
ডেস্ক রিপোর্ট : রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র ঢাকা-১২ আসনে আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তিনি কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে জনগণের আমানত ও ভোটে জয়ী হওয়ার পর ১৩ তারিখ থেকেই বাংলাদেশের চিত্র পাল্টে যাবে এবং দেশের নব্বই শতাংশ চাঁদাবাজের হাত চিরতরে অবশ করে দেওয়া হবে।’
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে পেট্রো বাংলার সামনে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী জনসভা যোগ দিয়ে এই মন্তব্য করেন তিনি।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জুলাই বিপ্লবের চেতনা বক্তব্যের শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান ১৯৪৭-এর দেশভাগ, একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের যোগসূত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে, যেখানে আমাদের বোনদের ওপরও আঘাত করতে শাসকরা দ্বিধা করেনি। তিনি বিশেষভাবে শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘সে বুক পেতে বলেছিল—বুক পেতেছি গুলি কর। সে পালিয়ে যায়নি, বরং তার রক্ত আমাদের কাছে আমানত রেখে গেছে।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, এই বিপ্লবের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল সাম্য ও ন্যায়বিচার, যা প্রতিষ্ঠা করাই এখনকার প্রধান চ্যালেঞ্জ।’
প্রকৃতির ওপর জুলুম ও বর্তমান পরিবেশ সমসাময়িক আবহাওয়া ও পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমীরে জামায়াত বলেন, ‘মাঘ মাসে শীত নাই, বর্ষায় বৃষ্টি নাই। কেন নাই? কারণ এ দেশ যারা পরিচালনা করেছে, তারা প্রকৃতির ওপর জুলুম করেছে, প্রকৃতিকে লুণ্ঠন করেছে।’ তিনি জানান, মানুষের এই হঠকারী আচরণের মূল্য এখন পুরো জাতিকে ধুঁকে ধুঁকে পরিশোধ করতে হচ্ছে।
দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়নের সময় জামায়াতের দুই মন্ত্রী কেন পদত্যাগ করেনি, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এমন মন্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অনন্ত তিনটা মন্ত্রণালয় দুর্নীতি থেকে বেঁচে যাক, সেই কারণে মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করেনি জামায়াত নেতারা।’
চাঁদাবাজির অভিশাপ রাজধানীর কাওরান বাজারসহ বড় পাইকারি বাজারগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একজন প্রান্তিক কৃষক তার হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে ফসল ফলায়, কিন্তু সে নায্য মূল্য পায় না। অথচ সেই পণ্য ঢাকায় আসার পর সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজদের কারণে দাম চারগুণ হয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজরা বাজপাখির মতো কালো চেহারা ধারণ করে সাধারণ মানুষের ওপর ঝাপিয়ে পড়ছে। এর ফলে কৃষক, পরিবহন মালিক এবং খুচরা ব্যবসায়ী—সবাই আজ ক্ষতিগ্রস্ত ও অতিষ্ঠ।’
চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স গত মাসে কাওরান বাজারের ব্যবসায়ীরা যেভাবে চাঁদাবাজদের হাতে-নাতে ধরে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন, তার ভূয়সী প্রশংসা করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রশাসন যন্ত্রের অবহেলা বা কিছু ক্ষেত্রে ভাগ-বাটোয়ারার কারণে চাঁদাবাজি চললেও আগামীতে তা আর সহ্য করা হবে না। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘আমরা চেহারা দেখে রাজনীতি করব না। চাঁদাবাজ কার বাবা, কার মা বা কার সন্তান—তা দেখা হবে না। আমরা সেদিন হবো নির্দয়, নিষ্ঠুর ও কঠোর। যারা রাজনীতিও করবেন আবার চাঁদাবাজিও করবেন, তাদের চিহ্নিত করে সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে।’
উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ জোটের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি স্বচ্ছ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমেই এই দখলবাজ, মামলাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করা সম্ভব।’
জনসভায় ঢাকা-১২ আসনের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ এবং জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য রাখেন। বিশাল এই সমাবেশে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।