
ক্রীড়া প্রতিবেদক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার পর ইরানের ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে বড় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ইরান ইতিমধ্যে এশিয়ান অঞ্চল থেকে যোগ্যতা অর্জন করেছে এবং গ্রুপ জি-তে বেলজিয়াম, নিউজিল্যান্ড ও মিশরের সঙ্গে খেলার কথা। তাদের তিনটি গ্রুপ ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে (লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের রাজধানী তেহরানসহ একাধিক শহরে আঘাত হানা হয়েছে। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেই নিহত হয়েছেন বলে খবর। ইরান প্রতিশোধমূলক মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের গালফ অঞ্চলের ঘাঁটিতে।
ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের (এফএফআইআরআই) প্রেসিডেন্ট মেহদি তাজ ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার পর বিশ্বকাপের দিকে তাকানো কঠিন হয়ে পড়েছে। অংশগ্রহণ অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন খেলাধুলার নেতৃত্ব।” এর ফলে ইরানের ঘরোয়া লিগও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
ফিফা এখনো ইরানের অংশগ্রহণ বাতিল করেনি। সেক্রেটারি জেনারেল মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম বলেছেন, “আমরা পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছি। ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত ড্র-তে সকল দল অংশ নিয়েছিল এবং আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে একটি নিরাপদ বিশ্বকাপ আয়োজন করা যেখানে প্রতিটি দেশ অংশ নিতে পারবে।” তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিস্তারিত মন্তব্য করা এখন ‘অপরিণত’ হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফিফা পরিস্থিতি ‘মনিটর’ করছে বলে জানিয়েছে, কিন্তু কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি।
ইরান ২০২৫ সালের মার্চে এএফসি কোয়ালিফাইংয়ে গ্রুপ ‘এ’ তে শীর্ষে থেকে টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জন করে। তারা জাপান, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে এশিয়ার শীর্ষ টিম। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে খেলার জন্য ভিসা, নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক টেনশন বড় বাধা। গত ডিসেম্বরে বিশ্বকাপ ড্র-এর সময়ও ইরানের কয়েকজন কর্মকর্তার ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল, যার ফলে তারা ড্র বয়কট করেছিল।
যদি ইরান প্রত্যাহার করে নেয় বা বয়কট করে, তাহলে এএফসির পরবর্তী সম্ভাব্য দল (ইরাক) তাদের জায়গা নিতে পারে। ইরাক কোয়ালিফাইংয়ে ৯ম স্থানে ছিল এবং ইন্টার-কনফেডারেশন প্লে-অফে ছিল। বিশ্বকাপের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে ফিফার ওপর চাপ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র হোস্ট হওয়ায় ইরানের খেলোয়াড়-কর্মকর্তাদের ভিসা ইস্যু আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।