
ডেস্ক রিপোর্ট : পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও সীমান্ত দিয়ে ঠেলে দেওয়া ২১ জনকে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ)। রোববার (৭ জুন) মধ্যরাতে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
এর মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের শিকার ১১ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে ৪৮ ঘণ্টার পর শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
গত ৫ জুন রাত সাড়ে ৩টার দিকে হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও বিওপির সীমান্ত পিলার ৩৪৯/৭-এস সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ওই ১১ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। খবর পেয়ে বিজিবির একটি টহল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের শনাক্ত করে এবং বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। এরপর থেকে তারা তিন দিন দেশের সীমান্তবর্তী শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করছিল।
এ বিষয়ে ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, পুশইনের শিকার ১১ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে ৪৮ ঘণ্টার পর শূন্যরেখা থেকে মধ্যরাতে নিয়ে যায় বিএসএফ।
এদিকে পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তে বিএসএফের পুশইন করা নারী-পুরুষ, শিশুসহ ১০ জনকে প্রায় ৭০ ঘণ্টা পর ফেরত নিয়ে গেছে বিএসএফ। সোমবার গভীর রাতে কয়েক দফায় ভারতের সীমান্তের লাইট বন্ধ করে ওই ১০ জনকে সরিয়ে ভারতে নিয়ে যান বিএসএফের ৯৩ ব্যাটালিয়নের টিয়াপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা। তাদের সরিয়ে নেওয়ার পর আবারও সীমান্তের লাইট চালু করে বিএসএফ।
সোমবার (৮ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন বিএসএফের সদস্যরা রাতে বিজিবিকে জানান, তারা পুশইন হওয়া ওই ১০ জনকে ফেরত নিয়ে যেতে চান। পরে বিজিবি সম্মতি দেয়। একই সঙ্গে দ্রুত তাদের ফেরত নিতে চাপ প্রয়োগ করা হয়। পরে তাদের গাড়িতে করে পাশের একটি ক্যাম্পে নেওয়া হয়। বিজিবি কখনোই পুশইন মেনে নেবে না বলে বিএসএফকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বড়বাড়ি প্রধানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, রোববার রাতে আমরা সীমান্ত এলাকায় ছিলাম। পরে রাত ২টার দিকে আমরা দেখি সীমান্তের লাইট বন্ধ করে তাদের নিতে যায় বিএসএফ। পরে তাদের গেটের কাছে নিয়ে আবারও লাইট চালু করে দেয়। আবারও তাদের ফিরিয়ে আনে জিরো লাইনে। কিছু সময় নাটকীয়তার পরে আবারও তাদের ফেরত নিয়ে যায় বিএসএফ। পরে গাড়িতে করে তাদের পাশের একটি ক্যাম্পে নেওয়া হয়।
এর আগে গত শুক্রবার (৫ জুন) ভোর ৫টায় বিএসএফ সদস্যরা সীমান্ত দিয়ে ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। তবে বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে বিওপি, কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে তিনটি পতাকা বৈঠক হলেও বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়।
এদিকে গতকাল রোববার দুপুর ১২টার দিকে আবারও ভারতের অংশের শূন্যরেখা থেকে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিজিবি-বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডাররা বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরে দুই বাহিনীর সদস্য বাড়ানো হয় সীমান্তের শূন্যরেখায়। পরে সতর্ক অবস্থান নেয় তারা। সীমান্তে মাইকিং শুরু করে বিজিবি। মাইকে সীমান্তে বসবাস করা মানুষদের সতর্ক থাকতে বলা হয়। একই সঙ্গে পুশইন ঠেকাতে স্থানীয়দের সহযোগিতা করার জন্য আহ্বান জানানো হয়। পরে দীর্ঘ সময় সীমান্তে উত্তেজনা চলে। এরপর সন্ধ্যা হতেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।