
ডেস্ক রিপোর্ট : রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া নিয়ে খুলনা-৪ আসন। আসনটি অতীতে কখনো বিএনপি, কখনো আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামি প্রার্থী দিলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি। তবে এবার তারা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। ইসলামি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় এক নেতার ইসলামি দলগুলোর জোট প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগের নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা কয়েকবার এমপি থাকায় তাদেরও ভোট ব্যাংক রয়েছে। নির্বাচনে অংশ নেয়া অনিশ্চিত হওয়ায় তাদের ভোটার টানতে তৎপরতা চালাচ্ছে বিএনপি ও জামায়াত।
খুলনা-৪ আসন:
খুলনা-৪ আসন আড়ংঘাটা ও যোগিপোল ছাড়া দিঘলিয়া উপজেলা, রুপসা উপজেলা ও তেরখাদা উপজেলা নিয়ে গঠিত। জাতীয় সংসদের ১০১ নম্বর আসন খুলনা-৪।
খুলনা জেলা নির্বাচন অফিসের চলতি বছরের নভেম্বর মাসের তথ্য মতে, এ আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭৩ হাজার ৯৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮৫ হাজার ৯৬৮, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৮ হাজার ২০ ও হিজড়া ভোটার ৫ জন। আসনটিতে ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১৪৪ টি।
খুলনা-৪ আসনে প্রার্থী যারা:
নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৪ প্রার্থী হলেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল, জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী খুলনা জেলা কমিটির নায়েবে আমির কবিরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী দলের মহাসচিব ইউনুস আহমাদ শেখ ও খেলাফত মজলিসের এস এম শাখাওয়াত হোসাইন।
আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী খুলনা জেলা কমিটির নায়েবে আমির কবিরুল ইসলাম। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী দলের মহাসচিব ইউনুস আহমাদ। তারা দুজনই এলাকায় মোটামুটি সক্রিয়। তবে প্রচার-প্রচারণা এবং নির্বাচনি জনসংযোগে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি নেতা আজিজুল বারী হেলাল। এ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কোনো তৎপরতা নেই।
প্রার্থীরা যা বলছেন:
আজিজুল বারী হেলাল বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকার প্রধান সমস্যা বেকারত্ব। বেকারত্বে অভিশাপে যুব সমাজ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। তাদেরকে মাদক থেকে দূরে রাখতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করব। তা ছাড়া এ এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সরকারি হাসপাতালগুলোর আধুনিকায়ন জরুরি। উন্নত চিকিৎসার জন্য মানুষের দূরবর্তী জেলা শহরে যেতে হয়। শেয়ারবাজার থেকে জেলখানাঘাট সেতু নির্মাণ হলে মানুষ দ্রুত গিয়ে চিকিৎসা নিতে পারবে। এ ছাড়া রেলগেট থেকে নগরবাড়ি অসমাপ্ত সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ করব।
তিনি আরও বলেন, আমি নির্বাচিত হলে প্রতিটি ইউনিয়নে হেল্থ সেন্টার করব। তাতে একজন অসুস্থ মানুষ প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পাবে। আমার এলাকায় প্রচুর দুধ উৎপাদিত হয়। নির্বাচিত হলে দুধ সংরক্ষণের জন্য প্লান্ট তৈরি করব।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামির প্রার্থী খুলনা জেলা কমিটির নায়েবে আমির কবিরুল ইসলাম বলেন, তিনটি উপজেলার সবখানেই নদীভাঙ্গন ও জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা ঠিকমতো ফসল ফলাতে পারে না। বিশেষত দিঘলিয়া উপজেলা নদীবেষ্টিত, অনেকটা দ্বীপের মতো। তাই জেলা শহর ও অন্যান্য উপজেলার সাথে যুক্ত হতে ব্রিজ ও রাস্তাঘাটের উন্নয়ন খুবই জরুরি। তা ছাড়া দিঘলিয়ায় কলকারখানাগুলো প্রায় বন্ধ। নির্বাচিত হলে এগুলো সচল করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করব।
নির্বাচনে জয় লাভের আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, মানুষের প্রচুর সমর্থন পাচ্ছি। জনগণ পরিবর্তন চায়, আমরা সেই পরিবর্তনের নিশ্চয়তা দিচ্ছি।
ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব হাফেজ ইউনুস আহমাদ বলেন, ‘চাঁদাবাজি, দখল, লুটপাটের প্রতি মানুষের ঘৃণা জন্মে গেছে। প্রচারে গেলে মানুষ বলছে, আপনারা ইসলামপন্থিরা এগিয়ে আসুন। সুষ্ঠু ভোট হলে তারা ওই অপশক্তির বিরুদ্ধেই ভোট দেবে বলে আমার বিশ্বাস।
কী বলছেন ভোটাররা:
ভোটারদের অভিযোগ, অতীতে যারা এখানে নির্বাচিত হয়েছেন, এলাকার জন্য কাজ করেছেন খুবই কম। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও বিভাগীয় শহরের সাথে শুধুমাত্র ছোট একটি নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন সবচেয়ে কাছের উপজেলার সাথে কোনো সংযোগ সেতু তৈরি হয়নি। ভোটারদের জোর দাবি জেলখানাঘাট থেকে সেনের বাজার ব্রিজ তৈরির। তা ছাড়া আসনটিতে উন্নয়নের ছোঁয়া খুব কমই লেগেছে। তারা এমন প্রার্থীকে ভোট দিতে চায় যিনি সত্যিকার অর্থে এলাকার জন্য কাজ করবেন। পাশাপাশি জেলার উপজেলারগুলোর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক এই আসনের রুপসা উপজেলায়। যিনি সংসদ সদস্য হবেন তাকে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক করাকে প্রথম অগ্রাধিকার দিতে হবে। মাদক চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।
রুপসা উপজেলার সেনের বাজারের ভ্যান চালক শাজাহান গাজী বলেন, এমন প্রার্থীকে ভোট দেব যিনি আমাদের বিপদে পাশে থাকবে। গরিব মানুষের কষ্টের কথা চিন্তা করবে।
খুলনা-৪ আসনের বিগত নির্বাচনের ফলাফল যেমন ছিল স্বাধীনতা পরবর্তী আসনটির ফলাফল বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ১৯৯১, ১৯৯৬,২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিজয় লাভ করে। এসব নির্বাচনগুলোতে বিএনপি প্রার্থী অল্প ব্যবধানে পরাজিত হয়। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংসদ সদস্য হন। মাত্র একবারই ২০০১ সালে বিএনপি প্রার্থী এখান থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া ১৯৭৯ সালে মুসলিম লীগের প্রার্থী খান এ সবুর আসনটিতে বিজয় লাভ করেন। ওয়াকার্স প্রার্থী শেখ শহিদুল ইসলাম ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে এমপি হন।