
বিশেষ প্রতিনিধি: বৃহত্তর বরিশাল জেলার বিভিন্ন কারখানায় তৈরি ফার্নিচার এখন দেশের গ্রামগঞ্জের হাটবাজার থেকে শুরু করে বড় বড় শহরেও সমানভাবে বিক্রি হচ্ছে। মানসম্মত কাঠ ও তুলনামূলক কম দামের কারণে দিন দিন এসব ফার্নিচারের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা।
বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর, ইন্দেরহাট, স্বরূপকাঠি, বৈঠাকাঠা এবং উজিরপুর উপজেলার হারতা, বিশারকান্দীসহ বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে অসংখ্য ছোট-বড় ফার্নিচার কারখানা। এসব কারখানায় তৈরি খাট-পালং, চেয়ার-টেবিল, শোকেস, ওয়ারড্রব, আলনা, মিটসেফসহ বিভিন্ন ধরনের গৃহস্থালি আসবাব এখন সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী মূল্যে বাজারজাত হচ্ছে।
সাতলা একতা বাজারের কাঠ ও ফার্নিচার বিক্রেতা মোঃ এনায়েত হোসেন জানান, “আগের তুলনায় এখন ফার্নিচারের দাম কম এবং মানও ভালো। ফলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো সহজেই রেডিমেড ফার্নিচার কিনতে পারছেন। গ্রামাঞ্চলের মেলা, পাড়া-মহল্লার বাজার থেকে শুরু করে জেলা শহর—সব জায়গায় এখন এসব পণ্য পাওয়া যাচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রলারযোগে ফার্নিচার সাতলা একতা বাজারে পৌঁছায়। সেখান থেকে নছিমন, টমটমসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে কান্দি-ঘাগড়, গোপালগঞ্জ, টেকেরহাটসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। ফলে পরিবহন খরচ কম হওয়ায় পণ্যের দামও তুলনামূলক কম রাখা সম্ভব হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, ফার্নিচারের বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে নতুন করে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কারখানাগুলোতে কাঠমিস্ত্রি, রংমিস্ত্রি, শ্রমিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের কাজের সুযোগ বাড়ছে। এতে দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ ঋণ সুবিধা বাড়ানো হলে এই শিল্প আরও বিস্তৃত হবে এবং দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
Like this:
Like Loading...
Related