1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১০:১১ পূর্বাহ্ন

আল্লাহ যার কল্যাণ চান, পৃথিবীর কোন শক্তি নেই তা বন্ধ করার

  • প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৩ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি‌ : আল্লাহ যার কল্যাণ চান তার অন্তরকে দীনের জন্য বা ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘আল্লাহ তা’আলা যে ব্যক্তির বক্ষ ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন এবং যে আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত আলোতে চলছে। ধ্বংস সে লোকদের জন্য যাদের অন্তর আল্লাহর উপদেশ বাণীতে আরো বেশী কঠোর হয়ে গিয়েছে। সে সুষ্পষ্ট গোমরাহীর মধ্যে ডুবে আছে।’ (সুরা যুমার : ২২)। অন্য আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ যাকে সত্যপথ দেখাবার সংকল্প করেন তার বক্ষদেশ ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। আর যাকে তিনি গোমরাহীতে নিক্ষেপ করার সংকল্প করেন তার বক্ষদেশ সংকীর্ণ করে দেন এবং এমনভাবে তাকে সংকুচিত করতে থাকেন যে, (ইসলামের কথা চিন্তা করতেই) তার মনে হতে থাকে যেন তার আত্ম আকাশের দিকে উড়ে যাচ্ছে। এভাবে আল্লাহ (সত্য থেকে দূরে পলায়ন ও সত্যের প্রতি ঘৃণার) আবিলতা ও অপবিত্রতা বেঈমানদের ওপর চাপিয়ে দেন।’ (সুরা আন’আম : ১২৫)
বক্ষ উন্মুক্ত: ‘শরহে সদর’ অর্থ হচ্ছে উন্মুক্ত বক্ষ বা খোলা মন। বক্ষদেশ উন্মুক্ত করে দেয়ার মানে হচ্ছে, ইসলামের সত্যতা সম্পর্কে হৃদয়ে পূর্ণ নিসংশয়তা ও নিশ্চিয়তা সৃষ্টি করা এবং যাবতীয় সন্দেহ, সংশয় ও দোদুল্যমানতা দূর করে দেয়া। অর্থাৎ আল্লাহ যাদেরকে তাঁর নিদর্শন থেকে বাস্তব শিক্ষা গ্রহণ করার সুযোগ দিয়েছেন এবং ইসলামকে অকাট্য ও নির্ভুল সত্য বলে মেনে নেয়ার যোগ্যতা দিয়েছেন। কোন ব্যাপারে মানুষের বক্ষ উন্মুক্ত হয়ে যাওয়া মূলত: এমন একটি মানসিক অবস্থার নাম, যখন তার মনে উক্ত বিষয় সম্পর্কে কোন দুচিন্তা বা দ্বিধা-দ্বন্ধ কিংবা সংশয় থাকে না এবং কোন বিপদের আভাস বা কোন ক্ষতির আশংকাও তাকে ঐ বিষয় গ্রহণ করতে বাধা দিতে পারে না। বরং সে পূর্ণ মানসিক তৃপ্তির সাথে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে, এ জিনিসটি ন্যায় ও সত্য। তাই যাই ঘটুক না কেন আমাকে এর ওপরই চলতে হবে।
এ ধরণের সিদ্ধান্ত নিয়ে কোন ব্যক্তি যখন ইসলামের পথ অবলম্বন করে তখন আল্লাহ ও রাসুলের সা: পক্ষ থেকে যে নির্দেশই আসে তা সে অনিচ্ছায় নয় খুশী ও আগ্রহের সাথে মেনে নেয়। কিতাব ও সুন্নাহ থেকে যে আকাঈদ ও ধ্যান ধারণা এবং যে নীতিমালা ও নিয়ম কানুন তার সামনে আসে তা সে এমনভাবে গ্রহণ করে যেন সেটাই হৃদয়ের প্রতিধ্বনি। কোন অবৈধ সুবিধা পরিত্যাগ করতে তার কোন অনুশোচনা হয় না। সে মনে করে ঐগুলো তার জন্য কল্যাণকর কিছু ছিল না। বরং তা ছিল ক্ষতি যা থেকে আল্লাহর অনুগ্রহে রক্ষা পেয়েছে। অনুরূপ ন্যায় ও সত্যের ওপর কায়েম থাকার কারণে তার যদি কোন ক্ষতি হয় তাহলে সে সেই জন্য আফসোস করে না, ঠা-া মাথায় বরদাশত করে এবং আল্লাহর পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার পরিবর্তে তার কাছে ঐ ক্ষতি হালকা মনে হয়। বিপদাপদ আসলে তার এ একই অবস্থা হয়। সে মনে করে, আমার দ্বিতীয় কোন পথই নেই-এ বিপদ থেকে বাঁচার জন্য, যে পথ দিয়ে আমি বেরিয়ে যেতে পারি। আল্লাহর সরল সোজা পথ একটিই। আমাকে সর্বাবস্থায় ঐ পথেই চলতে হবে। বিপদ আসলে আসুক। আল কুরআনে এটিকে ‘শরহে সদর’ উন্মুক্ত বক্ষ বা খোলা মন বলা হয়েছে।
আর এ ‘শরহে সদর’ উন্মুক্ত বক্ষ বা খোলা মন লোকদের জন্য জ্ঞানের আলো হিসাবে আল্লাহর কিতাব ও রাসুলুল্লাহ সা: এর সুন্নাহ লাভ করে, যার উজ্জল আলোতে সে জীবন চলার অসংখ্য ছোট ছোট পথের মধ্যে কোন ন্যায় ও সত্যের সোজা রাস্তা তা প্রতি পদক্ষেপে স্পষ্ট দেখতে পায়।
আল্লাহ যার কল্যাণ চান সে ব্যক্তিকে তাওবার সুযোগ দান করেন। কারণ তার বক্ষ উন্মুক্ত করার পরেও শয়তানের প্ররোচনায় কোন সময় পা পিছলে গেলে এবং বিবেকের কষাঘাতে ফিরে এলে আল্লাহ তাকে গ্রহণ করেন। আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘আর আল্লাহ চান তোমাদের তাওবা কবুল করতে।’ (সুরা নিসা : ২৭)। এ সমস্ত ব্যক্তিদের আল্লাহ বিপদের সম্মুখীন করেও খাঁটি বান্দায় পরিণত করেন। আনাস রা: হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ তা’আলা যখন তাঁর বান্দার কল্যানের ইচ্ছা করেন তখন দুনিয়ায় তাকে অতি তাড়াতাড়ি বিপদাপদের সম্মুখীন করেন। আর যখন তিনি কোন বান্দার অকল্যাণের ইচ্ছা করেন তখন তার গোনাহের শাস্তি প্রদান থেকে বিরত থাকেন। অবশেষে কিয়ামতের দিন তাকে এর পরিপূর্ণ শাস্তি প্রদান করেন। আর আল্লাহ তা’আলা যখন কোন সম্প্রদায়কে ভালবাসেন তখন তাদের তিনি পরীক্ষায় ফেলেন। যে তাতে সন্তুষ্ট তার জন্য (আল্লাহর) সন্তুষ্টি থাকে আর যে তাতে অসন্তুষ্ট হয় তার জন্য (আল্লাহর) অসন্তুষ্টি থাকে।’ (তিরমিযি, মিশকাত)।
আল্লাহ যাদের কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন। যে জ্ঞানের আলোকে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথ সুষ্পষ্ট দেখতে পায়। হালাল-হারাম, কল্যাণ-অকল্যাণ, আলো ও অন্ধকারের মধ্যে সুষ্পষ্ট পার্থক্য রেখা টানতে পারেন। হযরত মু’আবিয়া রা: হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তা’আলা যার কর‌্যাণ চান, তাকে দ্বীনের প্রজ্ঞা দান করেন। আল্লাহই দানকারী আর আমি বন্টনকারী। (বুখারী ও মুসলিম)। আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘তিনি যাকে চান, হিকমত দান করেন। আর যে ব্যক্তি হিকমত লাভ করে সে আসলে বিরাট সম্পদ লাভ করেছে। এই কথা থেকে তেবলমাত্র তারাই শিক্ষা লাভ করে যারা বুদ্ধিমান ও জ্ঞানী।’ (সুরা বাকারা : ২৬৯)।
হিকমত অর্থ হচ্ছে, গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার শক্তি। এখানে একথা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে এই যে, হিকমতের সম্পদ যে ব্যক্তির কাছে থাকবে সে কখনো শয়তানের দেখানো পথে চলতে পারবে না। বরং সে আল্লাহর দেখানো প্রশস্ত পথ অবলম্বন করবে। শয়তানের সংকীর্ণমনা অনুসারীদের দৃষ্টিতে নিজের ধন-সম্পদ আঁকড়ে ধরে রাখা এবং সবসময় সম্পদ আহরণের নতুন নতুন ফন্দি-ফিকির করাই বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। কিন্তু যারা আল্লাহর কাছ থেকে অন্তরদৃষ্টি লাভ করেছে, তাদের মতে এটা নেহাত নির্বুদ্ধিতা ছাড়া আর কিছু নয়। তাদের মতে, মানুষ যা কিছু উপার্জন করবে, নিজের মাঝারী পর্যায়ের প্রয়োজন পূর্ণ করার পর প্রাণ খুলে সৎকাজে ব্যয় করাটাই বুদ্ধিমানের কাজ। আবু হুরায়রা রা: হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ যখন কোন বান্দার কণ্যাণ চান তখন তার অন্তর ধনী করে দেন এবং তার অন্তরে তাকওয়া দান করেন। আর আল্লাহ যার অকল্যাণ চান তখন সামনে দরিদ্রতা ছড়িয়ে দেন। (সহীহ ইবনে হিব্বান ও সহীহাহ)।
এ ধরণের ব্যক্তিদের আল্লাহ ভালবাসেন বল্ইে তাকে ন¤্রতা, ভদ্রতা দান করেন। মৃত্যুর পূর্বে নেক আমল করার সুযোগ দান করেন। তাকে পবিত্র করেন। আনাস রা. হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তা;আলা যখন তাঁর বান্দা সম্পর্কে কল্যাণের ইচ্ছা করেন তখন তাকে নেক আমল করতে দেন। বলা হলম আল্লাহর রাসুল! কিভাবে তিনি আমল করতে দেন? তিনি বলেন, মৃত্যুর পূর্বে তিনি তাকে নেক আমলের তাওফিক দান করেন। (তিরমিযি ও মিশকাত)।
আল্লাহ যাদের কল্যাণ চান তারা সকল অবস্থায় ধৈর্যধারণ করতে পারে। সুহায়েল রা: হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মৃ’মিনের বিষয়টি বিস্ময়কর। তার যাবতীয় ব্যাপারই তার জন্য কল্যাণকর। এ বৈশিষ্ট মু’মিন ছাড়া অন্য কারো নেই। যদি তার সুখ-শান্তি আসে তবে সে শুকরিয়া আদায় করে, আর যদি দু:খ-মসিবত আসে তখন সবর করে। অতএব প্রত্যেকটিই তার জন্য কল্যাণকর হয়ে থাকে। (মুসলিম : ২৯৯৯)। ধৈর্যশীলদের প্রতিদান অপরিমিত। আল্লাহ তা’আলা বলেন, ‘নি:সন্দেহে ধৈর্যশীলগণকে অঢেল পুরস্কার দেয়া হবে।’ (সুরা যুমার : ১০)। অর্থাৎ যারা আল্লাভীরুতা ও নেকীর পথে চলার ক্ষেত্রে সব রকম দু:খ-কষ্ট সহ্য করেছে কিন্তু ন্যায়ের পথ থেকে বিন্দুমাত্র সরে যায়নি। তাদের জন্য অপরিমিত পুরস্কার রয়েছে তাদের প্রভুর কাছে।
সংকীর্ণ বক্ষ: এর দু’টি অবস্থা রয়েছে একটি হচ্ছে ‘দ্বীকে সদর’ অর্থাৎ বক্ষ সংকীর্ণ হয়ে যাওয়া, মন সংকীর্ণ হয়ে যাওয়া। এ অবস্থায় মনের মধ্যে ন্যায় ও সত্য প্রবেশের কিছু না কিছু অবকাশ থাকে। দ্বিতীয়টি ‘কাসওয়াতে ক্বালব’ অর্থ মন কঠিন হয়ে যাওয়া। এই অবস্থায় মনের মধ্যে ন্যায় ও সত্য প্রবেশের কোন সুযোগই থাকে না। উল্লেখিত দ্বিতীয় অবস্থার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থাটি সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা বলেন : যে ব্যক্তি এ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে তার জন্য সর্বাত্মক ধ্বংস। ন্যায় ও সত্যকে কোনভাবে গ্রহণ করতে প্রস্তুত হয়ে যায় তাহলেও তার জন্য রক্ষা পাওয়ার কিছু না কিছু সম্ভবনা থাকে। আয়াতের বর্ণনাভঙ্গি হতে এ দ্বিতীয় বিষয়টি আপনা থেকেই প্রকাশ পায়।
যারা রাসুলুল্লাহ (সা.) এর বিরোধীতায় জেদ ও হঠকারিতা করতে এক পায়ে দাঁড়িয়ে ছিল এবং এ সিদ্ধান্ত নিয়ে বসেছিল যে, কোনমতেই তাঁর কোন কথা মানবে না, আয়াতের উদ্দেশ্য ছিল তাদেরকে সাবধান করা। তাদেরকে এ মর্মে সাবধান করা হয়েছে যে, তোমরা তোমাদের এ জিদ ও হঠকারিতাকে অত্যন্ত গর্বের বিষয় মনে করে থাকো। কিন্তু আল্লাহর যিকর এবং তা^র পক্ষ থেকে আসা উপদেশ বাণী শুনে বিনম্্র হওয়ার পরিবর্তে কেউ যদি আরো বেশী কঠোর হয়ে যায় তাহলে একটি মানুষের জন্য এর চেয়ে বড় অযোগ্যতা ও দুর্ভাগ্য আর কিছুই নেই।
বালা-মুসীবত আল্লাহর সাথে বান্দার দুরত্ব কমিয়ে আনে। কারণ বালা-মুসীবত এলে বান্দা আল্লাহর ষ্মরণকে বাড়িয়ে দেয়। আল্লাহর সাহায্য কামনা করতে থাকে। তাই বান্দা যখন আল্লাহর ষ্মরণ বিচ্যুত হয়ে দূরে চলে যায়। আল্লাহতায়ালা তখন ঐ বান্দাকে কাছে নেয়ার জন্য বালা-মুসীবত দিয়ে থাকেন। আল্লাহতায়ালা চান, তাঁর পছন্দীয় বান্দারা, তাঁর নিকটে থাকুক। তাঁর জাতে পাকের সিফাতের সাথে মিশে থাকুক। তাঁর জিকির ও ইবাদতের মধ্যে মশগুল থাকুক। আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যে যতো বেশি মর্যাদাবান, তার পরীক্ষাও ততো বেশি। নবী-রাসূল, অলি-আবদাল, গাউস-কুতুব, পীর-ফকির থেকে শুরু করে সকল মানুষকে জীবনের কোন না কোন সময়ে বালা-মুসীবতের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এক্ষেত্রে নবী-রাসূলগণ সবচেয়ে বেশি মুসীবতের সম্মুখীন হয়েছেন। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে।’ (সূরা বাকারা:১৫৫)। ‘আর ভালো এবং মন্দ দ্বারা আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করে থাকি।’ (সূরা আম্বিয়া:৩৫)।
আল্লাহর চাইতে বড় কোনো কল্যাণ দানকারী দ্বিতীয় কেউ নেই। একমাত্র মুসীবতে পতিত হওয়া ছাড়া বান্দার পক্ষে আল্লাহর কল্যাণের মহত্ব বোঝা অসম্ভব। মুসীবতে না পড়লে কখনো আপন-পর, ভালো-মন্দ চেনা যায় না। তাই ইনসানের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বালা-মুসীবত অপরিহার্য। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আর যদি আল্লাহ তোমাকে কোনো দুর্দশা স্পর্শ করেন, তবে তিনি ছাড়া তা দূরকারী কেউ নেই। আর যদি কোনো কল্যাণ দ্বারা স্পর্শ করেন তবে তিনিই তো সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান। আর তিনিই তাঁর বান্দাদের উপর ক্ষমতাবান।’ (সূরা আনআ’ম:১৭-১৮)। ‘কে আছে অসহায় ও বিপন্নের ডাকে সাড়া দেয় যখন সে ডাকে এবং কষ্ট ও বিপদ দূরীভ‚ত করে দেয়?’ (সূরা নামল:৬২)। হযরত আবূ হোরায়রা (রা:) থেকে বর্ণিত হয়েছে. হযরত রাসূল (সা:) ইরশাদ করেছেন,‘আল্লাহতায়ালা কারো কল্যাণ চাইলে তাকে মুসীবতে লিপ্ত করেন।’(বোখারি:৫২৪২)।
প্রত্যেকটি বালা-মুসীবত অসুখ-বিসুখ, দুঃখ-দুর্দশা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ইত্যাদিতে পতিত হওয়ার পিছনে কোন না কোন উদ্দেশ্যে থাকে। যা সধারণ একজন মানুষের চর্ম চুক্ষুদ্বারা উপলদ্ধি করা অসম্ভব। মুসীবত এলে মানুষ হা-হুতাশ করতে থাকে, অথচ মুসীবত বান্দার জন্য গোনাহের কাফফারা হিসেবে কাজ করে। গোনাহ ছাড়া যেমন বান্দাকে মাফ করার কোন সুযোগ নেই। তেমনি মুসীবত ছাড়া কল্যাণ দানের কোনো সুযোগ নেই। হযরত আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হযরত রাসূল (সা:) ইরশাদ করেছেন, ‘মুসলমানের উপর কোনো মুসীবত আপতিত হলে তার বিনিময়ে গোনাহের কাফফারা হয়ে যায়; এমনকি ক্ষুদ্র কোনো কাঁটা বিধলেও।’ (মুসলিম:৬৬৩১)। অপর একটি হাদিসে হযরত আয়েশা (রা:) থেকে বর্ণিত হয়েছে, হযরত রাসূল (সা:) ইরশাদ করেছেন, ‘কোনো ঈমানদার ব্যক্তির শরীরের একটি কাঁটার আঘাত কিংবা তার চেয়ে অধিক কোনো আঘাত লাগলে আল্লাহ তায়ালা তার একটি মাকাম বুুলুন্দ করে দেন কিংবা একটি গোনাহ মাফ করে দেন।’ (মুসলিম:৬৩২৮)।
আল্লাহতায়ালার পছন্দনীয় বান্দাদের তালিকায় নাম লিপিবদ্ধ করতে হলে, যে কোন ধরনের রোগ-শোক ও বালা-মুসীবতের সময় ধৈর্য্যধারন করতে হবে। সব সময় পরীক্ষার মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। আর মুসীবতের সময় বেশি বেশি ইস্তেসফার পড়তে হবে। এবং আল্লাহতায়ালার নিকট দোয়া করতে হবে। তাহলে আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে কল্যাণ লাভ করা সম্ভব। আল্লাহ সকলকে বোঝার তৌফিক দান করুক।
আমরা আমাদের জীবনে চলার পথে বহু বিপদ-আপদ, বালা-মুসীবত ও নানাবিধ বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হই। অনেক সময় এসব পরিস্থিতিতে আমরা হতাশ হয়ে পড়ি, বিরক্ত হই এবং নৈরাশ হয়ে যাই। কিন্তু আমাদের উপলব্ধি করা উচিত, ভালো-মন্দ, সুসময় কিংবা দুঃসময় যা কিছু ঘটে, সবই আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা ও হুকুমে সংঘটিত হয়।
আল্লাহ তাআলা কখনো আমাদেরকে বিপদ দিয়ে পরীক্ষা করেন, আবার কখনো ওই বিপদের মধ্য দিয়েই আমাদের উপর কল্যাণ ও রহমত বর্ষণ করেন; কিন্তু তা আমরা অনেক সময় বুঝে উঠতে পারিনা। হযরত রাসূল (সা.) বলেছেন- আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে বিপদে আক্রান্ত করেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস-৫৬৪৫]
সুতরাং বিপদে আমাদের ধৈর্যহারা হওয়া কিংবা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া উচিত নয়। বরং মুমিনের উচিত, বিপদের সময় ধৈর্যধারণ করা এবং সেই সঙ্গে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, এটাই আমাদের নৈতিক ও ঈমানী দায়িত্ব।
বিপদে ধৈর্যধারণ করার বিষয়টি বোধগম্য, কিন্তু বিপদে শুকর আদায়ের কোনো ব্যাপার থাকতে পারে কি? হ্যা, ধৈর্যধারণের পাশাপাশি বিপদে শুকর আদায়েরও ব্যাপার রয়েছে। বিপদেও কেন শুকর আদায় করতে হবে? ওলামায়ে কেরাম এর কয়েকটি কারণ ব্যাখ্যা করেছেন- প্রথমত: আল্লাহ তাআলা আমাকে যে বিপদ দিয়েছেন, এর ওসিলায় হয়তো তিনি বড় বিপদ থেকে আমাকে রক্ষা করেছেন। দ্বিতীয়ত: আল্লাহ আমাকে যে বিপদ দিয়েছেন, এর মধ্য দিয়ে হয়তো তিনি আমাকে বড় ধরনের উপকার বা দয়া করেছেন, যা আমি স্বল্প জ্ঞানের কারণে উপলব্ধি করতে পারিনি। তৃতীয়ত: আমার উপর আরোপিত বিপদের কারণে আল্লাহ তাআলা হয়তোবা আমার গোনাহসমূহ মাফ করে দিয়েছেন। চতুর্থত: এই বিপদ দিয়ে হয়তো তিনি পরকালে আমাকে একটি বড় বিপদ থেকে রক্ষা করবেন। পঞ্চমত: এই বিপদের কারণে হয়তো তিনি জান্নাতে আমার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন।
মোটকথা, কেউ যদি বিপদে পড়ে সবর করে, তখন আল্লাহ পাক তাকে পুরস্কৃত করবেন- এ তো স্বাভাবিক কথা। কিন্তু আমাদের জন্য আশার বাণী হলো, বিপদে সবর করার পাশাপাশি যদি ঐ বিপদসঙ্কুল অবস্থায় শুকর আদায়ও করা হয়, তখন আমাদের জন্য রয়েছে দয়াময় আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কারের ঘোষণা।
নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন- আল্লাহ যখন তাঁর বান্দার কল্যাণ চান, তখন দুনিয়াতে তার শাস্তি ত্বরান্বিত করেন, আর যখন কোনো বান্দার অকল্যাণ চান, তখন তার পাপগুলো রেখে দিয়ে কিয়ামতের দিন তাঁর প্রাপ্য পূর্ণ করে দেন। [জামে তিরমিযী, হাদীস-২৩৯৬]
অত্র হাদিসের আলোকে বলা যায়, মুমিন বান্দা নিজের কৃত অপরাধের কারণেও বিপদের মুখোমুখি হতে পারে, আবার বিপদাক্রান্ত হতে পারে প্রভুর সঙ্গে তার ভালোবাসার যাচাইস্বরূপও। যে কারণেই হোক, অনাকাক্সিক্ষত এ বিপদও তার জন্য রহমত হয়ে থাকে। বিপদ যদি অপরাধের শাস্তিস্বরূপ হয়ে থাকে, তাহলে এ বিপদে ভুগে সে গোনাহমুক্ত হয়ে ওঠে। আর বিপদ যদি হয় প্রভুর প্রতি তার ভালোবাসার পরীক্ষাস্বরূপ, তাহলে ধৈর্যধারণ করে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলে ভালোবাসার বন্ধন আরো সুদৃঢ় হবে।
সুতরাং বলা যায়, বিপদ-মুসিবত হল নেয়ামত। কারণ এতে গোনাহ মাফ হয়। বিপদে ধৈর্যধারণ করলে তার প্রতিদান পাওয়া যায়। অতএব বান্দার বিপদ-আপদে যদি গোনাহ ক্ষমা হয়, পাপগুলো ঝরে যায়; তবে মুমিনের জন্য এর চেয়ে উত্তম নেয়ামত আর কী থাকতে পারে। আর বিপদ-মুসিবত যদি কোনো ব্যক্তির মধ্যে ধৈর্য ও আনুগত্য সৃষ্টি করে, তবে এই মুসিবত তার জন্য দীনের ক্ষেত্রে বিশাল নিয়ামত হিসেবে প্রকাশ পায়।
বিপদ মুমিনের জন্য অনেক ক্ষেত্রে কল্যাণকর হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘বস্তুত তোমরা এমন বিষয়কে অপছন্দ করছো যা তোমাদের পক্ষে বাস্তবিকই মঙ্গলজনক। পক্ষাস্তরে তোমরা এমন বিষয়কে পছন্দ করছো যা তোমাদের জন্য বাস্তবিকই অনিষ্টকর এবং আল্লাহ্ই অবগত আছেন আর তোমরা অবগত নও’। [সূরা বাকারা, আয়াত : ২১৬]
আল্লাহ অনেক সময় তার প্রিয় বান্দাদের পরীক্ষা করার জন্য এমন সব অবস্থায় ফেলেন, যেগুলো তাদের কাছে আপাতদৃষ্টিতে খারাপ বলে মনে হয়; কিন্তু তারা যদি ওই অবস্থায় ধৈর্য ধারণ করতে পারে, তাহলে সে খারাপ অবস্থাটাই তাদের জন্য কল্যাণকর হয়ে যায়। এ ব্যাপারে নবী করীম (সা.) বলেন-
‘মুমিনের বিষয়টি সত্যিই আশ্চর্যজনক। নিশ্চয়ই তার প্রতিটি অবস্থাই তার জন্য কল্যাণকর। আর এটা মুমিন ছাড়া আর কারো জন্যই নয়। সুতরাং, যখন সে কোন বিপদে পতিত হয় তখন সে ধৈর্যধারণ করে। ফলে সে বিপদ তার জন্য কল্যাণকর হয়ে যায়। আবার যখন তাকে সুখের মধ্যে রাখা হয় তখন সে (আল্লাহর প্রতি) কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে। ফলে সে সুখও তার জন্য কল্যাণকর হয়ে যায়’। [সহীহ মুসলিম, হাদীস-২৯৯৯]
অবস্থা দৃষ্টে বিপদের মধ্যে অকল্যাণ মনে হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা আমাদের কাছে কল্যাণের সুমহান বার্তা নিয়ে আগমন করে। হযরত মূসা (আ.)-কে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর মাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল; হযরত ইউসুফ (আ.)-কে মেরে ফেলার জন্য কূপে নিক্ষেপ করা হয়েছিল; হযরত মারইয়াম (আ.) কোন পুরুষের স্পর্শ ছাড়াই হযরত ঈসা (আ.)-কে অলৌকিকভাবে জন্ম দিয়েছিলেন; হযরত আয়েশা (রা.)-কে মিথ্যা কলঙ্কে অভিযুক্ত করা হয়েছিল; হযরত ইউনুস (আ.)-কে তিমি মাছ গিলে ফেলেছিল; হযরত ইব্রাহীম (আ.)-কে আগুনে নিক্ষেপ করা হয়েছিল; হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রিয়তমা স্ত্রী খাদিজা (রা.) মৃত্যুবরণ করেছিলেন।
একবার ভেবে দেখুন তো, এই ঘটনাগুলো ঘটার সময় লোকেরা কী ভেবেছিল? আর পরবর্তীতে ঘটনাগুলো কোন দিকে মোড় নিয়েছিল! নিশ্চয়ই পরবর্তী অবস্থা অনেক সুন্দর ও মোবারকময় হয়েছিল। অতএব, দুশ্চিন্তা করার কোন কারণ নেই। আপনার জন্যও রয়েছে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের পক্ষ থেকে নানা কল্যাণ ও শুভ পরিকল্পনা। প্রকৃত ঈমানদারের জন্য ভাল-মন্দ উভয়টিই কল্যাণকর হয়ে থাকে। বিপদের মধ্য দিয়েও যে আল্লাহ আমাদের উপর দয়া ও উপকার করেন, তার একটি দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা হল-
কোন এক যুগে সমুদ্রের মাঝখানে একটি জাহাজ প্রচন্ড ঝড়ের মধ্যে পড়ে বাতাস ও ঢেউয়ের প্রকোপে ডুবে গেল এবং যাত্রীরা অধিকাংশই ডুবে মারা গেল। সেই জাহাজের বেঁচে যাওয়া এক যাত্রী ভাসতে ভাসতে নির্জন এক দ্বীপে এসে পৌছালো। জ্ঞান ফেরার পর প্রথমেই সে আল্লাহর দরবারে প্রাণখুলে শুকর আদায় করলো তার জীবন বাঁচানোর জন্য। তারপর বাড়ীতে ফিরে যেতে চেষ্টা শুরু করল। প্রতিদিন সে দ্বীপের তীরে এসে বসে থাকতো, যদি কোন জাহাজ সেদিকে আসে এই আশায়। কিন্তু প্রতিদিনই তাকে হতাশ হয়ে ফিরে আসতে হতো। এরই মধ্যে সে সমুদ্র তীরে থাকার জন্য ছোট একটি ঘর তৈরি করল। সমুদ্রের মাছ শিকার করে এবং বন থেকে ফলমূল খেয়েই তার সময় কেটে যায়।
একদিন সে খাবারের খোঁজে বনের গভীরে প্রবেশ করল। বন থেকে ফিরে সে দেখতে পেল যে, তার রান্না করার চুলা থেকে আগুন লেগে পুরো ঘরটিই ছাই হয়ে গিয়েছে এবং কালো ধোঁয়ায় আকাশ ছেয়ে গেছে। লোকটি চিৎকার করে উঠল আর বলল, হায় আল্লাহ! তুমি আমার এত কষ্টের ঘরটিও শেষমেশ পুড়িয়ে ধ্বংস করে দিলে! এই বলে সে মাতম করতে করতে ঘুমিয়ে গেল।
পরদিন সকালে একটি জাহাজের আওয়াজে তার ঘুম ভেঙ্গে গেল। সে দেখতে পেল- জাহাজটি তাকে ইঙ্গিত করে দ্বীপের দিকেই আসছে। আসতে আসতে যখন জাহাজটি দ্বীপে নোঙ্গর তুলল, তখন অসহায় লোকটি জাহাজের ক্যাপ্টেনকে বলল, আপনারা এখানে কী উদ্দেশ্যে আসলেন? জাহাজের ক্যাপ্টেন বলল, আমরা আপনাকে উদ্ধার করার জন্যই এখানে এসেছি। লোকটি অবাক হয়ে বলল, আপনারা কিভাবে জানলেন যে, আমি এখানে আটকা পড়ে আছি? জাহাজের ক্যাপ্টেন জানালো- দূর থেকে আমরা দেখতে পেলাম যে, এই দ্বীপে আগুন জ¦লতেছে। এতেই আমরা বুঝতে পেরেছি, নিশ্চয়ই এখানে কোন মানুষ বিপদের মধ্যে রয়েছে। তাই আমরা আপনাকে উদ্ধার করতে এসেছি।
লোকটি তখন বুঝতে পারল- ঘরে আগুন না লাগলে জাহাজ কর্তৃপক্ষ এখানে কখনোই আসতো না। আর আমিও কখনো বাড়ীতে ফিরে যেতে পারতাম না। আল্লাহ যা করেন, তা মানুষের কল্যাণের জন্যই করেন। কিন্তু আমরা তা না বুঝতে পেরে অহেতুক আহাজারি করি।
উপরের ঘটনা থেকে আমাদের শিক্ষণীয় বিষয় হল, সকল বিপদ-আপদ ও বালা-মুছীবতে আল্লাহর প্রতি ভরসা রেখে ধৈর্যের সাথে বিপদ-মুছীবতকে হাসিমুখে বরণ করে নিতে হবে এবং সর্বদা বিশ্বাস রাখতে হবে যে, ‘আল্লাহ যা করেন বান্দার মঙ্গলের জন্যই করেন’
আমরা আমাদের জীবনে চলার পথে বহু বিপদ-আপদ, বালা-মুসীবত ও নানাবিধ বাধা-বিপত্তির সম্মুখীন হই। অনেক সময় এসব পরিস্থিতিতে আমরা হতাশ হয়ে পড়ি, বিরক্ত হই এবং নৈরাশ হয়ে যাই। কিন্তু আমাদের উপলব্ধি করা উচিত, ভালো-মন্দ, সুসময় কিংবা দুঃসময় যা কিছু ঘটে, সবই আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা ও হুকুমে সংঘটিত হয়।
আল্লাহ তাআলা কখনো আমাদেরকে বিপদ দিয়ে পরীক্ষা করেন, আবার কখনো ওই বিপদের মধ্য দিয়েই আমাদের উপর কল্যাণ ও রহমত বর্ষণ করেন; কিন্তু তা আমরা অনেক সময় বুঝে উঠতে পারিনা। হযরত রাসূল (সা.) বলেছেন- আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে বিপদে আক্রান্ত করেন। [সহীহ বুখারী, হাদীস-৫৬৪৫]
সুতরাং বিপদে আমাদের ধৈর্যহারা হওয়া কিংবা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া উচিত নয়। বরং মুমিনের উচিত, বিপদের সময় ধৈর্যধারণ করা এবং সেই সঙ্গে আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা, এটাই আমাদের নৈতিক ও ঈমানী দায়িত্ব।
বিপদে ধৈর্যধারণ করার বিষয়টি বোধগম্য, কিন্তু বিপদে শুকর আদায়ের কোনো ব্যাপার থাকতে পারে কি? হ্যা, ধৈর্যধারণের পাশাপাশি বিপদে শুকর আদায়েরও ব্যাপার রয়েছে। বিপদেও কেন শুকর আদায় করতে হবে? ওলামায়ে কেরাম এর কয়েকটি কারণ ব্যাখ্যা করেছেন- প্রথমত: আল্লাহ তাআলা আমাকে যে বিপদ দিয়েছেন, এর ওসিলায় হয়তো তিনি বড় বিপদ থেকে আমাকে রক্ষা করেছেন। দ্বিতীয়ত: আল্লাহ আমাকে যে বিপদ দিয়েছেন, এর মধ্য দিয়ে হয়তো তিনি আমাকে বড় ধরনের উপকার বা দয়া করেছেন, যা আমি স্বল্প জ্ঞানের কারণে উপলব্ধি করতে পারিনি। তৃতীয়ত: আমার উপর আরোপিত বিপদের কারণে আল্লাহ তাআলা হয়তোবা আমার গোনাহসমূহ মাফ করে দিয়েছেন। চতুর্থত: এই বিপদ দিয়ে হয়তো তিনি পরকালে আমাকে একটি বড় বিপদ থেকে রক্ষা করবেন। পঞ্চমত: এই বিপদের কারণে হয়তো তিনি জান্নাতে আমার মর্যাদা বৃদ্ধি করে দিবেন।
মোটকথা, কেউ যদি বিপদে পড়ে সবর করে, তখন আল্লাহ পাক তাকে পুরস্কৃত করবেন- এ তো স্বাভাবিক কথা। কিন্তু আমাদের জন্য আশার বাণী হলো, বিপদে সবর করার পাশাপাশি যদি ঐ বিপদসঙ্কুল অবস্থায় শুকর আদায়ও করা হয়, তখন আমাদের জন্য রয়েছে দয়াময় আল্লাহর পক্ষ থেকে পুরস্কারের ঘোষণা।
নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন- আল্লাহ যখন তাঁর বান্দার কল্যাণ চান, তখন দুনিয়াতে তার শাস্তি ত্বরান্বিত করেন, আর যখন কোনো বান্দার অকল্যাণ চান, তখন তার পাপগুলো রেখে দিয়ে কিয়ামতের দিন তাঁর প্রাপ্য পূর্ণ করে দেন। [জামে তিরমিযী, হাদীস-২৩৯৬]
অত্র হাদিসের আলোকে বলা যায়, মুমিন বান্দা নিজের কৃত অপরাধের কারণেও বিপদের মুখোমুখি হতে পারে, আবার বিপদাক্রান্ত হতে পারে প্রভুর সঙ্গে তার ভালোবাসার যাচাইস্বরূপও। যে কারণেই হোক, অনাকাক্সিক্ষত এ বিপদও তার জন্য রহমত হয়ে থাকে। বিপদ যদি অপরাধের শাস্তিস্বরূপ হয়ে থাকে, তাহলে এ বিপদে ভুগে সে গোনাহমুক্ত হয়ে ওঠে। আর বিপদ যদি হয় প্রভুর প্রতি তার ভালোবাসার পরীক্ষাস্বরূপ, তাহলে ধৈর্যধারণ করে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলে ভালোবাসার বন্ধন আরো সুদৃঢ় হবে।
সুতরাং বলা যায়, বিপদ-মুসিবত হল নেয়ামত। কারণ এতে গোনাহ মাফ হয়। বিপদে ধৈর্যধারণ করলে তার প্রতিদান পাওয়া যায়। অতএব বান্দার বিপদ-আপদে যদি গোনাহ ক্ষমা হয়, পাপগুলো ঝরে যায়; তবে মুমিনের জন্য এর চেয়ে উত্তম নেয়ামত আর কী থাকতে পারে। আর বিপদ-মুসিবত যদি কোনো ব্যক্তির মধ্যে ধৈর্য ও আনুগত্য সৃষ্টি করে, তবে এই মুসিবত তার জন্য দীনের ক্ষেত্রে বিশাল নিয়ামত হিসেবে প্রকাশ পায়।
বিপদ মুমিনের জন্য অনেক ক্ষেত্রে কল্যাণকর হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন- ‘বস্তুত তোমরা এমন বিষয়কে অপছন্দ করছো যা তোমাদের পক্ষে বাস্তবিকই মঙ্গলজনক। পক্ষাস্তরে তোমরা এমন বিষয়কে পছন্দ করছো যা তোমাদের জন্য বাস্তবিকই অনিষ্টকর এবং আল্লাহ্ই অবগত আছেন আর তোমরা অবগত নও’। [সূরা বাকারা, আয়াত : ২১৬]
আল্লাহ অনেক সময় তার প্রিয় বান্দাদের পরীক্ষা।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫১৬
১৭১৮১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭২৮২৯৩০
৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।