1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন

উপকূলীয় এলাকায় অধিকাংশ মানুষের আয়ের উৎস রেনু সংগ্রহ

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ সীমান্তবর্তী উপকূলীয় এলাকার অধিকাংশ মানুষের জীবন জীবিকার নির্ভর ও বেঁচে থাকার একমাত্র পথসহ আয়ের উৎস রেনুপোনা আহরণ করা। মধ্যবিত্ত ও নি¤œবিত্ত রোজগার করা খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের সংসারের চাকা ঘোরে নদীতে রেনু পোনা সংগ্রহ করে।
গত সোমবার ১৯ জুন বিকেলে উপকূলীয় সীমান্তবর্তী ভেড়িবাঁধ এলাকা ঘুরে জানা গেছে সীমান্তবর্তী উপকূলীয় মানুষের জীবন জীবিকার তাগিদে তারা প্রতিদিন প্রতিনিয়ত নদীর তীরে নৌকা বৈঠা নেটজাল দড়ি সহ আনুষঙ্গিক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নদীর স্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে নদীতে নেট জল ফেলে বাগদা চিংড়ির রেনু, গলদা চিংড়ি রেনু, হরিনা চিংড়ির রেনু, ভেটকিও বাঙাল মাছের রেনু সংগ্রহ করে নিজেরা অথবা আড়াঁতদারের মাধ্যমে ঘের মালিকদের কাছে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার উকসা গ্রামের বাবর আলী মন্ডল, হরিদাস পাল, ইব্রাহিম হোসেন, সন্তোষ কুমারসহ আরো অনেকের সাথে কথা বললে তারা জানান, তাদের জীবিকার তাগিদে লড়াই সংগ্রাম করে প্রতিনিয়ত বেঁচে থাকতে হয়।
যেমন একদিকে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বিজিবি অন্যদিকে নদীর ওপার ভারতের বাঁকড়া সীমান্তরক্ষী বিএসএফদের সাথে জবাবদিহিতা করে চলতে হয়। কারণ দুই দেশের আইনের বাধ্যকতা থাকায় দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় নিয়োজিত সীমান্ত রক্ষী বাহিনীরা কেউ কারোর সীমানা অতিক্রম করতে দেন না। অন্যদিকে জলে কুমির, সাথে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঝড়-বৃষ্টি জলোচ্ছ¡াস তুফান তো আছেই।
এত কিছুর পরেও তারা বর্তমানে কিছুটা শান্তিতে আছে বলে জানিয়েছেন। কারণ এই সময়টায় তারা নদীতে চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি রেনু সংগ্রহ করতে পারছেন। রেনুপোনা সংগ্রহকারী জেলেরা এবং ক্রয়-বিক্রয়কারী মহাজন বসন্তপুর এলাকার গোবিন্দপদ মন্ডল, ইসমাইল শেখ, হাবু মোল্লা জানান, বর্তমান এক হাজার বাগদা চিংড়ির রেনু বিক্রয় হচ্ছে ১২/১৩ শত টাকা, গলদা চিংড়ি রেনু বিক্রয় হয় হাজার প্রতি ১৭/১৮ টাকা দরে এবং হরিনা চিংড়ির রেনু বিক্রয় হচ্ছে ৩/৪ শত টাকা সিকে ওজনে।
প্রতিদিন এক একটি নৌকায় মাথাপিছু ৯শত থেকে ১ হাজারের অধিক জনপ্রতি রেনুপোনা সংগ্রহ করতে পারেন বলে মাছ ধরা ব্যক্তিরা জানান। বর্তমান সময়টা আয় রোজগারে খুবই ভালো কাটছে বলে এমনটি জানিয়েছেন সীমান্তবর্তী উপক‚লীয় রেনু পোনা সংগ্রহকারী জেলেরা। এ ব্যাপারে মথুরেশপুর ইউনিয়নের মেম্বার আরিজুল ইসলাম ও সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার জাহানারা খাতুনের সাথে কথা বললে তারা জানান, সীমান্তবর্তী ভেড়িবাধ উপক‚লীয় এলাকার অধিকাংশ সাধারণ মানুষ বড় ধরনের প্রাকৃতিক জলোচ্ছ¡াস বা দুর্যোগ না হলেই তারা স্বাভাবিকভাবে রেনু সংগ্রহ করে প্রতিনিয়ত আয়
প্রাকৃতিক মৎস্য ভান্ডার খ্যাত সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয়ঞ্চলের নদ-নদী ক্রমেই প্রজনন ক্ষমতা হারাচ্ছে। অবাধে চিংড়ি পোনা আহরণে এ খাতে ব্যাপক ধ্বংসাত্মক প্রভাব পড়ছে। উপকূলরেখা ও নদীর মোহনায় লাখ লাখ নারী-পুরুষ ও শিশু নিñিদ্র টানা বা বেহুন্দী জাল দিয়ে চিংড়ির পোনা ধরছেন। এতে চিংড়ির সঙ্গে নানা জাতের মাছের পোনা ও সামুদ্রিক প্রাণীর লার্ভাও মারা পড়ছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য
সূত্রমতে, উপকূলীয়ঞ্চলের খুলনা-বাগেরহাট-সাতক্ষীরা এলাকার ঘের মালিকদের পৃষ্ঠপোষকতায় চিংড়ির রেণু কেনাবেচায় গড়ে উঠেছে সংঘবদ্ধ চক্র। তাদের ছত্রছায়ায় নদী তীরের অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর একটি অংশ চিংড়ির রেণু আহরণকে মৌসুমি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। অথচ বঙ্গোপসাগর আমাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। এতে দক্ষিণ উপকূলের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হচ্ছে। সুন্দরবন ও সাগরকে ঘিরে রয়েছে অর্থনীতির অফুরন্ত সম্ভাবনা। বিশ্বব্যাপী ‘ব্লু-ইকোনমি’ এখন উন্নয়নের নতুন দিগন্ত। মৎস্যসম্পদ, নৌপথ, পর্যটন, খনিজÑসব মিলে এ সাগরকে করেছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এক বিশাল ভান্ডার। উপকূলের লক্ষাধিক মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এ সম্পদ আহরণের সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে উপকূলের জেলেদের জীবন ও জীবিকা নির্ভর করে বঙ্গোপসাগরের মাছ ধরার ওপর।
প্রতি বছর সামুদ্রিক মৎস্য উৎপাদনের একটি বড় অংশ আসছে ছোট পোনা ধরা থেকে। অথচ এ পোনা বড় হতে না হতেই নিষিদ্ধ জালে নিধন হচ্ছে। শুধু মাছ নয়; কাঁকড়া, ডলফিন, সামুদ্রিক কাছিম, সাপ, পোকামাকড়, শৈবাল, প্রবাল কিংবা অন্যান্য বিরল প্রাণীও আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে।
সুন্দরবনসংলগ্ন সাতক্ষীরা উপকূলের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চিংড়ির রেণু আহরণ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত। নদীতে ভেসে আসা ‘হোয়াইট গোল্ড’ খ্যাত বাগদা ও গলদা চিংড়ির রেণু আহরণ ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এ উপকূলের মানুষ। তবে রেণু পোনা আহরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ আইনত নিষিদ্ধ আছে। কিন্তু এ নিষেধাজ্ঞার কথা জেনেও তারা এসব রেণু পোনা ধরেন।
উপকূলের এলাকা জুড়ে বিস্তীর্ন নদ-নদীতে শিশুসহ অসংখ্য নারী-পুরুষ প্রতিদিন লাখ লাখ চিংড়ির রেণু ধরছে। শুধু রাতে নয়, দিনেও অবৈধ এই কাজ চলে। সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলের সবগুলো বড় নদনদীতে এ দৃশ্য চোখে পড়ে। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় দুই বছর জেল-জরিমানার বিধান রেখে চিংড়ির রেণু আহরণ এবং কেনাবেচা নিষিদ্ধ করেছে মৎস্য অধিদফতর। তবে সেটি কাগুজে আইনে পরিণত হয়েছে। এই অবৈধ কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এক শ্রেনির পুলিশ ও বন বিভাগ। ফড়িয়াদের মাধ্যমে সাপ্তাহিক চুক্তিতে তারা উৎকোচ গ্রহণের মাধ্যমে এই অনৈতিক কাজকে আরো বেগবান করে তুলছে। মাঝে মাঝে কোষ্টগার্ড, নেভী ও মৎস্য অধিদফতর আকষ্মিকভাবে অভিযান চালিয়ে জাল জব্দ ও পুড়িয়ে ফেলে। মাঝে মাঝে জরিমানাও করে। কিন্তু আবারও অপ্রতিরোধ্য গতিতে চলতে থাকে পোনা নিধন।
সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা প্রফুল্ল কুমার রায় ইনকিলাবকে বলেন, একটি চিংড়ির রেণু আহরণের বিপরীতে অন্য প্রজাতির মাছের অন্তত দুই হাজার রেণু ধ্বংস করা হচ্ছে। রেণু আহরণকারীর কেউ পেশাদার জেলে নন। উপকূলের অতিদরিদ্রদের একটি অংশ এটাকে পেশা হিসেবে বেছে নেয়। আমাদের মিঠাপানিতে ২৪৭ প্রজাতির মাছ রয়েছে। চিংড়ির রেণু আহরণে শতাধিক প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মাত্র ৫০ টাকার মশারি জাল দিয়ে চিংড়ির রেণু ধরার নামে মৎস্যসম্পদ ধ্বংস করা হচ্ছে জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ পরিবেশ ও মানবাধিকার বাস্তবায়ন সোসাইটির খুলনা বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সোহেল রানা। তিনি বলেন, রেণু আহরণে একটি মাফিয়া চক্র গড়ে উঠেছে। দক্ষিণের নদ-নদী থেকে আহরিত রেণু পাচার হয় খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট এলাকায়। সেখানকার ঘের মালিকরা দালাল চক্রের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায় অর্থ বিনিয়োগ করেন। দালালরা আহরণকারীদের কাছ থেকে প্রতিটি রেণু দেড় টাকায় কেনেন। এরপর তারা স্থানীয় আড়তদারদের কাছে তা আড়াই টাকায় বিক্রি করেন। আড়তদাররা সড়কপথে খুলনা সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের ঘের মালিকদের কাছে পৌঁছে দিয়ে প্রতিটি রেণুর জন্য পান চার টাকা।
মৎস্য বিজ্ঞানী প্রফেসর ড. ইয়ামিন বলেন, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে চিংড়ি মাছ ডিম ছাড়ে। ডিম থেকে লার্ভার জন্ম হয়। তাই প্রতি বছর লার্ভা আহরণ করে উপকূলের অতিদরিদ্র শ্রেণির কিছু মানুষ। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুই বেশি। তিনি আরো বলেন, চিংড়ির একটি লার্ভা আহরণ করতে গিয়ে অন্য প্রজাতির শত শত লার্ভা ধ্বংস করা হচ্ছে। আইন করে দরিদ্রদের লার্ভা সংগ্রহে বিরত রাখা যাবে না। বরং তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত- কীভাবে শুধু চিংড়ির লার্ভা সংগ্রহ করা যায়। এবং তাদের অন্য পেশায় পুর্নবাসন করতে হবে।
চিংড়ির রেণু পোনা আহরণ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত সুন্দরবনসংলগ্ন সাতক্ষীরা উপকূলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ। নদীতে ভেসে আসা ‘হোয়াইট গোল্ড’ খ্যাত বাগদা ও গলদা চিংড়ির রেণু আহরণ ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন এ উপকূলের মানুষ। তবে রেণু পোনা আহরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ আইনত নিষিদ্ধ জেনেও তারা ধরেন। কেননা এই পোনা বিক্রি করে কোনোরকমে সংসার চালাতে হয় তাদের। সম্প্রতি উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নদীতে অনেক নারী-পুরুষকে পিঠে দড়ি বেঁধে জাল টানছেন। নদী থেকে উজানে ভেসে আসা বাগদা ও গলদার রেণু পোনা ধরার জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অসংখ্য নারী-পুরুষ নেট দিয়ে তৈরি করা একধরনের জাল পেতে অপেক্ষা করছেন। কেউ নদী তীরের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত জাল টেনেই চলেছেন। কেউ আবার নৌকায় বসে মাঝনদীতে জাল পেতেছেন। জালে আটকেপড়া ক্ষুদ্রাকৃতির গলদা ও বাগদা চিংড়ির রেণু পোনা নিয়ে নিবিড় পর্যবেক্ষণ করে নদীর চরে রাখা গামলাতে উঠিয়ে রাখছেন। সুন্দরবনের গা-ঘেঁষা শ্যামনগর উপজেলার দীপ ইউনিয়ন গাবুরার সোরা গ্রামের বাসিন্দা হামিদ গাজী সেখানে জাল নিয়ে খোলপোটুয়া নদীতে নেমেছিলেন। আলাপকালে তিনি বলেন, এলাকায় অন্য কোনো কাজ না থাকায় রেণু পোনা ধরা আইনত নিষিদ্ধ জেনেও জীবিকার তাগিদে এ কাজ করি আমি। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মাছ ধরে যা আয় হয়, তাতেই চাল কিনে কোনোরকমে চলে আমার সংসার। নদী থেকে ধরা চিংড়ির রেণুগুলো খুব ভালো মানের হয়। বড় ঘের ব্যবসায়ীরা সব কিনে নিয়ে যান। খোলপোটুয়া নদীর তীরের ডুমুরিয়া গ্রামের মমতাজ বেগম বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাগদা ও গলদা চিংড়ির রেণু ধরি আমি। এসব ধরে প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় হয়। শুধু তিনি নন, খোলপেটুয়া ও কপোতাক্ষ নদের তীরে এমন হাজারো মানুষ চিংড়ির রেণু ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তিনি আরো বলেন, এগুলো বিক্রি করতে বাইরে কোথাও যেতে হয় না। ফড়িয়ারা (বেপারি) এখান থেকেই কিনে নিয়ে যায়। শ্যামনগর পরিবেশ উন্নয়ন ক্লাবের সভাপতি আব্দুল হলিম বলেন, উপকূলে বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় মাছ শিকারই তাদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। তাই অবৈধ জেনেও উপকূলের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ জীবিকার তাগিদে রেণু পোনা ধরা ধরেন। পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের সাতক্ষীরা ইউনিটের সমন্বয়ক এসএম শাহিন আলম বলেন, বর্তমানে উপকূলীয় আশাশুনির শ্রীউলা, প্রতাপনগর, আনুলিয়া ও শ্যামনগরের কাশিমাড়ি, কৈখালী, রমজাননগর, মুন্সীগঞ্জ, বুড়িগোয়ালিনি, আটুলিয়া, পদ্মপুকুর ও গাবুরার প্রায় ৫০ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চিংড়ির রেণু আহরণ ও বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। সুন্দরবনের পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশ পরিবার রেণু ধরা ও ক্রয়-বিক্রয়ের ওপর নির্ভরশীল। এর ফলে সুন্দরবনের ওপর চাপ কিছুটা কমেছে। অভাব-অনটনের এ জনপদের মানুষের সচ্ছলতা ফিরে আসার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এসব চিংড়ির রেণু। শ্যামনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তুষার মজুমদা বলেন, শ্যামনগর উপজেলায় যারা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন এমন ২৩ হাজার ৫৩৫ জন জেলেকে মৎস্যজীবী কার্ড দেওয়া হয়েছে। তবে সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার নদ-নদীতে এভাবে অপরিকল্পিতভাবে মাছের পোনা আহরণের ফলে মৎস্য সম্পদ এখন অনেকটা হুমকির মুখে।বরগুনার তিনটি প্রধান নদ-নদী এবং বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অবাধে চলছে রেণু পোনা শিকার। স্থানীয় কিছু অসাধু জেলে ও পাইকাররা মিলে রেণু শিকার ও বিক্রি করছেন। এতে মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা মারা পড়ছে। মৎস্য বিভাগ ও কোস্টগার্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, রেণু শিকার বন্ধে তাঁরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বরগুনার বলেশ্বর নদ এবং পায়রা ও বিষখালী নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা এই তিন নদ-নদীর তীরে নিষিদ্ধ ছোট ফাঁসের হাজার হাজার জাল পেতে রেণু শিকার করছেন। সূক্ষ্ম জালের ফাঁদে আটকে নানা প্রজাতির সামুদ্রিক মাছের পোনা মারা পড়ছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির দেশীয় মাছের পোনা, জলজ প্রাণী ও মাছের ডিম।
গত সোমবার বরগুনার বিষখালী নদীতীরবর্তী বড়ইতলা ডালভাঙ্গা, রায়ভোগ, নলি, নিশানবাড়িয়া, সোনাতলাসহ বেশ কিছু পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে, এসব এলাকায় নদীতে প্রায় ১০ হাজার জেলে সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল দিয়ে রেণু শিকার করছেন। একইভাবে নদীর বিপরীত পাড়ের, বাইনচটকা থেকে শুরু করে পাথরঘাটা পর্যন্ত হাজার হাজার জেলে নিষিদ্ধ সূক্ষ্ম জাল ব্যবহার করে গলদা চিংড়ির রেণু পোনা শিকার করছেন। একইভাবে বলেশ্বর নদ, পায়রা নদী এবং বঙ্গোপসাগরের তিন নদীর মোহনাসহ গোটা উপকূলীয় এলাকায় অবাধে গলদা ও বাগদা চিংড়ির রেণু পোনা শিকার করা হয়।
সদর উপজেলার ডালভাঙা এলাকার জেলে আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মোগো বাড়ি গাঙ্গের লগে, গাঙ্গের মাছ-পোনা ধইররাই খাই। এহন গলদা আর বাগদার পোনা ধইরা শতমূলে বেচি। বাগদা রেণু প্রতি শ ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। আর গলদা রেণু বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।’
পাথরঘাটার কালমেঘা গ্রামের আরেক জেলে হেলাল মিয়া বলেন, ‘এই চত্তির মাস আইলে গাঙ্গে পোনা পাওন যায়। ডেইলি যদি ৫ থেকে ৬ শ পোনা ধরতে পারি, তাইলে এক দেড় হাজার টাকা বিক্রি করন যায়। পাইকার আইস্যা কিন্না নিয়া যায় মোগো পোনা, হেরা চালান কইরা দাম দেয়।’
তালতলীর বগী এলাকার পায়রা নদীতে রেণু পোনাশিকারি জেলে আবদুল জলিল মিয়া বলেন, ‘রেণু রাইখ্যা অন্য মাছের পোনা গাঙ্গে ঢাইল্যা দেই। হ্যাতে বেশি মরে না।’ ক্ষতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জলিল বলেন, ‘ওনারা পোনা না কেনলে মোরা ধইরা কী করতাম?’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পাইকার বলেন, ‘বরগুনা জেলার সব রেণু পোনা পাথরঘাটা থেকে চরদুয়ানীতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে এসব পোনা বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা অঞ্চলে চালান করে দেওয়া হয়। ভারতের তৈরি একপ্রকার সূক্ষ্ম নেট দিয়ে তৈরি জাল দিয়ে এসব পোনা শিকার করা হয়।’
এ বিষয়ে বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, ‘গলদা ও বাগদা চিংড়ির রেণু পোনা শিকার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিছু অসাধু জেলে ও পাইকাররা মিলে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে রেণু পোনা শিকার করে থাকেন। আমরা এসব বন্ধে একাধিক অভিযান চালিয়েছি। এ ছাড়া জেলেদের সচেতন করতে মৎস্য বিভাগ কাজ করছে।’
কোস্ট গার্ড পাথরঘাটা স্টেশনের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট হারুনুর রশীদ বলেন, ‘রেণু পোনা শিকার বন্ধে আমরা একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছি। ইতিমধ্যেই আমরা কয়েক লাখ শিকার করা রেণু জব্দ করে নদীতে ছেড়ে দিয়েছি। রেণু পোনা শিকারের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’বরগুনার পায়রা ও বিষখালী নদীর বিভিন্ন স্থানে চলছে চিংড়ি রেণু সংগ্রহের মহোৎসব। এতে প্রতিদিনই ধ্বংস হচ্ছে নদীতে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির কোটি কোটি মাছের পোনা, জুপ্লাংকটন ও জলজ প্রাণী। হয় সরু ফাঁসের জালে নয়তো খাদ্যাভাবে পোনা অবস্থাতেই মারা পড়ছে মাছের প্রজাতিগুলো। যা দেশের মৎস্য সম্পদের জন্য বড় হুমকি।
২০০২ সালের সরকারি এক প্রজ্ঞাপনে গলদা, বাগদাসহ সব ধরনের রেণু পোনা আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়। তবে তার কোনো তোয়াক্কা করছে না উপকূলের অসাধু জেলেরা।
নদীর পাড়গুলোতে গেলে দেখা যায়, প্রতিদিন শিশু থেকে বৃদ্ধ, নারী, পুরুষ সবাই মিলে চিংড়ির রেণু নিধনের প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। কেউ নদীতে জাল টানছেন, আবার কেউ তীরে বশে কাঙ্ক্ষিত বাগদা চিংড়ির পোনাগুলো অন্য পাত্রে রেখে অন্য মাছের পোনা, জুপ্লাংকটন ও জলজ প্রাণীগুলো নদী তীরে ফেলে দিচ্ছেন।
মধ্যবয়সী জেলে মোস্তাফিজ বলেন, প্রতিদিন যে পরিমাণ রেণু ধরতে পারেন তাতে তার ১২শ থেকে ১৫শ টাকা আয় হয়। যা এই সময়ে অন্য কাজের থেকে বেশি লাভজনক। তাই রেণু আহরণ করছেন।
অবৈধ জেনেও কেন করছেন প্রশ্নে তিনি বলেন, তিনি একা বন্ধ করলেইতো সবাই বন্ধ করবে না। ঠিকই অন্য জেলেরা রেণু ধরবে, তাহলে তার বন্ধ রেখে কী হবে।
রেণু আড়তদার জয়নাল ফরাজি জানান, মাঝে মধ্যে মৎস্য বিভাগ বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান হয়, তখন তাদের জরিমানা বা গ্রেফতার হতে হয়। তবে পেটের তাগিদে আবার শুরু করেন অভৈধ এ কাজ।
তার হিসাব অনুযায়ী শুধু বরগুনা জেলার পায়রা ও বিষখালী নদীর সাড়ে ৪শ থেকে ৫ পয়েন্টে কয়েক হাজার মানুষ এ কাজের সঙ্গে জড়িত।
একটি বেসরকারি সংস্থার জরিপের বরাত দিয়ে বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জাগো নিউজকে বলেন, নদীপাড়ে যারা বাগদা বা গলদা চিংড়ির রেণু ধরছে তারা একটি রেণু ধরতে গিয়ে প্রায় ১৫০টির বেশি অন্য প্রজাতির চিংড়ি, ৩০টির বেশি বিভিন্ন সাদা মাছ, সাড়ে ৫শ টি জুপ্লাংকটন ও বিভিন্ন জলজ প্রাণী মেরে ফেলছে। তারা মাছের প্রজাতিগুলোকে পোনা অবস্থায় যেমন ধ্বংস করছে ঠিক তেমনি মাছের খাদ্য চক্রকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এতে বেঁচে থাকা মাছেরও খাদ্যাভাব তৈরি হচ্ছে।
মৎস্য সম্পদের এমন ক্ষতি বন্ধে তাদের কার্যক্রমের কথা জানতে চাইলে তিনি জানান, জেলেদের সচেতন করতে কাজ করছেন তারা। জেলেদের সচেতন করা গেলে জেলেরাই বন্ধ করবে রেণু পোনা আহরণ। তবে বিভিন্ন সময় অভিযান চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।কক্সবাজারের উপকূল জুড়ে রেণু পোনা নিধনের মহোৎসব চলছে। চিংড়ি পোনা আহরণে গিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে নানা প্রজাতির মাছের পোনাও। এতে কমছে মাছের প্রজনন। বিলুপ্ত হচ্ছে নানা জলজপ্রাণী। সংশ্লিষ্টদের নজরদারি না থাকায় এ পরিস্থিতি হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
উপকূলের রেণু পোনা আহরণকারী অনেকে জানান, চিংড়ি পোনা আহরণে কখনো আইনি বাধা পাননি তারা। বারণ করেনি স্থানীয় প্রশাসন বা মৎস্য অধিদফতর। তাই এক প্রকার বিনা বাধায় কক্সবাজার উপকূলের কুতুবদিয়া, মহেশখালী, চকরিয়া, পেকুয়া ও সদরের পোকখালী, গোমাতলী, চৌফলদন্ডী ও খুরুশকুলে শিকার করা হচ্ছে রেণু পোনা।
পোকখালী ইউপির গোমাতলী এলাকার সদস্য আলাউদ্দিন জনি ও পেকুয়ার উপকূলীয় জনপ্রতিনিধি মনজুর আলম, মো. ইসমাঈল ও মো. শাহেদ বলেন, সমাজের নিম্নবিত্ত ও ছিন্নমূল মানুষগুলো জীবিকা নির্বাহ করতে পোনা আহরণকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন। দেশের মৎস সম্পদ রক্ষা করতে তাদের পূনর্বাসন করে এ পেশা থেকে ফিরিয়ে আনা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তারা।
সচেতন মহলের মতে, বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলে নির্বিচারে রেণু পোনা নিধনের মহোৎসব চললেও দৃশ্যত কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না মৎস অধিদফতর। তাই চিংড়ির রেণু পোনা ধরতে গিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের রেণু পোনা ধ্বংস করা হচ্ছে প্রতিদিন।
এদিকে উপকূলের বিভিন্ন চ্যানেলে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয়রা মশারি ও বিহিন্দী জাল দিয়ে রেণু পোনা ধরছে। প্রতিবার জাল ফেলে ১০-২০টি চিংড়ির রেণু পোনা পেলেও তার সঙ্গে উঠে আসছে টেংরা, পোয়াসহ অসংখ্য প্রজাতির মাছের পোনা।
চিংড়ি পোনা আলাদা করে পাত্রে জিইয়ে রাখলেও অন্য প্রজাতির মাছের পোনাগুলো ডাঙায় অথবা চরে ফেলে দেয়ায় সেগুলো মারা যাচ্ছে।
স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট বিহিন্দী জাল, মশারি জাল ও কারেন্ট জাল দিয়ে রেণু পোনা নিধন করাচ্ছেন। এসব রেণু পোনা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে সড়ক ও নদী পথ দিয়ে বড় বড় ড্রাম কিংবা প্যাকেটজাত করে দেশের বিভিন্নস্থানে চালান করছেন।
কক্সবাজার জেলা মৎস কর্মকর্তা এই প্রতিবাদককে।বলেন, জনবল সংকটের কারণে রেণু পোনা আহরণ শতভাগ বন্ধ করার সক্ষমতা আমাদের নেই।
উপকূলের হাজার হাজার মানুষ এ কাজে জড়িত। অভিযান চালিয়ে আমরা রেণু পোনা আহরণ কাজে ব্যবহৃত জাল ধ্বংস করে দিলেও পরে তারা নতুন জাল নিয়ে নেমে পড়ছেন পোনা আহরণে। তারপরেও আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, একটি চিংড়ির রেণু পোনা (পিএল-পোস্ট লাম্বা) ধরার জন্য অন্য প্রজাতির নয় থেকে ১২টি রেণু পোনা ধ্বংস করা হচ্ছে।
এরমধ্যে দুই হাজার প্রজাতির মাছ ও বিভিন্ন প্রকারের জলজপ্রাণি প্রতিদিন ধ্বংস হচ্ছে। যে কারনে সাগর ও নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও অনান্য জলজপ্রাণির ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণেই সরকার বাগদা ও গলদা প্রজাতির রেণু পোনা আহরণ ও সংরক্ষণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলে অবাধে চলছে রেনু পোনা নিধন। সরকারীভাবে নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এ অবৈধ কর্মকান্ড বন্ধে উদ্যোগী নয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাই অনেকটা বিনা বাঁধায় একপ্রকার প্রতিযোগিতার মাধ্যমে রেনু পোনা নিধনে মেতেছে উপকূলের অসাধু জেলেরা।
স্থানীয় পরিবেশবাদীরা জানান, একটি চিংড়ির রেনু পোনা (পিএল-পোস্ট লাম্বা) ধরার জন্য অন্য প্রজাতির ৯ থেকে ১২টি রেনু পোনা ধ্বংস করা হচ্ছে। এরমধ্যে দুই হাজার প্রজাতির মাছ ও বিভিন্ন প্রকারের জলজপ্রাণি প্রতিদিন ধ্বংস হচ্ছে। যে কারণে সাগর ও নদীতে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও অন্যান্য জলজপ্রাণির ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণেই সরকার বাগদা ও গলদা প্রজাতির রেনু পোনা আহরণ ও সংরক্ষণ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও মৎস্য অধিদপ্তরের নজরদারির অভাবে উপকূলীয় এলাকার জেলে ও কিশোররা এ কাজে জড়িয়ে পড়ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিয়মিত চিংড়ি পোনা আহরণের কাজ করে থাকেন জেলে সাকের উল্লাহ ও জয়নাল আবেদিন। তারা সিভয়েসকে জানান, চিংড়ি পোনা আহরণে কখনো আইনি বাঁধা পাইনি। স্থানীয় প্রশাসন বা মৎস্য অধিদপ্তর থেকে কোনদিন কিছু বলা হয়নি। মগনামা ইউনিয়ন পরিষদেও চেয়ারম্যান শরাফত উল্লাহ ওয়াসিম বলেন, সমাজের নিম্নবিত্ত ও ছিন্নমূল মানুষগুলো জীবিকা নির্বাহের জন্য পোনা আহরণকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন। দেশের মৎস্য সম্পদ রক্ষা করতে তাদের পুনর্বাসন করে এ পেশা থেকে ফিরিয়ে আনা জরুরী।

সেভ দ্যা ন্যাচার কর্মী মাসউদ বিন জলিল বলেন, বঙ্গোপসাগরের কক্সবাজার উপকূলে নির্বিচারে রেনু পোনা নিধন করা হলেও দৃশ্যত কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না মৎস্য অধিদপ্তর। তাই চিংড়ির রেনু পোনা ধরতে গিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের রেনু পোনা ধ্বংস হচ্ছে প্রতিদিন। কক্সবাজার সদর উপজেলা, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, উখিয়া ও টেকনাফ উপকূলে চলতি মৌসুমেও প্রায় ৫-৬ হাজার মানুষ ইতিমধ্যে জলজ প্রাণী হত্যাযজ্ঞে মেতেছেন। এদিকে পেকুয়া উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের কুতুবদিয়া চ্যানেলে গিয়ে দেখা যায়, জেলেরা মশারি জাল ও বেহুন্দি জাল দিয়ে রেনু পোনা ধরছে। প্রতিবার জাল ফেলে ১০-২০টি চিংড়ির রেনু পোনা পেলেও তার সাথে উঠে আসছে টেংরা, পোয়া সহ অসংখ্য প্রজাতির মাছের পোনা। চিংড়ি পোনা আলাদা করে পাত্রে জিইয়ে রাখলেও অন্য প্রজাতির মাছের পোনাগুলো ডাঙায় অথবা চরে ফেলে দেওয়ায় সেগুলো মারা যাচ্ছে। স্থানীয় সচেতন বাসিন্দাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যানেজ করে বেশ কয়েকটি সিন্ডিকেট বেহুন্দি জাল, মশারি জাল ও কারেন্ট জাল দিয়ে জেলেদের হাতে রেনু পোনা নিধন করাচ্ছে। এসব নিষিদ্ধ রেনু পোনা সড়ক ও নদীপথে বড় বড় ড্রাম কিংবা পাতিল ভর্তি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান হচ্ছে। কক্সবাজার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এই প্রতিবেদকে আরো ‌বলেন, জনবল সংকটের কারণে রেনু পোনা আহরণ শতভাগ বন্ধ করার সক্ষমতা আমাদের নেই। হাজার হাজার মানুষ এ কাজে জড়িত। অভিযান চালিয়ে আমরা রেনু পোনা আহরণ কাজে ব্যবহৃত জাল ধ্বংস করে দিলেও পরে তারা নতুন জাল নিয়ে নেমে পড়ছে পোনা আহরণে। তারপরও আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।