
বিশেষ প্রতিনিধি: বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার ১নং সাতলা ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের আলামদি ভোটকেন্দ্রকে ঘিরে আবারও শুরু হয়েছে অপপ্রচার ও নানা ধরনের গুঞ্জন। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে ভোটকেন্দ্রটি বর্তমান স্থান থেকে অপসারণের চেষ্টা চালাচ্ছে। এ নিয়ে ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ভোটকেন্দ্রটি ভরতসেন বটতলায় অবস্থিত ছিল। তবে বিগত কয়েকটি নির্বাচনে কেন্দ্রটি ঘিরে মারামারি, সহিংসতা এমনকি গোলাগুলির মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। এছাড়া পুরোনো স্কুল ভবন, গণশৌচাগারের অপ্রতুলতা, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকা এবং ভোটারদের চলাচলে অসুবিধাসহ নানা সমস্যার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রটি ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত শহীদ ইসমাইল একাডেমিতে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন কেন্দ্রটি যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামো ও নিরাপত্তার দিক থেকে অনেক বেশি উপযোগী। পাকা সড়ক, খোলা ও মনোরম পরিবেশ, জনবহুল এলাকা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অবস্থানের জন্য উপযুক্ত পরিসর থাকায় ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট প্রদান করতে পারেন।
এর প্রমাণ মিলেছে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। ওই নির্বাচনে শহীদ ইসমাইল একাডেমি কেন্দ্রে নারী-পুরুষসহ নতুন ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। ভোটারদের দাবি, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও নিরাপদ ব্যবস্থাপনার কারণে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পেরেছেন।
ভোটকেন্দ্র সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অবস্থান, নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্ব পালন এবং আশেপাশের বাসিন্দাদের সহযোগিতাও ছিল সন্তোষজনক—এমনটাই জানিয়েছেন একাধিক ভোটার। তাদের মতে, আধুনিক সময়ে একটি আদর্শ ভোটকেন্দ্রে যেসব মৌলিক সুবিধা থাকা প্রয়োজন, তার সবই বর্তমানে শহীদ ইসমাইল একাডেমিতে রয়েছে।
আলামদি, ভরতসেন, বিশ্বাস বাড়ি ও ধলুর বাড়িসহ আশপাশের এলাকাবাসীর একটাই দাবি—ভোটকেন্দ্রটি বর্তমান স্থানেই বহাল রাখতে হবে। তারা বলেন, “যেকোনো অপপ্রচার বা চক্রান্তের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াবো। ভোটকেন্দ্র এখানেই নিরাপদ, এখানেই থাকবে।”
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে তা সংযুক্ত করা হবে।
Like this:
Like Loading...
Related