
মোংলা প্রতিনিধি : বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার চাঁদপাই ইউনিয়নের কানাইনগর এলাকায় ৩০ বিঘা আয়তনের একটি চিংড়ি ঘেরের দখল নিয়ে গত বুধবার (১৮ মার্চ) রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকাজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন সাবেক যুবলীগ নেতা জাকির হাওলাদার, যিনি এলাকায় ‘টর্চার সেল’ খ্যাত অভিযোগে পরিচিত।
সংঘর্ষের জেরে পুলিশি অভিযানে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনার মূল অভিযুক্ত জাকির হাওলাদার ও তার বাবা চাঁদপাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক মেম্বার সুলতান হাওলাদার এখনো পলাতক রয়েছেন। ফলে শুক্রবারও (২০ মার্চ) এলাকায় উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
গত বুধবার দুপুরে কানাইনগর এলাকায় ঘেরের মালিকানা ও লিজ নিয়ে মালিক সেলিম রেজা বাচ্চু এবং সাবেক লিজগ্রহীতা সেলিম হাওলাদারের সমর্থকদের মধ্যে এ সংঘর্ষ বাঁধে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ করে বলেন, জমির মালিক বাচ্চু পূর্বের সেলিম হাওলাদারের পাওনা টাকা পরিশোধ না করেই ২০২৬ সালের জন্য ১০ বিঘা জমি প্রভাবশালী মোহন ও জাকির গ্রুপকে লিজ দেন।
বুধবার দুপুরে জাকির হাওলাদারের নেতৃত্বে ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র দল ঘের দখলে গেলে প্রতিপক্ষ আব্দুর রশিদ গ্রুপের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২১ জন গুরুতর আহত হন। জাকির গ্রুপের হামলায় রশিদ গ্রুপের বিএনপি নেতা জাফর ও কাশেমকে কুপিয়ে জখম করা হয়। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সেলিম হাওলাদারের ছেলে মাহফুজ হাওলাদার বলেন, “জাকির গ্রুপকে মালিক বাচ্চু তার ১০ বিঘা জমি লিজ দেন। কিন্তু তারা ১৫-২০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে চৌকিদারসহ আরো ১০ জনকে মারধর, ঘর লুটপাট চালিয়ে পুরো ৩০ বিঘা জমি দখল করে নেয়।”
জাকিরের বিরুদ্ধে পুরোনো অভিযোগ
জাকির হাওলাদার এলাকায় দীর্ঘদিনের ত্রাস হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালের এপ্রিলে আসবাবপত্র সরবরাহে বিলম্বের অভিযোগে দুই ভাইকে নিজের গোপন ‘টর্চার সেল’-এ নিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। বাধা দিতে গেলে এক গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে শ্লীলতাহানি ও মারধরের অভিযোগও রয়েছে। নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে ভুক্তভোগী পরিবারকে জিম্মি করার ওই ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় হয়। এ ছাড়া মোংলা বন্দরে বিদেশি জাহাজের চোরাকারবার ও মদের অবৈধ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণসহ একাধিক মামলা রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অস্বীকার করে মোবাইল ফোনে জাকির হাওলাদার বলেন, “গত বুধবারের ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই। আমি নিয়ম মেনে ঘের লিজ নিয়েছি। একটি পক্ষ আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে ও এলাকাছাড়া করতে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সংঘর্ষ সৃষ্টি করেছে। পুরোনো মামলাগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে। ৫ আগস্টের পর একটি পক্ষ ফায়দা লুটতে আমার ওপর সব দায় চাপাচ্ছে।”
মোংলা থানার ওসি (তদন্ত) মানিক চন্দ্র গাইন জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বুধবার রাতভর অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁদের সংশ্লিষ্ট মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় জমির মালিক বাচ্চুর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এলাকায় যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকেও কড়া নজর রাখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
Like this:
Like Loading...
Related