আলতাফ হোসেন অনিক, উজিরপুর : বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের চকমান গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের চলাচলের সরকারি রাস্তা দখল করে পাকা গুদামঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৪ মার্চ বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আরাফাত আলী এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক এম. এ. জাকারিয়ার বোন সুলতানা খানম ও তার স্বামী মো. লিয়াকত আলী বেপারী বাদী হয়ে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, চকমান গ্রামের লিয়াকত আলীর পৈত্রিক কিছু জমি সরকার অধিগ্রহণ করে জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে সেখানে একটি সরকারি রাস্তা নির্মাণ করা হয়। একই দাগের অবশিষ্ট জমির ওপর তারা দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন।
এছাড়াও একই রাস্তা নির্মাণের জন্য মুন্সিরতালুক গ্রামের নাগর আলী হাওলাদারের ছেলে শাহেব আলী হাওলাদার এবং তার ছেলে সজল হাওলাদারের কাছ থেকেও সরকার জমি অধিগ্রহণ করে। চুনপোড়া এলাকা থেকে শহীদ স্মরণিকা ডিগ্রি কলেজ পর্যন্ত বিস্তৃত এ রাস্তা স্থানীয়দের চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ভুক্তভোগী লিয়াকত আলী বেপারী ও তার স্ত্রী প্রতিবন্ধী সুলতানা খানম অভিযোগ করে জানান, প্রতিপক্ষ শাহেব আলী হাওলাদার ও তার ছেলে সজল হাওলাদার প্রভাব খাটিয়ে তাদের বসতবাড়ির সামনে একমাত্র চলাচলের রাস্তার ওপর জোরপূর্বক দখল করে পাকা গুদামঘর নির্মাণ করছেন। ফলে তাদের পরিবারের চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে এবং তারা কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
তারা আরও জানান, এ বিষয়ে প্রতিবাদ করায় অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শাহেব আলী হাওলাদার ও সজল হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, চলাচলের রাস্তা দ্রুত উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী মুক্তিযোদ্ধা পরিবার।
এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বলেন, “লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। উভয় পক্ষকে নিয়ে খুব শিগগিরই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”