
ফকিরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটের ফকিরহাটে চিংড়ী পেনা সংকট, চিংড়ী খাত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, চিংড়ী শিল্প রক্ষায় সরকারের দৃষ্টি কামনা করে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন প্রান্তিক চাষীরা| দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি চিংড়ি শিল্প আজ চরম সংকটে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন চিংড়ি চাষীরা| নদী থেকে চিংড়ির পোনা আহরণ, পরিবহন, ক্রয় ও বিক্রয়ের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে এই শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়েছে বলে দাবি করে অবিল¤ে^ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান চাষীরা| সোমবার (২৫ মে) বেলা ১১টায় ফকিরহাট নেু মার্কেটে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে প্রান্তিক চাষীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি শেখ কামরুল ইসলাম গোরাা| লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাগেরহাটের ফকিরহাট, মোল্লাহাট, চিতলমারী, রামপাল, মোংলা, খুলনার তেরখাদা, রূপসা, দিঘলিয়া এবং সাতক্ষীরাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের লাখো মানুষ চিংড়ি চাষের ওপর নির্ভরশীল| প্রায় দুই দশক আগে ফকিরহাটের ফলতিতা চিংড়ি মার্কেট “বাংলার কুয়েত” হিসেবে পরিচিতি লাভ করে| একসময় ‘সাদা সোনা’ খ্যাত এই চিংড়ি খাত থেকে বিপুল ˆবদেশিক মুদ্রা অর্জিত হলেও বর্তমানে শিল্পটি টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়েছে| দেশে বিদ্যমান হ্যাচারিগুলো মোট চাহিদার মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ পোনা সরবরাহ করতে সক্ষম| তাও মানসম্মত নয়| ফলে অধিকাংশ চাষীকেই নদীর প্রাকৃতিক পোনার ওপর নির্ভর করতে হয়| কিন্তু পোনা আহরণের পর থেকেই জেলেদের পথে পথে হয়রানি, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে| নদীর জীববৈচিত্র্য রক্ষার নামে বাস্তবতা বিবেচনা না করেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে| তাদের দাবি, পোনা সংগ্রহকারীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চিংড়ির পোনা আলাদা করে অন্যান্য মাছের পোনা নদীতে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করলে একই সঙ্গে জীববৈচিত্র্য ও চিংড়ি শিল্প দুই-ই রক্ষা করা সম্ভব| এসময় বক্তারা সরকারের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, চিংড়ি সেক্টরের ঘের থেকে শুরু করে রপ্তানিকারক পর্যন্ত ৭ থেকে ৮টি স্তরে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িত| শতভাগ রপ্তানিমুখী এই শিল্পকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে না দিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আরও সমৃদ্ধ করার আহ্বান জানান তারা|