1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:২২ পূর্বাহ্ন

সাতক্ষীরা ‌নদীতে জাল টেনে চলে নারীদের জীবন

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : বাংলাদেশের দক্ষিণের উপকূল অঞ্চল যেন এক অন্তহীন সংগ্রামের নাম। লবণাক্ত জল, ঘূর্ণিঝড়, বন্যা আর দারিদ্র্যের সাথে ওতপ্রোতভাবে মিশে থাকা এই অঞ্চল শুধুমাত্র প্রকৃতির সঙ্গে নয়, এই অঞ্চলের নারীরা তাদের শরীর ও স্বাস্থ্য নিয়েও এক অবিরাম যুদ্ধ করে চলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সাগরের পানি যখন ধীরে ধীরে বাসযোগ্য বা আবাদযোগ্য এলাকায় ঢুকে পড়ে, তখন সেই নোনাজল শুধু চাষাবাদই নয়, নারীর প্রজননস্বাস্থ্যকেও নীরবে বিপর্যস্ত করে তোলে।
উপকূলের বহু গ্রামে পরিষ্কার খাবার পানির অভাব আজও নিত্যদিনের সমস্যা। পানীয় ও দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত জলে লবণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় নারীরা নানা স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগছেন—প্রজনন সংক্রমণ, ত্বকের সমস্যা, এমনকি উচ্চ রক্তচাপ পর্যন্ত দেখা দিচ্ছে। মাসিকের সময় নিরাপদ ও গোপনীয় পরিবেশের অভাবে মেয়েরা ও নারীরা অস্বাস্থ্যকর উপকরণ ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে, সেই সাথে যন্ত্রণাদায়ক মানসিক অস্বস্তি তো রয়েছেই।
সমস্যার আরেকটি ভিন্ন দিক হলো সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বাধা। এখনও অনেক পরিবারে মেয়েদের মাসিক নিয়ে কথা বলা লজ্জার বলে ধরা হয়। ফলাফল—তারা প্রয়োজনীয় সঠিক তথ্য, পণ্য বা চিকিৎসা কোনোটাই পায় না। অর্থনৈতিক কষ্টও তখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সামান্য স্যানিটারি প্যাড কেনার সামর্থ্যও অনেকের নেই। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বন্যাকবলিত এলাকা সমূহের অনেক আশ্রয়কেন্দ্রে নারীদের জন্য আলাদা স্যানিটেশন বা গোপনীয় জায়গার ব্যবস্থাও থাকে না।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) আইডব্লিউএফএম (ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার অ্যান্ড ফ্লাড ম্যানেজমেন্ট) ও সরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) তিনটি গবেষণা করেছে। প্রকাশিত গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, বাংলাদেশের উপকূলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হারে বাড়ছে। গবেষণাগুলোর ফলাফলে বলা হচ্ছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যে হারে বাড়ছে, তাতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত বা লবণাক্ত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে উপকূলের ৪টি জেলার ৮ থেকে ১৫ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হতে পারে। অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে পারে উপকূলীয় জেলাগুলোর লবণাক্ততাও। এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে উপকূলের প্রতিবেশ, মানুষের জীবনযাপন, কৃষি, ভূগর্ভস্থ পানি ও অবকাঠামোর ওপর। আইডব্লিউএফএমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের এ উচ্চতা বৃদ্ধি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে। এ কারণে উপকূলের প্রতিবেশব্যবস্থা, ভূগর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততা ও অবকাঠামোর ক্ষতি হতে পারে। এতে খাদ্যনিরাপত্তার সংকট ভবিষ্যতে বড় হয়ে দেখা দিতে পারে।
সরকার ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে—মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার, মোবাইল ক্লিনিক, ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি—কিন্তু তা এখনও প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত পরিসরে। বাস্তব পরিবর্তন আনতে হলে জলবায়ু অভিযোজন নীতির সঙ্গে প্রজননস্বাস্থ্য সেবাকে সংযুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি, স্থানীয় নারী নেত্রী ও বিভিন্ন ধর্মীয় নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের যুক্ত করে সচেতনতা বাড়ানো গেলে সামাজিক ট্যাবু ভাঙা সম্ভব।
উপকূলের নারীরা কেবল ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী নয়; তারা প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগে লড়াইয়েরই অগ্রণী সৈনিক। তাদের জীবন-যাপনের অব্যক্ত কথা, তিক্ত অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বকে স্বীকৃতি না দিলে এই সংকটের সমাধান আশা করা কঠিন। এখনই সময়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় ও লবণাক্ত এলাকার নারীদের প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি আমাদের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ার।
আমিরন বিবি বলেন, ‘২০০৯ সালে আইলার পর থেকে এখানেই বসবাস করছি। একটা মেয়ে, নাম ববিতা। তাকে নিয়েই আমার বসবাস। প্রাকৃতিক দুর্যোগে কয়েকবার ঘরটি ভেঙেছে। আবারও মেরামত করে নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘নদীতে জাল টেনে বাগদার পোনা ধরে বাজারে বিক্রি করি। রোজগারের সেই টাকা দিয়েই চলে সংসার। সারাদিন নদীতে জাল টেনে যে পোনা পাই, তা ২০০-৩০০ টাকা বিক্রি করতে পারি। কোনো দিন আবার তা-ও হয় না। একশ’ বাগদার পোনা বিক্রি হয় ৪০ টাকা।’
সরকারি সাহায্য পেয়েছেন কি-না? এমন প্রশ্নে কেঁদে ফেলেন আমিরন। তিনি বলেন, ‘নদীর তীরে এতগুলো বছর আছি, আজ পর্যন্ত কেউ এক টাকাও সাহায্য করেনি। ইউনিয়ন পরিষদের ১০ টাকা কেজি চালের কার্ডও পাইনি। সরকার ঘর দেয়, তা-ও জোটেনি। নদীর কূল-কিনারা আছে, আমার নাই।’
পদ্মপুকুর ইউনিয়নে নদের কূলে বসবাস করা ৫০টি পরিবারের মানুষের জীবন-জীবিকার গল্পও আমিরন বিবির মতোই। ইউনিয়নের পাতাখালি এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন দাউদ ঢালীর স্ত্রী মনজিলা খাতুন। চার ছেলেকে নিয়ে একটি এনজিওর দেওয়া ঘরে তাদের বসবাস।
মনজিলা খাতুন বলেন, ‘আমাদের কষ্ট দেখার মানুষ নাই। নদীতে জাল টেনে উপার্জন করি। বাগদার পোনা ধরে ঘের মালিকের কাছে বিক্রি করি। এটাই জীবিকার প্রধান উৎস। স্বামী বৃদ্ধ হয়ে অচল হয়ে পড়েছেন। নদী থেকে বাগদার পোনা ধরে ৩০০-৪০০ টাকা রোজগার হয়। তাতেই চলে সংসার।’
পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম আতাউর রহমান বলেন, ‘উপকূলীয় অঞ্চলে ৫০ পরিবারে শতাধিক মানুষ বাস করে। তারা নদীতে জাল টেনে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে। অসহায় নারীদের ভিজিডি, ভিজিএফ কার্ড ও চাল দেওয়া হয়। এছাড়া দুর্যোগের সময়ে সাহায্য দেওয়া হয়। এর বাইরে কোনো সহযোগিতা দেওয়া হয়নি।’
যাদের ঘর নেই, তাদের ঘর দেওয়ার ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সরকার না দিলে আমি কিভাবে দেবো? এখনো এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।’
শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের উপকূলে বাস করে ৪০ পরিবার। তাদের চিত্রও একই রকম। এখানকার নারীরা নদীতে জাল টেনে মাছ ধরে, পুরুষরা ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করে। দুর্যোগ উপেক্ষা করে নদীর তীরে ছোট্ট কুঁড়েঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করে।
গাবুরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জি এম মাসুদুল আলম বলেন, ‘কপোতাক্ষ ও খোলপেটুয়ার তীরে ৪০ পরিবার বসবাস করে। অসহায় মানুষগুলোর দুর্দশার শেষ নেই। তাদের ঘর দেওয়ার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা পরিষদে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো কোনো ঘর বরাদ্দ হয়নি।’দেশে দেশে জলবায়ুগত সমস্যার প্রভাব পড়েছে ভিন্নভাবে। জলবায়ুগত সমস্যা বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার নারীদের বহুমুখী বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারীর স্বাস্থের ওপর প্রভাব পড়েছে বেশি। সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাটের সুন্দরবনসংলগ্ন অঞ্চলের লাখ লাখ নারী নদীতে নেট জাল টেনে জীবন নির্বাহ করেন। লবণাক্ত পানিতে দীর্ঘক্ষণ থাকার ফলে তাদের শারীরিক ক্ষতি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে লবণাক্ত পানিতে নেট জাল টানার ফলে নারীর প্রজনন স্বাস্থের ক্ষতি হচ্ছে।
৮ মার্চ ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’পালিত হয়। ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দ থেকে প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। মূলত লিঙ্গবৈষম্য দূরীকরণ, নারীর প্রতি সম্মান ও সমান অধিকারের বার্তা ছড়িয়ে দিতে বিশ্বজুড়ে দিবসটির সূচনা। নারীর জীবন সংগ্রাম ও অধিকার আদায়ের গল্পগুলো একেক দেশে একেক রকম। মানবসৃষ্ট বৈষম্য ও সমস্যার বিরুদ্ধে নারীর সংগ্রাম ও অধিকার আদায়ের ইতিহাস সাম্প্রতিক কালের।
তবে প্রকৃতিসৃষ্ট দুর্যোগ নারীর জীবনকে তছনছ করে দিলেও সেটি খুব কম উচ্চারিত হয়। যদিও জলবায়ুসৃষ্ট দুর্যোগ মানুষের কর্মকাণ্ডেরই ফসল। পৃথিবীর দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোতে জলবায়ু সমস্যার প্রভাব পড়েছে সবচেয়ে বেশি। বর্তমান সময়ে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন।
দেশে দেশে জলবায়ুগত সমস্যার প্রভাব পড়েছে ভিন্নভাবে। জলবায়ুগত সমস্যা বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার নারীদের বহুমুখী বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নারীর স্বাস্থের ওপর প্রভাব পড়েছে বেশি। সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাটের সুন্দরবনসংলগ্ন অঞ্চলের লাখ লাখ নারী নদীতে নেট জাল টেনে জীবন নির্বাহ করেন। লবণাক্ত পানিতে দীর্ঘক্ষণ থাকার ফলে তাদের শারীরিক ক্ষতি হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে লবণাক্ত পানিতে নেট জাল টানার ফলে নারীর প্রজনন স্বাস্থের ক্ষতি হচ্ছে।
উপকূল জুড়ে লবণাক্ততার ভয়াবহ প্রভাবের কথা এখন লুকিয়ে রাখার মতো বিষয় নয়। জলবায়ু সমস্যায় ফসল কম হচ্ছে। লবণপানির চিংড়ি চাষ ও জোয়ারে লোনাপানির প্রবেশের ফলে উপকূল জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে লবণাক্ততার ভয়াবহ প্রভাব। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নারীদের ঘণ্টার পর ঘন্টা কষ্ট করে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অল্প বয়সে বুড়িয়ে যাচ্ছে নারীরা। লবণপানি পান করার কারণে নারীর গর্ভপাত, ত্বকের ক্ষতিসহ নানা জটিলতায় ভুগতে হচ্ছে।
উপকূলের সার্বিক ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে। খাদ্য সংগ্রহ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাল্যবিবাহ ও সামগ্রিক জীবনে নারীর কষ্টের কারণ জলবায়ু পরিবর্তন। জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি)- এর তথ্য মতে, পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে ২০৫০ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ১ ফুট বৃদ্ধি পাবে। ফলে বাংলাদেশসহ দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর উপকূলের বড় একটা অংশ পানিতে তলিয়ে যাবে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে অর্থাৎ তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেতে পারে ১০ থেকে ৩০ ইঞ্চি। জলবায়ু সমস্যা নারীর মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। জাতিসংঘ জনসংখ্যা কর্মসূচি (ইউএনএফপিএ) প্রতিবেদন বলছে, ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দের ঘূর্ণিঝড়ে উপকূলে ১ লাখ ৪০ হাজার নিহতের মধ্যে ৭৭ শতাংশ ছিলো নারী।
আর ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দের আইলায় আহত ও নিহত মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ নারীই ছিলো ৭৩ শতাংশ। সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)-এর উপকূলের পশুর নদী অববাহিকায় করা গবেষণা বলছে, পশুর নদী অববাহিকায় মানুষদের পানি ও অন্যান্য খাবার থেকে দৈনিক ১৬ গ্রাম অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করতে হচ্ছে, যা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত মাত্রা থেকে বেশি। জলবায়ুগত সমস্যায় উপকূলে কর্মসংস্থানের ব্যাপক অভাব দেখা দেয়ায় পুরুষ মানুষকে দূর দূরান্ত গিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। ফলে ঘরের সমস্যা সামলাতে হচ্ছে নারীকেই। উপকূলে পানির জন্য হাহাকার চলছে। জ্বালানি কাঠ ও পানি সংগ্রহ করতে নারীকে অনেক বেশি কষ্ট করতে হচ্ছে। বনের মধ্য দিয়ে মাইলের পর মাইল হেঁটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে। অনেক পরিবার পানি সংগ্রহ করতে না পেরে অর্থ খরচ করে পানি কিনে খাচ্ছেন। লবণাক্ত পানি গ্রহণের ফলে অপরিণত শিশুর জন্ম, উচ্চ রক্তচাপ, গর্ভকালীন খিঁচুনি, নারীদের জরায়ুসংক্রান্ত ত্রুটি, পানিবাহিত রোগ ও চর্মরোগের সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। কিশোরীদের বাল্যবিবাহ ও স্কুল থেকে ঝরে পড়ার হার ত্বরান্বিত করছে জলবায়ু পরিবর্তন।
স্কুল সাপ্লাই
জলবায়ু সমস্যার শিকার হয়ে নারীরা উদ্বাস্তু হয়ে শহরে ভিড় জমাচ্ছে। কিশোরীদের শিক্ষাজীবন এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। উপকূলে শিক্ষার সুযোগ ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নারী ও কন্যারা। জলবায়ুগত সমস্যা আগামী দিনগুলোতে আরও বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখনই উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে না পারলে উপকূলের নারী ও কিশোরীদের জীবন আরো বেশি মাত্রায় নাজুক অবস্থায় উপনীত হবে। উপকূলের নারীদের রক্ষায় বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় নারীদের যত বেশি সম্পৃক্ত করা যাবে অভিযোজনের মাধ্যমে নারীরা তত বেশি নিজেদের রক্ষায় সক্ষম হবে। উপকূলের নারীদের অধিকার ব্যতিরেকে সমগ্র নারীর উন্নয়ন সম্ভব নয়। নারীরা তাদের জলবায়ু ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য সোচ্চার হচ্ছে। দিনকে দিন তাদের দাবি জোরালো হচ্ছে। যারা জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য দায়ী নয়, তারা কেনো জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার হবে? উপকূলের নারীদের ক্ষয়ে যাওয়া জীবন দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। উপকূলের নারীদের পানির কষ্ট দূর করতে হবে। নারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায্যতা ও অধিকার নিশ্চিতপূর্বক উপকূলের নারীদের এখন অনেক বেশি দরকার মানবিক সহায়তা। নারীর ক্ষমতায়ন, অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব ব্যতীত দেশে নারীর অধিকার বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।
এ ব্যাপারে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ‌ ‌বলেন, ‘তাদের জীবনমান পরিবর্তনের জন্য কাজ করা হচ্ছে। তাদের আমরা ঘর দিতে পারি না। সরকারি ঘর পাওয়ার প্রথম শর্ত নিজস্ব জমি থাকতে হবে। তবে ভূমিহীন তালিকা প্রস্তুত করে বছরে ৪৮ ভূমিহীন পরিবারকে এক একর করে জমি দেওয়া হয়।’
তিনি বলেন, ‘শুধু ঘর দেওয়া ছাড়া সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা উপকূলীয় তারা পেয়ে থাকেন। বয়ননস্ক ভাতা, বিধবা ভাতা এসব বাসিন্দাদের দেওয়া হয়। কেউ বাদ পড়লে আমাকে জানালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।