক রাখতে যে ব্যবস্থাপনা সেখানেও যে কত বিভেদ তারতম্য মাথা চাড়া দিচ্ছে। তবে নিজদের সক্ষমতা, বিচক্ষণতা এবং বাস্তব পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের আরও সচেতন সতর্কতায় জীবন ও কাজকে চালিত করা সময়ের অনিবার্যতা।