
দৌলতপুর প্রতিনিধি : আজ ২৭ শে রমজান। ঈদের আর ০৩ দিন বাকি। ঈদ কে কেন্দ্র করে ১৫ রমজানের পর থেকে দৌলতপুরে দর্জি পাড়ায় বেড়েছে দর্জিদের কর্ম ব্যস্ততা। দৌলতপুরের বিভিন্ন দর্জির দোকানে গিয়ে দেখা যায়, কেউ গজ-ফিতায় নিখুঁত মাপে কাপড় কাটছেন। কেউ বা কেটে টুকরা করে রাখা কাপড় মেশিনে সেলাই করে রূপ দিচ্ছেন পোশাকে। সকাল থেকে গভীর রাত অবধী চলে সেলাই মেশিনের চাকা। দর্জিরা তার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেছে। প্রায় প্রতিটি টেইলার্সে ৪/৫ জন শ্রমিক দিন রাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকে রেডিমেট পোশাকের বাইরে ও টেইলার্স থেকে পছন্দের নানান ডিজাইনের পোশাক বানাতে ভীড় করছে দর্জিপাড়ায়। দর্জির দোকানগুলোতে আপন মনে চলছে সুই, সুতা আর কাঁচির কাজ। ক্রেতাদের পছন্দের পোশাক তৈরি করতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঘুরছে সেলাই মেশিন। মনের মতো ডিজাইনের পোশাক তৈরি করতে দর্জিদের কাছে ভীড় করছেন সকল বয়সের নারী পুরুষ তবে পুরুষের চেয়ে নারীর উপস্থিত বেশি লক্ষ্য করা যায়। সকলের কাছে রেডিমেট পোশাকের চাহিদা বাড়লেও নিজেদের পছন্দের ডিজাইনের মাপমতো রুচিশীল পোশাক বানাতে দর্জির কাছে ছুটছে অনেকে। সেলোয়ার কামিজের পাশাপাশি পছন্দের পোশাক তৈরিতে নারীরা এগিয়ে থাকলেও পুরুষেরাও বানাচ্ছেন পাঞ্জাবি, প্যান্ট ও শার্ট। ইতিমধ্যে কাজের চাপে টেইলার্সের দোকানগুলো নতুন করে কাজের অর্ডার নিচ্ছেনা। রাজিয়া বেগম পপি নামের এক চাকুরীজীবি নারী বলেন- রেডিমেট পোশাক কিনলে অনেক সময় দেখা যায় ফিটিং হয় না। কিংবা পছন্দের ডিজাইন হলে কালার হয় না। তার চেয়ে দর্জির কাছে কাপড় নিয়ে গেলে পছন্দমতো পোশাক তৈরি করে নিতে পারি সেজন্য দর্জির দোকানে আসছি। ইতি নামের একজন গৃহবধু বলেন- আমার হাজবেন্ড একজন ব্যবসায়ী, ব্যবসা নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকে তাই আমি আমার ছেলে মেয়ের জন্য নিজেই সব সময় কেনাকাটা করি। রমজানের শেষ দিকে টেইলার্সে কাজের চাপ থাকে বেশি। তাই শুরুর দিকেই ছেলে-মেয়ের জন্য পছন্দের ও নতুন নতুন ডিজাইনের পোশাক বানাতে দিয়ে এখন নিয়ে যাচ্ছি। আমার ছেলে তাহিনের জন্য শার্ট-প্যান্ট বানিয়েছি মেয়ে তাহিয়ার জন্য ফোড়াগ, ও আবগান ড্রেস বানিয়েছি। বিএল কলেজ রোড় এলাকার টপটেন টেইলার্সের মালিক মনির হোসেন মনি বলেন, রোজার এ ঈদে সবচেয়ে বেশি কাজ হয়। রমজানের শুরু থেকেই কাজের চাপ কিছুটা বেড়েছে। নির্ধারিত সময়ে মধ্যে পোশাক ডেলিভারি দেওয়ার জন্য সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছি। তাছাড়া দোকানের নিজস্ব কারিগর বাদে ও অতিরিক্ত কারিগর দিয়ে কাজ করাচ্ছি। ডিফরেন্ট টেইলার্সের মালিকর রবি বলেন, সারাবছরের চেয়ে ঈদের সময় বিশেষ করে রোজার ঈদে কাজের চাপ বেশি থাকে। এ সময়ে আমরা একটু বাড়তি ইনকাম করি। এ সময়টা একটু চাপের মধ্যে দিয়ে যায়। কাজের চাপের কারণে খাওয়া ও ঘুমের সময় পাচ্ছি না। ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত কাজ করি এবং জামা কাপড় ডেলিভারি দেই। মহামায়া টেইলার্সের মালিক বিমল সাহা বলেন- আমাদের বড় শারদিয় দুর্গা উৎসবের চেয়ে আমরা রোজার ঈদে দর্জি কাজের অর্ডার বেশি পেয়ে থাকি এই সময় আমাদের ইনকাম বেশি হয়। তাই আমরা এই সময়ের অপেক্ষায় থাকি কখন ঈদ আসবে। দর্জির কাজ শুধু পুরুষ নয়, নারীদের জন্যও আত্মকর্মসংস্থানের একটি চমৎকার সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সারা বছরের তুলনায় ঈদের মৌসুমে কাজ কয়েক গুণ বেশি থাকে। বর্তমানে কম বেশি সবার দোকানেই ভালো কাজ চলছে। অনেক দোকানে নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক দর্জি অভিযোগ করেন আগের মত এই পেশায় মানুষ থাকতে চায় না। কারণ সব কিছুর দাম বাড়লেও তাদের মজুরি বাড়েনি। আর মানুষ বানানো পোশাকের চেয়ে রেডিমেড জামা কাপড় এখন বেশি কেনেন। ঈদের সময় শার্ট-প্যান্টের চেয়ে ছেলেদের বেশি আগ্রহ বেশি থাকে পাঞ্জাবিতে। তবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির আঁচ লেগেছে দর্জিবাড়িতেও। যেখানে উত্তাপ ছড়াচ্ছে মজুরি। কোন কোন টেইলার্সে প্রতি পিস প্যান্ট সেলাইয়ের মজুরি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, সালোয়ার কামিজ ২৫০ থেকে ১২০০ টাকা ব্লাউজ ১৫০, ব্লাউজ (ডবল) ৩০০, পেটিকোট ১০০ ম্যাক্সি ১৫০ থেকে ২৫০, গাউন ৫০০ থেকে ৭০০, বোরকা ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।