
ডেস্ক রিপোর্ট : দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বেসরকারি সংস্থা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের পরিচালিত মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি স্থগিত করেছে সরকার। গত বুধবার (১১ মার্চ) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এক জরুরি অফিস আদেশের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
মাউশি কর্তৃক ইস্যু করা স্মারকে জানানো হয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগ ‘মানসিক স্বাস্থ্য ও জীবনধারা উন্নয়ন’ সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। তবে কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি।
এর আগে গত ৫ মার্চ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে মাউশি দেশের সব মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের তৈরি ‘সায়েন্টিফিক লাইফস্টাইল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড মেন্টাল হেলথ সার্ভিস প্রোগ্রাম’ ম্যানুয়াল অনুযায়ী প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালুর নির্দেশ দিয়েছিল।
সেই নির্দেশনা অনুযায়ী পরিকল্পনা ছিল:
প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য একদিনের বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ সেশন আয়োজন করা।
শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন জীবনাচরণ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় এই ম্যানুয়াল অনুসরণ করা।
প্রয়োজনে অভিভাবকদেরও এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে একটি মনিটরিং পুল গঠন করা, যারা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত এই অনুশীলন তদারকি করবে।
সরকারি নির্দেশনায়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মধ্যে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ভিত্তিতে এই কর্মসূচিটি দেশব্যাপী বাস্তবায়নের কথা ছিল। প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল যেন তারা কোয়ান্টামের নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষকদের সঙ্গে সমন্বয় করে এই সেশনগুলো আয়োজন করেন।
মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে এই ধরনের একটি দেশব্যাপী কর্মসূচি চালুর নির্দেশ দিয়ে পুনরায় তা স্থগিত করায় শিক্ষা মহলে নানা গুঞ্জন ও কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে কোয়ান্টামের জীবনধারা বা ‘লাইফস্টাইল’ ম্যানুয়াল নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। মাউশির এই নতুন আদেশের পর মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তাঁরা অতি দ্রুত সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর করেন।
বর্তমানে এই কর্মসূচিটি পুরোপুরি বন্ধ থাকবে নাকি পরবর্তীতে কোনো সংশোধনীর মাধ্যমে পুনরায় চালু হবে—তা নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা মাউশির পক্ষ থেকে আর কোনো স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।