
শরণখোলা প্রতিনিধি : ঈদের ছুটিতে পর্যটকের পদচারণায় মুখরিত হয়েছে সুন্দরবনের কটকা,করমজলসহ পর্যটনস্পট সমূহ। মঙ্গলবার দুই হাজার পর্যটক কটকায় গেছেন। গত চারদিনে ৮ সহস্রাধিক পর্যটক লঞ্চ, ট্রলার ও জাহাজে করে সুন্দরবনে ঘুরে বেড়িয়েছেন। বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনে পর্যটকের ঢল নেমেছে। ৩৫টি ট্যুরিস্ট জাহাজ পর্যটক নিয়ে সুন্দরবনে যাওয়ার জন্য সুন্দরবন পূর্ব ও পশ্চিম বন বিভাগ থেকে পারমিশন নিয়েছেন। করমজল বণ্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্টার আজাদ কবীর জানান, গত চার দিনে ছয় সহস্রাধিক সব বয়সী নারী, পুরুষ ও শিশু পর্যটক একদিনের ট্যুরে ছোট ছোট ট্রলার ও লঞ্চে করে সুন্দরবনের করমজল, হাড়বাড়িয়া, আন্ধারমানিক ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে ঘুরে বেড়িয়েছেন। প্রতিদিন পর্যটকের যাতায়াত সংখ্যা বাড়ছে বলে তিনি জানান। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য পর্যটন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেষ্টার মোঃ মতিউর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকালে ট্যুরিস্ট বহনকারী ৩২টি জাহাজ কটকায় নোঙর করেছে। এ সব জাহাজে দুই হাজারেরও বেশী নারী পুরুষ পর্যটক কটকায় বেড়াতে এসেছেন। পর্যটকরা কটকার জামতলা সীবীচে হাটাহাটি, ওয়াচটাওয়ারসহ বিভিন্নস্পটে ঘুরে বেড়ান পর্যটকরা। অতি কাছ থেকে সুন্দরবনের মায়াবী চিত্রল হরিণের ছোটাছুটি ও নদীর চরে কুমিরের রোদ পোহানো দেখে এবং পাখপাখালীর ডাক শুনে পর্যটকরা মুগ্ধ হচ্ছেন। এ সকল পর্যটক কটকা ঘুরে সুন্দরবনের দুবলারচর, কচিখালীসহ সুন্দরবনের অন্যান্য ট্যুরিস্ট স্পটে যাবেন বলে ঐ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান। অপরদিকে, শরণখোলার স্থানীয় ট্যুরঅপারেটর রাসেল আহমেদ বলেন, সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের আলীবান্দা ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য অনেক পর্যটক শরণখোলা রেঞ্জ সদরে এসেছিলেন। আলীবান্দা ইকো-ট্যুরিজম কেন্দ্রে যেতে জনপ্রতি ৩শ ৪৫ টাকা রাজস্ব দিতে হয় জেনে অধিকাংশ পর্যটক ফিরে গেলেও শতাধিক পর্যটক আলীবান্দায় গেছেন। সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মোঃ শরীফুল ইসলাম বলেন, ঈদ উপলক্ষে সুন্দরবনে পর্যটকের যাতায়াত বেড়েছে। পর্যটকরা আইন অমান্য করে যাতে প্লাষ্টিক বর্জ্য ফেলে বনের পরিবেশ দূষন না করার বিষয় তাদেরকে সতর্ক করা সহ পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা বিধানে বনরক্ষীরা সচেষ্ট রয়েছেন বলে এসিএফ জানিয়েছেন।