1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত : ইসির সীমানা অনুযায়ীই হবে কুমিল্লা-২ আসনের নির্বাচন ক্ষমতায় গেলে শুধু দল নয়, যোগ্য লোকদের মন্ত্রী বানাবে জামায়াত : ডা. তাহের সাবেক গভর্নর ড. আতিউরসহ ২৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অতীতে বাংলাদেশকে যারা স্বীকার করে নাই, তারাই সবচেয়ে বেশি দুষ্টামি করছে : মির্জা ফখরুল আইসিসি কোনো অযৌক্তিক শর্ত চাপিয়ে দিলে মানব না : ক্রীড়া উপদেষ্টা নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধার করার তাগিদ প্রধান উপদেষ্টার পাপুয়া নিউগিনিকে হারিয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় জয় রাষ্ট্রদ্রোহ আইন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট নরসিংদীতে জেল পলাতক সন্ত্রাসীকে কুপিয়ে হত্যা আরও ৩ আসনে এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা

রাজনৈতিক সুপারিশে দেওয়া প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ঋণ খেলাপি

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট :  খুলনা সোনালী ব্যাংকের পাট খাতে রাজনৈতিক প্রভাবে দেওয়া দেড় হাজার কোটি টাকা ঋণ আদায় নিয়ে অনিশ্চয়তা হয়ে গিয়েছে । ইতিপূর্বে রাজনৈতকি ক প্রভাব থাকায় তাদের বিরুদ্ধে বিধি-বিধান মত ব্যাংক কতৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। খুলনা সোনালী ব্যাংকের ৬টি শাখায় ১১২জন ব্যবসায়ীর কাছেই মোট পাওনা ১৪৯৮কোটি টাকা। যা বর্তমানে প্রায় দুই হাজার কোটিতে গিয়েছে।
বিগত সরকার আমলে খুলনা সোনালী ব্যাংকের জোনের জেনারেল ম্যানেজার দায়িত্বে থাকা মো: মোশারেফ হোসেন আক্ষেপ করে বলেছিলেন, পাট খাতে যারা ঋণ নিয়ে ব্যাংকে আর আসে না তারাই বারবার নানা সুবিধা পেয়ে যাচ্ছে। আর যারা নিয়ম মানছে তাদের কোনো সুবিধাই দেওয়া যাচ্ছে না। ফলে ব্যাংকিং খাত ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। ব্যাংকের অর্থ লোপাটের অন্যতম হোতা ভিজে সিরাজ নামে এক নতুন রফতানিকারক।
তিনি আরও বলেন খুলনায় অঞ্চলে পাট রফতানি খাতে তাদের ব্যাংকের ১১২ জন গ্রাহকের কাছে মোট বিনিয়োগ এক হাজার চারশত ৯৮ কোটি টাকা। তার মধ্যে ব্যাংকের বিধি-বিধান মতে ১০৮ জনই ঋণখেলাপি হয়েছে। তাদের কাছে পাওনা এক হাজার দুইশত কোটি টাকা, যা বিনিয়োগের ৮০ দশমিক ০৮ শতাংশ ঋনখেলাপি।
পাট খাতে ঋনের সব থেকে ভয়াবহ চিত্র প্লেজ ঋণের ক্ষেত্রে। মোট দেড় হাজার কোটি টাকা ঋণের মধ্যে প্লেজ ঋণই হাজার কোটি টাকা নাই। এই ঋণের সিংহভাগই লাপাত্তা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্লেজ ঋণটা দেওয়া হয় গুদামে পাট রয়েছে তার বিপরীতে। কিন্তু পাট রফতানিকারকরা শুধু কাগজ পত্রে গুদামে পাট দেখিয়েছে, কিন্তু বাস্তবে খাতা পত্র অনুযায়ী পাট নেই। বিগত সরকার আমলের শেষ দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের যৌথ তদন্তে এসব চিত্র উঠে এসেছিল । প্লেজ ঋণের ভয়াবহ বিপর্য়য়ের ফলে গত ২০১৯-২০১৯ অর্থ বছর থেকে পাট খাতে প্লেজ ঋণ দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতি করার দায়ে ঋণখেলাপি অভিযোগ করে ১০৮ জন গ্রাহকে ব্যাংক হতে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়েছে। মামলা করার প্রস্তুতি হিসাবে লিগ্যাল নোটিশও দেওয়া হয়েছে। যার মেয়াদ শেষ হয়েছে।

পাট ব্যবসায়ীদের একটি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ জুট এসোসেয়েশনের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ সৈয়দ আলী বিগত সরকার আমলে অর্থমন্ত্রী বরাবরে একটি চিঠি পাঠান। ওই চিঠিতে তারা কাঁচা পাট রফতানিকারকদের সকল বকেয়া এবং দেনা একটি সুদবিহীন ব্লক হিসাবে স্থানান্তর পূর্বক ১০ শতাংশ সহায়ক জামানতের ভিত্তিতে ২৫ বছরে পরিশোধের সুযোগ দাবি করেন। এই আবেদনের তৎকালিন সাবেক স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ানসহ বিজেএ’র নেতৃবৃন্দ অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাত করে তাদের দাবির স্বপক্ষে নানা যুক্তি প্রদর্শন করেন।
খুলনা জেনারেল ম্যানেজার অফিস সূত্রে জানা গেছে, সোনালী ব্যাংকের খুলনা কর্পোরেট শাখার পাট খাতে ৫২জন ব্যবসায়ীর কাছে দেওয়া ঋণ মোট ৩৮৩কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিধি-বিধান মতে ঋণখেলাপি হয়েছে সবাই এবং খেলাপি ঋণ ৩৮২কোটি টাকা। শ্রেণিকৃত ঋণের হার ৯৯.৪৮ শতাংশ। দৌলতপুর কর্পোরেট শাখায় ১৯জন গ্রহকের কাছে ঋণ ৬৬৯ কোটি ৫ লাখ টাকা । এর মধ্যে ১৬ জন ঋণখেলাপির কাছে পাওনা ৪৩৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। দৌলতপুর কলেজ রোড় শাখার ২০ জন গ্রহকের কাছে মোট পাওনা ৩২২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এরা মধ্যে ১৯ জন গ্রাহকের কাছে পাওনা ৩১৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। শতকারা হিসাবে ঋণ খেলাপি ৯৮.৮৮ শতাংশ। একই চিত্র খুলনা খালিশপুর এবং স্যার ইকবাল রোড়ে সোনালী ব্যাংক শাখায় শাখায়।
সোনালী ব্যাংক দৌলতপুর কলেজ রোড় শাখার দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, সিরাজুল ইসলাম বেশিরভাগ সময় সোনালী ব্যাংক প্রধান কার্ষালয়ে ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের কক্ষে অবস্থান করে প্রভাব বিস্তার করে এভাবে ব্যাংক লোপাট করে দিয়েছে । তিনি এখনও প্রতিনিয়ত ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের দিয়ে মুঠোফোনে আদেশ দিয়ে নানা সুযোগ সুবিধা নিচ্ছেন। ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিষয়টি ওপেন সিক্রেট যে এই সিরাজুল ইসলাম ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের মনোরঞ্জন করে বিধিবর্হিভূত ভাবে দশ বছরে এই ৯০ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছেন। তার নিজ নামে ও ছেলের নামে মোট তিনটি হিসাবে রয়েছে, যা জাল জালিয়াতি ও প্রতরানার মাধ্যমে একবার উত্তোলন করে আর জমা দেওয়া হননি।
দায়িত্বশীল সূত্রে জানা যায় , সিরাজুল ইসলাম, তার পুত্র সুমনসহ তাদের তিনটি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় একশত কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। আদায়ের জন্য মামলা করার পূর্ব পদক্ষেপ হিসাবে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে । তিনি স্বীকার করেন সিরাজুল ইসলাম কারণে অকারণে ব্যাংকের ডিএমডি ,জিএম পরিচালকদের দিয়ে মুঠোফোনে নির্দেশ দিয়ে নানা সুযোগ সুবিধা আদায় করেছেন। সম্প্রতি ব্যাংকের ঊর্ধতন মহল সিরাজুল ইসলামকে সুবিধা দিতে আবারও ফোন করেন। তিনি ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিয়েছেন লিখিত আদেশ না দিলে তিনি কোন কিছু করতে পারবেন না।
এ ব্যাপারে সোনালী ব্যাংক খুলনা জোনের জেনারেল ম্যানেজার , পাট খাতে বিনিয়োগকৃত প্রায় সবই ঋণখেলাপি হয়েছে। বিবগ সরকার তাদের আবারও সুযোগ দেওয়াই তারা পাট খাতের ব্যবসায়ীদের দুই বছরের মধ্যে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নিতে পানেরনি । তিনি আরও বলেন, প্লেজ ঋণ বিপর্যায়ের কারণে নতুন করে কোন ঋণ দেওয়া হচ্ছে না।
উল্লেখ্য জাল জালিয়তি করে ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় ইতোমধ্যেই দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করে সোনালী ব্যাংকের জিএম নেপাল চন্দ্র, একাধিক ডিজিএম, ঊর্ধতন কর্মকর্তা, প্রভাবশালী ব্যবসায়ীসহ ৭ জনের নামে মামলা দায়ের করেছে।

 

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট