
ডেস্ক রিপোর্ট : আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম ‘মব’ শব্দটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন। এটা বিপ্লবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রয়াস কিনা দেখতে হবে। এ শব্দ ব্যবহারের আগে সংযত হওয়া উচিত। বিপ্লবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো আয়োজন বরদাশত করা হবে না।
আজ রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধান প্রসিকিউটর বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গণভবনে সরকার পতন ঘটানো আর রাস্তায় ছিনতাইকারী বা সংখ্যালঘু পিটিয়ে হত্যা করা এক বিষয় নয়। তাই ‘মব’ শব্দটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আগে সচেতন হতে হবে। এটা করে আন্দোলনকারীদের ছোট করবেন না।
তাজুল ইসলাম বলেন, মামলাজট কমাতে দক্ষ বিচারক দরকার। হাইকোর্ট বিভাগে সমান সংখ্যক বেঞ্চ বাড়াতে হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার কথা বলে অনেকে নিজেদের ‘শপথবদ্ধ রাজনীতিক’ ভাবতেন। আমাকে ওপেন কোর্টে একজন বিচারপতি বলেছিলেন, ‘মনে রাখবেন আল্লাহর পর শেখ হাসিনা, তারপর আমরা’। নিজেদের ‘শপথবদ্ধ রাজনীতিক’ ভাবতেন, এমন অনেকে বিচার বিভাগে এখনো অনেকে রয়ে গেছে। কেনো সরানো যায়নি, এটা পর্যালোচনা করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, রিমান্ডের পর ১৬৪ ধারার জবানবন্দি দেয়ার জন্য আদালতে নেয়া ভিকটিম যখন বিচারককে একা পেয়ে বলেছিলেন, স্যার আমি এসবে জড়িত নই। আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে। তারপর ওই বিচারক পুলিশকে ডেকে বলেছিলেন ‘ওকে তো ঠিক মতো বানানো হয়নি’; এমন বিচারকও এখনো রয়ে গেছে। আমরা সুদিনের জন্য একটা রক্তাক্ত পথ পাড়ি দিয়ে এসেছি।
আলোচনায় মামলা জট, বিচারক স্বল্পতা, বিচারক নিয়োগ প্রক্রিয়াসহ বিচার বিভাগের নানা সংকট তুলে ধরেন বক্তারা। একইসঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় দৃশ্যমান সুবিচার নিশ্চিত করার তাগিদ দেন আইনজীবীরা। এসময় জুলাই আন্দোলন পরবর্তী জনআকাঙ্খা অনুযায়ী আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় রাজনৈতিক স্বদিচ্ছার কথাও তুলে ধরেন বক্তারা।