1. : lf_ElQ5oe7W3mX7 :
  2. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  3. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশে পাল রাজত্বের নারীদের শিক্ষানীতি কেমন ছিল

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ আগস্ট, ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : লতিকা ঘোষ (জন্ম ১৯০২) কর্তৃক ১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত মহিলা রাষ্ট্রীয় সঙ্ঘ ছিল বাংলার নারীদের রাজনীতিতে সংগঠিত করার প্রথম নিয়মমাফিক সংগঠন। ঐ বছর কলকাতায় কংগ্রেসের বার্ষিক অধিবেশন উপলক্ষে শোভাযাত্রায় পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের মার্চ করে যাবার জন্য নারী স্বেচ্ছাসেবকদের একটি দল গঠনের জন্য সুভাষচন্দ্র বসু লতিকাকে অনুরোধ করেন। লতিকা বেথুন কলেজ ও ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউশনের ছাত্রী এবং কলকাতা কর্পোরেশন কর্তৃক নিয়োগকৃত শিক্ষিকাদের সমন্বয়ে ৩০০ নারীর একটি দল গঠন করেন। পরের বছর (১৯২৯) জাতির প্রতি দায়িত্ব পালনের জন্য নারীদের প্রস্ত্তত থাকতে কংগ্রেসের আহবানে  কলকাতার নারীরা নারী সত্যাগ্রহ সমিতি গঠন করে। আইন আন্দোলন চলাকালে নারীরা লবণ তৈরি ও বিক্রয় করে, বস্ত্র ও মদের দোকানে পিকেটিং চালায়, খদ্দরের উপযোগিতা সম্পর্কে প্রচার করে এবং শোভাযাত্রায় অংশ নেয়।
ঐ সময় মুসলমানগণ সাধারণত কংগ্রেসের ব্যাপারে বেশ সংশয়যুক্ত ছিল। আইন অমান্য আন্দোলনের প্রাক্কালে গাড়োয়ানদের ধর্মঘটের সমর্থনে কলকাতার হিন্দু ও মুসলমান একত্রিত হয়। ধর্মঘটের প্রথম দিনে সাতজন গাড়োয়ানকে হত্যা করা হয় এবং পরদিন যখন হিন্দু ও মুসলমান একসাথে শোক পালন করে; নারীরা বাড়ি থেকে ফুল ছুড়ে দিয়ে তাদের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করে। কিন্তু অচিরেই তাদের এই সংহতিতে ভাঙন ধরে এবং অনেকগুলো শহরে সহসাই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে।
এ সময় বিপ্লবী সংগঠনগুলো তাদের হয়ে কাজ করার জন্য বেশিরভাগ ছাত্রীসহ নারীদের রিক্রুট করতে থাকে। চারজন বিপ্লবী নারীর কৃতিত্বের কথা ইতিহাসবিদগণ কর্তৃক যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। ১৯৩১ সালের ১৪ ডিসেম্বর কুমিল্লার দুজন স্কুলছাত্রী শান্তি ঘোষ (১৯১৬-১৯৮৯) ও সুনীতি চৌধুরী (১৯১৭-১৯৮৮) ম্যাজিস্ট্রেট স্টিভেন্কে গুলি করে হত্যা করে। পরের বছর ফেব্রুয়ারি মাসে বীণা দাস (১৯১১-১৯৮৬) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বাংলার গভর্নরকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা চালায়। সেপ্টেম্বর মাসে চট্টগ্রামের স্কুল শিক্ষিকা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার (১৯১১-১৯৩২) চট্টগ্রাম ক্লাবে হামলায় পনেরো জনের একটি দলের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। হামলা চালানোর পর গ্রেফতার এড়াতে ক্লাব থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে প্রীতিলতা বিষ পান করে প্রাণ বিসর্জন দেন। এদের মধ্যে প্রথমোক্ত তিন জনকে দীর্ঘ মেয়াদি কারাদন্ড দেওয়া হয়।
জেলা শহর ও গ্রামগুলোতে নারীরা শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করে, খদ্দর পরিধান করে, এবং আত্মগোপনকারী বিপ্লবীদের লুকিয়ে রাখে। মেদিনীপুর, চবিবশ পরগনা, খুলনা, বাখেরগঞ্জ, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের নারীরা লবণ আইন ভঙ্গ করে এবং তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত পুলিশের নৃশংস নির্যাতন মোকাবেলা করে। এই বিশৃংখল পারিপার্শ্বিক অবস্থাতেই সরলাদেবী চৌধুরানী নারীদের জন্য আলাদা কংগ্রেস সংগঠিত করার চেষ্টা চালান। এ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য সমগ্র বাংলা থেকে নারীরা ১৯৩১ সালের মে মাসে একত্রে মিলিত হয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সাথেই থেকে যায়।
১৯৩২ সাল নাগাদ শহরগুলোতে সরকার বিরোধিতা কমে আসে, কিন্তু গ্রামাঞ্চল ও নারীদের মধ্যে তা বৃদ্ধি পায়। মুসলমান তাঁতিরা এবং দেওবন্দ মাদ্রাসায় শিক্ষা গ্রহণকারী বহু লোক এ সময় এই আন্দোলনে যোগ দেয়। সাম্প্রদায়িক রোয়েদাদ ও পুনা চুক্তি বিতর্কিত বিষয়টির প্রকৃতিতে পরিবর্তন আনে। কারণ ইতোমধ্যে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, মুসলমানদের জন্য পৃথক নির্বাচকমন্ডলী এবং হিন্দু নিম্নবংশজাতদের জন্য সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা থাকবে। হিন্দুদের নির্বাচনসংক্রান্ত ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হিন্দু মহাসভা এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে এবং হিন্দু নারীদের উপর মুসলমানদের দৈহিক নির্যাতন সম্পর্কিত কল্পিত কাহিনী প্রচার করে।
শুধু বিশ শতকে এসে নারীদের কাজের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। একদিকে অনেক কারখানা গড়ে ওঠায় নারীদের কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মুক্ত হয়, অন্যদিকে আগে নারীদের অর্থ উপার্জনের যে পথ খোলা ছিল যান্ত্রিকীকরণের ফলে তা অনেকটা বন্ধ হয়ে যায়। বাংলার পাটকলগুলোতে শ্রমিকদের প্রায় শতকরা ২০ ভাগ ছিল নারী। কিন্তু তাদের অনেকেই বাঙালি ছিল না। বাঙালি হিন্দু ও মুসলমান নারীরা পর্দার বিধিনিষেধ দ্বারা বাধাগ্রস্ত হতো এবং তারা ছিল নারী পাট কর্মীদের মাত্র শতকরা ১০ ভাগ। বর্ধিতাকারে যান্ত্রিকীকরণ ও শ্রমিক আইন চাপিয়ে দেওয়ার ফলে জুট মিলগুলোতে নারীদের নিয়োগ হ্রাস পাওয়ার বিষয়টি ১৯৩০ সাল থেকে পরিদৃষ্ট হতে থাকে। সংখ্যায় খুব বেশি না হলেও ধর্মঘট ও শ্রমিক বিক্ষোভের সময় এবং ধর্মঘট ভঙ্গকারী ও শ্রমিক নেত্রী হিসেবে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অন্য নারীরা ঝি, কুলি ও গনিকা হিসেবে অসংগঠিত ক্ষেত্রে কাজ নিয়ে জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করে।
উনিশ শতকের শেষদিকে শিক্ষিত নারীরা শিক্ষকতা ও চিকিৎসার কাজে নিয়োজিত হওয়ার জন্য ট্রেনিং নেয়। ১৮৮৪ সালে কাদম্বিনী গাঙ্গুলী কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে প্রথম নারী হিসেবে ভর্তি হন। বিধুমুখী বসু ও ভার্জিনিয়া মেরী মিত্র প্রথম ভারতীয় নারী হিসেবে ১৮৮৯ সালে মেডিক্যাল কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। মাতৃভাষায় মেডিক্যাল ডিগ্রি প্রদানকারী ক্যাম্পবেল মেডিক্যাল স্কুল ১৮৮৮ সালে নারীদের জন্য এর দ্বার উন্মুক্ত করে। বাংলার প্রথম মুসলমান নারী হিসেবে চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়নে মুসাম্মৎ ঈদেন্নেসা ১৮৯১ সালে এ প্রোগ্রামে ভর্তি হন। তিনি ১৮৯৪ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করে ময়মনসিংহে চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
১৯৪২ সালের ভারত ছাড় আন্দোলনে নারীরা বিশিষ্ট ভূমিকা পালন করে। এ আন্দোলন গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়লে কৃষক পরিবারের বিরাট সংখ্যক নারী খাজনা, জমির ভোগদখলের সময়কাল ও ভূমিমালিকের অধিকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে পুরুষদের সাথে যোগ দেয়। ১৯৪২ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষদিকে মেদিনীপুর জেলার চারটি মহকুমায় চাষীরা থানা আক্রমণ করে ও টেলিগ্রাফ লাইন বিনষ্ট করে। তমলুক মহকুমার জনগণ মার্চ করে শহরের দিকে যাওয়ার সময় ৭৩ বছর বয়সী একজন বিধবা মাতঙ্গিনী হাজরা সম্মুখে এগিয়ে আসেন, কংগ্রেসের ঝান্ডা তুলে ধরেন এবং জনসমক্ষে তাঁর প্রথম ভাষণ দান করেন। তিনি যে হাতে ঝান্ডা ধরে রেখেছিলেন প্রথমে সে হাতে এবং পরে তাঁর মাথায় গুলি করা হয়।
এ আন্দোলনে অরুণা গাঙ্গুলী আসফ আলী (১৯০৯-১৯৯৬) ও সুচেতা মজুমদার কৃপালনী (১৯০৮-১৯৭৪) নামে দুজন বাঙালি মহিলা সর্বভারতীয় নেত্রী হিসেবে আবির্ভূত হন। যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে ব্যাহত ও এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ১৯৪২ সালে অরুণা আসফ আলী আত্মগোপন করেন। সুচেতা কৃপালনীও ১৯৪২ সালে আত্মগোপন করেন, কিন্তু সরকারকে অচল করে দিতে অহিংস কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য তিনি কাজ চালিয়ে যান।
বাংলায় ১৯৪৩-১৯৪৪ সালের দুর্ভিক্ষে কমপক্ষে ৩৫ লক্ষ লোক মারা যায় এবং এর চেয়েও অধিকসংখ্যক ব্যক্তিকে দারিদ্র্যবরণ করতে ও গৃহচ্যুত হতে হয়। যে সকল নারী পূর্বে ঢেঁকিতে ধান ভেনে অথবা স্থানীয় বাজারে কেনাবেচা করে জীবিকা নির্বাহ করত তারা উপার্জনের পথ থেকে বঞ্চিত হয়। খাদ্য ঘাটতির পাশাপাশি নারীরা যখন কাজের অন্বেষণে বের হয় অথবা সাহায্যের আশায় রিলিফ কেন্দ্রগুলোতে ভীড় জমায় তখন তারা যৌন হয়রানির শিকার হয়। দুর্ভিক্ষের বছরগুলোতে নারীরা পরিস্থিতির শিকার হয়। ভুখা নারীরা প্রকাশ্য স্থানে খাদ্য ভিক্ষা করে, আর মধ্যবিত্ত-শ্রেণীর নারীরা রিলিফ প্রদানের কাজে সম্পৃক্ত হয়।
জার্মানি ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লেও ভারত এ যুদ্ধে সম্মতি প্রদান করে নি। সুভাষচন্দ্র বসু ১৯৪১ সালের জানুয়ারি মাসে কলকাতা থেকে পালিয়ে যান এবং ১৯৪৩ সাল নাগাদ সিংগাপুরে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠনে ব্যাপৃত থাকেন। প্রথাগত সেনাবাহিনীর অতিরিক্ত বাহিনী হিসেবে তিনি ঝাঁসির রানী ব্রিগেড নামে নারীদের একটি ইউনিট সংগঠিত করতে চেয়েছিলেন। অনতিবিলম্বে তিনি কিছুসংখ্যক বাঙালি নারীসহ ১০০০ নারীকে রিক্রুট করেন, যারা মাতৃভূমিকে মুক্ত করতে আমরণ যুদ্ধ করতে প্রস্ত্তত ছিল।
১৯৪৬ সালের তেভাগা আন্দোলনে নারীরা ব্যাপকভাবে জড়িয়ে পড়ে। গ্রামাঞ্চলে কৃষকদের সংগঠিত করার কাজে কমিউনিস্টদের মধ্যে ছিলেন রানি মিত্র দাশগুপ্ত, মণিকুন্তলা সেন ও রেনু চক্রবর্তী (১৯১৭-১৯৯৪)। গ্রামের নারীরা প্রথমে সাহায্যকারীর ভূমিকায় এবং পরে নেত্রী ও যোদ্ধা হিসেবে নির্দ্বিধায় এ আন্দোলনে যোগ দেয়। এ ধরনের নারীদের মধ্যে সর্বাধিক পরিচিতদের একজন হলেন মেদিনীপুর জেলার বিমলা মাঝি নামে একজন বিধবা যিনি নারীদের একজন সফল সংগঠকে পরিণত হন।
১৯৪৬ সালের আগস্ট মাস উপদলীয় রাজনীতিতে একটি নতুন পর্বের সূচনা করে। প্রতিবেশী হিন্দু ও মুসলমানরা পাশাপাশি বসবাস করলেও এ সময় তারা একে অপরের বিরুদ্ধে অসৎ উদ্দেশ্যে তৎপর হয়। কলকাতার দাঙ্গার পরে নোয়াখালী, কুমিল্লা ও ত্রিপুরায় দাঙ্গা সংঘটিত হয়।
১৯৪৭ পরবর্তী সময়ে বাঙালি নারীদের বিবরণ দিতে গেলে নারীরা তাদের নতুন জাতীয় পরিচয়ে যেভাবে গড়ে উঠেছে তাতে নারী হিসেবে তারা কি করতে পারত এবং কি করতে পেরেছে এ উভয় চিত্র তুলে ধরতে হবে।  [জেরাল্ডিন ফোর্বেস]
গ্রন্থপঞ্জি  Usha Chakraborty, Condition of Bengal Women Around the Second  Half of the Nineteenth Century, Calcutta, 1963; Ghulam Murshid, The Reluctant Debutante: Response of Bengali Women to Modernization, 1849-1905, Rajshahi, 1983; Meredith Borthwick, The Changing Role of Women in Bengal, 1849-1905, Princeton, 1984; Rokeya Sakhawat Hossain, Sultana’s Dream and Selections from the Secluded Ones, edited and translated by Roushan Jahan, New York, 1988; Tilottama Tharoor, ed, Naari, Calcutta, 1990; Sonia Nishat Amin, The World of Muslim Women in Colonial Bengal, 1876-1939, Leiden, 1996.
সাংবিধানিক অবস্থান বাংলাদেশের নারী জনগোষ্ঠী রাজনৈতিক সামাজিক, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনগ্রসর থাকায় বাংলাদেশের সংবিধানে তাদের অবস্থার উন্নতিকল্পে বিশেষ সুবিধা ও অধিকার সন্নিবেশিত হয়েছে। ১৯৭২ সালে প্রণীত প্রথম ও মূল সংবিধান এবং পরবর্তীতে কয়েকটি সংশোধনীতে তাদের বাড়তি সুযোগ সুবিধা ও সংরক্ষিত অধিকার দেওয়ার কথা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংযোজন করা হয়েছে।
সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে বর্ণনা করা হয়েছে রাষ্ট্রপরিচালনার মূলনীতি। এ অধ্যায়ের ১৫নং ধারার (ঘ) উপধারায় ঘোষিত হয়েছে যে, সমাজের দুঃস্থ মানুষের পাশাপাশি বিধবাদের সামাজিক নিরাপত্তা বিধানের জন্য সরকারি সাহায্য লাভের অধিকার সংরক্ষিত থাকবে। ১৭নং ধারার (ক) উপধারায় বলা হয়েছে, একই পদ্ধতির গণমুখী ও সর্বজনীন শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তন করা হবে এবং আইনের দ্বারা নির্ধারিত স্তর পর্যন্ত সকল বালক এবং বালিকার জন্য অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষাদান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ১৮ (২) ধারায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্র কর্তৃক পতিতা বৃত্তি বন্ধ করার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ১৯নং ধারার ১নং উপধারায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্র সকল নাগরিকের জন্য সমান সুযোগের নিশ্চয়তা দিবে এবং ২নং উপধারায় লিখিত হয়েছে, রাষ্ট্র মানুষে মানুষে সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য বিলোপ করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
বাংলাদেশ সংবিধানের তৃতীয় ভাগে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মৌলিক অধিকার সম্বলিত ধারাসমূহ। ২৭নং ধারায় বলা হয়েছে যে, রাষ্ট্রের সকল নাগরিক আইনের চোখে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী। ২৮নং ধারার ১নং উপধারা অনুযায়ী রাষ্ট্র, ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ ভেদ বা জন্মস্থানের কারণে জনসাধারণের কোনো বিনোদন বা বিশ্রামের স্থানে প্রবেশ বা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়ে কোনো নাগরিককে কোনরূপ অক্ষমতা, বাধ্যবাধকতা বা শর্তের সম্মুখীন হতে হবে না এবং একই ধারার ৪নং উপধারা অনুযায়ী যেকোন অনগ্রসর এলাকার নারী বা শিশু অথবা নাগরিকদের উন্নতির জন্য রাষ্ট্র বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। ২৯নং ধারার ১নং উপধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রের কর্মে নিয়োগ লাভের ব্যাপারে সকল নাগরিকের সমান সুযোগ থাকবে এবং একই ধারার ২নং উপধারায় বলা হয়েছে, কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ ভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিক রাষ্ট্রের কর্মে নিয়োগ বা কর্ম লাভের অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না অথবা তাঁর প্রতি বৈষম্য প্রদর্শন করা যাবে না।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যা ৩০০। এর অতিরিক্ত মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত ৪৫টি আসন। তবে সাধারণ আসনের নির্বাচনে মহিলাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় কোনো বাধা নেই। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, সংবিধান জাতীয় সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য ৬৫নং ধারার মাধ্যমে সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা করেছে। ১৯৭৩-এ সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা ছিল ১৫টি এবং এ আসনগুলি দশ বছরের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। ১৯৭৯ সালে নারী দশকের প্রভাবে এ আসন সংখ্যা ৩০-এ বাড়ানো হয়। নিয়মানুযায়ী ১৯৮৮ সালের সংসদে সংরক্ষিত আসন ছিল না। দশম সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৯১ সালে পুনরায় দশ বছরের জন্য ৩০টি আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। ২০০৪ সালে এ সংখ্যা ৪৫-এ উন্নীত করা হয়েছে।
সংরক্ষিত আসনে পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি প্রচলিত। এ আসনগুলির নির্বাচনের জন্য নির্বাচকমন্ডলী হলেন জাতীয় সংসদের সদস্যগণ। ফলে সংরক্ষিত আসনের জন্য নির্বাচন বাংলাদেশে কোনো সময়ই হয় নি, যা হয়েছে বা হয় সেটি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনয়ন।  [শওকত আরা হোসেন]
আইনগত মর্যাদা  দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নারীরা কতটা সমতা ভোগ করছে আইন কাঠামো এর একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। নারীর অধিকার রক্ষাকারী আইনসমূহ নারীর অধিকার বাস্তবায়নের জন্য আনুষ্ঠানিক সমতার মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও চাকুরি ক্ষেত্রে নারীর অধিকার সুরক্ষায় আইন ন্যায়সঙ্গত হস্তক্ষেপ করতে পারে।
বাংলাদেশে নারী-পুরুষ কর্তৃক ভোগকৃত মৌলিক অধিকারের মূল উৎস হলো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান। জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সম্পর্কে রয়েছে দুই ধরনের আইন: দেওয়ানি ও ব্যক্তিগত। দেওয়ানি আইন সংবিধান প্রদত্ত নারীর অধিকার এবং ব্যক্তি-আইন পারিবারিক জীবনে নারীর অধিকার রক্ষা করে।
বাংলাদেশের সংবিধান রাষ্ট্রীয় ও জনজীবনে নারী ও পুরুষের সমানাধিকার ঘোষণা করে এবং তাতে রাষ্ট্রকে এই লক্ষ্যে ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণে নিদের্শনা দেয়। সংবিধানের ১৯ ধারা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য সম্পূর্ণ বাতিল করে নারীর রাজনৈতিক সমঅধিকারের স্বীকৃতি দেয়।
সংবিধানের ২৭ ধারা দ্ব্যর্থহীনভাবে উল্লেখ করে যে, সকল নাগরিক আইনের চোখে সমান এবং আইনের মাধ্যমে অভিন্ন সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী। ২৮ ধারা রাষ্ট্রকে ‘মহিলা বা শিশু অথবা সমাজের যেকোন পশ্চাদপদ অংশের উন্নয়নের জন্য’ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের নিদের্শনা দিয়েছে। নারীদের বিরুদ্ধে সকল ধরনের বৈষম্যের বিলুপ্তি বিষয়ক জাতিসংঘ সনদ (UNCEDAW) অনুমোদনের মাধ্যমে সরকার এক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।
তবে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নারী ও পুরুষের মধ্যেকার সমানাধিকার ব্যক্তিজীবনের (অর্থাৎ পৈতিৃক উত্তরাধিকার ও পারিবারিক সম্পর্কের) সর্বক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হয় নি। সরকার কর্তৃক সমর্থিত জাতিসংঘের বৈষম্য বিলুপ্তি সম্পর্কিত কনভেনশনকে পরিবারের আওতায় সমানাধিকারের বিধানসমূহের ক্ষেত্রে শর্তাধীন করা হয়েছে। এটা হলো লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠার জন্য UNCEDAW অনুমোদনের মাধ্যমে সরকার প্রদর্শিত আন্তরিকতা থেকে সুস্পষ্ট বিচ্যুতি। দেওয়ানি আইনে নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্যহীনতা বজায় থাকা বাঞ্ছনীয়। কিন্তু এ সকল আইনের কয়েকটি স্পষ্টত নারীর ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক। ১৯৫১ সালের নাগরিকত্ব আইন এধরনের বৈষম্যের একটি উদাহরণ যা নারীর জন্য পুরুষের মতো আইনগত সমানাধিকার ভোগের সুযোগ সঙ্কুচিত করেছে।
ফৌজদারি আইনসমূহ ধর্মীয় আইনের ওপর ভিত্তিশীল নয়। তবু এসব আইন কিছু ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্যহীনতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান ফৌজদারি আইনে ধর্ষণ একটি যৌন সহিংসতা, কিন্তু একজন মহিলার ক্ষেত্রে ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণ খুবই কঠিন করা হয়েছে, কেননা এজন্য সাক্ষ্যপ্রমাণবিধি মোতাবেক ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে ধর্ষণের আলামত এবং তা যে ইচ্ছার বিরুদ্ধে ঘটেছে ধর্ষিতাকেই তা প্রমাণ করতে হয়। এ আইন নির্যাতিত ও অভিযুক্তকে অভিন্ন অবস্থানে রেখেছে, কেননা আইন মোতাবেক নির্যাতিতাকে অভিযোগ প্রমাণ করতে হয়।
সংবিধান শিল্পখাতে বিদ্যমান শ্রম-আইন বৈষম্যহীন ও পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার নিশ্চয়তা দেয়, কিন্তু বাস্তবে এসকল আইন থেকে নারী-শ্রমিকরা খুব কমই নিরাপত্তা পেয়ে থাকে। কারখানাস্থলে বিরাজমান ব্যবস্থায় পরিচালকদের বিধিবদ্ধ দায়িত্ব এড়িয়ে যাবার সুযোগ রয়েছে। অবিবাহিত নারীদের অগ্রাধিকারভিত্তিক নিয়োগ এবং নারী শ্রমিকদের অবেক্ষাধীন মেয়াদ  আইনগত মেয়াদের চেয়ে অতিরিক্ত হওয়ায় অনেক নারী-শ্রমিক তাদের বৈধ/আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। অনানুষ্ঠানিক খাতে নারী-শ্রমিকদের ব্যাপক সংখ্যাবৃদ্ধি সত্ত্বেও তাদের অধিকারসমূহ আইন দ্বারা সুরক্ষিত নয়।
সংবিধান নারীর অধিকার ও মর্যাদার যে নিশ্চয়তা দিয়েছে এবং সামাজিক নিয়মাচার ও রীতি হিসেবে ব্যক্তি-আইনে যা প্রতিফলিত হয়েছে এ দুয়ের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়েছে। ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ে জন্মগ্রহণ করে সেই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ব্যক্তি-আইন বস্ত্তত পারিবারিক আইনসমূহের ভিত্তি। সুতরাং বিবাহ, বিবাহ-বিচ্ছেদ, অভিভাবকত্ব, শিশু-রক্ষা ও উত্তরাধিকার বিষয়ে দেওয়ানি আইন ও ব্যক্তি-আইন নারী-পুরুষের ব্যবধান অব্যাহত রেখে চলেছে।
মুসলিম আইন অনুসারে বিবাহ হলো দু’ব্যক্তির মধ্যে সম্পাদিত একটি চুক্তি এবং এই চুক্তির বৈধতার জন্য দু’জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের সম্মতি প্রদান অত্যাবশ্যক। বাল্যবিবাহের ক্ষেত্রে আইনের ব্যাখ্যা হচ্ছে: মেয়েকে বাল্যাবস্থায় পিতামাতা বিয়ে দিলে মেয়েটি সাবালেগ হওয়ার পর অবশ্যই সে তা অনুমোদন বা বাতিল করতে পারবে। বাল্যবিবাহ রোধের পদক্ষেপ হিসেবে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ১৯২৯ (১৯৮৪ সালে সংশোধিত) নারী-পুরুষের বিয়ের ন্যূনতম বয়স বাড়িয়ে সংশোধিত আইনে নারীর জন্য ১৮ ও পুরুষের জন্য ২১ বছর নির্ধারণ করেছে। কিন্তু বাস্তবে এটির প্রয়োগ খুবই সীমিত এবং এ আইনভঙ্গের জন্য মামলা দায়ের হয়েছে এমন নজীর খুবই কম। আইনটি ভঙ্গের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা থাকলেও এতে এধরনের বিবাহ অবৈধ ঘোষণার কোনো বিধান নেই। ইসলাম সীমিত আকারে বহুবিবাহ অনুমোদন করে যেখানে একজন ব্যক্তি বিশেষ শর্তাধীনে একসঙ্গে ৪ জন স্ত্রী রাখতে পারে: (ক) স্ত্রীদের মর্যাদানুযায়ী ভরণপোষণ দেওয়ার ক্ষমতা স্বামীর থাকতে হবে; (খ) স্বামী সকল স্ত্রীকে সমান ভালোবাসা দিবে এবং সকলের প্রতি সমদর্শী হবে। কিন্তু এ ধরনের নির্দেশাবলি কার্যকর করার পদ্ধতির অভাবে বয়োজ্যেষ্ঠ স্ত্রীগণ সাধারণত স্বামীর অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে।
এসকল স্ত্রীর সুরক্ষা বিধানের জন্য ১৯৬১ সালের পারিবারিক অধ্যাদেশে সালিস পরিষদ এবং বর্তমান স্ত্রী/স্ত্রীগণের লিখিত পূর্বানুমতি ব্যতীত কোনো ব্যক্তির পক্ষে অন্য কোনো বিবাহের চুক্তি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন ভঙ্গকারীর জন্য শাস্তি হিসেবে রয়েছে তাৎক্ষণিক পুরো দেনমোহর বা মোহরানা (স্ত্রীর কাছে স্বামী কর্তৃক একটি নির্ধারিত অঙ্কের অর্থ প্রদানের অঙ্গীকার) পরিশোধ। স্ত্রীর চাহিদানুযায়ী তলবী মোহরানা সঙ্গে সঙ্গে এবং স্থগিত মোহরানা বিবাহ বিচ্ছেদের সময় পরিশোধ করতে হয়। শাস্তির মধ্যে আরও আছে ১ বছর পর্যন্ত কারাদন্ড বা ৫০০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দন্ড। কিন্তু এ অধ্যাদেশে পরবর্তী বিবাহ অবৈধ ঘোষণার কোনো বিধান নেই।
মুসলিম আইনের অধীনে নিম্নোক্ত যেকোন একটি উপায়ে বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটানো যায়: (ক) আদালতের হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বামী ও স্ত্রীর পারস্পরিক সম্মতির মাধ্যমে; (খ) ১৯৩৯ সালের মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ অনুযায়ী স্ত্রীর অনুরোধে আদালতের ডিক্রি অনুসারে এবং (গ) কোনো কারণ প্রদর্শন ব্যতিরেকে স্বামীর ইচ্ছানুযায়ী।
১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশে সাক্ষীদের সম্মুখে বিবাহ বিচ্ছেদের অভিপ্রায় প্রকাশের এবং চূড়ান্ততালাক সম্পন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া সংশোধিত হয়েছে। অনুসৃত কার্যক্রম অনুযায়ী তালাক তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে না। বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে প্রেরিত বিজ্ঞপ্তি ও বিবাহ বিচ্ছেদ কার্যকর হওয়ার মধ্যে ৯০ দিনের ব্যবধান থাকতে হবে।
মুসলিম বিবাহ রেজিস্ট্রার কর্তৃক কাবিন রেজিস্ট্রির সময় স্বামী কর্তৃক স্ত্রীকে তালাকের অধিকার প্রদান করলেই কেবল মুসলিম নারী ইচ্ছানুযায়ী বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার পায়। অবশ্য স্ত্রী কোর্ট-ডিক্রির মাধ্যমে তালাক গ্রহণ করতে পারলেও তা একটি অনিশ্চিত, ব্যয়বহুল ও প্রলম্বিত জটিল পদ্ধতি। এর ফলে আইন সংস্কার হওয়া সত্ত্বেও বিবাহ ও তালাকের ক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য টিকে আছে।
মুসলিম আইন অনুসারে মৃত স্বামীর সগোত্রীয় উত্তরাধিকারী থাকলে স্ত্রী সম্পত্তির নির্দিষ্ট অংশ হিসেবে এক-অষ্টমাংশ পায়,  আর সেরকম উত্তরাধিকারী না থাকলে পায় মৃত স্বামীর সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ।
একমাত্র কন্যা মৃত পিতা বা মাতার অর্ধেক সম্পত্তির উত্তরাধিকারী। পুত্র ছাড়া একাধিক কন্যা থাকলে কন্যাগণ যৌথভাবে সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশের অধিকারী হয়। যদি সেখানে কোনো পুত্র (বা পুত্রগণ) থাকে তাহলে কন্যা অথবা প্রত্যেক কন্যার অংশ হবে পুত্র বা পুত্রদের অংশের অর্ধেকের সমান। এক কথায়, পুরুষ সদস্যরা নারী সদস্যদের চেয়ে বেশি সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হয়। সুতরাং উত্তরাধিকারের বিষয়েও ব্যক্তি-আইনে বিস্তর লিঙ্গবৈষম্য বিদ্যমান।
মুসলিম আইন অনুসারে মা কখনও সন্তানদের অভিভাবকত্বের অধিকারী নন। এ অধিকার পিতার ওপর এবং তারপরে তার পিতা ও ভাইদের ওপর ন্যস্ত থাকে। মা ৭ বছর বয়স পর্যন্ত পুত্রসন্তানদের ও কন্যাসন্তান সাবালিকা না হওয়া পর্যন্ত তাদের যত্ন করার ও অভিভাবকত্বের অধিকারী।
১৮৯০ সালের প্রতিপাল্য ও অভিভাবকত্ব আইন দ্বারা সংশোধিত আইনসমূহে বলা হয়, পিতামাতার অধিকারের চেয়ে সন্তানদের কল্যাণ অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। একজন মায়ের কাছে নির্ধারিত বয়সের পরেও সন্তানরা থাকতে পারে যদি আদালত সন্তোষজনভাবে মনে করে যে, সন্তানরা পিতার নিকট যথেষ্ট যত্ন পাবে না। মা আদালতে সন্তানদের অভিভাবকত্ব দাবি করে আবেদন করতে পারেন। কিন্তু এটি একটি প্রলম্বিত ও ব্যয়বহুল মামলা। পিতা বিশেষ পরিস্থিতিতে সন্তানের সম্পত্তি হস্তান্তর করতে পারেন, কিন্তু মায়ের সেই অধিকার নেই; এমনকি সন্তানের অভিভাবকত্ব পেলেও মা আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়া তা পারেন না। একজন মুসলমান মা আর্থিকভাবে স্বচ্ছল পুত্রের কাছ থেকে নিজ ভরণপোষণ লাভের অধিকারী। (মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১)।
বর্তমান আইনে অনুষ্ঠিত প্রতিটি মুসলিম বিবাহ রেজিস্ট্রিকরণ বাধ্যতামূলক। বিবাহ ও তালাক রেজিস্ট্রিকরণ আইন, ১৯৭৪ নামে একটি আইনও রয়েছে। সাধারণত গ্রামাঞ্চলে দেখা যায়, গ্রামের অধিকাংশ বিবাহ রেজিস্ট্রি করা হয় না। আবার বাল্যবিবাহ নিরোধের আইন বলবৎ থাকা সত্ত্বেও ১৮ বছরের অনেক কমবয়সী মেয়েদেরও বিয়ে দেওয়া হয়। তবে বাংলাদেশে, বিশেষত গ্রামাঞ্চলে জন্মনিবন্ধীকরণ রীতির অভাবে এ আইনটির বাস্তবায়ন যথেষ্ট কঠিন। ধর্মীয় বিধি অনুসারে মোহরানার (স্ত্রীকে প্রদেয় অর্থ) ব্যবস্থা থাকলেও খুব কমক্ষেত্রেই তা পরিশোধ করা হয়। বাস্তবে সমাজে এখন যৌতুকপ্রথা (বিবাহে বিয়ের কনের অভিভাবক কর্তৃক অর্থ, গহনা ও বিলাসদ্রব্যাদি উপহার) চালু রয়েছে এবং তা একটি সামাজিক প্রথায় পরিণত হয়েছে। যৌতুক পরিশোধ না করায় প্রায়শই অনেক মহিলার জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে।
নারীদের আইনগত মর্যাদা উন্নয়নের জন্য মহিলা সংগঠনসমূহের দাবির প্রতি সাড়া দিয়ে সরকার কখনো কখনো বিদ্যমান আইনগুলি সংশোধন ও নতুন নতুন আইন প্রণয়ন করছে। এগুলির মধ্যে রয়েছে: মুসলিম ব্যক্তি-আইন (শরিয়ত) প্রয়োগ আইন ১৯৩৭; মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ১৯৩৯; মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ ১৯৬১ (১৯৮৬ সালে সংশোধিত); মুসলিম পারিবারিক আইন বিধি ১৯৬১; মুসলিম বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদ রেজিস্ট্রেশন বিধি ১৯৭৪; মুসলিম বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ১৯৭৫; মুসলিম বিবাহ বিচ্ছেদ আইন ১৯৩৯; পারিবারিক আদালত অধ্যাদেশ ১৯৮৫;  পারিবারিক আদালত বিধি ১৯৮৫;  বাংলাদেশ দন্ডবিধি ১৮৬০;  সাক্ষ্য-প্রমাণ আইন ১৯৮০; দেওয়ানি কার্যবিধি ১৯০৩;  ফৌজদারি আইন সংশোধনী আইন ১৯৩৮; অনৈতিক কর্মকান্ড দমন আইন ১৯৩৩;  যৌতুক নিষিদ্ধকরণ আইন ১৯৮০;  নারী-নির্যাতন (প্রতিরোধমূলক শাস্তি) আইন ১৯৮৩; নারী ও শিশু নির্যাতন (বিশেষ বিধান) আইন ১৯৯৫; এবং  সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে দেওয়ানি আইনসমূহ প্রযোজ্য হলেও বিবা।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।