1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন

দুই দশকে লবণাক্ততার কারণে যেভাবে বদলেছে উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকা

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
  • ২১ বার পড়া হয়েছে

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি : বাংলাদেশের উপকূল, যা একসময় সবুজ ধানের দিগন্তজোড়া মাঠ আর স্বাদু পানির প্রাচুর্যের জন্য পরিচিত ছিল, আজ ক্রমশ প্রভাব বিস্তার করা লবনাক্ততার শিকার। জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে কৃষিজমি ও স্বাদু পানির উৎসে লবণাক্ত পানি ঢুকে পড়ছে, যা গত প্রায় দুই দশকে (২০০০-২০২৫) এই অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকায় এক আমূল পরিবর্তন এনেছে। এই পরিবর্তন আমাদের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য এক অশনি  সংকেত।
লবণাক্ততা উপকূলীয় কৃষিব্যবস্থার জন্য বড়ো হুমকি। এর প্রধান শিকার হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের প্রধান খাদ্যশস্য ধান। উচ্চ লবণাক্ততার কারণে ধানের উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলার পর পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয় যে, কিছু এলাকায় ৪-৫ বছর ধান চাষ করা সম্ভবই হয়নি। আবার ২০২৪ এর ঘূর্ণিঝড় রেমাল তেমনই প্রভাব রেখে গিয়েছে অনেক অঞ্চলে।
লবণাক্ততা মাটির উর্বরতাকেও নষ্ট করে দিচ্ছে। এটি মাটি থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরিয়ে ফেলে এবং উপকারী অণুজীব মেরে ফেলে। বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের বেশিরভাগ চাষযোগ্য জমি বিভিন্ন মাত্রার লবণাক্ততায় আক্রান্ত। বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে এখানকার মাটিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কম এবং নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির তীব্র ঘাটতি রয়েছে।
সবচেয়ে বড় সংকট তৈরি হয়েছে স্বাদু পানি নিয়ে। লবণাক্ত পানি ভূ-পৃষ্ঠের নদী-খাল এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তরকে দূষিত করছে, যা সেচ ও পানীয় জলের তীব্র অভাব তৈরি করেছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০৫০ সাল নাগাদ উপকূলীয় অঞ্চলে পানীয় ও সেচের পানির তীব্র সংকট দেখা দেবে। এই সম্মিলিত প্রভাব বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
২০০০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় দুই দশকে উপকূলের মানুষের জীবন-জীবিকায় একটি সুস্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ঐতিহ্যবাহী কৃষি কাজ ছেড়ে মানুষ বাধ্য হয়ে অন্য পেশা বেছে নিচ্ছে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো ধান চাষ ছেড়ে চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষের দিকে ঝুঁকে পড়া। মাটি ও পানিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণেই তারা ধান চাষের বদলে চিংড়ি ও কাঁকড়া চাষে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততার কারণে উপকূলের অনেক পরিবার তাদের জীবিকার ধরণ পরিবর্তন করে নিয়েছে।
চিংড়ি চাষের পাশাপাশি অনেকে দিনমজুরি, ভ্যান চালানো, দোকানদারি এবং অন্যান্য অ-কৃষি কাজে যুক্ত হচ্ছেন। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র হলো বাধ্য হয়ে অভিবাসন। কৃষিজমি হারিয়ে, মাছের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি হারিয়ে হাজার হাজার মানুষ ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে পাড়ি জমাচ্ছে। এই বাধ্যতামূলক অভিবাসন কেবল তাদের অর্থনৈতিক সংকট বাড়াচ্ছে না, বরং সামাজিক বন্ধনকেও নড়বড়ে করে দিচ্ছে।
পরিবেশগত কারণ: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তন লবণাক্ত পানির অনুপ্রবেশকে ত্বরান্বিত করছে। গত ২০ বছরে বাংলাদেশে ৮টি বড় ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস আঘাত হেনেছে, যা কয়েক মিলিয়ন মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং উপকূলের কৃষিজমিকে লবণাক্ত পানিতে ডুবিয়ে দিয়েছে।
মানবিক ও আর্থ-সামাজিক কারণ: ফসলের ক্ষতি হওয়ায় কৃষকদের আয় কমে যাচ্ছে এবং বেকারত্ব বাড়ছে। এর চেয়েও মারাত্মক হলো স্বাস্থ্যগত ক্ষতি। লবণাক্ত পানি পান ও ব্যবহারের ফলে মানুষের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, গর্ভবতী নারীদের প্রি-এক্লাম্পশিয়া ও গর্ভপাত, চর্মরোগ এবং শ্বাসকষ্টের মতো ভয়াবহ রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। এই স্বাস্থ্য ঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক চাপ মানুষকে গ্রাম ছাড়তে বাধ্য করছে।
চাহিদা ও বাজার: আন্তর্জাতিক বাজারে চিংড়ির ব্যাপক চাহিদা চিংড়ি চাষকে উৎসাহিত করেছে। অন্যদিকে, নগরায়ন গ্রামীণ মানুষকে শহরে কাজের সন্ধানে আকর্ষণ করছে, যা গ্রামের কৃষিব্যবস্থাকে দিনদিন পঙ্গু করে দিচ্ছে। এছাড়া, সরকারি সহায়তা অপর্যাপ্ত হওয়ায় কৃষকরা প্রায়ই এনজিওগুলোর উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন।
এই প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও উপকূলের মানুষ টিকে থাকার জন্য লড়াই করে যাচ্ছে। তারা লবণ-সহনশীল ধানের জাত (যেমন, ব্রি ধান-৪৭, বিনা ধান-৮) চাষ করছে, উঁচু জমিতে বা ভাসমান পদ্ধতিতে সবজি আবাদ করছে এবং বৃষ্টির পানি ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
তবে অনেক অভিযোজন কৌশলই টেকসই নয়, বরং কিছু ক্ষেত্রে তা হিতে বিপরীত হচ্ছে। যেমন, চিংড়ি চাষ বিকল্প আয়ের পথ খুলে দিলেও তা জমির লবণাক্ততা আরও বাড়িয়ে তুলছে এবং পরিবেশের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করছে। এটিকে ‘ত্রুটিপূর্ণ অভিযোজন’ বা Maladaptation বলা হয়। এছাড়া, দুর্বল অবকাঠামো (নাজুক বেড়িবাঁধ যা সামান্য দুর্যোগেই ভেঙে যায়), আর্থিক ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব এবং সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয়হীনতা অভিযোজন প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত  করছে।
উপকূলীয় বাংলাদেশে লবণাক্ততা এখন আর কেবল একটি পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি একটি গভীর মানবিক ও আর্থ-সামাজিক সংকট। এই সংকট আমাদের জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা, জনস্বাস্থ্য এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলেছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য বিচ্ছিন্ন বা স্বল্পমেয়াদী প্রকল্প যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন একটি সমন্বিত, এবং দূরদর্শী কর্মপরিকল্পনা।
সমন্বিত উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনা (ICZM): কৃষি, মৎস্য, স্বাস্থ্য এবং অবকাঠামো পরিকল্পনাকে এক ছাতার নিচে এনে লবণাক্ততা মোকাবিলার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
জলবায়ু-সহনশীল অবকাঠামো: দুর্বল বেড়িবাঁধের পরিবর্তে শক্তিশালী ও টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে।
টেকসই বিকল্প জীবিকা: চিংড়ি-কাঁকড়া চাষের মতো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর জীবিকার পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ‘নীল অর্থনীতি’ (Blue Economy) নির্ভর জীবিকার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
পরিকল্পিত পুনর্বাসন: যারা অভিবাসনে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের জন্য পরিকল্পিত পুনর্বাসনের আইনি কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
মাটিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ার কারণে বাংলাদেশের উপকূলের প্রায় দুই লাখ কৃষক বাস্তুচ্যুত হবেন। জলবায়ুর পরিবর্তনজনিত কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূল অঞ্চলের মাটিতে লবণাক্ততা বেড়ে ধান চাষের অনুপযোগী হলে কৃষক এলাকা ছাড়বেন। নতুন একটি গবেষণার অনুমিত হিসাবে এ আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও স্টেট ইউনিভার্সিটি ও অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে এ গবেষণা করেছেন। গবেষণা প্রবন্ধটি গত ২৩ অক্টোবর নেচার ক্লাইমেট চেঞ্জ সাময়িকীতে ‘কোস্টাল ক্লাইমেট চেঞ্জ, সয়েল স্যালাইনিটি অ্যান্ড হিউম্যান মাইগ্রেশন ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে ছাপা হয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, ঘন ঘন নোনা পানির প্লাবন ইতিমধ্যে বহু কৃষককে ধান চাষ ছাড়তে বাধ্য করেছে। কৃষক এখন ধানের জমিতে চিংড়ি বা অন্য সামুদ্রিক মাছের চাষ করছেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছেন অধ্যাপক আইনুন নিশাত। তিনি এই প্রতিবেদককে।বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে উপকূলের নদী-খালে লবণপানি যে বাড়ছে, তার প্রমাণ আছে। তবে মনে রাখতে হবে, উপকূলে বেড়িবাঁধও আছে। বাঁধের কারণে নোনা পানি ফসলের জমিতে প্রবেশে বাধা পায়। মাটিতে লবণাক্ততা বেড়ে ধানের উৎপাদন কমছে, এমন উপাত্ত নেই। অন্য বিষয়টি হচ্ছে, মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে যাওয়ার মতো জায়গা দেশে নেই। এ দেশের মানুষের নোনা পানির সঙ্গে খাপ খাইয়ে বসবাস করার অভিজ্ঞতা আছে।
ওহিও স্টেট ইউনিভার্সিটির কৃষি, পরিবেশ ও উন্নয়ন অর্থনীতির সহযোগী অধ্যাপক জোসি চেন ও অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির ভ্যালেরি মুলার উপকূলের জেলাগুলোর ১৪৭টি উপজেলার মানুষের অভিবাসনের আর্থসামাজিক উপাত্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০০৩ ও ২০১১ সালের স্যাম্পেল ভাইটাল রেজিস্ট্রেশন (এসভিআরএস) থেকে। তাঁরা কৃষি উৎপাদনের উপাত্ত নিয়েছেন বিবিএসের ২০০৫ ও ২০১০ সালের আয় ও ব্যয় খানা জরিপ থেকে। প্লাবনবিষয়ক উপাত্তের সূত্র যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল অ্যারোনেটিকস্ অ্যান্ড স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (নাসা) উপগ্রহের তথ্য। মূলত এই তিন ধরনের উপাত্ত বিশ্লেষণ করে (মডেলিংয়ের মাধ্যমে) তাঁরা বাংলাদেশের উপকূলে নোনা পানির প্লাবন, মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও মানুষের অভিবাসন নিয়ে এই পূর্বাভাস দিয়েছেন। এ ছাড়া তাঁরা আগের কিছু গবেষণার তথ্যও বিশ্লেষণের কাজে ব্যবহার করেছেন। গবেষকেরা বলছেন, তাঁরা অভিবাসনের ক্ষেত্রে লবণাক্ততা বৃদ্ধির প্রভাব দেখতে চেয়েছেন। প্লাবনের প্রভাব এই হিসাবের মধ্যে নেই।
গবেষকদের অনুমিত হিসাব বলছে, মাঝারি ধরনের লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে একটি খামারের কৃষি আয় বছরে ২১ শতাংশ কমে যাবে। আগামী ১২০ বছরে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের উপকূলে বসবাসকারী ১৩০ কোটি মানুষের বসতি সমুদ্রের পানিতে ডুবে যাবে। বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিজমির ৪০ শতাংশ মারাত্মক হুমকির মধ্যে পড়বে। ইতিমধ্যে উপকূলের মানুষ ঘন ঘন প্লাবনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার চেষ্টা করছে।
জোসি চেন যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমকে বলেছেন, অনেক কৃষক ইতিমধ্যে ধান চাষের জমি চিংড়ি বা সামুদ্রিক মাছ চাষের খামারে রূপান্তর করেছেন। চিংড়ি বা ওই সব সামুদ্রিক মাছ আধো নোনা পানিতে (ব্রাকিস ওয়াটার) ভালো উৎপাদন করা যায়।
গবেষণায় অভিবাসন বিষয়ে দৃষ্টি কাড়ার মতো তথ্য দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, জলবায়ুর প্রভাবজনিত কারণে অভ্যন্তরীণ অভিবাসন ২৫ শতাংশ বেড়ে যাবে। কিন্তু মানুষের বিদেশ যাওয়া ৬৬ শতাংশ কমে যাবে। বিদেশ যাওয়া কমে যাওয়ার একটি কারণ হবে দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। চিংড়ি ও মাছ চাষ অনেক মানুষকে কাজ দেবে। গবেষণায় একটি চিত্রে দেখানো হয়েছে, লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের অভিবাসন হবে নিজের জেলায়। অন্য চিত্রে দেখানো হয়েছে, ৬০ হাজার মানুষের অভিবাসন হবে অন্য জেলায়। সে ক্ষেত্রে অভিবাসী মানুষ ঢাকাকে আশ্রয়স্থল হিসেবে বেশি প্রাধান্য দেবে। সেই তুলনায় উত্তরের জেলাগুলোতে অভিবাসন কম হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।