1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ০৪:২৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কয়রা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এমপি আবুল কালাম আজাদের মতবিনিময় ডিএনডি লেকে গোসলে নেমে নিখোঁজ ২ মাদরাসা ছাত্রের লাশ উদ্ধার হাম ও উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ৯ শিশুর পাকিস্তানে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দুই পুলিশসহ নিহত ৭ ফুলতলা উপজেলা তাঁতী দলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নড়াগাতীর ঐতিহাসিক রানী রাসমণি স্টেটের কাচারি বাড়ি পরিদর্শনে ইউএনও ও এসিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান : প্রধানমন্ত্রীর আরো দুই মামলায় খায়রুল হকের জামিন, মুক্তিতে বাধা নেই দেশের আর্থিক খাত এখন ‘পেইনফুল’ অবস্থায় রয়েছে: অর্থমন্ত্রী জমি নিয়ে বিরোধে ছেলের হাতে বাবা ও ভাই খুন

নড়াগাতীর ঐতিহাসিক রানী রাসমণি স্টেটের কাচারি বাড়ি পরিদর্শনে ইউএনও ও এসিল্যান্ড

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

কালিয়া (নড়াইল) প্রতিনিধি : নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার নড়াগাতি থানার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক রানী রাসমণি এস্টেটের কাচারিবাড়ি সোমবার (১১ মে) বিকালে পরিদর্শন করেছেন কালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জিন্নাতুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রাবণী বিশ্বাস।

প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতাভুক্ত করার লক্ষ্যে এবং রানী রাসমণির স্মৃতিবিজড়িত জমিদারি সংস্কৃতি ও প্রাচীন স্থাপত্য সংরক্ষণ করে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে তারা প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাই করেন।

পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা কাচারিবাড়ির স্থাপত্যশৈলী, বর্তমান অবস্থা এবং সংরক্ষণের বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পত্রিকায়, বিশেষ করে দৈনিক পূর্বাঞ্চলে ধারাবাহিক লেখালেখি ও স্থানীয় সচেতন মহলের দাবির পর প্রশাসনের এমন উদ্যোগে৪ এলাকাবাসীর মাঝে আশার সঞ্চার হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, যথাযথ সংস্কার ও সংরক্ষণ করা হলে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি দেশের অন্যতম দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

বাংলার ইতিহাস, জমিদারি সংস্কৃতি ও প্রাচীন স্থাপত্য ঐতিহ্যের এক নীরব সাক্ষী হয়ে আজও দাঁড়িয়ে আছে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নড়াগাতির ঐতিহাসিক রানী রাসমণি এস্টেটের কাচারিবাড়ি। সময়ের অবহেলা, অযত্ন ও যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংসের মুখে পড়লেও ইতিহাসপ্রেমী মানুষের কাছে এটি এখনও এক বিস্ময়ের নাম। সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগে সংরক্ষণ ও সংস্কার করা হলে এ প্রাচীন স্থাপনাটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে গড়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার নড়াগাতি থানার অন্তর্গত জয়ানগর ইউনিয়নের নড়াগাতি গ্রামে অবস্থিত এ প্রাচীন কাচারিবাড়িটি। কালিয়া উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার পূর্বদিকে নড়াগাতি বাজার সংলগ্ন নড়াগাতি-বাঐসোনা পাকা সড়কের পশ্চিম পাশে অবস্থিত ঐতিহাসিক এ স্থাপনাটি বহু বছর ধরে স্থানীয়দের কৌতূহল ও ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে রয়েছে।

ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে কলকাতার প্রখ্যাত জমিদার ও সমাজসেবক রানী রাসমণি তৎকালীন মকিমপুর পরগণার (বর্তমান রাধানগর) জমিদার ছিলেন। জনশ্রুতি রয়েছে, তার জমিদারি বিস্তৃত হয়েছিল কালিয়ার নড়াগাতি অঞ্চল পর্যন্ত। সেই সূত্র ধরেই নড়াগাতিতে প্রতিষ্ঠিত হয় রানী রাসমণি এস্টেটের এই কাচারিবাড়ি, যা স্থানীয় মানুষের কাছে আজও “রানী রাসমণির কাচারি” নামে পরিচিত। অনেকে আবার এটিকে “অমৃতনগর জমিদারির কাচারি” বলেও উল্লেখ করে থাকেন।

প্রাচীন এ স্থাপনার মাঝখানে রয়েছে একতলা বিশিষ্ট একটি ভবন, যা মূল কাচারি ঘর হিসেবে পরিচিত। ভবনের পূর্ব পাশে প্রায় সাড়ে ছয় মিটার দূরে অবস্থিত একটি প্রাচীন কালীমন্দির। দক্ষিণ পাশে রয়েছে ধ্বংসাবশেষের একটি বড় ঢিবি এবং উত্তর-পূর্ব পাশে রয়েছে একটি প্রাচীন পুকুর, যা পুরো এলাকাকে আরও ঐতিহাসিক আবহ এনে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, দক্ষিণাংশে অবস্থিত প্রায় ৪৫০ বর্গমিটার আয়তনের ধ্বংসস্তূপটি একসময় নীলকরদের নীল প্রক্রিয়াজাতকরণের স্থান বা নীল জাগের হাউজ হিসেবে ব্যবহৃত হতো। এখনও সেখানে প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার পুরু দেয়ালের কিছু অংশ দৃশ্যমান রয়েছে, যা প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী ও ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন বহন করছে। ঢিবিটি পার্শ্ববর্তী ভূমি থেকে প্রায় এক মিটার উঁচু হওয়ায় এটি আরও দৃষ্টিনন্দন ও রহস্যময় হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্বসম্পন্ন এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যথাযথ সংরক্ষণ ও সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বাংলার ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নিদর্শন।

স্থানীয়দের দাবি, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় এনে রানী রাসমণি এস্টেটের কাচারিবাড়িকে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি ঘোষণা করা হোক। পাশাপাশি আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুললে নড়াইলের ইতিহাস ও সংস্কৃতির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ স্থাপনাটি সংরক্ষণ করা গেলে শুধু ইতিহাস রক্ষাই নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ইতিহাসপ্রেমী পর্যটকরা ছুটে আসবেন এই ঐতিহাসিক কাচারিবাড়ি দেখতে। ফলে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি নড়াইল জেলার ঐতিহ্যও নতুনভাবে দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করবে।

বাংলার অতীত ঐতিহ্য ও জমিদারি সংস্কৃতির স্মারক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা রানী রাসমণি এস্টেটের কাচারিবাড়ি আজ যেন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার অপেক্ষায়। যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হলে এটি হতে পারে নড়াইলের ইতিহাসভিত্তিক পর্যটনের এক অনন্য কেন্দ্র।

পরিদর্শন শেষে কালিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জিন্নাতুল ইসলাম বলেন,
“রানী রাসমণি স্টেটের এই ঐতিহাসিক কাচারিবাড়িটি আমাদের অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্য ও ইতিহাসের অংশ। প্রাচীন স্থাপনাটি সংরক্ষণ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে প্রাথমিকভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা হলে এটি ভবিষ্যতে দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।”

সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রাবণী বিশ্বাস বলেন,
“ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব বিবেচনায় কাচারিবাড়িটি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। স্থাপনাটির বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে সংরক্ষণ ও সংস্কারের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।