
মোঃ রুহুল আমিন হাওলাদার : দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ যখন বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্পের প্রসার ঘটাতে প্রতিনিয়ত ব্যাপক অর্থ লগ্নী করে যাচ্ছে, ঠিক তখন একটি কুচক্রী মহলের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিনিয়ত সুন্দরবনের পর্যটকরা নানা রকম হয়রানির শিকার হচ্ছে, জীবন বাঁচাতে অর্থদণ্ড দিচ্ছে, পরিবারের সদস্যরা কঠিন উদ্বিগ্নতার মধ্যে দিনাতিপাত করছে, সব মিলিয়ে হরিসে বিষাদ হচ্ছে। ফলে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা সুন্দরবন মুখি হতে ভয় পাচ্ছে, পর্যটক এর অভাবে এই সেক্টরে যারা বিপুল অর্থ লগ্নি করেছে তারা হায় হায় করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী তাদের সাধ্যমত চেষ্টা করেও গহীন সুন্দরবন ভ্রমণ নিরাপদ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে এই অঞ্চলের সুন্দরবন কেন্দ্রিক বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ীরা আজ হতাশায় নিমজ্জিত।
একসময়ের শিল্পনগরী খুলনা এখন প্রায় শিল্প বিহীন। মোংলা বন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীরাও নানা ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে হতাশা গ্রস্থ।
দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পর্যটন শিল্পের যখন কদর বাড়ছে – ঠিক তখন সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটন শিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। এ বিষয়ে সরকারি উদাসীনতা ও সীমাবদ্ধতা হতাশা ব্যঞ্জক। একই রকম ভাবে সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটনের একমাত্র প্রধান বাহন নৌযান — তাও নানামুখী সিন্ডিকেট চক্রের চক্রান্তে নৌযান মালিকরাও গভীর ভাবে হতাশায় নিমজ্জিত। বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন এবং অবৈধ সুবিধা ভোগীদের দৌরত্মে লঞ্চ মালিকরা অদক্ষ নৌযান শ্রমিক নিয়োগ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে — প্রায়ই নৌপথে ঘটছে নানা রকম দুর্ঘটনা। ফলে দেশি-বিদেশি পর্যটকরা — একবার এসে তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা অন্যত্র শেয়ার করার কারণে — পর্যটকরা সুন্দরবন মুখী হচ্ছে না।
অতি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া দুইটি ঘটনার নেতিবাচক প্রভাব এই ভরা মৌসুমেও — সুন্দরবন কেন্দ্রিক পর্যটনের উপর প্রভাব ফেলছে।
সুন্দরবনে বেড়াতে এসে গত ২ জানুয়ারি অপহৃত হয়েছেন এক রিসোর্ট মালিকসহ ঢাকার ৫ জন পর্যটক। পরবর্তীতে দাকোপ থানা পুলিশ , সুন্দরবনের কর্মকর্তা এবং কোস্টগার্ডের সাঁড়াশি তৎপরতায় ৪ তারিখ রবিবার রাতে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়।
ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা সোহেল ও জনি পরিবার নিয়ে খুলনা জেলাাধীন দাকোপ থানার আওতায় সুন্দরবনের ঢাংমারী এলাকায় ” গোল কানন ” নামক রিসোর্টে বেড়াতে এসেছিলেন।
বিকালে তারা রিসোর্ট মালিক শ্রীপতি বাছাড় এর সাথে সুন্দরবনের মধ্যে রিসোর্ট সংলগ্ন “কানুর খোলা ” খালে নৌকায় চড়ে বেড়াতে যান। এ সময় বনদস্যুরা তাদের সকলকে অপহরণ করে। পরবর্তীতে রাতে দুই মহিলা পর্যটকসহ নৌকার ২ জন মাঝিকে ছেড়ে দেয়। অপহরণকারীরা ২০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। জানাজানি হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় রবিবার রাতে তাদেরকে উদ্ধার করা হয় বলে জানান দাকোপ থানার ওসি মো: আতিকুর রহমান। তবে মুক্তিপণ দিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়েছে কিনা — এ বিষয়টি স্পষ্ট করেনি পুলিশ প্রশাসন।
অপরদিকে ৩ তারিখ শনিবার রাতে একটি বিলাসবহুল টুরিস্ট লঞ্চ সুন্দরবনের দিকে যেতে থাকা কালীন ঘন কুয়াশার কারণে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাল্ক হেডের সঙ্গে মুখোমুখি ধাক্কায় লঞ্চটির তলা ফেটে যায় এবং পানি উঠতে থাকে। এ সময় খবর পেয়ে কোস্টগার্ড প্রায় অর্ধ নিমজ্জিত টুরিস্ট লঞ্চ থেকে ২ জন চীনা পর্যটক সহ ৪৪ জনকে উদ্ধার করে। এছাড়া প্রতিনিয়ত সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রায় অপ্রতিরোধ্য দস্যু বাহিনীর উপদ্রব রয়েছেই। ফলে পর্যটনের এই ভরা মৌসুমে মারাত্মকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে সুন্দরবন ভ্রমণে।
Like this:
Like Loading...
Related