1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কপিলমুনিতে তেলের তীব্র সংকট সৃষ্টিঃ ইরি চাষীদের মাথায় হাত রেশনিং পদ্ধতিতে বিক্রি হবে জ্বালানি তেল: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী মোটারসাইকেলে সর্বোচ্চ তেল নেওয়া যাবে ২ লিটার, প্রাইভেটকার ১০ কুয়েতে মিসাইল হামলায় সন্দ্বীপের প্রবাসী নিহত মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেল এফবিআই ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের রাজসাক্ষী রিজওয়ানা হাসান: গোলাম পরওয়ার ইবি শিক্ষিকা হত্যা মামলায় প্রধান আসামি ফজলুর গ্রেপ্তার যশোরের অভয়নগরে অস্ত্রসহ ৩ সন্ত্রাসী আটক, গণপিটুনি নিজস্ব প্রতিবেদক ইউএস-বাংলার দ্বিতীয় বিশেষ ফ্লাইটে দুবাই থেকে ফিরলেন ৪০৫ জন ইসরায়েলে আঘাত হানল ইরানের শক্তিশালী ‘ক্লাস্টার’ মিসাইল

বেনাপোল বন্দর-কাস্টমসে চাঁদাবাজি, প্রশাসন নীরব

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৬৮ বার পড়া হয়েছে

যশোর প্রতিনিধি : বেনাপোল স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে মামলা ও চার্জশিট দাখিলের পরও বহিরাগত চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য অব্যাহত থাকায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে বেনাপোল রহমান চেম্বারের দি সান রুফে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বেনাপোল ল্যান্ড পোর্ট ইমপোর্টার অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বেনাপোল দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান এই বন্দরের সঙ্গে জড়িত। প্রতিবছর এখান থেকে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব সরকারের কোষাগারে জমা পড়ে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। একসময় বন্দরে নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা অনেকটাই ফিরে এসেছে।
তবে এই স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে বহিরাগত চাঁদাবাজ চক্র। চাঁদা না দিলে কিছু নামসর্বস্ব পত্রিকা, অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে কাস্টমস, বন্দর কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের জড়িয়ে মনগড়া ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর ফলে অনেক ব্যবসায়ী বেনাপোল বন্দর ছেড়ে ভোমরা বা অন্য বন্দরে চলে যাচ্ছেন। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা, কমছে সরকারের রাজস্ব আয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিশেষভাবে আলোচিত হয় সুমন হোসেন নামে এক যুবকের নাম। তিনি বেনাপোল পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বেনাপোল গ্রামের বাসিন্দা। ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্টদের দাবি, সুমন দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল বন্দরে পাসপোর্ট দালালি, লাগেজ পারাপার ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই বন্দরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে যাত্রীদের দ্রুত ভারতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে জনপ্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা আদায় করতেন। পাশাপাশি শেড ইনচার্জ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত চাঁদা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই প্রেক্ষাপটে বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) শাহিদা শারমিন ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর বেনাপোল পোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ১০ সেপ্টেম্বর অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ ২০২৫ সালের ২৪ এপ্রিল আদালতে চার্জশিট দাখিল করে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চার্জশিট দাখিলের পরও অভিযুক্ত সুমন গ্রেপ্তার হয়নি। বরং সে সময় দায়িত্বে থাকা বন্দর কর্মকর্তাদের অভিযোগ ছিল, সুমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি দিতেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর প্রচারণা চালাতেন এবং একবার তৎকালীন বন্দর চেয়ারম্যানকে গেস্টহাউসে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনাও ঘটিয়েছিলেন। এসব কারণে তাকে বন্দর ও কাস্টম হাউসে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আইনের এই শিথিলতার সুযোগ নিয়ে সুমন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। বর্তমানে গ্রেপ্তার এড়াতে সে বেনাপোল এলাকায় অবস্থান না করলেও বাইরে থেকে মানবকণ্ঠ, সকালের সময়, ওয়ান নিউজ বিডি ও জনতার কথা পত্রিকার নাম ব্যবহার করে ফোনে হুমকি দিয়ে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে। অথচ এর আগেও তার নামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিকবার চাঁদাবাজির সংবাদ প্রকাশিত হলেও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।
ব্যবসায়ীদের প্রশ্ন, মামলা, নিষেধাজ্ঞা ও চার্জশিটের পরও একজন অভিযুক্ত কীভাবে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে?
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, সম্প্রতি কিছু অনলাইন পেজ, যশোর থেকে প্রকাশিত কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা এবং জাতীয় দৈনিক মানবকণ্ঠে বেনাপোল বন্দর, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ, সি অ্যান্ড এফ এজেন্ট ও আমদানিকারক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে। এসব সংবাদের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। উদ্দেশ্য একটাই, বন্দরের সুনাম ক্ষুণ্ন করা।
বক্তারা দাবি করেন, এই ধরনের সংবাদ বন্দর ও কাস্টমস হাউজের ভাবমূর্তি নষ্ট করার পাশাপাশি বৈধ ব্যবসায়ীদের ব্যবসা ও সামাজিক অবস্থানকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলছে।
ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত দুই থেকে তিন বছর ধরে সরকার নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী বেনাপোল বন্দরে শতভাগ পণ্য পরীক্ষা, যথাযথ শুল্কায়ন এবং রাজস্ব আদায়ের পরই মালামাল খালাস দেওয়া হচ্ছে। কঠোর নজরদারির মধ্যেই কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যেখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, বেনাপোল আমদানি রপ্তানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জিয়া, সিনিয়র সহসভাপতি উজ্জ্বল বিশ্বাস, বন্দর বিষয়ক সম্পাদক শামীম উদ্দিন গাজী, সহ দপ্তর সম্পাদক রয়েল হোসেন, সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী রহমতুল্লাহ, মারফাত আলী, নয়ন প্রমুখ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার ও সংবাদপত্রের সাংবাদিকবৃন্দ ও বেনাপোল ল্যান্ড পোর্ট ইমপোর্টার অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক ব্যবসায়ী উপস্থিত ছিলেন।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট