1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৫১ অপরাহ্ন

সাতক্ষীরা ‌সরিষা ফুলে হলুদময় মাঠ, মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌ-চাষিরা

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৯৩ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি‌ : মাঠজুড়ে হলুদের সমারোহ আর মধু আহরণের মৌমাছির বাক্স চোখে পড়ছে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলায়। বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও সরিষা ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌ-চাষিরা।
শীতকালের সরিষার মৌসুমে ফসলি মাঠে এ দৃশ্য গোটা উপজেলাজুড়ে। ফসলি মাঠের একটি নির্দিষ্ট স্থানে শত শত মৌ-বাক্স সারি সারি সাজিয়ে রেখে মৌমাছির আবাস গড়ে তোলা হয়। তাতে বিশেষ পদ্ধতিতে মৌচাক তৈরি হয় ও পরবর্তীতে মধু সংগ্রহ করা হয়ে থাকে।
মনিরুজ্জামান নামে একজন কৃষক জানান, এই সরিষা মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালীগঞ্জ উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে থেকে মৌ চাষীরা আমাদের কলারোয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের মাঠের সরিষা খেতে মধু সংগ্রহের জন্য বাক্স স্থাপন করেছেন।
মৌচাষি আজহারুল ইসলাম বলেন, সরিষা খেত থেকে আমরা বছরে চার মাস মধু সংগ্রহ করি। অন্য আট মাস কৃত্রিম পদ্ধতিতে চিনি খাইয়ে মৌমাছি পুষে রাখা হয়। গত বছর মে মাস থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত মৌমাছি পুষতে প্রায় সাত লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। ডিসেম্বর থেকে থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সরিষা থেকে মধু সংগ্রহের উপযুক্ত সময়। তখন সর্বত্র সরিষার ফুল ফোঁটে।
তিনি আরও বলেন, আকার ভেদে একটি বাক্সে ৩০-৪০ কেজি পর্যন্ত মধু পাওয়া যায়। এখানে মৌ চাষের বিশেষ বাক্স কলোনি রয়েছে ১০০টি। প্রতিটি কলোনিতে খরচ হয় ৭-৮ হাজার টাকা। আর প্রতি কেজি মধু খুচরা বিক্রি হয় ৪০০-৭০০ টাকা দরে। প্রতি কলোনিতে লাভ হয় ৬/৭ হাজার টাকার মতো।
এছাড়া, মধু চাষের ফলে সরিষার ফলন বৃদ্ধি পায় এবং পোকামাকড় আক্রমণ কম করে বলেও তিনি জানান।
জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করেন মৌ-চাষীরা। বিগত কয়েক বছর ধরে সরিষা ফুলের মধু খাঁটি ও সুস্বাদু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন স্থানসহ বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। এর মাধ্যমে চাষিরা একদিকে আর্থিকভাবে যেমন লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে দূর হচ্ছে বেকারত্ব। পাশাপাশি সরিষা ফুলে মৌমাছির দ্বারা পরাগায়নের ফলে সরিষার বাম্পার ফলনও হচ্ছে।সরিষা ফুলের হলুদ বরণে সেজেছে সাতক্ষীরার দিগন্তজোড়া মাঠ। চলতি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহে বসানো হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মৌ-বক্স। এসব বক্স থেকে ৭৫ টন মধু উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।
কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, ২০২৩ সালে জেলায় ১৯ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছিল। ২০২৪ সালে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে জেলায় সরিষা চাষ হয়েছিল ১৭ হাজার ৫৩১ হেক্টরে। চলতি সালে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে ১৯ হাজার ৫০ হেক্টর। সাতক্ষীরা সদর, তালা, কলারোয়া ও দেবহাটা উপজেলায় সরিষার আবাদ বেশি হয়েছে। কৃষি বিভাগ বলছে, আগের চেয়ে আবাদ বেড়েছে বিধায় মধু ও মোমের উৎপাদনও বাড়বে।
সাতক্ষীরা জেলা মৌচাষি ও মধু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, সাতক্ষীরার সরিষাক্ষেত আমাদের মৌচাষিদের জন্য আশীর্বাদ। সরিষা ফুলের প্রাচুর্যের কারণে এবার মধুর মান ও পরিমাণÑ দুটোই ভালো হবে বলে আমরা আশা করছি। কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের সহযোগিতায় ভেজালমুক্ত খাঁটি মধু উৎপাদনে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। এতে একদিকে কৃষক ও মৌচাষিরা লাভবান হচ্ছেন, অন্যদিকে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হচ্ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রশিক্ষণ বাড়ানো গেলে এই অঞ্চলের মধু দেশের চাহিদা মিটিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও স্থান করে নিতে পারবে। মৌ চাষ এখন শুধু একটি পেশা নয়, এটি গ্রামীণ অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় খাত।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সরিষার ফুল থেকে মধু ও মোম সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা। প্রতিটি মৌ-বক্স থেকে মৌসুমে পাঁচ থেকে সাতবার মধু সংগ্রহ করা যায়। বর্তমানে প্রতি মণ সরিষা ফুলের মধু বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকায়। মধু ব্যবসায়ীদের মতে, সরকারি সহায়তা পেলে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব।
এদিকে ভেজাল মধু শনাক্তে ভ্রাম্যমাণ ল্যাবের মাধ্যমে পরীক্ষা চালাচ্ছে জেলা নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর।
সাতক্ষীরা জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা দীপংকর দত্ত বলেন, ভেজাল শনাক্তে নিয়মিত অভিযান চলছে। কেউ ভেজাল পণ্য বিক্রি করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সরিষাক্ষেতের পাশে মৌ-বক্স স্থাপনের ফলে পরাগায়ন বাড়ে এবং এতে সরিষার ফলন ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। সুন্দরবন সংলগ্ন সাতক্ষীরা জেলার মাটি ও আবহাওয়া সরিষা চাষের অনুকূল। এখানে লবণসহিষ্ণু সরিষার পাশাপাশি অন্য জাতের সরিষারও চাষ হয়।
সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম এই প্রতিবেদক কে আরো জানান, মৌমাছি পালনের মাধ্যমে অনেক বেকার যুবক কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। বর্তমানে ২৮ জন কৃষক প্রায় ১০ হাজার মৌ-বক্স স্থাপন করেছেন। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী এবার ৭৫ টন মধু উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভ্রাম্যমাণ মৌচাষিরা সরিষা ছাড়াও বরই, লিচু ফুল ও সুন্দরবনের আশপাশে মৌ-বক্স বসিয়ে সারা বছর মধু সংগ্রহ করেন। এ খাতে জেলায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে দাবি কৃষি বিভাগের।
উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার মো. জিয়াউল হক জানান, মৌচাষে উদ্বুদ্ধ করতে বিগত বছরের মতো এবারো তেল জাতীয় ফসলের খেতে মৌচাষ প্রকল্পের মাধ্যমে ৭ জন কৃষককে কয়েক শতাধিক মৌ বক্স এবং মধু সংগ্রহ যন্ত্র বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা মধু চাষিদের সরিষার জমি থেকে মধু সংগ্রহে উৎসাহিত করে থাকি। এতে সরিষার পরাগায়ন যেমন ভালো হয়, আবার তেলের উৎপাদনও বাড়ে। ফলে কৃষক ও মৌচাষি উভয়ই লাভবান হন।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট