
ফুলতলা (খুলনা) প্রতিনিধি : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল খুলনা-৫ আসনের ১০ দলীয় নির্বাচনী জোট মনোনীত দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিগত বিভিন্ন সরকারের ৫৪ বছরে ঘটে যাওয়া অর্থনৈতিক লুটপাট ও পাচার, রাজনৈতিক দমন পীড়ন, গুম খুন হত্যা সন্ত্রাস ও দুর্নীতির অধ্যায় শেষ করে জনগন এখন ১০ দলীয় জোটের নেতৃত্বে একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মান করতে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। ফলে দুর্নীতি ও দুঃশাসন থেকে মুক্ত হয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য দাড়িপাল্লায় ভোট দিন। আগামী নির্বাচনে কালো টাকার মালিক চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করে দল মত নির্বিশেষে সকলকে দাড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে মানবিক একটি সমৃদ্ধশীল কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠন করতে হবে।
শুক্রবার বিকালে ফুলতলা স্বাধীনতা চত্বরে ১০ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী মিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও বলেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রধান জামায়াতে ইসলামীকে কুফর ও শিরকের সাথে তুলনা করেছেন। কোন একজন মুসলিম যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে বিশ্বাস করে, পরকালকে বিশ্বাস করে, তকদ্বীরকে বিশ্বাস করে কোন মুসলমান অপর কোন মুসলমানকে কুফর বা কাফের বলতে পারেনা। আল্লাহ রসুল হাদিসে বলেছেন, কোন মুসলিম যদি অপর কোন মুসলিমকে কাফের বলে তাহলে ওই অপরাধ তার উপর প্রযোজ্য হবে। ফলে ইসলাম সম্পর্কে সম্মুখ জ্ঞান না থাকা স্বত্ত্বেও এ ধরনের মন্তব্য মুসলিম অধ্যুষিত দেশের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। দেশের মানুষ এ কথায় বিস্মিত হয়েছে।
৭১’র মুক্তিযুদ্ধের সাথে জামায়াতকে জড়িয়ে ওই দলের নেতা যে কথা বলতে চেয়েছেন তার জবাবে মিয়া গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, স্বাধীনতার পূর্বে অখন্ড পাকিস্থানের পক্ষে রাজনৈতিক কারণে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যারা সোচ্চার ছিলেন জামায়াতে ইসলামী, মুসলিমলীগ, নেজামে ইসলামী, বামপন্থী বিভিন্ন দলসহ তারা ওই সময় যে আশংকা প্রকাশ করেছিলেন পরবর্তীকালে ভারতীয় আধিপত্যবাদের জুলুম নির্যাতন, রাজনীতিতে তাদের হস্তক্ষেপ সেই আশংকায় মানুষ আজ প্রমান পেয়েছে। ফলে সেগুলোর পর্যালোচনা হতে পারে। কিন্তু তাই বলে শুধু জামায়াতে ইসলামীকে নানা ফৌজদারী অপরাধে অপরাধী করা হয়েছে সেটা সঠিক ও সত্য নয়। জামায়াতে ইসলামী কোন হত্যা, গণহত্যা, ফৌজদারী অপরাধের সাথে ছিলনা। স্বাধীনতার পরে ওই অপরাধগুলো থাকলে তাদের নামে মামলা হতো, কিন্তু তা হয়নি। পরবর্তীকালে শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান দুনিয়া থেকে চলে যাওয়ার পর তাদের রাজনৈতিক ভাবশিষ্যরা তাদের দলীয় স্বার্থে ৭১ কে জড়িয়ে বিভিন্ন ন্যারেটিভ তৈরী করে রাজনৈতিতে যুক্তি নৈতিকতা ও আদর্শ হারিয়ে ভোঁতা অস্ত্রকে হাতিয়ার বানিয়ে ব্যবহার করতে চাইছে। জনগন এটা গ্রহণ করেনা। তিনি বলেন, ১৯৭৯ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত নেতা মাওঃ আঃ রহিম, মুসলিমলীগ নেতা খাঁন এ সবুরসহ বামপন্থী অনেক নেতাদের জিয়াউর রহমান পিপিআর তুলে নিয়ে তাদেরকে নির্বাচনের সুযোগ দিয়ে একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তার মা বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বেশি সংখ্যক আসন পেলেও সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হয়ে তৎকালিন জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম আজমের শরনাপন্ন হন। তখন ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে ইসলামের আকাংঙ্খাকে ধারণ করে জামায়াত নিঃশর্তভাবে তাদেরকে সরকার গঠনে সমর্থন জানিয়েছিল। ফলে ওই নেতা স্বাধীনতার পক্ষে বিপক্ষে যে প্রশ্ন তোলেন তার উত্তর তার পিতা ও মায়ের ঐক্যের রাজনীতির যে নমুনা তারা উপস্থাপন করেছিলেন তার মধ্যে খোঁজার আহবান জানান।
তিনি আরও বলেন, ১০টি দলের মধ্যে ৫টি দল রয়েছে ইসলামী দল, যাদের মধ্যে বাংলার জমিনে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আকাংঙ্খা থাকবে। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী চেয়ারম্যান কর্ণেল অলি আহমেদ বীর বিক্রমের নেতৃত্বে এলডিপি এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্বদানকারী দল এনসিপি রয়েছে। ফলে জনগনের মাঝে মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই অভ্যুত্থানের আকাংঙ্খার মাধ্যমে এদেশকে ইসলামাইজড করার কাজ এ জোটের মাধ্যমে আরও সহজ হবে।
ফুলতলা উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আঃ আলিম মোল্যার সভাপতিত্বে এবং মাওঃ সাইফুল হাসান খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী মুন্সী মিজানুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারী মিয়া গোলাম কুদ্দুস, প্রিন্সিপাল গাওসুল আজম হাদি, মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী আজিজুল ইসলাম ফারাজী, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য শেখ সিরাজুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা আল মুজাহিদ, এ্যাড. আবু ইউসুফ মোল্যা, মোঃ আশরাফুল আলম, শিবির জেলা সভাপতি আবু ইউসুফ ফকির, খানজাহানআলী থানা জামায়াতের আমির ডাঃ সৈয়দ হাসান মাহমুদ টিটো, খেলাফত মজলিস সভাপতি মোঃ জালাল উদ্দিন সরর্দার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সভাপতি মুফতি মাসুম বিল্লাহ রহমানি, মাওঃ গোলাম রাব্বী মোল্যা, শিক্ষক নেতা অধ্যক্ষ গাজী মারুফুল কবির, মাওঃ ওবায়দুল্লাহ শেখ, শেখ আলাউদ্দিন, গোলাম কিবরিয়া মিন্টু, শীতল কুমার মন্ডল প্রমুখ। পরে প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে এক নির্বাচনী র্যালী বের হয়।