
খুবি প্রতিনিধি: জলবায়ু পরিবর্তন, নবায়নযোগ্য শক্তি ও নির্মল বায়ু বিষয়ে তরুণদের সম্পৃক্তকরণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খুলনায় অনুষ্ঠিত হয়েছে একদিনব্যাপী গোলটেবিল বৈঠক ও নীতিনির্ধারণী আলোচনা সভা।
গত বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী খুলনার হোটেল সিটি ইন লিমিটেডে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান ডিসিপ্লিন ও ক্লিন (পরিষ্কার বায়ু উদ্যোগ) এর সহযোগিতায় দিনব্যাপী অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে পরিবেশভিত্তিক সংগঠন ‘দ্য আর্থ’।
এছাড়াও প্ল্যাটফর্ম পার্টনার হিসেবে সহযোগিতা প্রদান করে এলএসএস, আইবিডিএফ, ইকো নেটওয়ার্ক, বিএনএসকে, মিশন সেভ বাংলাদেশ, ইয়ুথনেট এবং উই ক্যান।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. কাজী এ.বি.এম. মহিউদ্দিন, যিনি “খুলনার বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ: বায়ু দূষণ” শীর্ষক উপস্থাপনার মাধ্যমে খুলনা অঞ্চলের বায়ু দূষণের বর্তমান অবস্থা, কারণ, প্রভাব ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বিশদ বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেন।
তার আলোচনায় তিনি সুন্দরবনের পরিবেশগত ভূমিকা, বায়ুদূষণের প্রভাব, প্রধান দূষণকারী উপাদান, বাস্তবায়ন কৌশল, বায়ুর মান ব্যবস্থাপনা ও পর্যবেক্ষণ, নিঃসরণ তালিকা প্রস্তুতি এবং বায়ুর মান নিরূপণ মডেল বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।
তিনি বলেন, “খুলনা অঞ্চলে শিল্পকারখানা, যানবাহনের ধোঁয়া ও অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বায়ুদূষণের প্রধান উৎস। এগুলোর যথাযথ নিয়ন্ত্রণ না হলে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।”
তার বক্তব্য শেষে উপস্থিত প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর ও পর্যবেক্ষণ পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে খুলনা অঞ্চলের বায়ুদূষণের কারণ ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত উঠে আসে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা, খুলনা সিটি কর্পোরেশন, বিদ্যুৎ অফিস খুলনা-৪-এর সদস্যবৃন্দ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আলকামা রমিন সাধারণ সম্পাদক মিরাজুল ইসলাম ও প্রচার সম্পাদক মো. হাসিবুল হাসান। এছাড়াও বিভিন্ন কলেজ ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান দ্য আর্থ-এর নির্বাহী পরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, “এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো তরুণ, গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের সম্পৃক্ত করে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা অন্বেষণ করা এবং ‘পরিষ্কার বায়ু আইন’ প্রণয়নের দাবিকে জোরদার করা।” তিনি আরও বলেন, “দ্যা আর্থ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তরুণদের সম্পৃক্ত করে নবায়নযোগ্য শক্তি ও নির্মল বায়ু বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছে, যা ভবিষ্যতে টেকসই উন্নয়নের পথে বড় ভূমিকা রাখবে।”