
মোঃ মনিরুজ্জামান চৌধুরী, কালিয়া : নড়াইলের নড়াইল জেলা-র কালিয়া উপজেলা-র ব্যস্ততম ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কালিয়া-চাপাইল প্রধান সড়ক এখন কার্যত অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের নিয়ন্ত্রণে। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নসিমন, করিমন, ভটভটি, মাহেন্দ্র ও ইজিবাইকসহ নানা ধরনের অনুমোদনহীন ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে। যেন সড়কে নেই কোনো শৃঙ্খলা, নেই আইন প্রয়োগের দৃশ্যমান উপস্থিতি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এসব যানবাহনের অধিকাংশেরই নেই বৈধ কাগজপত্র, চালকদের নেই প্রশিক্ষণ বা ড্রাইভিং লাইসেন্স। ফলে সামান্য অসাবধানতাতেই ঘটছে দুর্ঘটনা। বিশেষ করে পথচারী, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। প্রায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনেক পরিবার হারিয়েছে তাদের প্রিয়জনকে, আবার কেউ কেউ স্থায়ী পঙ্গুত্ব নিয়ে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন।
যোগানিয়া থেকে গোপালগঞ্জমুখী অংশে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। এই রুটে চলাচলকারী মালবাহী নসিমন-করিমনগুলো ইটভাটা থেকে ইট ও মাটি বহন করছে অতিরিক্ত বোঝাই করে। চলন্ত অবস্থায় সড়কের উপর ইট পড়ে থাকা বা মাটি ছড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা এখন নিত্যদিনের দৃশ্য। এতে একদিকে যেমন কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পিচঢালা সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে সড়কে পড়ে থাকা ইট ও কাদামাটির কারণে মোটরসাইকেল ও হালকা যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে।
সচেতন মহল বলছেন, এই সড়কে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত তদারকির অভাব স্পষ্ট। নির্দিষ্ট লোড সীমা মানা হচ্ছে না, নেই গতিনিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, এমনকি গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতেও নেই পর্যাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ। ফলে দিন দিন সড়কটি হয়ে উঠছে ‘মৃত্যুফাঁদ’।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালিত হলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারছে না। কয়েকদিনের জন্য কিছু যানবাহন উধাও থাকলেও পরে আবার আগের চিত্র ফিরে আসে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—আইনের প্রয়োগ কি শুধুই সাময়িক?
স্থানীয়দের দাবি—
অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ও কঠোর অভিযান পরিচালনা করতে হবে।
অতিরিক্ত মালবাহী গাড়ির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েন ও সিসিটিভি নজরদারি চালু করতে হবে।
ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে।
কালিয়া-চাপাইল সড়ক শুধু একটি যোগাযোগ মাধ্যম নয়; এটি এলাকার অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই এই সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মানে হাজারো মানুষের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এখন সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপই পারে এই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে দিতে।
Like this:
Like Loading...
Related