
ডেস্ক রিপোর্ট : বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা পাটকলগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং সেগুলো বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় পাট দিবস-২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার অল্প সময় আগে দায়িত্ব নেওয়ায় বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় পাট খাতের প্রতিবন্ধকতা দূর করে বন্ধ পাটকল চালু ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর বিষয়ে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, বন্ধ পাটকল চালুর নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনই বলা যাচ্ছে না, তবে দ্রুত এ বিষয়ে অগ্রগতি জানানো হবে। ইতিমধ্যে কিছু মিল ইজারা দেওয়া হয়েছে এবং আরও কিছু মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী লিখিত বক্তব্যে জানান, পাটশিল্পের উন্নয়নে সরকার স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। বন্ধ হয়ে থাকা পাটকল পুনরায় চালু করা এবং বিজেএমসির অধীন মিলগুলো দীর্ঘমেয়াদি ইজারার মাধ্যমে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ইজারাকৃত ৯টি পাটকলে প্রায় ৭ হাজার ২০০ শ্রমিক কাজ করছেন।
তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৪১৮ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা পাট রপ্তানির কারণে দেশীয় পাটশিল্প কাঁচামালের সংকটে পড়েছে। এ ছাড়া কাঁচা পাট রপ্তানি তুলনামূলকভাবে কম লাভজনক হওয়ায় সরকার কাঁচা পাট রপ্তানি নিরুৎসাহিত করতে চায়।
তিনি বলেন, কাঁচা পাটের তুলনায় পাটজাত পণ্যে মূল্য সংযোজন বেশি হওয়ায় সরকার কাঁচা পাট রপ্তানি নিরুৎসাহিত করে প্রক্রিয়াজাত ও ফিনিশড পণ্য রপ্তানিতে কর ছাড় ও নগদ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
পাট প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে ৬ থেকে ১৪ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৯ দিনব্যাপী পাট ও পাটপণ্যের মেলা অনুষ্ঠিত হবে। এতে উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাটের ব্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাটের ব্যাগের ব্যবহার বাড়াতে আন্তমন্ত্রণালয় পর্যায়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সরকারিভাবে যে খাদ্য সহায়তা ও অনুদান (যেমন ভিজিএফ কর্মসূচি) দেওয়া হয়, সেখানে পাটের ব্যাগ ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কাঁচাপাট রপ্তানির পরিবর্তে মূল্য সংযোজিত পাটপণ্য উৎপাদনে জোর দেওয়ার বিষয়টিও সরকার বিবেচনা করছে। শিল্প খাতে বিনিয়োগ বাড়িয়ে ফিনিশড পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে পাটশিল্পকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘পাটশিল্প গড়ে তুলুন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করুন’ প্রতিপাদ্যে আগামীকাল ৬ মার্চ জাতীয় পাট দিবস উদ্যাপন করা হবে। এ উপলক্ষে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।