
বিশেষ প্রতিনিধি: ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের কৃষ্ণপুর গ্রামে মধুমতী নদীর তীব্র ভাঙনে দুটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একই সঙ্গে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অন্তত ১০টি বসতবাড়ি। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ০৬/০৩/২০২৬ তাং মধুমতী নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়, ফলে মুহূর্তের মধ্যেই দুটি পরিবারের বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। নদীগর্ভে বিলীন হওয়া বাড়িগুলোর মালিক হলেন কৃষ্ণপুর গ্রামের নিহার বেগম, স্বামী মৃত মনা মিয়া শেখ এবং মো. সোহাগ শেখ, পিতা মৃত গোলাম শেখ।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজখবর নিতে টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া আসাদুজ্জামান আছাদ মাস্টার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে স্থানীয় ওয়ার্ড ইউপি সদস্য শামিম মল্লিকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ইউপি চেয়ারম্যান মিয়া আসাদুজ্জামান আছাদ মাস্টার জানান, ভাঙনের খবর পাওয়ার পরপরই তিনি প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন এবং পরে নিজেও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, “শারীরিক অসুস্থতার কারণে আমি দুই দিন আগে উপস্থিত হতে পারিনি। তবে দেরিতে হলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নিতে এসেছি এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছি।
এর আগে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবারকে দুই বান্ডিল ঢেউটিন ও খাদ্যসামগ্রী সহায়তা প্রদান করা হয় বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে ফরিদপুর জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নদীভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। তারা ভাঙন প্রতিরোধে জিও ব্যাগ ফেলা এবং নদী শাসনের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মধুমতী নদীর ভাঙন প্রতি বছরই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নিলে কৃষ্ণপুর গ্রামের আরও বহু বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে নদীভাঙনের কারণে ইতোমধ্যে প্রায় ১০টি পরিবার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে রয়েছেন—
মাহফুজুর রহমান শেখ (নিশাত), পিতা মৃত শরাফাত শেখ;
মোহাম্মদ টুলু শেখ, পিতা মোকসেদ শেখ;
ফারুক আহমেদ (দারা), পিতা মৃত মোকসেদ শেখ;
মোহাম্মদ আবুল কালাম, পিতা মৃত গেন্দু শেখ;
মো. হেলাল মোল্লা, পিতা মো. সেকেন্দার মোল্লা;
মোহাম্মদ মিরাজ শেখ, পিতা মো. আবুল কালাম শেখ;
মোহাম্মদ বাশার শেখ, পিতা মৃত মন্নু শেখ;
রুবি বেগম, স্বামী মৃত ধলামিয়া শেখসহ আরও কয়েকটি পরিবার।
টগরবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের প্রত্যেককে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এক বস্তা করে চাল সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা দ্রুত স্থায়ী নদীশাসন ও ভাঙন প্রতিরোধে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে কৃষ্ণপুরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
Like this:
Like Loading...
Related