1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:৪২ পূর্বাহ্ন

অসময়ে নদী ভাঙনে দিশেহারা মানুষ

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৯৪ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার‍আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা ইউনিয়নের মধ্যম চাপড়ায় নদীর বাঁধ ভাঙন থামছেনা। নতুন করে ২ দিনে ১০ হাত বাঁধ নদী গর্ভে বিলীন, ২টি বাড়ি বিধ্বস্থ ও ৮টি বাড়ি ভাঙনের হাতছানিতে হুমকী গ্রস্থ হয়ে পড়েছে। প্রশাসন ও পাউবো জনদাবী উপেক্ষা করায় আজকের এই পরিণতির সৃষ্টি হয়েছে বলে ভুক্তভোগিরা দাবী করেছেন।
আশাশুনি সদর ও বুধহাটা ইউনিয়নের চাপড়া গ্রামের মধ্যস্থল দিয়ে মরিচ্চাপ নদী প্রবাহিত। নদীর প্রখর স্রোতে চাপড়ার পাড়ে ভাঙতে ভাঙতে শত শত ঘরবাড়ি, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসা নদী গর্ভে চলে গেছে। আশাশুনির পাড়ে জেগে উঠেছে বিঘার বিঘার বিঘা জমি। ২০২১ সালে নদী খনন শুরু হলে অন্যান্য এলাকায় সিএস, এসএ ম্যাপ অনুযায়ী মোটামুটি সহনশীল ভাবে নদী খনন কাজ চলে আসলেও চাপড়ার পূর্বপাড়ায় সে নিয়মকে তুয়াক্কা না করে ভাঙন কবলিত নদীকে নদী হিসাবে অটুট রাখার মাধ্যমে গ্রামকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। ফলে দিনের পর দিন নতুন নতুন এলাকা ভেঙ্গে যাচ্ছে। নতুন নতুন বাড়ি ঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এলাকার মানুষ ও ভাঙনের শিকার শত শত নারী পুরুষ প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। ইউএনও ও ডিসি সহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন গ্রামবাসী। ইউএনও, ডিসি মহোদয়সহ পাউবোর কর্মকর্তাবৃন্দ অনেকবার ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করা হয়নি।
অন্যদিকে খনন কাজ অব্যাহত রাখায় নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন, ঘরবাড়ি বিধ্বস্থ হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে মনিরুল ইসলাম ও মাজেদ সরদারের বসত ঘর নদীতে চলে গেছে। শাহিনুর ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম, মিঠু, মোহাম্মদ আলী, পল্টু, জাকাত ও রমজান আলীর বসতঘর, ল্যাট্রিন, গোয়ালঘর, পানির ট্যাংকি হুমকিতে রয়েছে।
গত ২ দিনে ১০ হাত এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অনেক গাছগাছালি নদীতে পড়েছে। ৩০ হাত নদীর গভীরতার পানির প্রখর স্রোতে এলাকার মানুষের হৃদয়কে নির্মম আঘাতে জর্জরিত করলেও সরকারি কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নকারীদের হৃদয়ে দরদ আনতে পারছেনা।
গ্রামবাসী ও ভাঙন কবলিত মানুষের কষ্টে হিতাকাংখি উপজেলা যুব দলের সদস্য সচিব আবু জাহিদ সোহাগ জানান, ভাঙতে থাকা গ্রামকে রক্ষা করতে বেড়ী বাঁধ নির্মান করে ও বাঁধ রক্ষার ব্যবস্থা করে তারপর নদী খনন করা হোক। মানুষের আহাজারী, সহায় সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, তারপরও সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে যেভাবে খনন কাজ করা হচ্ছে, তা কখনই কল্যাণকর হবেনা। মানুষের দাবী ন্যায্য, এদাবির প্রতি সহানুভূশীল হয়ে দ্রুত বাঁধ রক্ষা ও ম্যাপ অনুযায়ী নদী খননের জন্য তিনি জোর দাবী জানান।
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কৃষ্ণা রায় জানান, এলাকার ভুক্তভোগিদের কথা শুনেছি, সরেজমিন ভাঙনস্থান দেখেছি। জেলা প্রশাসক স্যার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে কি করা যায় দেখা হবে।
হেমন্তের আগমনী বার্তা দেখা যাচ্ছে। এ সময়ে দেশের নদ-নদীতে পানি অনেকটাই কম থাকে। তারপরও এবার এই অসময়ে বিভিন্ন স্থানে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদী ভাঙনে বসতভিটা জায়গা-জমি সব হারিয়ে দিশেহারা হচ্ছে হাজার হাজার পরিবার। রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদরাসা, কবরস্থানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের এক জরিপে বলা হয়, ভাঙনে প্রতিবছর প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়। অথচ এই ভাঙন রোধে সরকারের পক্ষ থেকে যথাযথ কোন উদ্যোগ নেই। বর্তমান সরকারের উপদেষ্টা পরিথিন বন্ধ করা বায়ুদূষন রোধ করার জন্য গাল ভরা বুলি দিয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই করতে পারেননি। সিলেটের সাদা পাথর উদ্ধার নাটক নিয়ে অনেক মিডিয়া কাভারেজ নিয়েছেন। কিন্তু যে নদী ভাঙনে লক্ষ লক্ষ মানুষ সব হারিয়ে নি:স্ব হচ্ছে সে বিষয়ে তার কোন উদ্যোগই নেই। বর্ষায় ভাঙন শুরু হলে কিছু স্থানে বালির বস্তা ফেলে সাময়িক ভাঙন ঠেকানোর নামে অর্থ চুরির ব্যবস্থা করা হয়। তবে এই ভাঙন রোধে স্থায়ী কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার নদীভাঙন রোধে প্রচুর অর্থ ব্যয় করলেও তা সমন্বিত ও পরিকল্পিতভাবে হচ্ছে না। এতে ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। নদী গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, বিক্ষিপ্ত কোনো উদ্যোগ নিয়ে নদীভাঙন রোধ করা যাবে না। এজন্য নিতে হবে একটি মহাপরিকল্পনা। নদীভাঙন রোধসহ নদী ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বিরুদ্ধে বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এ দুর্নীতি দমন করতে না পারলে নদীভাঙন রোধে কোনো সুফল পাওয়া যাবে না। সরকারকে এদিকে কঠোরভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।
বিশিষ্ট পানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত ইনকিলাবকে বলেন, নদীভাঙন বিষয়টাকে সরকার কতটা গুরুত্বের সাথে দেখছে সেটা বড় প্রশ্ন। ভাঙন রোধে আজও টেকসই বাঁধ নির্মাণ সম্ভব হয়নি। এর ফলে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার বিষয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়। নদী ভাঙন রোধে সরকার প্রচুর বিনিয়োগ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মাধ্যমে নদীর তীর রক্ষায় ও বিভিন্ন স্থানে বাঁধ নির্মাণে প্রচুর অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে, হচ্ছে। তবে এতে যে পরিমাণ অর্থ খরচ হচ্ছে, সে অনুপাতে সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। সমন্বিত পরিকল্পনার অভাব এবং অনিয়ম দুর্নীতির ফলে নদী রক্ষায় যেসব বাঁধ নির্মাণ করা হয়, সেগুলো কিছুদিনের মধ্যেই ভেঙে যায়।
নদী ভাঙনের তথ্য নিয়ে আমাদের সংবাদদাতাদের পাঠনো রিপোর্ট নিচে তুলে ধরা হলো।
গাইবান্ধা, নদীর পানি হ্রাস পাওয়ায় গাইবান্ধা তিস্তা ও ব্রক্ষপুএ নদীর তীরবর্তী এলাকায় তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। সদর উপজেলার কামারজানির দুটি পয়েন্টে ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুরের একটি পয়েন্টে এবং ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের উওর উরিয়া থেকে কটিয়ার ভিটা পর্যন্ত এলাকা জুড়ে তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। পনি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় প্রতিরক্ষা মুলক কাজের কাজ করছে। এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬ টায় পানিউন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে- যমুনা নদীর পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৭৪ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ১৫৮ সে.মি. নিচ দিয়ে, ঘাঘট নদীর পানি ব্রীজ রোড পয়েন্টে বিপদসীমার ৩৩৯ সে.মি. নিচ দিয়ে ও করতোয়া চকরহিমাপুর পয়েন্টে বিপদসীমার ৫২৫ সে.মি. নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ।
বরগুনা থেকে জাহাঙ্গীর কবীর মৃধা জানান, বরগুনার পায়রা, বিষখালী এবং বলেশ্বর নদীর ভয়াবহ ভাঙনের কারণে উপকূলজুড়ে নীরব বিপর্যয় নেমে এসেছে। প্রতিদিন নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ঘর-বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি, বাজার ও যোগাযোগব্যবস্থা। ভাঙন আতঙ্কে লক্ষাধিক মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। কারো মাথার উপর ছাদ নেই, কারো জীবন-জীবিকার পথ রুদ্ধ। গত কয়েক বছর ধরে পাউবো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করলেও নদীর তীব্র স্রোত ও ভৌগোলিক পরিবর্তনে সেই বাঁধগুলোও টেকসই হচ্ছে না। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বহুবার প্রতিরক্ষা নির্মাণের পরেও নদীকে থামানো সম্ভব হয়নি। বাঁধের লাইন তিনবার পরিবর্তন হলো, তবুও নদীকে থামানো গেল না! এরকম ক্ষোভ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে।
ভাঙনের প্রধান কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞ মহল সূত্রে জানা গেছে, বর্ষাকালে পানি চাপ বৃদ্ধি, অবৈধ দখল, বাধাগ্রস্ত পানিপ্রবাহ, ইটভাটা ও চর দখল, বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টিও নদীভাঙনকে তীব্রতর করছে। অব্যাহত নদী ভাঙনে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হচ্ছে পায়রা ও বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী বরগুনা সদরের বালিয়াতলী, তেঁতুলবাড়িয়া, বুড়িরচর, গোলবুনিয়া, রায়ের তবক, নলটোনা, আজগরকাঠি, ডালভাঙ্গা, নদী বন্দর, পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা, জিনতলা, রুহিতা, কাকচিড়া, বামনা উপজেলার রামনা, বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ি, কালিকাবাড়ী, হোসনাবাদ, মোকামিয়া, আমতলী উপজেলার বালিয়াতলী, গুলিশাখালী, পচাকোড়ালিয়া, আরপাঙ্গাশিয়া, যোপখালী, তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া, চরপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকা। বরগুনার সদর উপজেলার ১০নং নলটোনা ইউনিয়নের নলটোনা গ্রামের চিত্র খুবই ভয়ংকর। আগ্রাসী বিষখালী নদীর ভাঙনে অসহায় হয়ে পড়েছে এখানকার মানুষগুলো। হারাচ্ছে ফসলি জমি, নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে তাদের জীবন জীবিকা। বড় বড় বাড়িগুলো ভাঙনের কবলে ছুঁই ছুঁই অবস্থা। ইতোমধ্যেই অনেকে বসতভিটা, ফসলি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে এলাকা ত্যাগ করেছেন। প্রয়োজন পানি উন্নয়ন বোর্ডের শক্ত পদক্ষেপ। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ না হলে এসব এলাকা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে মুহূর্তের মধ্যে। স্থানীয়দের দাবি- কাগজে প্রকল্প আছে, কিন্তু বাস্তবে রক্ষাব্যবস্থা নেই। বাংলাদেশের উপকূলকে রক্ষা করতে হলে টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন, দখলমুক্ত নদী প্রবাহ ও কার্যকর বাঁধ নির্মাণ জরুরি। বরগুনার মানুষের আর্তনাদ- সরকার যদি এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেয়, মানচিত্র থেকেই হারিয়ে যাবে বহু জনপদ।
ফরিদপুর, জেলার সদর থানার ডিক্রিরচর,নর্থচ্যানেল দুটি ইউনিয়নে গত এক বছর যাবৎ অব্যাহত নদীভাঙ্গনে একলাখ একর ফসলি জমি, ইটের ভাটা, অর্ধশত পল্লীবিদ্যুতের তারসহ খাম্বা পদ্মায় বিলিন হয়ে গেছে। পদ্মায় বিলিন হয়েছে একটি ওয়ার্ডের ৮০ টি বাড়ী। নদীতে যাওয়ার বাকি আছে মাত্র ৫টি বাড়ি। পদ্মায় চলে গেছে ১ নং ওয়ার্ডের একটি মাদ্রাসা, একটি মসজিদ, একটি এতিমখানা, একটি গোরস্তান এবং প্রায় তিন কিলোমিটার সরকারি পাকা রাস্তা। অপরদিকে, পদ্মার ভয়াবহ ভাঙ্গনে কামারডাঙ্গী, কবিরপুর, ভগবানেরচর। হরিরামপুর, চড়হরিমাপুর, আলফা ডাঙ্গার বানা, টগরবন্দ এলাকায় চলছে ভয়াবহ নদীভাঙ্গন। এ যেন দেখার কেউ নেই। ফরিদপুর জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার টিলারচড় এলাকার নদীভাঙ্গন চলছে। পদ্মাভাঙ্গনের ঝুঁকিতে পড়ছে ঐ এলাকার মাদ্রাসা, মসজিদ এবং সরকারি এইচবিবি রাস্তা। চরম আতঙ্কে দিন পাড় করছেন চরভদ্রাসন পদ্মাপারের মানুষ। ইতোমধ্যেই, ধ্বসে পড়ছে এইচবিবি সড়ক। এই বিষয়ে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক এবং পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে কথা বললে তারা দুইজনই ইনকিলাবকে জানান, আসলে নদী ভাঙ্গন একটি জাতীয় দূর্যোগ। সময় মত বাজেট বরাদ্দ না হওয়ার কারনে অনেক সময় ইচ্ছে থাকা সত্বেও মানুষের কষ্টে ভাগ আমরা নিতে পারি না।
লক্ষ্মীপুর থেকে এস এম বাবুল (বাবর) জানান, এ জেলায় গত এক দশকে মেঘনার তীব্র ভাঙ্গনে লক্ষাধিক মানুষ ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। বসতভিটা ও সর্বস্ব হারিয়ে তারা খোলা জায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটছে হাজারো মানুষের। মেঘনার অব্যাহত ভাঙ্গনে ফলকন ছিদ্দিকিয়া দাখিল মাদ্রাসা, ফয়জুন্নাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর ফলকন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। চরমার্টিন, চরকালকিনি, সাহেবরহাট ও চরফলকন ইউনিয়নের নাসিরগঞ্জ ও নবিগঞ্জসহ বেশ কিছু এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। লক্ষ্মীপুর সদর ও কমলনগরের পশ্চিম সীমানার উত্তর-দক্ষিণ এবং রামগতির পশ্চিম ও দক্ষিণ বরাবর মেঘনা নদী বহমান। দুই উপজেলার মেঘনা তীরবর্তী উপকূল প্রতিনিয়ত ভাঙছে। চলমান এই ভাঙ্গনে রামগতি ও কমলনগর উপজেলার ২৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। যার মধ্যে গত ১০ বছরেই ১৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা গ্রাস করেছে মেঘনা নদী। লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খান বলেন, জেলার ৪টি উপজেলা মেঘনা উপকূলীয় হলেও রামগতি এবং কমলনগর উপজেলার বেশিরভাগ স্থান নদী ভাঙ্গণের শিকার হচ্ছে। চার বছর আগে এ দুইটি উপজেলার ৩১ কিলোমিটার মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণের একটি প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় তিন হাজার ৮৯ কোটি ৯৬ লাখ ৯৯ হাজার টাকার প্রকল্পটি অনুমোদন হয়েছিল। তবে ঠিকাদারদেরও কিছু গাফিলতি ও অর্থ ছাড়ের সমস্যার কারণে প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলছে।
বছরে গড়ে প্রায় ২ লাখ মানুষ নদীভাঙ্গনে সর্বসান্ত হচ্ছে-আইপিসিসি
ভাঙন ঠেকাতে পাউবোর কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেই
বন্যার পানি কিছুটা কমতে শুরু করায় এবার বিভিন্ন স্থানে তীব্র হচ্ছে নদী ভাঙন। নদী গিলে খাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, বাঁশঝাড়, বাগান, কবরস্থান, রাস্তা-ঘাট, স্কুল, মাদরাসাসহ পাকা-আধাপাকা স্থাপনা। সব হারিয়ে নি:স্ব হচ্ছে নদী পাড়ের মানুষ।
কুড়িগ্রামে তিস্তার তীব্র ভাঙনে নি:স্ব হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক বসতভিটা, ফসলি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। জামালপুরে যমুনা নদী ও ব্রহ্মপুত্র টানা দুই সপ্তাহের ধীরগতির ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে শতাধিক ঘর-বাড়ি ও শত একর ফসলি জমি। এছাড়াও ভাঙ্গন হুমকিতে রয়েছে স্কুল, হাট-বাজারসহ শত শত বসত ভিটা। ফরিদপুরে পদ্মার ভাঙনে কয়েক শত বিঘা ফসলি জমি বিলিন হয়ে গেছে। লালমনিরহাটে তিস্তা ও ধরলা নদীর ভাঙ্গনে দিশেহারা মানুষ্। পঞ্চগড়ের করতোয়া নদীর তীব্র ভাঙনে কয়েকশ একর ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। রংপুরের ৩ উপজেলায় তিস্তার ভাঙ্গন তীব্র। নদীর ভাঙ্গনে এরই মধ্যে বসতভিটা, ফসলি জমি ও রাস্তাাঘাট বিলীন হয়ে গেছে। চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নেই।
নদীমাতৃক এ দেশের এক বড় সমস্যা নদীভাঙন। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক অভ্যন্তরীন সর্বোচ্চ প্যানেল-আইপিসিসির সম্প্রতি এক পরিসংখ্যানে বলা হয় বাংলাদেশে প্রতিবছর ৫ থেকে ৬ হাজার হেক্টর জমি বিলীন হচ্ছে নদী ভাঙ্গনে। এ হিসেবে গেলো ২০ বছরে নিশ্চিহ্ন হয়েছে দেশের অন্তত ১ লাখ হেক্টর ভ‚মি। আর্থিক হিসেব ধরলে যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা। নদী ভাঙ্গন ঠেকাতেও গেলো দ্ইু দশকে ১ লাখ কোটি টাকার অধিক ব্যায় হয়েছে। আইপিসিসি বলছে- নদীভাঙ্গনই এখন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ঝুঁকির দুর্যোগ। এখন বছরে গড়ে প্রায় ২ লাখ মানুষ নদী ভাঙ্গনে সর্বশান্ত হচ্ছেন। এসব মানুষ জীবন জীবিকা আর কর্মসংস্থানের জন্য গ্রাম ছেড়ে আসছেন শহরে।
জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে দেশের বড় বড় নদীগুলির ভাঙ্গনের তীব্রতা গেলো কয়েক বছর ধরে বাড়ছে। ফলে বহু পাড়া-মহল্লা, ইউনিয়ন এমনকি উপজেলার মানচিত্রও পাল্টে যাচ্ছে। এমনকি সীমান্তের অনেক নদীর অস্বাভাবিক ভাঙ্গন দেশের সীমান্ত রেখা বদলে দিচ্ছে। এমন আশংকা উল্লেখ করেছে সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল এ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিস (সিইজিআইএস)। সীমান্ত এলাকায় নদী ভাঙ্গন কেনো এতো বিধংসী হচ্ছে- তাও খুঁজে বের করেছেন গবেষকরা। তারা বলছেন-বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে যে ৫৪টি আন্তর্জাতিক নদী প্রবাহিত হচ্ছে তার প্রধান ব্রহ্মপুত্র, পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা। এ চারটি নদীই সবচেয়ে বেশী ভাঙ্গনের শিকার। নদীরপাড় গঠনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে সবচেয়ে বেশী ভাঙ্গনপ্রবণ হল যমুনা নদী। এরপর পদ্মা। অতিরিক্ত পলি পড়ে নদীর তলদেশ ভরাট, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং শাখা-উপশাখা দখল ও ভরাটও ডেকে আনছে নদী ভাঙ্গনের এই মহা সর্বনাশ। প্রধান নদীগুলো ছাড়াও তিস্ত, ধরলা, আত্রাই, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, কুশিয়ারা, খোয়াই, সুরমা, মনু, মগড়া, ধনু, জুরী, সাঙ্গু, ধলাই, গোমতী, মাতামুহুরি, মধুমতি, সন্ধ্যা, বিশখালী এসব নদীও ভাঙ্গনপ্রবণ। এসব নদীর অন্তত দেড়’শ স্পটে এখনো বড় ধরনের ভাঙ্গন বিদ্যমান। সিইজিআইএসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মৌসুমে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের ১৩ জেলা ভয়াবহ নদীভাঙনের কবলে পড়তে পারে। পদ্মা, গঙ্গা, যমুনা ও তিস্তা নদীর ভাঙনে এসব জেলার প্রায় ২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা বিলীন হতে পারে। নদী ভাঙন নিয়ে আমাদের সংবাদদাতাদের পাঠানো প্রতিবেদন নি¤েœ তুলে ধরা হলো।
ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে তিস্তার পানি দ্রæত বেড়ে যাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছায় তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। নদীর ভাঙ্গনে এরই মধ্যে বেশকিছু বসতভিটা, ফসলি জমি ও রাস্তাাঘাট বিলীন হয়েছে। চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ। বরাদ্দ না থাকায় ভাঙনকবলিত এলাকার বেশিরভাগ স্থানেই জিও ব্যাগ ফেলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিস্তার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর, মর্নেয়া বরাইবাড়িসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে ব্যাপক নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে এসব এলাকায় বসতভিটা, রাস্তাঘাট ছাড়াও প্রায় ৯০ হেক্টর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। কেলকেন্দ ইউনিয়নের বিনবিনার চর ও গোডাউনের হাট নামক স্থানসহ লক্ষীটারী ইউনিয়নের শংকরদহসহ আশপাশের বেশ কিছু স্থানে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে নিয়মিত ভাঙন থাকলেও তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কিছু কিছু স্থানে স্থানীয়ভাবে বালুর বস্তা ফেলে নদী ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। নদী ভাঙনে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল ও ঘরবাড়ি নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদী তীরবর্তী লোকজন। তারা ভাঙন রোধে দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। গঙ্গাচড়া ছাড়াও জেলার কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে তিস্তার ভাঙ্গন তীব্র ভাঙ্গন আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে অসংখ্য ফসলী জমি, রাস্তা ও ঘর-বাড়ি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিস্তার ভাঙ্গনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জরুরিভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধের চেষ্টাও করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাটে রাক্ষুসে তিস্তার তীব্র ভাঙনে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ফসলী জমি, গাছপালা ও বসত ভিটাসহ নানা মূল্যবান সম্পদ। হুমকীর সম্মুখীন হয়ে পরেছে উপজেলার বুড়িরহাট স্পার বাঁধসহ হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির ও সহস্রাধিক বাড়িঘর। তবে ভাঙন ঠেকাতে শুধুমাত্র একটি স্থানে কুড়িগ্রাম পাউবো জিও ব্যাগ ফেলার জন্য বালু সংগ্রহ শুরু করলেও অন্যান্য স্থানে ভাঙন রোধে বরাদ্দ না থাকায় কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ হয়নি।
বছরে গড়ে প্রায় ২ লাখ মানুষ নদীভাঙ্গনে সর্বসান্ত হচ্ছে-আইপিসিসি
ভাঙন ঠেকাতে পাউবোর কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেই
বন্যার পানি কিছুটা কমতে শুরু করায় এবার বিভিন্ন স্থানে তীব্র হচ্ছে নদী ভাঙন। নদী গিলে খাচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, বাঁশঝাড়, বাগান, কবরস্থান,স্তা-ঘাট, স্কুঐল, মাদরাসাসহ পাকা-আধাপাকা স্থাপনা। সব হারিয়ে নি:স্ব হচ্ছে নদী পাড়ের মানুষ।
কুড়িগ্রামে তিস্তার তীব্র ভাঙনেল নি:স্ব হচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। ইতোমধ্যে অর্ধশতাধিক বসতভিটা, ফসলি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। জামালপুরে যমুনা নদী ও ব্রহ্মপুত্র টানা দুই সপ্তাহের ধীরগতির ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে শতাধিক ঘর-বাড়ি ও শত একর ফসলি জমি। এছাড়াও ভাঙ্গন হুমকিতে রয়েছে স্কুল, হাট-বাজারসহ শত শত বসত ভিটা। ফরিদপুরে পদ্মার ভাঙনে কয়েক শত বিঘা ফসলি জমি বিলিন হয়ে গেছে। লালমনিরহাটে তিস্তা ও ধরলা নদীর ভাঙ্গনে দিশেহারা মানুষ্। পঞ্চগড়ের করতোয়া নদীর তীব্র ভাঙনে কয়েকশ একর ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। রংপুরের ৩ উপজেলায় তিস্তার ভাঙ্গন তীব্র। নদীর ভাঙ্গনে এরই মধ্যে বসতভিটা, ফসলি জমি ও রাস্তাাঘাট বিলীন হয়ে গেছে। চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নেই।
নদীমাতৃক এ দেশের এক বড় সমস্যা নদীভাঙন। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক অভ্যন্তরীন সর্বোচ্চ প্যানেল-আইপিসিসির সম্প্রতি এক পরিসংখ্যানে বলা হয় বাংলাদেশে প্রতিবছর ৫ থেকে ৬ হাজার হেক্টর জমি বিলীন হচ্ছে নদী ভাঙ্গনে। এ হিসেবে গেলো ২০ বছরে নিশ্চিহ্ন হয়েছে দেশের অন্তত ১ লাখ হেক্টর ভ‚মি। আর্থিক হিসেব ধরলে যার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা। নদী ভাঙ্গন ঠেকাতেও গেলো দ্ইু দশকে ১ লাখ কোটি টাকার অধিক ব্যায় হয়েছে। আইপিসিসি বলছে- নদীভাঙ্গনই এখন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ঝুঁকির দুর্যোগ। এখন বছরে গড়ে প্রায় ২ লাখ মানুষ নদী ভাঙ্গনে সর্বশান্ত হচ্ছেন। এসব মানুষ জীবন জীবিকা আর কর্মসংস্থানের জন্য গ্রাম ছেড়ে আসছেন শহরে।
জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে দেশের বড় বড় নদীগুলির ভাঙ্গনের তীব্রতা গেলো কয়েক বছর ধরে বাড়ছে। ফলে বহু পাড়া-মহল্লা, ইউনিয়ন এমনকি উপজেলার মানচিত্রও পাল্টে যাচ্ছে। এমনকি সীমান্তের অনেক নদীর অস্বাভাবিক ভাঙ্গন দেশের সীমান্ত রেখা বদলে দিচ্ছে। এমন আশংকা উল্লেখ করেছে সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল এ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিস (সিইজিআইএস)। সীমান্ত এলাকায় নদী ভাঙ্গন কেনো এতো বিধংসী হচ্ছে- তাও খুঁজে বের করেছেন গবেষকরা। তারা বলছেন-বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে যে ৫৪টি আন্তর্জাতিক নদী প্রবাহিত হচ্ছে তার প্রধান ব্রহ্মপুত্র, পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা। এ চারটি নদীই সবচেয়ে বেশী ভাঙ্গনের শিকার। নদীরপাড় গঠনের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে সবচেয়ে বেশী ভাঙ্গনপ্রবণ হল যমুনা নদী। এরপর পদ্মা। অতিরিক্ত পলি পড়ে নদীর তলদেশ ভরাট, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং শাখা-উপশাখা দখল ও ভরাটও ডেকে আনছে নদী ভাঙ্গনের এই মহা সর্বনাশ। প্রধান নদীগুলো ছাড়াও তিস্ত, ধরলা, আত্রাই, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, কুশিয়ারা, খোয়াই, সুরমা, মনু, মগড়া, ধনু, জুরী, সাঙ্গু, ধলাই, গোমতী, মাতামুহুরি, মধুমতি, সন্ধ্যা, বিশখালী এসব নদীও ভাঙ্গনপ্রবণ। এসব নদীর অন্তত দেড়’শ স্পটে এখনো বড় ধরনের ভাঙ্গন বিদ্যমান। সিইজিআইএসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি মৌসুমে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের ১৩ জেলা ভয়াবহ নদীভাঙনের কবলে পড়তে পারে। পদ্মা, গঙ্গা, যমুনা ও তিস্তা নদীর ভাঙনে এসব জেলার প্রায় ২৮ বর্গকিলোমিটার এলাকা বিলীন হতে পারে। নদী ভাঙন নিয়ে আমাদের সংবাদদাতাদের পাঠানো প্রতিবেদন নিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
, ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে তিস্তার পানি দ্রæত বেড়ে যাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছায় তীব্র ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। নদীর ভাঙ্গনে এরই মধ্যে বেশকিছু বসতভিটা, ফসলি জমি ও রাস্তাাঘাট বিলীন হয়েছে। চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ। বরাদ্দ না থাকায় ভাঙনকবলিত এলাকার বেশিরভাগ স্থানেই জিও ব্যাগ ফেলা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তিস্তার পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার আলমবিদিতর, মর্নেয়া বরাইবাড়িসহ বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে ব্যাপক নদী ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে এসব এলাকায় বসতভিটা, রাস্তাঘাট ছাড়াও প্রায় ৯০ হেক্টর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। কেলকেন্দ ইউনিয়নের বিনবিনার চর ও গোডাউনের হাট নামক স্থানসহ লক্ষীটারী ইউনিয়নের শংকরদহসহ আশপাশের বেশ কিছু স্থানে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক বছর ধরে নিয়মিত ভাঙন থাকলেও তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। কিছু কিছু স্থানে স্থানীয়ভাবে বালুর বস্তা ফেলে নদী ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। নদী ভাঙনে হাজার হাজার হেক্টর জমির ফসল ও ঘরবাড়ি নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদী তীরবর্তী লোকজন। তারা ভাঙন রোধে দ্রæত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। গঙ্গাচড়া ছাড়াও জেলার কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়নে তিস্তার ভাঙ্গন তীব্র ভাঙ্গন আকার ধারণ করেছে। ইতিমধ্যে নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে অসংখ্য ফসলী জমি, রাস্তা ও ঘর-বাড়ি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিস্তার ভাঙ্গনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জরুরিভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধের চেষ্টাও করা হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম, জেলার রাজারহাটে রাক্ষুসে তিস্তার তীব্র ভাঙনে নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ফসলী জমি, গাছপালা ও বসত ভিটাসহ নানা মূল্যবান সম্পদ। হুমকীর সম্মুখীন হয়ে পরেছে উপজেলার বুড়িরহাট স্পার বাঁধসহ হাট-বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মন্দির ও সহস্রাধিক বাড়িঘর। তবে ভাঙন ঠেকাতে শুধুমাত্র একটি স্থানে কুড়িগ্রাম পাউবো জিও ব্যাগ ফেলার জন্য বালু সংগ্রহ শুরু করলেও অন্যান্য স্থানে ভাঙন রোধে বরাদ্দ না থাকায় কোন কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট