1. mesharulislammonir1122@gmail.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন
  2. info@www.sangjogprotidin.com : দৈনিক সংযোগ প্রতিদিন :
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:১১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
মাজারে কুমিরের আক্রমনে মারা যাওয়া কুকুরটি জলাতঙ্ক রোগে ভুগছিল মোরেলগঞ্জে পানি নিষ্কাশন ও স্লুইজ গেটের দাবিতে মানববন্ধন মোরেলগঞ্জে কৃষক দল নেতার জমি দখলে মরিয়া শ্রমীক লীগ নেতা খালিশপুরে রিকশা-ভ্যান শ্রমিক দলের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: পানিসম্পদ মন্ত্রী ইরানকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে: পেজেশকিয়ান যৌতুক দাবিতে স্ত্রী নির্যাতন মামলায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক কারাগারে সভাপতি তামিমের উৎসাহে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দল: মিরাজ ফিলিস্তিনি বন্ধিদের ওপর ইসরায়েলের ভয়াবহ যৌন নির্যাতন বার কাউন্সিল নির্বাচন স্থগিত নিয়ে প্রশ্ন আখতারের, যা বললেন আইনমন্ত্রী

খুলনায় সজনে ডাটা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৯,৮৪৫ টন

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬
  • ৬৮ বার পড়া হয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট : খুলনা অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৬৯৪ হেক্টর জমিতে ৯ হাজার ৮৪৫ মেট্রিক টন সজনে ডাটা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
গত বছরের তুলনায় এবার উৎপাদনের লক্ষ্যেমাত্রা ৬০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
খুলনা অঞ্চলের ডিএই’র অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে পতিত জমিগুলোকেও চাষের আওতায় আনা হবে। এতে মাটি ক্ষয় রোধ হবে ও পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়তা হবে।
এছাড়া এই উদ্যোগ স্থানীয়দের পুষ্টির চাহিদা পূরণে বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের আওতায় আগামী জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইল জেলার প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার ৭২০ কৃষক সজনের চারা রোপণ করবেন। প্রত্যেক কৃষক তাদের জমির পাশে ৫টি করে চারা লাগাবেন।
উদ্যোগের অংশ হিসেবে, রাস্তার ধারে ও খালি জমিতে ২৪ হাজারের বেশি হাইব্রিড ওডিসি-৩ এর স্টেম-কাটিং রোপণ করা হচ্ছে। ওডিসি-৩ একটি উচ্চফলনশীল জাতের সরিষা।
রমজানের আগেই বাগেরহাটজুড়ে এই রোপণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে; চলবে মে মাস পর্যন্ত।
পাশাপাশি, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫২ হাজার ২২০টি উন্নত স্থানীয় জাতের চারা রোপণ করা হবে।
ডিএই’র অতিরিক্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘কৃষকরা কেবল চারাই লাগাবে না, সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যাও করবেন।
জেলা অনুযায়ী লক্ষ্যমাত্রা :
খুলনা: ৩৫৭ হেক্টরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৫ হাজার ৪৬৯ টন। হেক্টর প্রতি ১৫.৩২ টন ফলনের প্রত্যাশা।
বাগেরহাট: ১২০ হেক্টরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ২ হাজার ২৮০ টন উৎপাদন। হেক্টর প্রতি ১৯ টন ফলনের প্রত্যাশা।
সাতক্ষীরা: ১৫৯ হেক্টরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১ হাজার ৬৩৯ টন । হেক্টর প্রতি ১০.৩১ টন ফলন প্রত্যাশিত।
নড়াইল: ৫৮ হেক্টরে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৪৫৬ টন। হেক্টর প্রতি ৭.৮৬ টন ফলনের প্রত্যাশা।
সজেমিনে দেখা যায়, সম্প্রতি খুলনা-মংলা রেললাইনের পাশে তিন কিলোমিটার জুড়ে চর, সচিবুনিয়া ও ঝোরভাঙ্গা গ্রামের পাশে ওডিসি-৩ এর স্টেম-কাটিং রোপণ করা হচ্ছে।
জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মহাদেব কুমার সাহা বলেন, নির্মাণকাজের অনুপযোগী জমিগুলোকে এই কৃষি উদ্যোগের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এই প্রোগ্রাম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।
রূপসা ও ডুমুরিয়া উপজেলার মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনে দেখা গেছে, ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়েও ব্যাপকভাবে সজনে চাষ হচ্ছে। ডুমুরিয়ার ১৪টি ইউনিয়নের অধিকাংশ বাড়িতে দুই থেকে চারটি করে সজনে গাছ রয়েছে। এছাড়া রাস্তার ধারেও অনেক গাছ লাগানো হয়েছে।
কৃষকরা বলেন, সজনে চাষে খরচ কম এবং প্রায়শই কোনো কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। একটি শাখা মাটিতে রোপণ করলেই মূল গজায় এবং পূর্নাঙ্গ গাছ হিসেবে বেড়ে ওঠে। পরবর্তীতে সেগুলো ১০-১২ মাসের মধ্যেই ফলন দেয়।
তারা আরও জানান, একটি পরিপক্ব গাছ মৌসুমে ৮-১০ মণ পর্যন্ত ফল দিতে পারে।
স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি সজনে ৫০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পর ব্যবসায়ীরা সেগুলো ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানে পাঠান।
উদ্যোক্তা শাহাদাত মিয়া বাসস’কে জানান, তিনি বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু করেছেন এবং সজনের পাতা থেকে হারবাল ওষুধ তৈরির পরিকল্পনা করেছেন।
তিনি আরও বলেন, এটি কম খরচে বেশি উৎপাদন দেওয়া লাভজনক ফসল।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও এই ফসলের পুষ্টিগুণ তুলে ধরেছেন। ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. কাজল মাল্লিক বলেন, সরিষা ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাসিয়াম এবং জিঙ্ক সমৃদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, এটি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং হজমশক্তি বাড়ায়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা বলেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সজনের উচ্চ ফলন হয়েছে। চলতি মৌসুমে ডুমুরিয়া উপজেলাতেই উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ২০০ মেট্রিক টন। যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা।
কৃষি বিভাগ চাষীদের উৎসাহিত করতে সজনে চারা বিতরণ করছে বলেও জানান এই কৃষি কর্মকর্তা।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাগ্রো টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ডা. মনিরুল ইসলাম বলেন, মরিঙ্গা ওলিইফেরা বা সজনে ডাটা একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার। এটি মাইক্রো-নিউট্রিয়েন্টে সমৃদ্ধ। মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
খুলনা ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশনের পুষ্টিবিদ ফারহানা আক্তার বলেন, সজনে পাতা ও বীজকে বহু আগে থেকেই চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এগুলো রপ্তানিরও সম্ভাবনা রয়েছে। এটি জয়েন্ট পেইন ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর।
অ্যাসোসিয়েশনের ডা. মো. আকতারুজ্জামান বলেন, সজনে পাতার গুঁড়া প্রাকৃতিক ব্যথানাশক, পেশী পুনরুদ্ধারে সহায়ক এবং উচ্চ রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এর কোন ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।
তিনি আরও বলেন, সজনে ডাটা শুধু ঔষধি গুনেই সমৃদ্ধ নয়, এটি সুস্বাদু ও বহুমুখী সবজিও। এটি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপকভাবে রান্না করে খাওয়া হয়।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।