
দাকোপ (খুলনা) প্রতিনিধি : খুলনার দাকোপে প্রায় তিন বছর অতি বাহিত হলেও শেষ হয়নি ১.২ কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ। সড়কটির কাজ দীর্ঘদিন এভাবে ফেলে রাখায় বিভিন্ন যানবাহনও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ওই সড়ক দিয়ে চলাচল করছে। সড়কের উন্নয়ন কাজ বন্ধ রেখে টিকাদার উধাও হওয়ায় চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথ যাত্রী ও স্থানীয়দের। এছাড়া মাঝে মধ্যে ছোট বড় দূর্ঘটনাও ঘটছে।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থ বছরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন (কেডিআরআইডিপি) প্রকল্পের আওতায় উপজেলার তিলডাঙ্গা ইউনিয়নের বটবুনিয়া জিসি-মোজামনগর স্কুল (বাজার) ভায়া বিনাপানি প্রাইমারী স্কুল সড়কে ১.২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার কাজের দায়িত্ব পায় এমজেই+এমএসই নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৩৭ লাখ ৩০ হাজার ৯৫০ টাকা। ২০২২ সালের ১লা মার্চ কাজ শুরু করে ঠিকাদর প্রতিষ্ঠানটি। কিন্তু কয়েক মাস ধরে পুরোনো ইটের সড়কটি খুঁড়ে বালি এবং ইটের খোয়া ফেলে উধাও হয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন। চুক্তি মোতাবেক সড়কটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিলো ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী। এরপর মেয়াদ বাড়িয়েও কাজ শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সংস্কারের নামে পুরানো সড়কটি খুঁড়ে বালু, ইটের খোয়া ফেলে রেখেছেন। বর্তমানে সড়কটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন যাবৎ মরণ ফাঁদে পরিনত হলেও যেন দেখার কেউ নেই। সড়কটিতে ফেলানো ইটের খোয়া সরে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় খানা-খন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে সড়কটিতে যানবাহন ও জনচলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়লেও সংস্কার কাজ সমাপ্তের কোন উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এতে প্রতিনিয়ত স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রুগী ও স্থানীয়দের মালামাল পরিবহনে পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দূর্ভোগ।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য নীল কোমল সরদারসহ আরো অনেকে অভিযোগ করে বলেন, অল্প একটু রাস্তার কাজ শেষ করতে করতে চলে গেলো তিন বছর। এখন যে অবস্থা আমরা তো অনিশ্চিত কবে পাবো চলাচলের উপযোগী রাস্তা।
সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য বিশ্বজিত মন্ডল জানান, রাস্তার কাজ এভাবে ফেলে রাখার কারনে এলাকার অসংখ্য মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ছেলে মেয়েদের স্কুলে যেতে আসতে হয় সম্পূর্ণ রাস্তা পায়ে হেটে। আর কোন গাড়ি এ রাস্তায় আসতে চায় না। অনেক সময় রুগী ও মালামাল পরিবহনের ক্ষেত্রে আরো সমস্যায় পড়তে হয়। এছাড়া মাঝে মধ্যে ছোট বড় দূর্ঘটনাও ঘটছে। এ এলাকার লোকজন ভোগান্তি থেকে কবে মুক্তি পাবে জানি না।
এবিষয়ে ঠিকাদার সরোয়ার আলম গহন বলেন, রাস্তার কিছু অংশে মালিকানা জমি অধিগ্রহণে জটিলতা থাকায় কাজে বিলম্ব হচ্ছে। জমি অধিগ্রহণের জটিলতা কাটাতে পারলে দ্রুত কার্পেটিংয়ের কাজ শুরু করবো।
এব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) এম জাহাঙ্গীর আলম জানান, টিকারদারকে চিঠি দেওয়া হয়েছে কিন্তু এখনো কার্যক্রম দেখা যায়নি। দ্রুত কাজটা শেষ করার জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।