
যশোর প্রতিনিধি : যশোর শহরে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা পরিচালনাকারী এক দোকান মালিককে বেআইনিভাবে উচ্ছেদের চেষ্টা, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কুদ্দুস (৫২)।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান,১৯৯৫ সালের ১ মার্চ এ.এম.এফ রহমান (খোকা)-এর কাছ থেকে যশোর শহরের ৪ নম্বর আরএন রোড চৌরাস্তায় অবস্থিত একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচতলার দুটি দোকানঘর ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকায় ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে ভবনটি এ.কে.এম খয়রাত হোসেনের কাছে বিক্রি হলে তাকে নতুন করে চুক্তিতে বাধ্য করা হয় এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, নতুন মালিক রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাকে দোকান ছাড়তে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছেন। এমনকি পূর্বের চুক্তিপত্র ফেরত চাওয়া, ভাড়া গ্রহণে গড়িমসি, রশিদ না দেওয়া এবং ডিফল্টার বানানোর অপচেষ্টাও চালানো হয়। পরে আইনজীবীর পরামর্শে তিনি ডাকযোগে ভাড়া পরিশোধ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, দোকানের ভেতর দিয়ে টয়লেটের পাইপ স্থাপন, নোংরা পানি প্রবাহিত করে পরিবেশ নষ্ট করা, দোকানে ভাঙচুর এবং পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার মতো ঘটনাও ঘটেছে। তার ছোট ভাইকে মারধরের অভিযোগও তোলা হয়।
মোঃ কুদ্দুস বলেন, “আমাকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করতে দোকানে উগ্রবাদী বই রেখে জঙ্গি বানানোর অপচেষ্টা এবং ‘রাজাকার’ আখ্যা দিয়ে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, গত ১৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বিদ্যুৎ বিভাগের কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে তার দোকানের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। সকল বিল পরিশোধ করা সত্ত্বেও এখনো সংযোগ পুনঃস্থাপন করা হয়নি। অথচ চুক্তি অনুযায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া ও বিল পরিশোধের দায়িত্ব তার নিজের।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, বৈধ চুক্তি থাকা সত্ত্বেও তাকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র চলছে। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় ব্যবসা বন্ধের উপক্রম, ফলে তিনি চরম আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। তিনি জানান, এই ব্যবসার আয়েই তার ১৬-১৭ জনের সংসার চলে।
এ অবস্থায় তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং অবৈধ উচ্ছেদ প্রচেষ্টা বন্ধের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট চুক্তিনামা ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের কাগজপত্র উপস্থাপন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী কুদ্দুসের পরিবারের সদস্য জিয়াউল হক, শিরিনা বেগম, রবিউল ইসলাম, মুক্তি বেগম ও রিফাত হোসেনসহ আরো অনেকে।