1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ০৫:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পাইকগাছায় নবাগত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের দাপটে আতঙ্কিত কালিয়া-চাপাইল প্রধান সড়ক প্রতিমন্ত্রী ড. লায়ন ফরিদকে ফোয়াব’র প্রকাশনা গ্রন্থ হস্তান্তর তালার নগরঘাটায় দলীয় কার্যালয়ে আগুন, প্রতিবাদে নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ দাকোপে সাড়ে ৪ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা অগ্রনী ব্যাংক এজেন্ট শাখা জীবিকার তাগিদে স্বপ্ন বুনছেন এক সংগ্রামী নারী পাইকগাছায় পরীক্ষামূলক বার্লি চাষ, লবণাক্ত জনপদে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা ঈদের ছুটি আরও বাড়ানোর চিন্তাভাবনা জ্বালানির মজুদ এক লাখ ৩৬ হাজার টন, দাম বাড়ার শংকা নেই মার্কিন নাগরিকদের ১৪টি দেশ ছাড়ার আহ্বান, সহায়তা মিলবে না ইসরায়েলে

আওয়ামী লীগের ভোট যে জোটে গড়াবে সরকার গঠন তারাই করবে

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ৩০ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে চলছে বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা ও চুল ছেড়া বিশ্লেষণ। কিন্তু ইতিমধ্য বিভিন্ন অনুসন্ধানে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আওয়ামী লীগের ভোট যে জোটে যাবে ‌সরকার গঠন করবে তারাই ‌। দেশে-বিদেশী বিভিন্ন পর্যবেক্ষক ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। জামায়াতে ইসলামী জোট ও বিএনপির জোট যতই আওয়ামী লীগকে নিয়ে সমালোচনা করুক না কেন এবার বাংলাদেশের রাজ ক্ষমতায় যেতে হলে দই জোটেরই প্রয়োজন হবে আওয়ামী লীগের ভোট।‌‍ কারণ দেশে-বিদেশি বিভিন্ন জরিপ ও পর্যালোচনায় উঠে এসেছে আওয়ামী লীগের ৭০শতাংশ সমর্থন রয়েছে অনেকে বলেছে আওয়ামী লীগের ৬০% সমর্থন রয়েছে আবার অনেকে বলেছে আওয়ামী লীগের ৫০ শতাংশ সমর্থন রয়েছে আবার বিভিন্ন এনজিও গোলক জরিপে ‌ ‌বলছে আওয়ামী লীগের ৪৮ শতাংশ সমর্থন রয়েছে ।কিন্তু অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে হয়তোবা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নীতি নির্ধারক অথবা স্বয়ং সাবেক প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সভাপতি নিজেই বলেছেন আওয়ামী লীগের কোন ভোটাররা কেন্দ্রে যাবে না। তবে ধরে নেওয়া যাক আওয়ামী লীগের ভোটাররা প্রার্থীদের হাত কাটাতে না পেরে আওয়ামী লীগের যে সমর্থন রয়েছে তার ৪০শতাংশ ‌ভোট দিতে যাবেন ভোটাররা। এই ৪০‌শতাংশ ভোটাররা যে জোটের দিকে সীল দিবেন সেই জোটই বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে রাষ্ট্রক্ষমতার অধিকার অর্জন করবেন এখানে এর ব্যতিক্রম কোনটাই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। সে কারণে আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটারদের বাগিয়ে নিতে ইতিমধ্য বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামের জোটের কিছু কিছু প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের ভোট নেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মামলা প্রত্যাহার তাদের জামিন সহ যাবতীয় নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। এদিকে আওয়ামী লীগের ভোটাররা বিচক্ষণ করছেন জামায়াতে ইসলাম জোট ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র খোদ নীতি নির্ধারক তারেক ‌‌রহমান ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ‌শফিকুর রহমান আওয়ামী লীগ সম্পর্কে কি বক্তব্য দিচ্ছে কি সমালোচনা করছে কে কি দুর্নাম ও সুনাম গাছে ‌বসে বসে এবং নানা জায়গায় যোগাযোগ রেখে বিচক্ষণ করছেন। যে জোট আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে দূরনাম ‌বদনাম থেকে সরে এসে ভালো সমালোচনা করছেন আওয়ামী লীগের ভোটার ‌যারা ভোট দিতে যাবেন চিন্তা ভাবনা করে সেই জোটে ভোট দিবেন। আর আওয়ামী লীগের এই ৩০ ও ৪০ শতাংশ ভোটাররা যে ‌জোটের দিকে ভোট ‌ঠেলে দিবেন তারাই আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশের রাজ ক্ষমতায় যাবেন। সর্বোপরি বিশ্লেষণ ও বিশেষজ্ঞদের মতে আওয়ামী লীগের ভোট আগামী নির্বাচনের জন্য সোনার হরিণ হয়ে দাঁড়াতে পারে ‌, এবং আওয়ামী লীগের ভোটের সমর্থন ছাড়া দই জোটের ‌কেহ ‌এককভাবে লাভজনক হতে পারবে না। আওয়ামী লীগের ‌এই ভোট যেদিকে ঝুকবে সেদিকে আগামী নির্বাচনে রাষ্ট্র ক্ষমতা তারাই শাসন করবে। এটা বিভিন্ন বিশ্লেষক ও দেশি-বিদেশি জরিপ এবং দেশী বিদেশী ‌সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাই এখন বিশেষজ্ঞ মহলের অভিমত আওয়ামী লীগকে মামলা হামলা দিলেও আওয়ামী লীগের ‌ভোট সামনে নির্বাচনে যারা সরকার গঠন করবে তাদের জন্য ইতিহাসের পাতায় রূপকার হয়ে থাকবে।ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারযুদ্ধ বাড়তে থাকার মধ্যে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী পরস্পরের প্রতি আক্রামণাত্মক বক্তব্য দিয়েছে; সে তুলনায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও দলটির বিগত সরকার নিশানা হল কমই।
বরং দুই দলকেই সতর্কতার সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের ‘নির্দোষ’ ভোটারদের পক্ষে টানার চেষ্টা দেখা গেছে।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক পটভূমিতে দলটিকে বাইরে রেখেই এবারের নির্বাচন হচ্ছে, কিন্তু ভোটের আলোচনায় থাকছে আওয়ামী লীগ; দলটির প্রতীক নৌকার ভোটাররা কি ভোটকেন্দ্রে যাবে? সেই প্রশ্নও এসেছে আলোচনায়।
বিএনপির ভেতর থেকে একটি প্রাথমিক বিশ্লেষণ করার কথা জানা যাচ্ছে, যদিও দলটির কোনো নেতাই সেটিকে ‘বিএনপির বিশ্লেষণ’ বলে স্বীকার করতে চাননি।
সেই বিশ্লেষণে যে ধারণা দেওয়া হয়েছে, তাতে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় তৃণমূলের একটি বড় অংশ নির্বাচনে ভোট দেবে না। কিছু ভোট বিএনপির দিকে ঝুঁকবে, আর রক্ষণশীলদের একটি অংশ যাবে জামায়াতের বাক্সে।
এর আগে ইনোভিশন কনসাল্টিং নামে একটি প্রতিষ্ঠান দুই পর্বে একটি জরিপ চালায়, সেখানে আওয়ামী লীগ ভোটে না থাকলে তাদের ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
৭০ বছরের বেশি পুরনো আওয়ামী লীগের রয়েছে বড় সমর্থকগোষ্ঠী। তাদের বাইরে রেখে নির্বাচন কতখানি অংশগ্রহণমূলক হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশ-বিদেশের অনেকে।
ব্যালট পেপারে আওয়ামী লীগের প্রতীক নৌকা থাকবে না; কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার চায় তাদের সমর্থকরা ভোটকেন্দ্রে আসুক, চায় নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোও।
গণঅভ্যুত্থানে পর হত্যা, হামলা, নির্যাতনের শিকার দলটির নেতৃত্বের একটি অংশ দেশে ছেড়েছে। দেশে যারা ছিলেন তাদের বড় অংশই আত্মগোপনে, কেউ কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন। আর গ্রেপ্তারের ভয়ে বহু কর্মী বাড়িছাড়া।
আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের যারা এলাকায় রয়েছেন তারাও কি ভোটকেন্দ্রে আসবে? এ প্রশ্ন যখন জনসাধারণের মধ্যে ঘুরছে, তখন আওয়ামী লীগের ভোট টানতে বিভিন্ন ধরনের ‘চটকদার’ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা।
তবে বিভিন্ন রাজনৈতিক সাথেসঙ্গে আলা‍পকালে আওয়ামী লীগের একাধিক স্থানীয় সংগঠকের দাবি, দলের পক্ষ থেকে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আওয়ামী লীগের তরফে প্রচার আছে যে বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন ‘কোনো স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নয়’। নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করতে প্রচার চলেছে দলের তরফে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতা হারানোর পর থেকে ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন সবচেয়ে বেশি সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা।
জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত এ প্রধানমন্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, ফলে বাংলাদেশের অন্যতম পুরনো এই দলটি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হবে।
আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এক সময় দেশের রাজনীতিতে নিষিদ্ধ থাকা জামায়াত। তাদের নির্বাচনি জোটে যোগ দিয়েছে অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি।
ভোটের মাঠে আছে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে বিগত তিন সংসদে বিরোধী দলে থাকা জাতীয় পার্টি। তবে তাদের জোট ১৪ দলের শরিকদের প্রায় সব দলই নির্বাচন বর্জন করেছে।
এবার সর্বোচ্চ প্রার্থী রয়েছে বিএনপির ২৮৮ জন; ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৩ জন; জামায়াতের ২২৪ জন; জাতীয় পার্টির ১৯২ জন; গণঅধিকার পরিষদের ৯০ জন এবং এনসিপির ৩২ জন ভোটে রয়েছেন।
সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু হয়েছে ২২জানুয়ারি ‌বৃহস্পতিবার, চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল পর্যন্।
পঁচাত্তরের পর পাঁচ মেয়াদে সরকারে থাকা আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোট পেতে চাইছেন বিএনপি, এনসিপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের নেতারা।
এই প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে বিএনপির ভেতরে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে একটি প্রাথমিক বিশ্লেষণ দাঁড় করানো হয়েছে তফসিল ঘোষণার আগে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয় গেল ১১ ডিসেম্বর।
‘ন্যাশনাল ইলেকশন: অ্যান অ্যানালাইসিস অব পাস্ট ন্যাশনাল ইলেকশনস ইন বাংলাদেশ অ্যান্ড প্রেডিকশনস ফর দি ২০২৬ ন্যাশনাল ইলেকশন’ শীষক এই পর্যবেক্ষণের বিষয়ে বিএনপির নির্বাচনি কার্যক্রমে যুক্ত একজন নেতা বলেছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন পক্ষ আওয়ামী লীগের বিষয়ে জানতে চায়। সেদিকে লক্ষ্য রেখে বেশ কিছুদিন আগে দলটির সমর্থকদের ভোট ও তাদের ভোটকেন্দ্রে আসার সম্ভাবনা পর্যালোচনা করা হয়েছে।
বিএনপি মনে করছে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে না থাকায় তৃণমূলের একটি ‘বড় অংশ ভোট দেবে না’। কিছু ভোট বিএনপির দিকে ‘ঝুঁকবে’। ‘রক্ষণশীল’ ভোটারদের একটি অংশ জামায়াতের প্রার্থীকে ভোট ‘দেবে’। সিলেট, সাতক্ষীরা, কক্সবাজার ও বগুড়ার নির্বাচনি এলাকাগুলোয় এ ধরনের চিত্র উঠে আসতে পারে।
৯১, ৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে করা এই বিশ্লেষণ বলছে, নির্বাচনে না থাকায় আওয়ামী লীগের ৩৫ শতাংশ ভোট অন্যদের বাক্সে ভাগ হয়ে যাবে।
সেখানে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের মোট সমর্থকের ৪৫-৫৫ শতাংশের ভোট বিএনপির দিকে ঝুঁকবে। ১৫-২০ শতাংশ সমর্থকদের ভোট ধর্মভিত্তিক দল, তথা জামায়াতের দিকে যেতে পারে। ১৫-২০ শতাংশ আওয়ামী লীগ সমর্থক স্থানীয় শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন।
“আওয়ামী লীগ যখন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে না, তখন তাদের ভোট পুরোপুরি আসে না। আওয়ামী লীগের অন্তত ১০-২০ শতাংশ সমর্থক নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে পারে।”
এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা মনে করছেন, দলের পতনের পর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দিতে ‘না পারার’ যে প্রচারণা আছে, তাতে করে আগামী নির্বাচনও একই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। আর এই দিকটি আওয়ামী লীগের কৌশলগত অবস্থানকেই চিহ্নিত করছে।
এই বিশ্লেষণে জামায়াতের সম্ভাব্য ভোট পাওয়ার হার ধরা হয়েছে ১১ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ, আর বিএনপির ক্ষেত্রে এই হার ধরা হয়েছে ৪০ শতাংশ থেকে ৪৮ শতাংশ।
ইনোভিশন কনসাল্টিং নামে একটি প্রতিষ্ঠান গেল বছর দুই পর্বে ‘জনগণের নির্বাচন ভাবনা’ শীর্ষক জরিপ পরিচালনা করেছিল।
তফসিল ঘোষণার প্রায় আড়াই মাস আগে ২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা এই পর্বের (২-১৫ সেপ্টেম্বর) ফলাফলে দেখা যায় ৪১ দশমিক ৩০ শতাংশ উত্তরদাতা বিএনপিকে ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। মার্চে এই হার ছিল একটু বেশি, ৪১ দশমিক ৭০ শতাংশ।
জামায়তের ক্ষেত্রে এই হার মার্চের ৩১ দশমিক ৬০
আর ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ উত্তরদাতা আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন। গত মার্চে প্রথম পর্বের জরিপে এই হার ছিল ১৪ শতাংশ।
এনসিপির ক্ষেত্রে ৫ দশমিক ১০ শতাংশ থেকে কমে ৪ দশমিক ১০ শতাংশ; জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রে ১ শতাংশ থেকে দশমিক ৯০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
ব্যতিক্রম শুধু ইসলামী আন্দোলন। তাদের ভোট দিতে আগ্রহীর সংখ্যা মার্চের ২ দশমিক ৫০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ১০ শতাংশ হয়েছে।
এদিকে আওয়ামী লীগ ভোটে না থাকলে বিএনপি (৪৫.৬ শতাংশ) ও জামায়াত (৩৩.৫ শতাংশ) প্রধান সুবিধাভোগী হিসেবে দেখা যায় এবং উল্লেখযোগ অংশ (৮.৩ শতাংশ) ভোট দিতে যাবে না, এর রকম মনোভাব উঠে আসার কথা বলেছে ইনোভিশন কনসাল্টিং।
হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনটি ‘আওয়ামী লীগের আসন’ হিসেবে পরিচিত। এবার নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াত-জোটের প্রার্থী ও কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ভোট করছেন এখানে।
এখানে কী সমীকরণ চলছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ভোট নিয়ে? এলাকার আওয়ামী লীগের একজন কর্মী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এখনো আমাদের এলাকার অনেকেই মনে করে, নির্বাচন হবে কি না? নির্বাচন হলেও ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ আওয়ামী লীগের ভোটার নির্বাচন থেকে বিরত থাকবে। বাকি ভোট নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা আছে।
“স্বতন্ত্র প্রার্থীদের দিকে কিছু যাবে। কিছু পাবে বিএনপির প্রার্থী, আত্মীয়তার থাকার কারণে আওয়ামী লীগের ভোট কিছুটা যাবে তার দিকে। তবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রায় ৮০ শতাংশই বিরত থাকবে, এটা বলা যায়।”
চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৪ আসনে বিজয়ী হন জাতীয় পার্টির সৈয়দ মোহাম্মদ কায়সার। ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে আসনে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের এনামুল হক মোস্তফা শহীদ। বিএনপির মোহাম্মদ ফয়সাল ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন। সপ্তম, অষ্টম, নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এনামুল হক টানা নির্বাচিত হন। একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মাহবুব আলী নির্বাচিত হন।
২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার সেগুন বাগিচা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। দুর্নীতি ও জুলাই আন্দোলনের সময় কয়েকটি হত্যার ঘটনায় সাবেক এই প্রতিমন্ত্রীকে আসামি করা হয়েছে।
আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ-২ আসনে দলের প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “আওয়ামী লীগের আমলে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে যে নির্বাচন হয়েছে, সেগুলোয় দেশের ভোটাররা ভোট দিতে পারেননি। সাধারণ মানুষের মতো অনেক আওয়ামী লীগের সমর্থকেরাও কিন্তু নির্বাচনগুলোতে আগ্রহ দেখায়নি।
“সেদিক থেকে এবারের নির্বাচনে দেশের মানুষ অংশ নেবে। আওয়ামী লীগের সমর্থকেরাও বিরত থাকবে না। তারা নিশ্চিতভাবে উদার প্রার্থীদেরকে ভোট দেবে।”
প্রচারের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার ঠাকুরগাঁওয়ে দেবীপুরের শোল্টোহরি কলকুঠি বাজারে ভোটের প্রচারকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের ‘নির্দোষ’ কর্মীদের ক্ষতি দেবেন না, তাদের পাশে আছেন।
সেদিন লক্ষ্মীপুর-২ আসনে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থনে আয়োজিত একটি পথসভায় দলের স্থানীয় নেতা বাহার উদ্দিনের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার খবর এসেছে, যেখানে তিনি আওয়ামী লীগের ‘ভালো লোকদের’ কাছে ভোট চাইতে যাওয়ার কথা বলেছেন।
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে যোগ দেওয়ার একটি খবর এসেছে কদিন আগে।
ওই উপজেলার ভেলাবাড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী বলেন, “আমি শুনেছি আওয়ামী লীগের এক-দেড়শ যোগ দিসে।”
যোগদানের ফলে কী হবে? জবাবে তিনি বলেন, “আমি অসুস্থ, আমি এগুলো বলতে পারবো না।’
মোহাম্মদ আলী বর্তমানে আওয়ামী লীগে যুক্ত থাকলেও তিনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন।
আওয়ামী লীগের সমর্থকদের কাছে টানতে স্থানীয়ভাবে জামায়াতের পক্ষ থেকেও নানা তৎপরতা আছে। সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লতিফুর রহমান ঘোষণা দিয়েছেন, আওয়ামী লীগ থেকে জামায়াতে যোগ দিলে তারা সব ‘দায়-দায়িত্ব নেবেন’।
শুক্রবার জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান উত্তরাঞ্চলে নির্বাচনি প্রচারে গিয়ে বলেছেন, “৫ অগাস্টের পর কথা দিয়েছিলাম, আমরা মামলা বাণিজ্য করবো না। আমার হাজার হাজার মামলা করি নাই।”
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াত নেতার আশ্বাসের পর দলের আমিরের এই বক্তব্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জন্য সে ধরনের বার্তা দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে।
জামায়াতের ঢাকা মহানগরের একজন নেতা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলছেন, আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোট নিজেদের বাক্সে নিতে স্থানীয়ভাবে নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ‘মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া’, ‘এলাকায় ফিরে আসার নিশ্চয়তা’সহ নানা বিষয়ে সহায়তার আশ্বাস দিয়ে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের কাছে টানতে তৎপর আছেন জামায়াতের প্রার্থীরা।
তবে জামায়াতের প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের পর্যবেক্ষণ ভিন্ন। তিনি মনে করেন, “আওয়ামী লীগ আমলের তিনটি নির্বাচন ছিল ভোটারবিহীন। সেই নির্বাচনে কেবল অন্ধ সমর্থকেরা নির্বাচনে ভোট দিয়েছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে নির্বাচনে কোনো ভোটার ছিল না।”
বিডিনিউজ টোয়েন্টি ফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “বিগত সরকার নানাভাবে নির্যাতন করেছে, আয়নাঘর, খুন, গুমসহ নানা অপরাধ করেছে। ওই সব অপরাধে আওয়ামী লীগের যেসব সমর্থকেরা সমর্থন দেয়নি, তারা নিশ্চয়ই আগামী নির্বাচনে ভোট দেবে।
“জামায়াতে ইসলামী দলমত নির্বিশেষে মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার ডাক দিয়েছে। যারা অপরাধ করেনি, অপরাধে যুক্ত নয়, তারা নিশ্চয়ই ভোট দেবে।”
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কবর জিয়ারত করে ভোটের প্রচার শুরু করেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হাবিবুর রহমান। দলের নির্দেশ অমান্য করে গোপালগঞ্জ-৩ (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) আসনে প্রার্থী হওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ আসনে নির্বাচন করে কখনো পরাজিত হন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
একটি জেলার দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের একজন সংগঠক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আওয়ামী লীগ কূটনীতিকভাবে আগাচ্ছে। এখন মাঠে দলীয় আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেই। তবে শেখ হাসিনা বিভিন্ন বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, ‘যেখানে নৌকা নেই, সেখানে কীসের ভোট’।”
এই সংগঠকের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সারাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ নানা পক্ষের সহিংসতার শিকার হয়েছেন। যদিও এখন পর্যন্ত দলীয়ভাবে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো পরিসংখ্যান তুলে ধরেনি আওয়ামী লীগ।
তবে গোপনীয়তা রক্ষা করে তালিকা বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার কাছে পৌঁছানোর কাজ চলমান রয়েছে বলে আওয়ামী লীগের সমর্থকেরা বলছেন।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের প্রতিবেদনে ধারণা দেওয়া হয়েছে, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ অগাস্টের মধ্যে ১,৪০০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, সরকারের হিসাব অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা প্রায় ৮০০।
“১,৪০০ সংখ্যাটি ধরা হয়েছে ১৫ অগাস্ট পর্যন্ত। আমাদের সরকার পতন হয় ৫ অগাস্ট। ৫ অগাস্ট থেকে ১৫ অগাস্টের মধ্যে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের কে হত্যা করেছে?”
জয় বলেন, “আমাদের সরকার পতনের পর যে ৫০০ মানুষ নিহত হয়েছে, তাদের কী হবে? তাদের কে হত্যা করেছে? কারা তাদের মেরেছে?”
জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের আইনি সুরক্ষা দিতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ অধ্যাদেশের’ খসড়ায় অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
গেল বছর বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগ কর্মসূচি দিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু মে মাসে দলটির কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। নির্বাচন কমিশনও তাদের নিবন্ধন স্থগিত করে।
তার পরেও বিভিন্ন সময় ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ঝটিকা মিছিল করেছে। নভেম্বরে শেখ হাসিনার রায় ঘিরে দুই দফা কর্মসূচিতে সহিংসতার কিছু ঘটনাও ঘটেছে। সরকারের কঠোর অবস্থান ও ধরপাকড়ের কারণে আর মাঠে নামতে দেখা যাচ্ছে না দলটিকে।
এছাড়া গেল বছর আওয়ামী লীগের সঙ্গে অন্য দলের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত যে প্রতিবেদন দিয়েছে, তাতে সারাদেশে ৪০১টি ঘটনায় ৪৭৪৪ জন আহত ও ১০২ জন নিহত হওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে।
বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তৈরি করা এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির অনুসারীদের অন্তত ৩৫টি ঘটনা ঘটে। এতে আহতের সংখ্যা ৪৫৪। এই সময়ে উভয়দলের সংঘর্ষে মারা গেছে ৯ জন।
একইসময়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জামায়াতের পাঁচটি ঘটনায় ২১ জন আহত ও একজন নিহত হয়েছেন।
বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘটিত ৩৩টি ঘটনায় বিরোধে ৫২০ জন আহত ও তিনজন নিহতের হওয়ার তথ্য দিয়েছে আসক।
তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি ও জামায়াতের চেয়ে আওয়ামী লীগের সঙ্গে তুলনামূলক কম সংঘর্ষে জড়িয়েছে এনসিপি। তরুণদের এ দলটির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে ৫০ আহত ও পাঁচজন নিহতের কথা বলেছে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনটি। গত বছরের জুলাইয়ে গোপালগঞ্জে এনসিপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটেছিল।
যেখানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের জন্য ছাত্র নেতৃত্বকে দায়ী করা হয় তাদের দল এনসিপিকে। এছাড়া আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার জন্য সরব হওয়া দলগুলোর অন্যতম তরুণদের এই দলটি।
এ অবস্থায় আওয়ামী লীগের ভোট টানতে চায় এনসিপিও।
দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফ মাহদী বলছিলেন, “এনসিপি শুরু থেকে আওয়ামী লীগের ‘রিকনসিলিয়েশনের’ কথা বলে আসছে, আমরা চাই পরিশুদ্ধির মাধ্যমে তারা রাজনীতিতে আসুক।”
তিনি বলেন, “আমাদের জনগোষ্ঠীর অংশ তারা। তাদের মধ্যে যারা ফৌজদারি অপরাধ করে নাই, বোধসম্পন্ন; যারা তাদের নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছে, যারা জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে ছিল, এমন অনুসারীদের নিয়ে অনেক দলই কাজ করছে, এনসিপিও করছে।”

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট