1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০৪:৪৬ অপরাহ্ন

শীতের দাপটে কাঁপছে ‍সাতক্ষীরার ‌ উপকূল

  • প্রকাশিত: রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬
  • ২৯ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : দেশের দক্ষিণাঞ্চলের পকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা উত্তরের হিমেল হাওয়া আর হাড়কাঁপানো কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত দুই দিন ধরে এই অঞ্চলে সূর্যের দেখা মেলেনি। কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের কারণে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
বুধবার ‌(৭ জানুয়ারি) সকালে সাতক্ষীরায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোদ না ওঠা ও বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে হতদরিদ্র, ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সোমবার সকাল থেকেই জেলাজুড়ে কনকনে ঠান্ডা বাতাস বইছে। ঘন কুয়াশার কারণে দিনের বেলাতেও অনেক জায়গায় যানবাহন হেডলাইট জ্বালিয়ে চলছে। গত ৪৮ ঘণ্টা সূর্যের উত্তাপ না থাকায় ভূপৃষ্ঠ হিমশীতল হয়ে পড়েছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছে না। যারা বের হচ্ছেন, তাদের গায়ে ভারি গরম কাপড় দেখা যাচ্ছে।
শহরের মোড়ে মোড়ে এবং গ্রামাঞ্চলে ছিন্নমূল মানুষরা খড়কুটো, কাঠ ও আবর্জনা জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন
তীব্র শীত উপেক্ষা করেও অনেক শ্রমজীবী জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হচ্ছেন। সাতক্ষীরা শহরের পাকাপুল মোড়ে কাজের অপেক্ষায় থাকা দিনমজুর শফিকুল ইসলাম বলেন,“গত দুই দিন রোদ নেই, তার ওপর কনকনে বাতাস। হাত-পা জমে যাচ্ছে, তবুও কাজে বের হতে হয়েছে। কাজ না করলে পেটে ভাত জুটবে না।”
সাতক্ষীরা শহরের রাজার বাগান এলাকার ভ্যান চালক জসিম উদ্দীন বলেন,“রোদ না ওঠায় যাত্রীর সংখ্যাও কমে গেছে। তীব্র শীতে আমাদের কষ্ট হচ্ছে।”
শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে রোগীর চাপ বেড়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শীতজনিত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, অ্যাজমা ও সর্দি-জ্বরে শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকে মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের চিকিৎসক রিয়াদ হাসান বলেন, “এই আবহাওয়ায় শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। শীত থেকে বাঁচতে গরম কাপড় ব্যবহার এবং কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর ও রাতের ঠান্ডা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল জানিয়েছে, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় হতদরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তাপমাত্রা আরও কমলে শীতবস্ত্র বিতরণ বাড়ানো হবে।
সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানিয়েছেন, জেলায় তাপমাত্রা ক্রমাগত কমছে। সোমবার সকাল ৬টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৫ শতাংশ। এর আগে রবিবার তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি, আর ৩১ ডিসেম্বর তা নেমেছিল ৯ দশমিক ৪ ডিগ্রিতে।
ঘন কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো পৌঁছাতে পারছে না। পুরো জানুয়ারি মাসজুড়েই এমন আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যে তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।কনকনের ঠান্ডা, সঙ্গে হিমেল বাতাস। তীব্র শীতে জবুথবু সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলের মানুষ। একটু উষ্ণতার জন্য খড়কুটোতে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করেছে সাধারণ মানুষ। শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে উপকূলীয় এলাকার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী, ভামিয়া, মুন্সিগঞ্জ জেলে পল­ী, নীলডুমুরসহ কয়েক স্থানে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে।
উপকূলীয় এলাকা থেকে আইয়ুব হোসেন জানান, শীতের সন্ধ্যায় সুন্দরবন সংলগ্ন চুনা নদীর পাড়ে মুন্সিগঞ্জ জেলে পল­ীতে চারদিকে গোল হয়ে বসছেন কয়েকজন। এর মাঝে দেখা যাচ্ছে আগুনের শিখা। গত কয়েকদিনে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় এই উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় চোখে পড়ে এমন চিত্র। মুন্সিগঞ্জ জেলে পল­ীর গোপাল সানা বলেন, ঘরের ভেতরেও যেন ঠান্ডায় থাকা দায়, বাইরে তো হাড়কাঁপুনি শীত। তাই কয়েকজনকে নিয়ে আগুন জ্বালিয়ে শীত তাড়ানোর চেষ্টা করছি।
মুন্সিগঞ্জ জেলা পাড়ার বাঘ বিধবা সোনামণি দাসী বলেন, “একটাই পাতলা ছেঁড়া কম্বল আমার সম্বল। রাতে এই পাতলা কম্বলডা পেঁচায়েই শুয়ে থাকি। শীতের আর কাপড় নেই। ঠান্ডা লাগলে কি আর করবো। সুন্ধে হলি (সন্ধ্যা হলে) খুব ঠান্ডা লাগে। এবার কেউ একটা খেতা (কাঁথা) কম্বলও দেইনি। এক কাপড়ে শীত যায় না, কেউ কাপড় দিতেও আসে না বাপ। শীতে টিকতি পারি না। কাপড় কেনার সাধ্য নেই। নদীতে কাঁকড়া ধরে খেতাম, সেটাও বন্ধ হয়ে গেল। এখন খাইতেই পাই না, আর শীতের কাপড় কিনবো কিভাবে। অনেক কষ্ট হয়”।
বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ভামিয়া গ্রামের মৃত বাহার আলী সরদারের ছেলে গফুর সরদার (৭২) ও তার স্ত্রী খাদিজা বেগম (৬০) বসবাস করেন খলপেটুয়া নদীর চরে। দুই মেয়ে এক ছেলে তাঁদের। মেয়ে দুইটাকে বিয়ে দিয়েছেন। ছেলে থাকেন তাঁদের পাশেই। ছেলের কথা শুনতেই কান্না জড়িত কন্ঠে গফুর সরদার বলেন, ছেলের কথা আর শুনো না বাপু। ছেলে আমার নেই। তাদের সংসার কিভাবে চলে এবং শীতের কাপড় আছে কিনা জানতেই গফুর সরদার বলেন, মানুষের কাছে চেয়ে সংসার চলে আমাদের। গ্রামে গ্রামে হাত পেতে যা পাই, তা দিয়ে তিন বেলা খাইতেই পাই না। শীতের কাপড়ের দাম বেশি, কেনার পয়সা নেই। ছেঁড়া কাপড়ে শীত যায় না। এত শীত পড়তেছে তা একটা কম্বল দেয়নি কেউ।
সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে এখনো শীতার্তদের মাঝে পর্যাপ্ত গরম কাপড় বা কম্বল বিতরণ করা হয়নি জানিয়ে স্থানীয়রা বলছেন, শীত নিবারণে গরম কাপড় বিতরণে বিত্তবানদের এগিয়ে আসা দরকার। হিমেল হাওয়ায় কনকনে শীতে হাত-পা যেন অবশ হয়ে আসছে। ছেলে-মেয়েরাও ঠিকমতো পড়ালেখা করতে পারছে না। নিম্নআয়ের লোকজন শীতবস্ত্রের অভাবে কাহিল হয়ে পড়েছ।
সাতক্ষীরার আবহাওয়া অফিস থেকে জানা গেছে, রোববার বেলা সাড়ে এগারোটা পর্যন্ত সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছ ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রী সেলসিয়ার্স। গত ১৫ ডিসেম্বর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১২ দশমিক ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস। ধীরে ধীরে তাপমাত্রা আরও কমবে। ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নিচে নামার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান সাতক্ষীরা জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন।
শ্যামনগর উপজেলার প্রায় চার লাখ জনসংখ্যার মধ্যে অন্তত সাড়ে তিন লাখ নিম্নবিত্তের শীতবস্ত্র, খাদ্য ও অর্থ সহায়তা দরকার। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছাঃ রনী খাতুন জানান, উপজেলায় এখন পর্যন্ত ছয় লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। এ টাকায় ভ্যাট ট্যাক্স কেটে ৯৪৭ পিস কম্বল কেনা হয়েছে। এরমধ্যে তারা এ পর্যন্ত ৫০০টির মতো কম্বল বিতরণ করেছেন। বাকি ৪৪৭ পিস কম্বল ইতোমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সমাজকর্মী কামরুল ইসলাম বলেন, সমাজের অসহায় ও শীতার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সকলেরই নৈতিক দায়িত্ব। কনকনে শীতে ঠকঠক করে কাঁপা মানুষের গায়ে শীতবস্ত্র জড়িয়ে তার মুখে হাসি ফোটানোর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে। এর মাধ্যমে প্রকাশ পায় মানুষের প্রতি আমাদের মমত্ব ও ভালোবাসার। তাই এই শীতে সরকারের পাশাপাশি এই এলাকার বিত্তবানদের সমাজের অসহায় ও শীতার্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো প্রয়োজন।
এদিকে শীতের কারণে নিউমোনিয়া, এ্যাজমা, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে শিশু থেকে বয়স্ক মানুষ। শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক সাকির হোসেন জানান, হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও আউটডোরে ঠান্ডাজনিত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসার পাশাপাশি শীতজনিত রোগ থেকে নিরাময় থাকতে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেছেন চিকিৎসকরা।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট