
তালা প্রতিনিধি : হলুদ ফুলের হাসিতে ছেয়ে গেছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ফসলি মাঠ। ধান, পাট আর সবজি চাষে সাফল্যের পর এবার এই জনপদে সূর্যমুখী চাষে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে। ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধি আর স্বাস্থ্যসচেতনতা বাড়ায় স্থানীয় কৃষকদের কাছে অর্থকরী ফসল হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সূর্যমুখী। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বজায় থাকলে তালা উপজেলা সূর্যমুখী চাষের মাধ্যমে জেলার ভোজ্যতেলের বড় একটি অংশ জোগান দিতে সক্ষম হবে।
উপজেলা কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর তলা উপজেলার খলিলনগর, কুমিরা, সরুলিয়া, তেঁতুলিয়া, ইসলামকাটি ও নগরঘাটাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ব্যাপকভাবে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। বিশেষ করে বেসরকারি সংস্থা ‘কেয়ার বাংলাদেশ’-এর সহযোগিতা ও সরকারি প্রণোদনায় কৃষকেরা ‘হাইসান-৫৬’ ও ‘বারি-৩৬’ জাতের সূর্যমুখী চাষ করেছেন। মাঠজুড়ে সবুজ গাছে বড় বড় হলুদ ফুল এখন দর্শনার্থীদেরও নজর কাড়ছে। প্রতিদিন বিকেলে অনেক মানুষ ভিড় করছেন এসব খেতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে।
তালার কৃষক তৌহিদুল ইসলাম জানান, সূর্যমুখী চাষের মূল লক্ষ্য তেল উৎপাদন। প্রতি বিঘা জমিতে ৭ থেকে ১০ মণ পর্যন্ত বীজ পাওয়া যায়। এক কেজি বীজ থেকে অন্তত আধা লিটার তেল পাওয়া সম্ভব। সে হিসাবে প্রতি বিঘায় ১৬০ থেকে ২২০ লিটার পর্যন্ত তেল মিলতে পারে। প্রতি লিটার সূর্যমুখী তেলের বাজারমূল্য ২০০ থেকে ২৫০ টাকা হলেও বিঘা প্রতি খরচ হয় মাত্র সাড়ে তিন থেকে চার হাজার টাকা। এছাড়া বীজের খৈল পশুখাদ্য হিসেবে এবং গাছ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
কুমিরা গ্রামের কৃষক শাহীনুর রহমান বলেন, ‘কৃষি অফিস থেকে বীজ ও সার প্রণোদনা পেয়ে এবারই প্রথম এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী লাগিয়েছি। ফলন খুব ভালো হয়েছে। নিজেদের তেলের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি অংশ বাজারে বিক্রি করতে পারব বলে আশা করছি।’
কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, সূর্যমুখী তেল হৃদরোগের ঝুঁকি ও কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক। সয়াবিন তেলের বিকল্প হিসেবে এটি যেমন স্বাস্থ্যসম্মত, তেমনি চাষাবাদেও সময় কম লাগে। উপকূলীয় এই অঞ্চলের নিচু জমিতে সূর্যমুখী চাষে সাফল্য আসায় আগামীতে এর পরিধি আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজিরা খাতুন জানান, এ বছর উপজেলায় মোট ৫৮ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রণোদনার আওতায় ১৮০ জন এবং কেয়ার বাংলাদেশের প্রকল্পের মাধ্যমে ৫৮০ জন কৃষককে বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ ও সার সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তালার মাটি সূর্যমুখী চাষের জন্য বেশ উপযোগী। ফলনও চমৎকার হয়েছে। আমরা কৃষকদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।’